বই উৎসবের প্রস্তুতি: সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হবে দ্রুত............।

মো; ফজলুল হক ১৭ অক্টোবর,২০২০ ১৫৩ বার দেখা হয়েছে ১১১ লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

প্রতি বছর ১ জানুয়ারি অর্থাৎ বছরের প্রথম দিনটি উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের হাসির আলোয়। প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয় এদিন। করোনা মহামারী সত্ত্বেও আগামী বছরের প্রথম দিনটিতেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে আমাদের বিশ্বাস। তবে এবার কয়েকটি সমস্যার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো বই জেলা-উপজেলায় পাঠানো সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, মূলত তিনটি সমস্যার কারণে মুদ্রণকাজ আটকে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে- হঠাৎ কাগজের দাম বৃদ্ধি, কাগজের মানে নতুন আরোপিত ‘বাস্টিং ফ্যাক্টর’ এবং মান তদারককারী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র প্রদানে জটিলতা। এছাড়া মাধ্যমিকের বইয়ের প্রচ্ছদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পৃষ্ঠায় এবার স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন স্থিরচিত্র ক্যাপশনসহ যুক্ত করার ব্যাপারে বিলম্বিত সিদ্ধান্তও মুদ্রণকাজ আটকে থাকার একটি কারণ।

টানা ১১ বছর ধরে বিনামূল্যে পাঠ্যবই প্রদানের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটি সরকারের অন্যতম ভালো কাজ নিঃসন্দেহে। কোনো কোনো বছর বই প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বটে, তবে উদ্যোগটি যে মহৎ এতে কোনো সন্দেহ নেই। এত বিশাল কর্মযজ্ঞে কিছু ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে, আসতে পারে বিভিন্ন স্তরে বাধা। কখনও কখনও সংশ্লিষ্টরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে থাকে।

তবে মনে রাখতে হবে, মুষ্টিমেয় কিছু লোকের ব্যর্থতার কারণে একটি মহতী উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে না। এ কার্যক্রমের ভুলত্রুটিগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে দ্রুত।

প্রতি বছর বিনামূল্যের বই বিশেষত গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র অভিভাবকদের জন্য এক বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ সহায়তায় তাদের আর্থিক কষ্টের বোঝা অনেকটাই লাঘব হয়। আমাদের বিশ্বাস, শুধু বিনামূল্যের বই নয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও অনেক কিছু করার আছে।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়াসহ প্রাথমিক শিক্ষার অন্য সমস্যাগুলোর যদি প্রতিকার করা যায়, তাহলে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার ভিত শক্তভাবে গড়ে উঠতে পারবে, যা একটি জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে বই উৎসবের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় হয়তো কিছুটা পরিবর্তন আসবে। তবে এ উৎসবে যেন কিছুতেই ছন্দপতন না ঘটে, সেদিক লক্ষ রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। মুদ্রণ সমস্যা কাটিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব জেলা-উপজেলায় বই পাঠানো সম্ভব হবে এবং নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে উৎসবে মেতে উঠবে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা, এটাই প্রত্যাশা।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
ABUL KASEM
২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০৮:১৪ অপরাহ্ণ

good...


মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (সুমন)
১৭ অক্টোবর, ২০২০ ০১:১৬ অপরাহ্ণ

পূর্ণ রেটিং সহ শুভ কামনা রইল। আমার এই পাক্ষিকের ১ম কন্টেন্ট... সবার মতামত ও রেটিং প্রত্যাশা করছি https://www.teachers.gov.bd/content/details/732688