শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষায় ক্ষত্রে বর্ণানুক্রমি পদ্ধতিই অধিকতর কার্যকর।

রাজেশ মজুমদার ২৩ জানুয়ারি,২০২০ ৮৫ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

বাংলা ভাষা শিক্ষা প্রক্রিয়া ইতিপূর্বে বর্ণানুক্রমিক উপায় অনুসরণ করা হলেও, বর্তমানে বাক্যানুক্রমিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। মূলত উনিশ শতকে কেরি সাহেবরা বাংলা ভাষাকে ‘সভ্য’ বানানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাই,তাঁদের মগজের ইংরেজি বাক্যরীতি বাংলায় শিকড় গেড়েছে। ইংরেজি বর্ণের মাত্র দুটি রূপ, ক্যাপিটাল ও স্মল। ইংরেজি বর্ণ পাশাপাশি বসে শব্দ গঠন করে এবং ইংরেজিতে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ পাশাপাশি বসলেও বর্ণের আকৃতিগত পরিবর্তন হয় না।  তাই ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে বাক্যানুক্রমিক একটি কার্যকর প্রক্রিয়া। 


বাংলা বর্ণমালায় বড় হাত-ছোট হাতের বর্ণ না থাকলেও ,বর্ণের বহু রূপ আছে। বাংলায় বর্ণ শুধু পাশেই বসে না, যুক্ত হতে পারে পাশে এবং ওপর-নিচে, গায়ে গায়ে এবং রূপও পরিবর্তন হয়। বাংলা স্বরবর্ণের রূপান্তরকে ‘কার চিহ্ন’ অন্যদিকে ব্যঞ্জনবর্ণের যুক্ত হওয়াকে বলে ‘ফলা চিহ্ন’। এই কার চিহ্নে এবং ফলা চিহ্নে স্বর ও ব্যঞ্জনবর্ণের রূপ বদলে যায়। বর্ণভেদে যুক্ত হওয়ার ধরন আলাদা হতে পারে। যেমন কৃ (ক+ঋ) এবং হৃ (হ+ঋ)। 


প্রতিটি ভাষার আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে তাই প্রতিটি ভাষা শিক্ষার পদ্ধতিও আলাদা। বাংলা বর্ণমালা খুবই বিজ্ঞানসম্মত।  বাংলা ভাষা শেখাতে ইংরেজির অন্ধ অনুকরণ তাই বাঞ্ছিত না-ও হতে পারে। বাক্যানুক্রমিক শিক্ষা পদ্ধতি  একটা বড় সমস্যা তৈরি করছে। এই পদ্ধতিতে শিশুরা প্রথমেই কার চিহ্ন এবং ফলা চিহ্ন আয়ত্ত করে না বলে, শিশুরা হয়ত বাক্য মুখস্ত করছে, কিন্তু সাবলীলভাবে পড়তে বা বানান শিখছে না এবং অনেকসময় তাদের  লিখতেও সমস্যা হচ্ছে। আমাদের ভাষার বৈশিষ্ট্যগত দিক উপেক্ষা করে প্রথমে বর্ণ, আ-কার, ও-কার, ফলা না শিখিয়ে, বাক্যানুক্রমিক পদ্ধতির ব্যর্থ অনুকরণই, আমাদের শিশুদের ভাষা শিক্ষা কঠিন করে দিচ্ছে।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
তাহমিনা আক্তার
২৯ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১০:১৩ অপরাহ্ণ

লাইক এবং পূর্ণ রেটিংসহ ধন্যবাদ। ।