প্রকাশনা

সেরা শিক্ষার্থী হওয়ার পঞ্চসূত্র -Mohd.Iskander Alam Noapara University college.Raozan.ctg.

মোহামদ ইসকান্দার আলম ১৬ মে,২০১৬ ৬২ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ১.০০ রেটিং ( )

সেরা শিক্ষার্থী হওয়ার পঞ্চসূত্র ক্লাসে প্রথম। এই অবস্থানটি অর্জনের জন্যে অসাধারণ মেধাবী হওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি এজন্যে ভালো স্কুল, নামী-দামী টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়া কিংবা ধনী বাবা-মায়ের সন্তান হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ নয়। ক্লাসে প্রথম হওয়া থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রথম হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী তার জীবনে পরিপূর্ণতার স্বাদ পেতে পারে, সেরা ছাত্র বা ছাত্রী হতে পারে, যদি তার জীবনযাত্রায় আনতে পারে ইতিবাচক পরিবর্তন। আর ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব এই পাঁচটি সূ্ত্র আয়ত্ত করার মাধ্যমে। নিজেকে বিশ্বাস করতে শিখুন মনে আছে সেই কুৎসিত হাঁস ছানার গল্প? এক মা পাখির ডিম থেকে ঘটনাচক্রে তার জন্ম হয়েছিল এক গৃহস্থের বাড়িতে। সেখানে মুরগিছানাদের সাথে সেও বেড়ে উঠছিল—কিন্তু অবজ্ঞা আর অবহেলার সাথে। তার ব্যতিক্রমী চেহারার জন্যে তাকে প্রায় এক ঘরে করে ফেলেছিল বাকি মুরগিছানাগুলো। সুযোগ পেলে মুরগিছানারা তাকে তাড়া করত, কাক ভয় দেখাত, খাবারটাও ঠিকমতো খেতে দিত না। এভাবেই চলছিল হাঁসছানার জীবন। একদিনের ঘটনা। কোনো কারণে মুরগিছানারা তাড়া করেছে তাকে। প্রাণপণে ছুটতে ছুটতে গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে এক হ্রদের ধারে গিয়ে থমকে গেল সে। পানিতে নিজের ছায়া দেখতে পেল। পরমুহূর্তে চোখ গেল ঐ পাড়ের এক ঝাঁক হাঁসের দিকে। কী আশ্চর্য! হুবহু তার মতোই দেখতে! অবাক বিস্ময়ে সে একবার তাকাচ্ছে ঐ হাঁসদের দিকে, একবার তার মায়ের দিকে আর একবার হ্রদের পানিতে তার প্রতিবিম্বের দিকে। প্রথমবারের মত সে নিজেকে আবিষ্কার করল। বুঝল, সে ঐ মুরগি ছানাদের মত নয়। আবর্জনা খুঁটে খাওয়ার জীবন তার নয়, নীল আকাশে হাজার মাইল পাড়ি দেয়ার দৈহিক সামর্থ্য নিয়ে জন্মেছে সে। নভোনীলিমায় ডানা মেলে দিল আত্ম-আবিষ্কার আর আত্মপরিচয় সৃষ্টির নতুন অভিযাত্রায়। হাঁসছানার জীবনের সঙ্গে আপনিও কি নিজের মিল খুঁজে পাচ্ছেন? অতীতে হয়তো একবার রেজাল্ট ভালো হয় নি। এজন্যে আশেপাশে সকলের নেতিবাচক কথায় প্রভাবিত হয়ে আপনিও ভাবতে বসলেন, আমাকে দিয়ে আর ভালো কিছু হবে না। আমি তো জিনিয়াস নই। আর এরপর থেকে নিজেকে খারাপ ছাত্রছাত্রীদের দলের মনে করা হয়তো আপনার স্বভাবে পরিণত হয়েছে। অথচ এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। শিকাগোর ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস—এর শিক্ষাবিষয়ক প্রফেসর হার্বার্ট ওয়ালবার্গ—এর মতে, সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা সবসময় টপ রেজাল্ট করতে পারে না। দেখা গেছে, বেশি মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের