বিরামচিহ্ন কি?বিরামচিহ্নের ব্যবহার। শিক্ষক হিসাবে আমাদের জানা প্রয়োজন।

মোঃ শাহাবুদ্দীন ০৯ ফেব্রুয়ারি ,২০২০ ১২১০ বার দেখা হয়েছে ১১ লাইক ১৬ কমেন্ট ৪.৯২ (১৩ )


বিরাম চিহ্নের অর্থ হলো বিশ্রাম। কোন কিছু লিখা বা পড়ার সময় বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝার জন্য বাক্যের মাঝে বা শেষে কম বেশি থামতে হয়। কথা বলার সময় থেমে যাওয়া শ্বাসযন্ত্রের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বাক্যের মাঝে যেখানে সেখানে থামলে বাক্যের শ্রুতিমধুরতা ও অর্থ হয় বা হয়ে যেতে পারে। তাই বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝানোর জন্য বাক্যের কোথায় কতটুকু থামতে হবে তার একটি নিয়ম আছে এবং কতগুলো সাংকেতিক চিহ্ন দ্বারা এ নিয়মগুলো প্রকাশ করা হয় যা বিরামচিহ্ন/ যদিচিহ্ন/ ছেদচিহ্ন নামে পরিচিত।

#বিরামচিহ্নের কাজ
১) বাক্যের অর্থ বোঝাতে সাহায্য করে।
২) ভাব, বাক্য বা বক্তব্য উচ্চারণ করে পড়তে সাহায্য করে।
৩) বাক্যের শুরু ও শেষ বোঝাতে সাহায্য করে।

বিরামচিহ্নের ব্যবহার করা হয় ২ ভাবে।
যথা:- ১) পড়ার ক্ষেত্রে ও
         ২) লিখার ক্ষেত্রে

