শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

রাজেশ মজুমদার ১৪ ডিসেম্বর,২০১৯ ৯০ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

পাকিস্তান নামক অগণতান্ত্রিক এবং অবৈজ্ঞানিক রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই বাঙালিদের সাথে পশ্চিম-পাকিস্তানের রাষ্ট্র-যন্ত্র বৈষম্যমূলক আচরণে'র ফলে বাঙালির মনে যে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হতে থাকে এবং এই অবিচারের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুরু করে সেই সকল আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকতেন সমাজের সর্বস্তরের বুদ্ধিজীবীরা। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক-ভাবে বাঙালিদের বাঙালি জাতীয়তা-বোধে উদ্বুদ্ধ করে বাঙালিদের নিজেদের দাবি ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেন যা পরবর্তীতে তাদের রাজনৈতিক আন্দোলনের দিকে ধাবিত করে। এই কারণেই বুদ্ধিজীবীরা পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। আর তাই যুদ্ধের শুরু থেকেই চলে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা।  পাকিস্তানের পরাজয় যখন শুধু সময়ের ব্যাপার তখন বাঙালি জাতি যেন শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে তাই তারা বাঙালি জাতিকে মেধা-শূন্য করে দেবার লক্ষ্যে তালিকা তৈরি করে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী যারা দৈহিক শ্রমের বদলে মানসিক শ্রম বা বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম দেন তাঁরাই বুদ্ধিজীবী। "শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষ" গ্রন্থে দেয়া বুদ্ধিজীবী'র সংজ্ঞা দেয়া হল-  "বুদ্ধিজীবী অর্থ লেখক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, কন্ঠশিল্পী, সকল পর্যায়ের শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, চলচ্চিত্র ও নাটকের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সমাজসেবী ও সংস্কৃতিসেবী।"

বাংলাপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে শহীদ ১১১১ জন বুদ্ধিজীবী'র মধ্যে শিক্ষাবিদ - ৯৯১ জন। এই শিক্ষাবিদদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন ২১ জন, উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষক ছিলেন ৫৯ জন, মাধ্যমিকের শিক্ষক ছিলেন ২৭০ জন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন ৬৩৯ জন। আচরণে বর্বর হলেও তারা ঠিকই জানত, যেহেতু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সমাজের তৃনমূলে কাজ করেন তাই একটা জাতিকে সহজে উদ্বুদ্ধ করতে পারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। কোন জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তাদের  প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রথমে ধ্বংস করতে হলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিহ্ন করতে হয় তাই তো হানাদারদের সর্বপ্রথম টার্গেট হয়েছিল শিক্ষক তথা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।
স্বাধীনতার এতবছর পরে আমরা মেধাবী মুখদের প্রাথমিক শিক্ষার সাথে কতটা আগলে রাখতে পারছি বা এই পেশায় সাথে কতটা আকৃষ্ট করতে পেরেছি তা তর্ক সাপেক্ষ বিষয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশী প্রাণদানকারী বুদ্ধিজীবীর ডিপার্টমেণ্টের নগণ্য সদস্য হতে পেরে আমরা গর্বিত। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক  ৬৩৯ জন শহীদ বুদ্ধিজীবী সহ সকল শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
জামিনুর রহমান
১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৫:১৬ অপরাহ্ণ

রেটিং সহ শুভকামনা। আমার সকল কনটেন্ট দেখে লাইক রেটিং কমেন্টস করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।


রাজেশ মজুমদার
১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০২:০৭ পূর্বাহ্ণ

আপনাকে ধন্যবাদ।