তুলনায় ভালো রেজাল্ট করে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা। কারণ অতিরিক্ত মেধাবীদের মধ্যে ‘অল্প পড়ালেখা করলেই ভালো রেজাল্ট করতে পারি’ এমন মনোভাব কাজ করে। এই দম্ভের জন্যে তার মধ্যে কাজে লেগে থাকার গুণটি থাকে না। সে ক্লাসে পড়াশোনায় কখনো ১ম হলেও পরবর্তী জীবনে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে না। আসলে সবচেয়ে বড় সত্য হচ্ছে এই যে, ক্লাসে প্রথম হওয়ার যোগ্যতা আমাদের সকলেরই আছে। কিন্তু আমরা হতে পারি না। কারণ আমরা আমাদের ভেতরের শক্তিটাকে অনুভব করি না। তাই যতক্ষণ না আপনি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছেন, প্রথম হওয়ার জন্যে প্রচণ্ড ইচ্ছা অনুভব করছেন, ভবিষ্যতের জন্যে আপনার সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করছেন ততক্ষণ পর্যন্ত খারাপ রেজাল্ট আপনার পিছু ছাড়বে না। আর এমনটি ভাবতে না পারার কারণ হচ্ছে দুর্দশার বৃত্ত। এবং এই বৃত্ত ভাঙার দায়িত্ব নিতে হবে আপনাকেই। যেমন, আপনার যদি আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকে তবে প্রথম কাজটি হবে, মেডিটেশন এবং নিয়মিত অটোসাজেশন চর্চার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসকে জাগ্রতা করা। এছাড়া আপনি আরো যা করতে পারেন— ১. আপনার ভালো দিকগুলোর একটি তালিকা তৈরি করুন। ২. সৎ সঙ্ঘের সাথে থাকুন। ৩. কাউকে অনুকরণ করে নয়; বরং নিজের সুপ্ত মেধাকে বিকশিত করে নিজের মত হোন। ৪. গতানুগতিক ভাবনা থেকে মুক্ত হয়ে সুস্থ জীবনদৃষ্টির প্রতি মনোযোগী হোন। লক্ষ্য নির্ধারণ করুন প্রতিনিয়ত আমরা অবচেতন মনে যা ভাবি, বাস্তবতা আমাদের সেদিকেই নিয়ে যায়। ভবিষ্যতে আমরা আত্মপ্রকাশ করি সেভাবেই। কোয়ান্টামের ভাষায় যা হচ্ছে মনছবি। আসলে মন যা ভাবতে পারে, যা বিশ্বাস করতে পারে তা অর্জন করতে পারে। আর এখানেই মনছবির শক্তি। তবে অধিকাংশ মানুষ সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারে না তার মনের ইচ্ছাটাকে। নির্ধারণ করতে পারে না তার লক্ষ্যকে। প্রকৃত লক্ষ্যের খোঁজে সে ছুটে চলে এক পথ থেকে আরেক পথে। শুধু খুঁজে দেখে না তার মনের ভেতরে। এদিকে ফুরাতে থাকে তার শক্তি শ্রম সময়ের মত আরো অনেক মূল্যবান সম্পদ। তাই সাফল্যের জন্যে লক্ষ্য নির্ধারণ করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মর্মে মহাভারতের একটি ছোট গল্প রয়েছে। গুরু দ্রোণাচার্যের কাছে পঞ্চপাণ্ডবের ভাই এবং একশ কৌরব বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র চালানো শিখত। প্রশিক্ষণ শেষে ধনুবিঁদ্যায় কে কতটা পারদর্শী হয়েছে, এটা বোঝার জন্যে দ্রোণাচার্য তাদের পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তীরধনুকের নিশানা নির্ণয়ে সবাই নিজেকে বেশ দক্ষ মনে করে পরীক্ষাটিকে কোনো সমস্যাই মনে করল না। দ্রোণাচার্য গাছের ডালে পাখির একটি মূর্তি রাখলেন। এক এক করে ছাত্রদের ডাকতে লাগলেন। ছাত্ররা যখন তীর ধনুক নিয়ে নিশানা ঠিক করছিল, তখন তিনি প্রত্যেককে পৃথকভাবে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কী দেখতে পাচ্ছ? উত্তরে