#পড়ার ক্ষেত্রে বিরামচিহ্নের ব্যবহার
বিরামচিহ্নের নাম,চিহ্ন,সময় বা বিরতি কাল

#কমার ক্ষেত্রে
,
১ সেকেন্ড বলতে যে সময় সে সময় পর্যন্ত লাগে

#সেমিকমার ক্ষেত্রে
;
১ বলার দ্বিগুন সময় থামতে হয়

#দাঁড়ির ক্ষেত্রে

১ সেকেন্ড পরিমান সময় থামতে হয়

#প্রশ্নবোধকের ক্ষেত্রে
?
১ সেকেন্ড পরিমান সময় থামতে হয়

#বিস্ময় চিহ্নের ক্ষেত্রে
!
১ সেকেন্ড পরিমান সময় থামতে হয়

#কোলন চিহ্নের ক্ষেত্রে

১ সেকেন্ড পরিমান সময় থামতে হয়

#কোলন ড্যাস এর ক্ষেত্রে
ঃ-
১ সেকেন্ড পরিমান সময় থামতে হয়

#ড্যাস এর ক্ষেত্র
-
১ সেকেন্ড পরিমান সময় থামতে হয়

#হাইফেন এর ক্ষেত্র
-
থামার প্রয়োজন নাই

#লোপ চিহ্ন এর ক্ষেত্র
`
থামার প্রয়োজন নাই

#উদ্ধৃতি চিহ্ন এর ক্ষেত্র
`  ‘     “  ”
১ উচ্চারণ করতে যেটুকু সময় লাগে

#বন্ধনী চিহ্ন এর ক্ষেত্র
()   {}   []
থামার প্রয়োজন নাই

#তারকা চিহ্ন এর ক্ষেত্র
*
থামার প্রয়োজন নাই

লেখার ক্ষেত্রে বিরামচিহ্নের ব্যবহার
১. কমা ( , )
ক) বাক্যের যেখানে অতি অল্প সময় বিরতির প্রয়োজন হয়।
খ) একটি বাক্যে একই জাতীয় পদ পরপর বসাতে হলে কমা ব্যবহার করা হয়। যেমন- শাপলা,       গোলাপ, জুঁই বাংলাদেশী ফুল।
গ) সম্বোধন পদ বাক্যের প্রথমে থাকলে কমা ব্যবহৃত করতে হয়। যেমন: ভাইসব, চলো খেতে যাই।
২. সেমিকমা ( ; )
সাধারণত: কোন যৌগিক বাক্যে দুই বা ততোধিক সরল বাক্যের মাঝে সেমিকমা ব্যবহৃত হয়। সজল যত ভালো খেলতে পারে; পারভেজ তত নয়।
৩. দাড়িঁ ( । )
বাক্য শেষ করতে দাঁড়ি ব্যবহার করতে হয়। যেমন: ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন ( ? )
বাক্যে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করা হলে বাক্যের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসে। যেমন: তুমি কোন স্কুলে পড়?
৫. বিস্ময় চিহ্ন ( ! )
বাক্যে সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ইত্যাদি প্রকাশ করা হলে বাক্যে বিস্ময় চিহ্ন বসে। যেমন: আহা! কী সুন্দর দৃশ্য।
৬. কোলন ( ঃ )
একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে হলে কোলন চিহ্ন ব্যবহার করতে হয়। যেমন: ভাষা দুই প্রকারঃ সাধুভাষা ও চলিতভাষা।
৭. কোলন ড্যাস ( :- )
বাক্যে উদাহরণ দিতে হলে কোলন ড্যাস ব্যবহার করতে হয়। যেমন: বচন দুই প্রকার। যথা:- একবচন ও দুইবচন।
৮.  ড্যাস (-)
ক) কোন কাক্যে হঠাৎ ভাবধারার পরিবর্তন হলে ড্যাস ব্যবহার করতে হয়। যেমন: একি সুমন – সেদিন তুমি হঠৎ কোথায় গেলে?
খ) বক্যে কোন বিষয়ে উদাহরণ ‍দিতে ড্যাস ব্যবহার করতে হয়। যেমন: আমাদের দেশে অসেন নদী আছে – যেমন: পায়রা, ডাকাতিয়া. সুরমা ইত্যাদি।
গ) একই কথা বিভিন্ন ভাবে বোঝানোর জন্য ড্যাস ব্যবহার করা হয়। যেমন: আলু আর আলু চাইলেই পাওয়া যায়।
৯. হাইফেন ( - )
এটি হলো যোগাযোগ  বা সংযোগ চিহ্ন। সাধারণত সমাজবদ্ধ পদে অংশগুলো বিচ্ছিন্নভাবে দেখানোর জন্য হাইফেন ব্যবহৃত হয়। অন্যভাবে, দুই বা ততোধিক পদ সমান বা অন্যভাবে এক পদে পরিনিত হলে তখন পদ সমূহের মাঝে হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন: হাট-বাজার, পথে-ঘাটে, নদী-নালা ইত্যাদি।
১০. লোপচিহ্ন ( ‘ )
বাক্যের মাঝে কোন বর্ণ লুপ্ত করতে লোপচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন: যাইব-যা‘ব, করিয়া-ক‘রে ইত্যাদি।
১১. উদ্ধৃতি বা উদ্ধরণ চিহ্ন ( ‘  ‘ /  “  “ )
বক্তার কথা তার মত হুবহু বলতে চাইলে উদ্ধৃতি বা উদ্ধরণ চিহ্ন ব্যবহার করতে হয়। যেমন: রনি বললো, ”আমি আজ কলেজে যাব না“।
১২. বন্ধনী চিহ্ন ( ()   {}   [] )
এই চিহ্নগুলো গণিত শাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে ব্যবকরণের বাক্যেও অন্তর্গত কোন অংশ নিষ্প্রয়োজন মনে হলে বা ব্যাখ্যামূলক বোঝাতে হলে এই চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন: আগামী বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
১৩. তারকা চিহ্ন ( * )
বিশেষ কোন কিছু নির্দেশ করতে তারকা চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন: মেসি* একজন বিখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড়।

বিরামচিহ্ন বাংলা ব্যকরণে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে আমারা এর ব্যবহার সঠিক ভাবে করতে পারবো এবং ভাষা শ্রুতিমধুর করতে সক্ষম হবো।

 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোঃ আব্দুল করিম প্রাং
২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

খুব সুন্দর!


মোঃ নাজমুল হাসান
২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

দারুন!


রহিমা খাতুন
২০ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৩:২২ অপরাহ্ণ

অত্যন্ত জরুরি বিষয়টি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।


মোঃ আসাদুজ্জামান
২০ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১২:০৭ অপরাহ্ণ

Thanks sir


মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ
১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৯:০৮ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ


শাহ আলম
১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৮:৫৩ অপরাহ্ণ

খুব ভালো লাগলো......শুভ কামনা রইলো।


মাকসুদা খাতুন
১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৩:৩৩ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ শুভকামনা ও অভিনন্দন ।


পা্রভীন আক্তার
১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১২:১৫ অপরাহ্ণ

গুরুত্বপূর্ণ পোস্টটি দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।


মো. সাখাওয়াত হোসেন
১৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৩:০২ অপরাহ্ণ

চমৎকার, শুভকামনা জানাচ্ছি। (সাখাওয়াত হোসেন বিদ্যুৎ ঝিনাইদহ মোবা: ০১৭১৫৬৭১০৯৬ মেইল: shbiddut@gmail.com)


মুহাম্মদ খালিদুর রহমান মানিক
১৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৮:০৯ পূর্বাহ্ণ

লাইক এবং রেটিংসহ শুভ কামনা রইল। আমার কন্টেন্টগুলো দেখে রেটিং, লাইক ও কমেন্ট দেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।


মীর্জা মোঃ মাহফুজুল ইসলাম
১৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ শুভকামনা ও অভিনন্দন ।


তাছলিমা আক্তার
১৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৯:৪৬ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ শুভকামনা ও অভিনন্দন । আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে লাইক ও রেটিংসহ মূল্যবান মতামত প্রদানের অনুরোধ রইল ।


আজিবুর রহমান
১৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৬:১০ অপরাহ্ণ

পূর্ণ রেটিং সহ শুভকামনা।


আব্দুল্লাহ আত তারিক
১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০৭:৪৭ অপরাহ্ণ

সুন্দর । মুজিব বর্ষের শুভেচ্ছা রইলো।


মোঃ মামুনুর রশীদ
১২ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

পূর্ণ রেটিং সহ শুভ কামনা রইল। আমার কনটেন্ট দেখে রেটিং সহ মতামত প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।


মোঃ মেরাজুল ইসলাম
১০ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০২:৫৭ অপরাহ্ণ

রেটিংসহ অভিনন্দন। আমার আপলোড কন্টেন্টগুলো দেখে লাইক, কমেন্ট ও রেটিং করার অনুরোধ রইলো।