দৃষ্টি আকর্ষণ করছি..............

মোঃ মাজেদুল ইসলাম ০৫ ফেব্রুয়ারি ,২০১৪ ১৮৫ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ০.০০ ()

শুরুতেই তাঁদেরকে সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভেচ্ছা জানাই যাঁরা আমাকে শিক্ষক বাতায়নে লেখার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন। আজকের লেখাটিও আর লেখাগুলোর মতোই মনের গহীনে জমে থাকা। যা আজ ঝড়াতে চাইছি শিক্ষক বাতায়নের পাতায়। যাহোক, আপনি, আমি, আমরা মহান পেশা শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত। কখনও পেশাকে নিয়ে কি একটিবারের তরেও ভেবেছেন আপনার দায়িত্ব আর কর্তব্যকে নিয়ে? জানি ভাবা হয়নি। ভাবা হয়না অনেক কিছুই। কারণ আমরা এতবেশী আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন যে নিজেদের নিয়ে ভাবতে ভাবতেই সময় পাড় হয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গা শিক্ষকদের নিয়ে, তাঁদের দায়িত্ব নিয়ে, তাঁদের কর্তব্য নিয়ে নানা কথা লেখা হয়। কিন্তু যাঁকে দিয়ে কাচারী শোলক তাকে মারা হয় আঁধারে (কাজের সময় কাজী, কাজ ফুরালে পাজি)। অর্থ্যাৎ জাতি গড়ার দায়িত্ব যাঁদের হাতে তাঁরা কেন আজ পরিবার পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝে দিনাতিপাত করবেন। একটি স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চালু হয়ে গেলে আমার মনে আরও বেশী দায়িত্ব ও কর্তব্যশীল হয়ে উঠতে পারেন আমাদের শিক্ষক সম্প্রদায়। কারণ আমি বেশীরভাগ সময় লক্ষ্য করেছি আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা সারাদিন অমানষিক মেধাশ্রম দিয়ে আবার ছোঁটেন টিউশনি করতে। যাঁর মাথাতে থাকে পেটের চিন্তা তিঁনি কেমন করে প্রপার শিক্ষা প্রদান করবেন আমার বোধগম্য নয়। অনেকেই আছেন যাঁদের মাঠে হয়তো ফসল ফলে যা দিয়ে কোনরকমে দিন চলে যায়। কিন্তু আমাদের কিছু কিছু শিক্ষক আছেন যাঁদের একমাত্র ইনকাম সোর্স শিক্ষকতা। যাঁরা সৎ ভাবে জীবনটাকে প্রবাহিত করতে চান তাঁদের হয় সবচেয়ে বেশী কষ্ট। উদাহরণ দিলে বলা যায়, বাজারে গেলে একটি মাছের দাম সাধারণ জনগনের জন্য ৫০ বা ৬০ টাকা হলে একজন শিক্ষকের জন্য সে মাছ ৮০ থেকে ১০০ টাকা হয়ে যায়। কারণ শিক্ষক বেতন পান তাই তাঁর সম্মান স্বরুপ মাছের দাম বেশী রাখা হয়।  একজন শিক্ষকের পক্ষে সম্ভব হয়না বিভিন্ন দোকান ঘুরে জিনিসপত্র কেনার। কারণ সবাই তাঁর এলাকার। অর্থ্যাৎ যে জিনিসের দাম যা চাওয়া হচ্ছে তা সচেতন হলেও দর কষাকষির মাধ্যমে মান সম্মানের দিকে তাকিয়ে তা ক্রয় করা সম্ভব হয়না। তাই আমি সেইসব কর্তা ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবো আমাদের শিক্ষকদের একটি স্বতন্ত্র বেতন স্কেল নির্ধারণ করুন যা দিয়ে আমাদের শিক্ষকরা একটি সুন্দর জীবন যাপন করতে পারেন। যাতে করে তাঁদের মাথায় বাসা বাঁধতে না পারে অতিরিক্ত ইনকামের কোন চিন্তা। যেন শিক্ষকরা সব ভুলে শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করতে পারেন। যেন প্রপার শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষিত জাতি গঠনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সামনের দিকে। যেন অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে তৃতীয় প্রজন্মের দোরগোড়ায়। যেন বর্তমান সরকারের ভিশন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহন করতে পারে সর্বাঙ্গীন ভাবে। অবশেষে আমার প্রাণপ্রিয় শিক্ষকদের কাছে আমার ভুলত্রুটির মার্জনা চেয়ে শেষ করলাম। ভাল থাকবেন সবাই আল্লাহ হাফেজ।

মতামত দিন