পিটিআই, সিএনএড ও ডিপিএড এর উৎপত্তি; কিছু কথা

মো. সারওয়ার জাহান ১১ সেপ্টেম্বর,২০১৯ ৬১ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ০.০০ ()

পিটিআই, সিএনএড ও ডিপিএড এর উৎপত্তি; কিছু কথা প্রাথমিক শিক্ষাই সব শিক্ষার ভিত্তি। সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা কয়েক দফায় প্রায় ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষার উচ্চমান রক্ষার্থে সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষক। একমাত্র যথাযথ টিচার এডুকেশনই নিশ্চিত করতে পারে স্ট্যান্ডার্ড প্রাইমারি টিচার্স।তাই শিক্ষকদের মানোন্নয়নে দেশের পিটিআই গুলোতে ডিপিএড কোর্স চালু করা হয়েছে।ডিপিএড কোর্সের মেয়াদ ১৮ মাস। প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৫৪ সালে ইংরেজ পণ্ডিত উডের ডেসপাচের সুপারিশ অনুসারে অবিভক্ত বাংলায় গ্রেডেড স্কুল পদ্ধতির সূচনা হয়। সে সময় প্রাথমিক শিক্ষা নিম্ন প্রাথমিক (১ম+২য় শ্রেণি) এবং উচ্চ প্রাথমিক (৩য়+৪র্থ শ্রেণি) ধারায় বিভক্ত ছিল। সে সময়কার প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের কথা কেউ ভাবেননি। এ থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে অবহেলার বহু পুরনো চিত্র সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়। পরবর্তীতে ১৯০২ সালে সর্বপ্রথম গুরু ট্রেনিং (জিটি) স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। জিটি স্কুলে দুজন ম্যাট্রিক পাস ভিএম (ভার্নাকুলার মাস্টারশিপ) শিক্ষক দায়িত্ব পালন করতেন।কর্মরত শিক্ষকদের একজনের পদবি ছিল হেড পণ্ডিত এবং অন্যজন সহকারি পণ্ডিত। তখনকার শিক্ষকদের কম শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনায় প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক আলোচনা খুবই কম থাকতো। বরং হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে শিক্ষকদের শেখানো হতো। ১৯৪৪ সালে ৫৫টি জিটি স্কুলকে প্রাইমারি ট্রেনিং (পিটি) স্কুলে রূপান্তর করা হয়। এ ছাড়া কয়েকটি নতুন প্রাইমারি ট্রেনিং (পিটি) সেন্টার চালু করা হয়। এ সব স্কুলের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি জিটি স্কুলের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচির মতোই ছিল। তবে পিটি স্কুলগুলোতে বিটি ডিগ্রিধারী একজন গ্রাজুয়েট শিক্ষক থাকতেন। আর নির্বাচিত হাই স্কুলে স্থাপিত পিটি সেন্টারগুলোর দায়িত্বে থাকতেন সংশ্লিষ্ট হাই স্কুলের হেড মাস্টার। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে পিটি স্কুল ও পিটি সেন্টারের সংখ্যা ছিল ৮৬টি। এ সব স্কুলের প্রশিক্ষণের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পূর্ববঙ্গ শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন কমিটি ১৯৪৯-এর সুপারিশ অনুযায়ী প্রচলিত প্রশিক্ষণ স্কুলের পরিবর্তে প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৯৮২ সালে নেপ-এ বাংলাদেশ সি-ইন-এড বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বোর্ডের অধীনে সারা দেশে ৫৬টি সরকারি এবং ৩টি বেসরকারি পিটিআই রয়েছে। সত্তরের দশকে পিটিআইসমূহে ৯ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু ছিল। পরবর্তীতে পিটিআইসমূহে এক বছরমেয়াদি সার্টিফিকেট-ইন-এডুকেশন (সি-ইন-এড) কোর্স চলে আসছিল। এক পর্যায়ে দেখা গেল চলমান সি-ইন-এড কোর্সও কাক্সিক্ষত মানের শিক্ষক-প্রশিক্ষণ প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তর গবেষণা শেষে দ্বিতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় সি-ইন-এড কোর্সটিকে বদলে ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) কোর্স প্রবর্তন করা হয়। নেপ- বাংলাদেশ সি-ইন-এড বোর্ড এর অধীনে র্বতমানে ১৮ মাস ব্যাপী ডপ্লিোমা ইন প্রাইমারি এডুকশেন (ডিপিএড) র্কোস ৫০টি পিটিআই-তে এবং ১ বছর ব্যাপী সার্টিফিকেট ইন প্রাইমারি এডুকশেন (সি-ইন-এড) প্রশক্ষিণ র্কোস ০৬ টি সরকারি ও ২টি বেসরকারি পিটিআই-তে পরিচালিত হচ্ছে । মহাপরিচালক, নেপ পদাধিকার বলে বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পরিচালক, নেপ বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালের জুলাই থেকে দেশের ৭টি বিভাগের ৭টি পিটিআইতে পরীক্ষামূলকভাবে ডিপিএড কোর্সটি চালু করা হয়। ২০১৭ সালে দেশে ৫০ টি পিটিআইতে ডিপিএড কোর্স চালু করা হয়। ডিপিএড কোর্সের মেয়াদ ১৮ মাস। এর মধ্যে ১২ মাস পিটিআইতে অবস্থান করে শিক্ষকদের শিক্ষাগ্রহণ করতে হয়। শেষের ৬ মাস শিক্ষকরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করেন। গাঠনিক ও সামষ্টিকভাবে কোর্সটির মূল্যায়ন করা হয়। বিদ্যালয় ভিত্তিক বিষয় শিখন-শেখানোর কৌশল ছাড়াও ডিপিএড কোর্সে পেশাগত শিক্ষার অংশ হিসেবে সিমুলেশন, ব্রেইনস্টর্মিং দলীয় কাজ, কার্যোপযোগী গবেষণা, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ফলাবর্তন এবং শিক্ষা বিজ্ঞানের ওপর শিক্ষা দেয়া হয়। বিষয়গুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকরী।

মতামত দিন