তারা প্রায় সবাই একই কথা বলল যে, আমরা সব দেখতে পাচ্ছি। গাছ , গাছের ডাল, গাছে বসে থাকা পাখি সব….. উত্তর শুনে দ্রোণাচার্য খুব মর্মাহত হলেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তরের জন্যে কেউই পরীক্ষায় পাশ করল না। ছাত্ররাও বুঝতে পারল না পাশ না করার কারণ। তারা মাথা নিচু করে বসে রইল। সবশেষে পাণ্ডবদের তৃতীয় ভাই অর্জুন এলো। তাকেও একই প্রশ্ন করলেন গুরু। অর্জুন মূর্তির প্রতি দৃষ্টি স্থির রেখে বলল, আমি পাখির চোখ দেখতে পাচ্ছি। দ্রোণাচার্য বললেন, তুমি কী আর কিছু দেখছ না? অর্জুন বলল, না গুরুজী। আর কিছু দেখছি না। শুনে দ্রোণাচার্য বললেন, তুমি পারবে। কারণ তোমার মন স্থির হয়েছে একটি লক্ষ্যে। তাই সাফল্য তোমারই। অর্জুনের এই সাফল্য সম্ভব হয়েছিল তার সুস্পষ্ট লক্ষ্যের জন্যে। কোনো কিছুই তাকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারে নি। অার এ কারণে পরবর্তীতে সে আত্মপ্রকাশ করেছিল বিখ্যাত তীরন্দাজ হিসেবে। তাই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মনছবি সুনির্দিষ্ট করা। কারণ আপনি মনের পর্দায় পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে যে ছবি আঁকছেন, আপনার অনুভূতি, আচরণ ও কর্মতৎপরতা প্রভাবিত হচ্ছে সেভাবেই। তাই ক্লাসে প্রথম ও জীবনে প্রথম হওয়ার জন্যে আপনার সুপ্ত মেধাকে কীভাবে বিকশিত করবেন, সেটা নির্ভর করছে আপনার সিদ্ধান্তের ওপর। এজন্যে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে আপনি ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে পারেন। যেমন, অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার আগে লক্ষ্য ঠিক করুন যে, আপনি মিড টার্মে ৮০% মার্কস পেতে চান। এক্ষেত্রে এই অর্জন আপনার আত্মবিশ্বাসের মাত্রা বাড়িয়ে দিবে। এরপর ফাইনাল সেমিস্টারে ভাবলেন জিপিএ ‘এ’ । এটা পূরণ হলে স্কলারশিপের জন্যে অমুক ইউনিভার্সিটির কথাও ভেবে রাখলেন। এমন যৌক্তিক চাওয়া, সেইসাথে সঠিক উপায়ে চেষ্টা আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে লক্ষ্যপূরণে। সময়কে নিয়ন্ত্রণে রাখুন মনে করুন এমন একটা ব্যাংক, যেখান থেকে প্রতিদিন সকালে আপনাকে ৮৬,৪০০ টাকা দেয়া হয়। টাকাটা থেকে আপনি খরচ করতে পারবেন ইচ্ছেমতো। কিন্তু শর্ত, হলো যা খরচ করতে পারবেন না, দিনশেষে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। এরকম হলে কী করতেন আপনি? নিশ্চয়ই পুরো টাকাটা কাজে লাগানোর জন্যে উঠে পড়ে লাগতেন। কিন্তু সময়কে নিয়ে কি আপনি এভাবে ভাবেন? অথচ সময় আপনার এমনই একটি সম্পদ। কারণ একটি দিনে আপনার থাকে মোট ৮৬,৪০০ সেকেন্ড, যা আজকে চলে গেলে আর কোনোদিনই ফিরে পাবেন না আপনি। এমনকি এই সময় নষ্ট হলে তার জন্যে অনুশোচনা করা ছাড়া আর কিছু করারও থাকবে না। তাই অতীত নিয়ে অনুশোচনা, ভবিষ্যতের অলীক কল্পনা করে নয় বরং বর্তমানকে নিয়ে বাঁচুন। সময়ানুবর্তী হোন। এতে আপনার সুস্থতা, প্রশান্তি, সাফল্যের পরিমাণও বাড়তে থাকবে। ভালো শিক্ষার্থীরা এই বিষয়টির গুরুত্ব বোঝে। তাই তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দৈনন্দিন