ম্যাগাজিন

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে নিরাপত্তা

নাসরীন আক্তার খানম ০৩ নভেম্বর,২০১৯ ৩১ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ১.০০ রেটিং ( )

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে "নিরাপত্তা"
--
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে "নিরাপত্তা" একটি বড় বিষয়।
কার নিরাপত্তা? শিশুর! শিক্ষকের!
যদি বলি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের সর্বোত্তম নিরাপত্তা বিধান না হলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে অন্তরায় সৃষ্টি হবে, ভুল বলা হবে কি!
সর্বোত্তম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক উভয়েরই।
কেবল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করে বসে রইলেন,শিক্ষক থাকলেন অরক্ষিত- শিক্ষক নিরাপত্তাহীনতা আর আতংকে ভুগলেন সারাক্ষণ- এর প্রভাব কি কোমলমতি শিশুদের উপর পড়বে না?
শিক্ষার্থী ও শিক্ষক কাদের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন?
--- স্কুলের শিক্ষক
---- স্কুলের অভিভাবক
----- এলাকাবাসী
--- বহিরাগত।
*
আমার লেখায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের নিরাপত্তা বিধানের কথা উল্লেখ করেছি,নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশ না হলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না।
------ কমিটির লোকজনঃ বিদ্যালয় পর্যায়ে এসএমসি, পিটিএ কমিটি রয়েছে।রয়েছে আরও নানা ধরণের কমিটি।এসএমসি হচ্ছে ও পিটিএ হচ্ছে সবচেয়ে গতিশীল কমিটি।
আমরা বিভিন্ন সময়ে কমিটি কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা শুনি।প্রতিবাদও করি, সে পর্যন্তই।এরপর আর কি হয় তা আর জানা যায় না।
তবে এরকম বিচ্ছিন্ন ঘটনার পরিমাণ খুবই কম।দেশের ৯০% এর উপর কমিটি সহযোগিতামূলক কাজকর্মের মাধ্যমে স্কুলগুলোকে সাহায্য করেন।
প্রয়োজনে আর্থিক সহযোগিতাও করেন অনেক কমিটির সদস্যগণ এবং সভাপতি নিজে।
স্বল্প পরিমাণে হলেও সভাপতি বা কমিটি কর্তৃক যেমন শিক্ষক আঘাত প্রাপ্ত হন তা সে দৈহিক কিংবা মানসিক হোক,উল্টোটা ঘটাও বিচিত্র নয়।
এরকম ঘটনা যদি ঘটে, যদি কোন স্কুলের সাথে জড়িত কারও কর্তৃক কমিটির সভাপতি বা অন্য কোন সদস্য আঘাত প্রাপ্ত হন তবে তা শিক্ষার্থী ও অন্যান্য শিক্ষকের জন্য বিব্রতকর বৈকি।
এরকম হয় আমি বলছি না,তবে হতেও পারে।
সেক্ষেত্রে সকলের উচিত মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সহনশীল আচরণ করা।
মনে রাখা দরকার আমাদের বিদ্যালয় কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
আমাদের নিয়োগ হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা শিশুদের দেয়ার জন্য,নির্বাচিত হয়েছেন সহযোগিতার জন্য।
কাউকে তথাকথিত শিক্ষা দেয়ার কাজ আমাদের নয়।
আমাদের ভাল-মন্দ, কাজ- কর্ম দেখার জন্য আমাদের দপ্তর ও কর্তৃপক্ষ রয়েছেন।
আমরা শিক্ষক তাই শিক্ষকসুলভ আচরণ আমাদের কাছ থেকে সবাই আশা করেন,এবং আমাদেরও উচিত শিক্ষকসুলভ আচরণ করা।
মোট কথা শিক্ষক এবং কমিটির পারস্পরিক সুসম্পর্ক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং তখনই নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হয়।
শিশুরা কী শিখবে?
কেবল অ আ ক খ নয়, আচরণও শিখবে বিদ্যালয় থেকে।
*
--- স্কুলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অভিভাবক কর্তৃক আক্রান্ত হতে পারেন।
