কিছু কথা; যা বলতে চাই-------

মোঃ মাজেদুল ইসলাম ০১ ফেব্রুয়ারি ,২০১৪ ২৩৭ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ০.০০ ()

সর্বপ্রথম বাংলাদেশের সমস্ত শিক্ষকদের প্রতি আমার বিনম্র সালাম ও শুভেচ্ছা রইলো। মানুষ হিসেবে বাঁচতে গেলে আমাদের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা রয়েছে যা আমরা জাতি গড়ার কারিগর হিসেবে জানি বা যাঁরা সচেতন তাঁরা জানেন। কিন্তু অতীব দূঃখের বিষয় এই যে, আমাদের অনেক জাতি গড়ার কারিগর খেয়ে না খেয়ে অথবা একবেলা খেয়ে আরেক বেলা না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। তাঁরা না পারেন কারও দ্বারে হাত পাততে না পারেন সহ্য করতে। এহেন প্রতিকূলতার মধ্যেও টিউশনি নামক সোনার হরিণের পিছনে ছুটতে ছুটতে হয়রান হন অনেকেই। তারপর আবার সরকারী নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেকেই এই পেশাটাকে বিদায় জানিয়েছেন। তবুও পেটে ক্ষুধা রেখে পথ চলেন চলতে হয় বলে। যাইহোক, যা বলার জন্য এত ভূমিকা টানা তাহলো, মৌলিক চাহিদার প্রথম যেটি আমাদের জন্য অপরিহার্য তাহলো; খাদ্য। এখন খাদ্যের সংস্থান করতেই যাঁদের হিমশিম খেতে হয়, তাঁদের দ্বারা কি করে কণ্টেন্ট তৈরীর ইচ্ছা আসবে ঠিক আমার বোধগম্য নয়। অবশ্য চাকরী বা দায়িত্ব পালনের কথা বলা হলে তা আলাদা কথা। তো, ব্যক্তিগত ভাবে আমার মতামত কণ্টেন্ট সম্পর্কে আরও বেশী বেশী প্রচার প্রচারণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কণ্টেন্টের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা বা সেমিনার পরিচালনা করা হলে ভাল কণ্টেন্ট তৈরী হবে বলে আমার একান্ত আশা। একটি কণ্টেন্ট যে কতখানি একজন শিক্ষার্থীর মনের জানালাকে প্রসারিত করতে পারে তা আমরা এখনও বুঝতে পারছিনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সাফল্যমণ্ডিত করতে হলে কণ্টেন্ট তৈরী ও তার ব্যবহার নিশ্চিত করার কোন বিকল্প নেই। মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ হয়তো আমরা অনেক প্রতিষ্ঠানই উপহার দিতে পারবোনা শিক্ষার্থীদের। তবুও যদি প্রতি সপ্তাহে একটা; অথবা প্রতি মাসে একটা করে ক্লাস আমরা উপহার দেই শিক্ষার্থীদের। তাতে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন কিছুর আবির্ভাব হবে। যার ফলে অনেকেই বিদ্যালয়মুখী হবে অন্তত ঐ একটি ক্লাসের জন্য হলেও। কারণ পুরাতন ঐ গৎ বাঁধা একঘেয়েমি পাঠদান নিতে নিতে হাঁফিয়ে উঠেছে আমাদের ছেলেমেয়েরা। আমরা পারিনা লেখাপড়ার মাঝে তাদেরকে একটু আনন্দ দিতে। এমনও অনেক প্রতিষ্ঠান আছে; যে প্রতিষ্ঠানগুলো বাৎসরিক কোন শিক্ষা সফরের ব্যবস্থাও করতে পারেন না। যারফলে একই রুটিন মেনে চলতে চলতে শিক্ষার্থীরা আজ বিদ্যালয় বিমুখ (কিছুসংখ্যক)। আমরা যদি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ পরিচালনা করতে পারি, তাহলে অনেকাংশে তাদেরকে বিদ্যালয়মুখী করে তোলা সম্ভব বলে আমার মনে হয়। একটা সময় গেছে যখন আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারতাম না। কিন্তু বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক আবিষ্কার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা তা অনেকাংশে লাঘব করতে পেরেছি । অভিভাবকরা সচেতন হতে শুরু করেছেন। অতএব এখনই সময় এগিয়ে যাওয়ার। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এখন বেশীরভাগ বিদ্যালয়গুলোতে কমবেশী কম্পিউটার বা ল্যাপটপ রয়েছে। এমনকি, সরকারীভাবে প্রজেক্টরও প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, সেগুলোর যথাযথ কোন ব্যবহার হচ্ছে বলে মনে হয়না। কারণ একটাই; স্বল্প বেতন আর দ্রব্যমূল্যের আকাশ ছোঁয়া অবস্থা।  উন্নয়নের ধারার সাথে তাল মিলিয়ে সারা পৃথিবী যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমরা পড়ে আছি সেই মান্ধাতা আমলের পড়ানোর কৌশল নিয়ে। আমরা শিক্ষক সচেতন সমাজ; আমরা যদি আমাদের পরিবর্তন সাধিত না করতে পারি। তাহলে বাঙালী জাতির কপালে অনেক দূর্ভোগ আছে বলে মনে করি। পরিশেষে আমার এই লেখার মধ্যে ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে ভালটুকু গ্রহন করে; আমাদের ছেলেমেয়েদের উজ্জ্বল ভবিষৎ যেন আমরা নিশ্চিত করতে পারি এবং আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যেন যথাযথভাবে পালন করতে পারি আর সেইসাথে যেন গর্ব করে বলতে পারি; আমরা জাতি হিসেবে অনন্য আমরা মানুষ হিসেবে হবো অগ্রগন্য। আমরা গর্বিত আমরা বাঙালী। আমরা গর্বিত আমরা বীরের জাতি। সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে এবং আবারো ভুলত্রুটির ক্ষমা চেয়ে ইতি টানছি। ভাল থাকবেন সবাই। আল্লাহ হাফেজ।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোঃ মনোয়ারুল হক রিপন
০২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

স্যার, সুন্দর লেখার জন্য


আলী হোসেন
০২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

শেষের কথা গুলো আমার মতের সাথে