কাজের একটি রুটিন তৈরি করে। এভাবে তাদের জীবনে সৃষ্টি হয় কর্মছন্দ। ফলে পড়ালেখায় সাফল্য আসে সহজ স্বতঃস্ফূর্ততায়। আর এই রুটিন অনুযায়ী প্রতিটি কাজ সময়মতো করার অভ্যাস যদি আপনি গড়তে পারেন তবে লাভবান হবেন সামগ্রিক জীবনে। বড় স্বার্থের জন্যে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করুন ভারতে বানর শিকারের জন্যে রয়েছে ভিন্ন একটি পন্থা। একটি বাক্স ফাঁদ পেতে রাখা হয়, যার একপাশ খোলা এবং বানরের হাত ঢোকানোর জন্যে যথেষ্ট বড়। এর ভেতর রাখা হয় বাদাম। যথারীতি বাদামের লোভে বানর আসে এবং বাক্সে হাত ঢোকায়। হাত মুঠ করে ইচ্ছেমত বাদাম নেয়। কিন্তু এবার মুষ্টিবদ্ধ হাত বের করে আনতে পারে না। কারণ বাক্সের সেই উন্মুক্ত অংশটি খালি হাতের জন্যে যথেষ্ট বড় হলেও মুষ্টিবদ্ধ হাতের জন্যে নিতান্তই ছোট। অগত্যা বানরের কাছে থাকে মাত্র দুটি উপায়। হয় বাদাম ফেলে হাত বের করে এনে চিরকালের জন্যে মুক্ত হয়ে যওয়া অথবা বাদাম খাওয়ার লোভে শিকারীর কাছে আত্মসমর্পণ করা। এক্ষেত্রে বানর প্রতিবার কী করে, জানেন? সে বাদাম নেয় এবং ফাঁদে আটকা পড়ে। আসলে আমরাও যে বানরের চেয়ে খুব ব্যতিক্রম তা কিন্তু নয়। আমরা সবাই ভালো কিছু করতে চাই। সফল হতে চাই। কিন্তু আমাদের অধিকাংশের কাছে এই চাওয়াটা শুধু চাওয়াতে সীমাবদ্ধ। আমরা চাই মাঝে মাঝে পড়ালেখা করব, টিভি-সিনেমা দেখব, আড্ডা দেবো, গান শুনব, গল্পের বই পড়ব। জীবনটাকে তো উপভোগ করতে হবে! তারপর যদি পরীক্ষায় এ প্লাস না পাই তাহলে পরে হায় হায়। কিন্তু একজন ফার্স্টবয় কি এভাবে ভাবে? ভাবে না। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, পড়ালেখা এবং ফার্স্ট হওয়া। এর জন্যে যা যা করা দরকার, যেভাবে করা দরকার এবং যা বর্জন করা দরকার, সে তা-ই করে। এটা নিয়ে আমাদের এক কোয়ান্টাম সদস্যের গল্প আছে। একদিন তিনি বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছেন। সেখানে সবাই মিলে টিভিতে সিনেমা দেখছে। শুধু ঘরের ছোট মেয়েটি ছাড়া। সে টিভির ঘরে বসে অঙ্ক করছে। তার সত্যিকারে পড়াতে মন আছে, নাকি সেও লুকিয়ে সিনেমা দেখছে—এটা বোঝার জন্যে ঐ ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, বলোতো এই সিনেমার নায়িকা কে? মেয়েটি টিভির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, এখানে তো অনেক মহিলাকে অভিনয় করতে দেখছি। কীভাবে বলব যে, কোনটি নায়িকা? এ উত্তর শুনেই তিনি বুঝলেন যে, মেয়েটি আসলে তার পড়ালেখাতে ডুবে আছে। পরবর্তীতে অবশ্য মেয়েটি তার এই গুণের জন্যে পেশাজীবনে খুব ভালো করেছে। কোনো কিছুই তাকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে নাই। তাই আপনিও ঠিক করুন, প্রয়োজনে কোনটি আপনি ত্যাগ করবেন? এজন্যে মনকে বোঝাতে হবে যে, মন, এখন আমার জীবন গড়ার সময়। পড়ালেখা করা ছাড়া অন্য কিছু করার জন্যে সামনে অনেক সময় আছে। এখন যদি কষ্ট স্বীকার করি তাহলে আমার শেষ ভালো হবে। তখন এ কষ্ট শতগুণে আমার আনন্দের কারণ হবে। সমস্যাকে সম্ভাবনা মনে করুন ভালো স্টুডেন্টদের সাফল্যের পেছনে রহস্য হচ্ছে তাদের প্রো-একটিভ দৃষ্টিভঙ্গি। আসলে জীবনের পথচলা সবসময় সহজসরল নয়। প্রতিটি দিন নতুন নতুনভাবে আসে। কখনো আসে সফলতা নিয়ে আবার কখনো ভরপুর থাকে ব্যর্থতায়। সফল মানুষদের জীবনও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে সামনে এগিয়ে যায়। আসলে জীবনের এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এগোলেই সমাধান পাওয়া যাবে। এটা সম্ভব হবে তখন যখন কেউ অনেক বাধা-বিপত্তির মুখেও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করতে পারবেন। শুকরিয়া আর আনন্দের সাথে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রত্যয়ী থাকবেন। একবার এক ব্যক্তি বনের মধ্যে প্রজাপতির গুটি দেখতে পেল। কী হয় দেখার জন্যে সে দাঁড়িয়ে রইল। গুটিটার মুখ অল্প অল্প করে একটু খুলছে। সে প্রায় কয়েক ঘন্টা বসে রইল এটা দেখার জন্যে যে, কীভাবে শুঁয়োপোকাটি তার পুরো শরীরটিকে গুটির ঐ ছোট ছিদ্র দিয়ে বের করে আনে। অনেকক্ষণ ধরে কোনো পরিবর্তন দেখতে না পেয়ে সে মনে করল শুঁয়োপোকাটি হয়তো বের হতে পারছে না। সে তাকে সাহায্য করার জন্যে কাঁচি এনে গুটির এক পাশ একটু কেটে দিল। [প্রজাপতির আগের অবস্থা শুঁয়োপোকা] ফলে খুব সহজেই প্রজাপতিটি বেরিয়ে এলো ঠিকই, কিন্তু তার ফোলা দেহটি ছোট হয়ে রইল, ডানাগুলোও শুকনো, সংকুচিত।… লোকটি তখনো তার দিকে তাকিয়ে রইল এ আশায় যে, যে-কোনো মুহূর্তে এটি গুটানো ডানা দুটি মেলে ধরবে বিশাল আকাশে এবং উড়াল দেবে মুক্তির আনন্দে। কিন্তু এর কোনটিই হলো না। বরং তার ফোলানো দেহ আর সংকুচিত ডানা নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে চলতে শুরু করল। সারাজীবনের জন্যে ডানা মেলে ওড়ার সামর্থ্য তার হলো না। মানুষটি এক্ষেত্রে তার উদারতা দেখাল ঠিকই। দ্রুত কিছু দেখার তাগিদে একটি শুঁয়োপোকাকে অথর্ব করে দিল। যে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গুটি থেকে বের হয়ে তার ডানাতে শক্তি অর্জন করে স্বাধীনভাবে ওড়ার কথা, এই পৃথিবীর আলোয় তার রঙিন প্রজাপতি হবার কথা—কিছুই হলো না। তাই প্রত্যেকের জীবনে সংগ্রামের প্রয়োজন আছে। কোনো বাধা প্রতিকূলতা ছাড়াই যদি স্রষ্টা আমাদের পৃথিবীতে রাখতেন, তবে আমরাও ঐ প্রজাপতিটির মতো হতাম। পঙ্গু…। আসলে এই বাধাগুলো আমাদের মধ্যে শক্তি সঞ্চার করে। ফলে আমরা উড়তে পারি। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রতিটি সমস্যাকে তাই সম্ভাবনা হিসেবে মনে করুন। ভবিষ্যতের জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করার সুযোগ বলে মনে করুন। দেখবেন আপনাকে সাফল্যের পেছনে ছুটতে হচ্ছে না। বরং সাফল্য এসে আপনাকে বরণ করে নিচ্ছে।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মেফতাহুন নাহার
১৪ জুন, ২০২০ ০৯:০৪ অপরাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগী কন্টেন্ট আপলোড করে শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করায় পূর্ণরেটিংসহ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। আমার আপলোড করা কন্টেন্টগুলো দেখার এবং আপনার গঠনমূলক মতামতসহ রেটিং প্রদান করার জন্যবিনীতভাবে অনুরোধ রইলো।