ম্যাগাজিন

শিক্ষাক্ষেত্রে বি এডের প্রভাব এবং আমার ভাবনা । বিচিত্র কুমার সিংহ

বিচিত্র কুমার সিংহ ১১ নভেম্বর,২০১৫ ৭৮ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ১.০০ রেটিং ( )

বি এড মাধ্যমিক শিক্ষকদের এক বছর ব্যাপ্তির একটি পেশাদার প্রশিক্ষণ । এই প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের পেশাগত মান উন্নয়নে সহায়তা করে । শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে , নিজকে সমৃদ্ধ করতে,ক্লাসরুমে নিজেকে তুলে ধরতে বি এড প্রশিক্ষণ প্রয়োজন । বাংলাদেশে প্রান্তিক শিক্ষা মাধ্যমিক শিক্ষা হওয়ায় অধিকাংশ জনগোষ্ঠী এই স্তর শেষে কর্মজীবনে প্রবেশ করে । মাধ্যমিক বিদ্যলয়ের শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক  হিসাবে গড়ে তোলা ,দেশ উন্নয়নে এগিয়ে নেওয়ার মত মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তি হিসাবে গড়ে তোলা সর্বোপরি মানব সম্পদ তৈরীতে আত্মনিয়োগ করা,এই গুরুদায়িত্ব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপর বর্তায় । এই গুরুদায়িত্ব যথাযথ পালনে শিক্ষকদের যোগ্য করে গড়ে তোলায় ভূমিকা রাখে  বি এড প্রশিক্ষণ । বি এড প্রশিক্ষণ ব্যতিত শিক্ষকদের যথাযথ মান অর্জন সম্ভব নহে । 

বি এড কোর্সটি তত্ত্বীয়,ব্যবহারিক,পাঠদান অনুশীলন এবং সহ-শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর সমন্বয়ে সাজানো । এই প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীদের শিক্ষণকে সমৃদ্ধকরণে তত্ত্বীয় আলোচনার পাশাপাশি সিমুলেশন ক্লাস, পাঠদান অনুশীলন,প্রতিফলন ডাইরি লিখন,প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে বিভিন্ন দিবস উৎযাপন সংস্কৃতি চর্চা ও সাংস্কৃতিক চেতনা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ,বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা,বার্ষিকী প্রকাশনা এবং সহ-শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীতে শিক্ষাসফর ,ধর্মের প্রতি আনুগত্য সৃষ্টিতে হিন্দুদের স্বরস্বতি পূজা এবং মুসলমানদের মিলাদের আয়োজন করা হয় ।

আমার অনুধাবনে শিক্ষাজীবনে  অর্জিত ডিগ্রিগুলো হতে এই ডিগ্রি ব্যতিক্রমী । তত্ত্বীয় আলোচনাতে আমরা জানতে পারি শিক্ষকতার করণীয়,শিক্ষক হিসাবে নিজেকে প্রস্ততকরণ,শিক্ষকের গুণাবলী প্রকাশে করণীয়, শিক্ষকদের সুনাগরিক গঠনের কারিগর হিসাবে নিজেকে সমৃদ্ধকরণ ও প্রকাশ পদ্ধতি ।

পাঠদান অনুশীলন হচ্ছে বাস্তব প্রেক্ষাপটে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে ব্যবহার করে শ্রেণিকক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা , নিজের সবল-দুর্বল দিকসমুহ সনাক্তকরণ,দুর্বল দিকসমুহ অনুশীলনের মাধ্যমে উন্নয়ন ঘটানো এবং সবল দিকসমূহ ধারণ করে নিজেকে পেশাগত জীবনে সমৃদ্ধ করে একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন করিয়ে শিখন সম্পাদনে সফলভাবে আত্মনিয়োগ করে । এটি  বি এডের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার কথা ।

কিছু কথা না বললে বি এড অভিজ্ঞতা অসমাপ্ত থেকে যাবে । আমি জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক । ৩১-১২-২০১২ খ্রিঃ অপরাহ্নে আমাকে বিদ্যালয় হতে বি এড প্রশিক্ষণে টিটি কলেজ সিলেটে প্রেরণ করা হয় । আমি ১-১-২০১৩ খ্রিঃ তারিখে সকালে বাসে করে সিলেটে আসি এবং বি এড ২০১৩ কোর্স উদ্বোধন ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করি । ২রা জানুয়ারীর প্রতিভা অন্বেষণে জোড়ায় একে অন্যের পরিচিতি প্রদান করি । প্রতিভা অন্বেষণের পরিবেশ প্রশিক্ষনার্থীদের নিজেকে পরিচয় করে দেওয়ার রীতি আমাকে নিজেকে ফুটিয়ে তোলার নতুন প্রকাশভঙ্গির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় । আমি আমার মধ্যে নতুনত্ব অর্জনের প্রত্যাশা লালন করতে থাকি ।

বি এডের তত্ত্বীয় ক্লাসের ক্লাসরুম,মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের ব্যবহার, প্রশিক্ষকদের পাঠদান কৌশল, প্রশিক্ষণার্থীদের পাঠে অংশগ্রহন কৌশল,প্রশিক্ষকদের বন্ধুসুলভ আচরণ আমাকে আলোড়িত করেছে । সর্বোপরি হোস্টেলে থাকা, প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে আড্ডা,খেলাধুলা , বি এড ক্যাম্পাসের অন্যান্য পরিবেশ আমার কাছে নিজেকে গড়ে  তোলার নিজেকে আবিষ্কারের এক ব্যতিক্রমি পরিবেশ মনে হয়েছে ।

বিভিন্ন দিবস পালন, শিক্ষাসফর,বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ,স্বরস্বতী পূঁজা ,সিমুলেশন, বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা পালন,আমার ছাত্রজীবনের সেই দিনগুলোর মনের দৃশ্যপটে ভেসে ওঠে । 

একদিন বি এড প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে যাবে । আমরা স্ব-স্ব কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাবো,রয়ে যাবে কিছু স্মৃতি । হয়ত বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানের দৃশ্যপটে ভেসে উঠবে অতীত বি এডের স্মৃতিগুলো । কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যাবো স্মৃতির রাজ্যে ।

 

 

 

 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মেফতাহুন নাহার
১১ জুন, ২০২০ ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগী কন্টেন্ট আপলোড করে শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করায় পূর্ণরেটিংসহ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। আমার আপলোড করা কন্টেন্টগুলো দেখার এবং আপনার গঠনমূলক মতামতসহ রেটিং প্রদান করার জন্যবিনীতভাবে অনুরোধ রইলো।