ধন্যবাদই নয় শুধু কৃতজ্ঞতা অবিরাম --

মোঃ নাসির উদ্দিন, ০৭ সেপ্টেম্বর,২০২০ ৩৬ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

ইংরেজি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভাষাটি ধীরে ধীরে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে যে তা সকল ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা হলেও ইংরেজি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। বলা যায় ইংরেজি আমাদের দ্বিতীয় ভাষা। এটি ঠিক, ব্রিটিশরা প্রায় দু’শ বছর এই উপমহাদেশ শাসন করে তাদের ভাষা ইংরেজি এখানে প্রবর্তন করেছিলেন। ব্রিটিশ আমলে এদেশের পাঠ্যপুস্তক ইংরেজিতেই পঠিত হতো। ব্রিটিশ সরকার তাদের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনার জন্য ইংরেজি ভাষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা যেভাবে স্বাগত জানিয়েছিল, মুসলিমরা সেভাবে জানায়নি। আজ একবিংশ শতাব্দীতে এসে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে যখন প্রত্যাশিত মানের ইংরেজি ভাষাজ্ঞান না পাই তখন মনটা ব্যথিত হয়। আমরা জানি, চারটি মানদণ্ডের ওপর ইংরেজি ভাষার দক্ষতা নির্ভর করে। এগুলো হল শোনা, বলা, পড়া ও লেখা। আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে এগুলোর চর্চা কম। তাই আমরা দেখছি এদেশের প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ইংরেজির ভিত অত্যন্ত দুর্বল। জাতীয় পর্যায়ের এক জরিপে দেখা যায়, প্রাথমিকে তৃতীয় থেকে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ের পঠন-পাঠন আশানুরূপ নয়। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর ইংরেজি ভাষাজ্ঞান অত্যন্ত দুর্বল। তারা ভালো করে ইংরেজি পড়তে ও লিখতে পারে না। আর মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এটা তো ঠিক যে, বিশেষজ্ঞ ইংরেজি শিক্ষকের অনেক চাহিদা। তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষা দেয়ার চেয়ে কোচিং সেন্টারে দিতেই বেশি আগ্রহী। তাই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এসব কোচিং সেন্টারে রীতিমতো লাইন দিয়ে তাদের (শিক্ষার্থীদের) নাম রেজিস্ট্রেশন করিয়ে থাকেন। একটি ব্যাচে অনেক শিক্ষার্থী নিয়ে একজন শিক্ষকের পক্ষে পাঠদান যতটুকু না সম্ভব হয়, তার থেকে সেখানে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য হয় বেশি। বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের কাছে ইংরেজি শিখতে পাঠিয়ে অভিভাবকরা একটু তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেন। কিন্তু শিক্ষাথীরা কতটুকু ইংরেজি শিখছে তা একটি পরিসংখ্যান থেকে সহজে অনুধাবন করা যায়। ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় ৪০ হাজার ৫৬৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র দু’জন ইংরেজি বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছিল। ২০১৬ সালে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৯০ ভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করে ইংরেজিতে। দেশের ইংরেজি বিষয়ের এই তথৈবচ অবস্থা দেখে শিক্ষাবিদরাও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। প্রকৃতপক্ষে একটি শিক্ষাজীবন শেষে (একাডেমিক ইয়ার) শিক্ষার্থীরা যখন ইংরেজিতে দুর্বল থেকে যায়, তখন তা হয় দেশের জন্য বোঝাস্বরূপ। বর্তমান যুগ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। এখানে ইংরেজি ভাষাজ্ঞান প্রয়োগ করেই আমাদের বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হয়। বিদেশে কর্মসংস্থান (ইংরেজি জ্ঞান ভালো হলে এটি দক্ষতা হিসেবে ভাবা হয়), গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, উচ্চশিক্ষা প্রতিটি সেক্টরে রয়েছে ইংরেজির গুরুত্ব। ইংরেজি ভাষাজ্ঞান আমাদের এতই দুর্বল যে, আজকাল ফেসবুকেও দেখি একের সঙ্গে অন্যের মনের ভাব প্রকাশ করার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে ইংরেজিতে রূপ দিয়ে লেখা হচ্ছে। মনের ভাব প্রকাশে প্রকৃত ইংরেজি ভাষার ব্যবহার খুব কম দেখা যায়। এটাও সত্য, অনেকে বিএ, এমএ পাস করেও ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না। এটি কি শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি নাকি ইংরেজি ভাষা শিক্ষায় অনীহা তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। আজকাল আধুনিক যেসব মাধ্যম আমাদের হাতের নাগালে আছে, যেমন- ফেসবুক, ইউটিউব, বিভিন্ন অ্যাপ ইত্যাদি ব্যবহার করে; ইংলিশ মুভি, বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা ইত্যাদি চ্যানেল নিয়মিত দেখেশুনে একজন ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। ইংরেজি ভাষায় সাবলীলতা অর্জনের জন্য পরিবেশও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিজ পরিবার, বিদ্যালয় বা চারপাশের মানুষজনের সঙ্গে ইংরেজিতে বেশি করে কথা বলার আগ্রহ থেকে ইংরেজি ভাষা প্রয়োগের একটি পরিবেশ তৈরি হতে পারে। শ্রেণীকক্ষেও শিক্ষককে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। এছাড়া ইংরেজি ভাষার প্রসারে সরকারের উদ্যোগে বয়স উপযোগী বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া যেতে পারে।

(সংগৃহীত)  

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মুহাম্মাদ নজরুল ইসলাম
২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০৬:৫৭ অপরাহ্ণ

আল হামদু লিল্লাহ্‌। উপযোগী ও মান সম্মত কনটেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধি করার জন্য ধন্যবাদ। লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।


মীর্জা মোঃ মাহফুজুল ইসলাম
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৮:৪৪ অপরাহ্ণ

Best,of,luck.Full,ratings.Visit,my,page.কনটেন্টলিংক-https://www.teachers.gov.bd/content/details/678323 ব্লগলিংক-https://www.teachers.gov.bd/blog-details/575703


রফরফের নুর সিদ্দিকা
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৭:১৩ অপরাহ্ণ

পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা। আমার কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত, লাইক ও রেটিং প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।


মোঃ গোলাম ওয়ারেছ
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৪:৪৫ অপরাহ্ণ

শুভকামনা রইলো এবং সেই সাথে পূর্ণ রেটিং । আপনার তৈরি ব্লগ আমার দৃষ্টিতে সেরার তালিকা ভুক্ত। সে জন্য আপনাকে একটু সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সেই সাথে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমার এ পাক্ষিকের কন্টেন্ট ও ব্লগ দেখার ও রেটিং সহ মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ


মোঃ শফিকুল ইসলাম
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৯:১৭ পূর্বাহ্ণ

রেটিংসহ শুভকামনা। আমার কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও রেটিং প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।


মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (সুমন)
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

আপনার জন্য শুভ কামনা রইল। আমার ৪১ নং কনটেন্ট আপনার অত্যন্ত মুল্যবান মতামত ও রেটিং প্রত্যাশা করছি। লিংক https://www.teachers.gov.bd/content/details/678265