বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট ও প্রভাব , বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

মোছাঃ মৌসুমী বেগম ০৭ মার্চ,২০২০ ৩১ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

১ মার্চ থেকেই বাংলাদেশের মানুষ রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছিল ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু কী ঘোষণা দেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ওপর দেশের মানুষ এতটাই ক্ষুব্ধ ছিল যে স্বাধীনতার চেয়ে কম কিছু তারা আশা করছিল না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু একজন গণতান্ত্রিক নেতার মতোই অত্যন্ত সংযত ছিলেন। যে জন্য দেশের বাইরের জনমত ছিল তাঁর পক্ষে।

ষাটের দশকের শেষ দিক থেকে পৃথিবীর অনেক দেশেই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছিল। নাইজেরিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতার জন্য বায়াফ্রা সশস্ত্র সংগ্রাম করছিল। রক্তপাত হচ্ছিল কিন্তু আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছিল না বিদ্রোহীরা। ইন্দোনেশিয়াতেও হচ্ছিল বিছিন্নতাবাদী আন্দোলন। সেসব আন্দোলনের নেতিবাচক দিক ও দুর্বলতা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর ধারণা ছিল। তিনি উপলব্ধি করেন হঠকারিতার পরিণতি শুভ হয় না এবং হঠকারী নেতা কখনো বিশ্ববাসীর সমর্থন পান না। ওই সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর সংযত আচরণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন তাঁর দিকে এবং তাঁর প্রতিপক্ষ পাকিস্তান সরকার ধিক্কৃত।

একাত্তরে যোগাযোগব্যবস্থা এখনকার মতো ছিল না। গণপরিবহন ছিল খুবই কম। তা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সভায় যোগ দিতে হাজার হাজার মানুষ ঢাকা আসে। অনেকে আশপাশের জেলা থেকে হেঁটে এসেছে। সকালবেলায়ই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অর্ধেকের বেশি ভরে যায়। সাড়ে ১০টার দিকে আমি ঢাকা ক্লাবের সামনে এসে দেখি মাঠ প্রায় পূর্ণ। স্বাধীনতা লাভের স্পৃহা মানুষের চোখেমুখে।

জ্বালাময়ী উত্তেজক বক্তৃতা দেওয়ার জন্য বিখ্যাত বহু বাঙালি জননেতা। বঙ্গবন্ধুও ছিলেন অনলবর্ষী বক্তা। পল্টন ময়দানে তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতাও শুনেছি। ৭ মার্চের তাঁর ভাষণটি খুব সংক্ষিপ্তও ছিল না, দীর্ঘও ছিল না। সব দিক থেকে তাঁর পরিমিতিবোধের প্রকাশ ঘটে তাঁর সেদিনের ভাষণে। বক্তৃতা নয়, তিনি যেন জনসমুদ্রের মানুষগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছেন।

তাঁর অনুসারী ও শ্রোতাদের সাংস্কৃতিক মান সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর সুস্পষ্ট ধারণা ছিল। তিনি তাদের বোধগম্য ভাষাতেই কথা বলেছেন। তিনি পাকিস্তানের ২৩ বছরের রাজনীতির পটভূমি তুলে ধরেছেন। সরকারি বাহিনীর হাতে মানুষ মারা যাচ্ছিল প্রতিদিন। ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘২৫ তারিখ অ্যাসেমব্লি ডেকেছেন। রক্তের দাগ শুকায় নাই। রক্তে পাড়া দিয়ে, শহীদের উপর পাড়া দিয়ে, অ্যাসেম্বলি খোলা চলবে না।’ বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। দেশের মানুষের অধিকার চাই।...আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায় রাখতে পারবা না।’

তাঁর ঘোরতর প্রতিপক্ষ ও শত্রুকেও সৌজন্য রক্ষা করে সম্বোধন করেছেন। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, জনাব ইয়াহিয়া খান সাহেব, জনাব ভুট্টো সাহেব। রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান এবং জাতীয় পরিষদে যোগদানের এমন চারটি শর্ত ঘোষণা করেন যা কারও পক্ষে অযৌক্তিক বলা সম্ভব ছিল না। সে জন্য পৃথিবীর মানুষ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দেয়।

স্বনামধন্য অথচ অদূরদর্শী অনেককে, এমনকি তাঁর দলের কোনো কোনো নেতাকেও বলতে শোনা গেছে, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন না কেন? তা তিনি করলে তা হতো বাঙালির জন্য চরম আত্মঘাতী। তাঁকে আখ্যায়িত করা হতো বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে। তিনি জনগণনন্দিত গণতান্ত্রিক নেতা থাকতেন না। তিনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধিকার অর্জনের পথ খোলা রাখেন। ৭ মার্চের পরও তিনি ইয়াহিয়া, ভুট্টোর সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। তাঁরা চেয়েছেন অস্ত্রের মাধ্যমে বাঙালিকে দাবিয়ে রাখতে। কিন্তু নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র পশুশক্তি নিশ্চিহ্ন করতে চাওয়ায় বিশ্বজনমত বাঙালির পাশে দাঁড়ায়।

আট কোটি বাঙালি ওই মুহূর্তে তাদের অন্তরে যে আবেগ ও স্বপ্ন ধারণ করছিল, তারই প্রকাশ ঘটে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের শেষ বাক্যে। মুক্তি ও স্বাধীনতাসংগ্রামের নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোঃ মেরাজুল ইসলাম
০৮ মার্চ, ২০২০ ০১:০৮ অপরাহ্ণ

মুজিব বর্ষের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো । চমৎকার কনটেন্ট নির্মাণের জন্য রেটিং, লাইক, কমেন্ট ও অভিনন্দন। আমার বাতায়ন বাড়ি আমন্ত্রণ রইলো । ভালো থাকুন সব সময় । শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য।


আব্দুল্লাহ আত তারিক
০৮ মার্চ, ২০২০ ০৮:০৮ পূর্বাহ্ণ

মুজিব বর্ষের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো । চমৎকার নির্মাণের জন্য রেটিং, লাইক, কমেন্ট ও অভিনন্দন। আমার বাতায়ন বাড়ি আমন্ত্রণ রইলো । ভালো থাকুন সব সময় । শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য।