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা থাকে অবুঝ।অনেক সময় সামান্য বিষয় নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি করে থাকে,পরক্ষণে নিজেরাই মিলে যায়।
অনেক কোনও কোনও ঘটনা বড়ও হয়,একজন আরেকজনকে কলম দিয়ে খোঁচা দেয়,ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।শিক্ষকগণ তাদের মিলিয়ে দেন বুঝিয়ে-সুঝিয়ে।
কখনও কখনও কোনও ঘটনা অভিভাবক পর্যন্ত গড়ায়,স্কুলে, ক্লাসরুমে এসে তারা শিশুদের উপর চড়াও হন।রাস্তায় শিশুকে দেখে নেন,ঘটনা আরও বড় হয়ে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
এরকম ক্ষেত্রে এবং সন্তান কেন ফেল করল,সন্তান কেন উপবৃত্তি পেল না- সেজন্য তারা চড়াও হন শিক্ষকদের উপর।
এসব ক্ষেত্রে অভিভাবক বুঝতে চান না যে তার সন্তানটি যেমন তার কাছে প্রিয় ঠিক তেমনি একজন শিক্ষকের কাছেও একজন ছাত্র সন্তানের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।
সামান্য কারণে প্রযোজ্য কারণ বিবেচনা ছাড়াই কোনও কোনও অভিভাবক শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালি দেন এবং এটা বেশি ঘটে অসচেতন অভিভাবকদের দ্বারা।
আর অসচেতন অভিভাবক যদি সামান্য ক্ষমতার কাছাকাছি থাকেন তবে কথায় কথায় শিক্ষককে দেখে নেবার হুমকি দিতে থাকেন এবং দেখে নেনও।
বর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েই নিরাপত্তা হুমকিতে থাকেন।
ভীতিকর পরিবেশে কোনও স্কুলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের পরিবেশ থাকার কথা নয়,থাকেও না।
--- অনেক সময় একজন সহকর্মী আরেকজন সহকর্মী দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন।তুচ্ছ কারণ অনেক সময় বহুদূর গড়ায়।
সহকর্মীদের মনোমালিন্যের কারণে বহিরাগত বিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ  বিষয়ে নাক গলানোর সুযোগ পায়।
কোনো অবস্থায়ই পেশাগত আচরণ বিধি অমান্য করা যাযে না,পেশাগত আচরণ বিধি মেনে চললে বিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থী অনেকটাই সুরক্ষিত থাকেন এবং বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পরিবেশ বজায় থাকে।
ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা ও সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে নিজেদেরই।
--- অনেক সময় কচি শিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হয়।
এক্ষেত্রে অভিভাবকের ভূমিকাও জরুরী।সেই সাথে বিদ্যালয়ে শিশুরা যাতে কারও দ্বারাই কোনও প্রকার হয়রানির শিকার না হয় সেই দিকে শিক্ষকদেরও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হয়।
---- বিদ্যালয় হচ্ছে একটি ফুলের মত,এখানে সুন্দর পরিবেশ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ ম্যানেজম্যান্ট ; সুদক্ষ উন্নত চরিত্রের শিক্ষক প্রয়োজন।
শিশু ও শিক্ষকের নিরাপত্তা বিধানে এলাকাবাসী,কমিটির লোকজন এবং শিক্ষকদের সতর্ক মনোযোগ প্রয়োজন,তবেই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত পরিবেশ বিদ্যালয়ে বিরাজ করবে।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মেফতাহুন নাহার
১৩ জুন, ২০২০ ০১:৩১ পূর্বাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগী কন্টেন্ট আপলোড করে শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করায় পূর্ণরেটিংসহ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। আমার আপলোড করা কন্টেন্টগুলো দেখার এবং আপনার গঠনমূলক মতামতসহ রেটিং প্রদান করার জন্যবিনীতভাবে অনুরোধ রইলো।