"ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন, বাংলা সাহিত্যের কথকতা"

দেবপ্রসাদ মণ্ডল ১৮ নভেম্বর,২০১৯ ১১১ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ০.০০ ()

এই সেই নদী । সংস্কৃত গিরিধারা থেকে বরফগলা জলধারার মতো নেমে এসেছে সমতলভূমির উপর । ক্রমেক্রমে এই নদীতে উঠেছে ঢেউ, বেগ বেড়েছে তার । শাখা-প্রশাখায় উপনদী, বাঙড়, হাওড় সৃষ্টি করে নদী এগিয়ে চলেছে সাগরের দিকে । বৈদিক সংস্কৃত, পালি, প্রকৃত ও অপভ্রংশের পথে তার যাত্রা হাজার বছর ধরে ।


ওই দেখো দূরে, বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য এই নদীর কূলে বসে রচনা করেছেন চর্যাপদ । তার ভাষা বিন্যাস, ছন্দপ্রকারণ, শব্দযোজনা এবং বচিত্র অলংকারের প্রয়োগ তোমাকে বিষ্মিত করবেই । 

'টালত ঘর মোর নাহি পড়বেশী ।

হাঁড়িত ভাত নাহি নিতি আবেশি ।।'

ভাষা দুর্বোধ্য হলেও এর ছন্দে সর্বপ্রথম বাংলা পয়ার জাতীয় ছন্দের প্রয়োগ লক্ষ্য করবে তুমি ।


ওই দেখো দূরে, এই নদীর তীরে বনবিষ্ণুপুরের নিকটে কাকিল্লা গ্রামে বড়ু চণ্ডীদাস লিখেছেন 'শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন'।

'কে না বাঁশী বএ বড়ায়ি কালিনী নই কূলে ।

কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি এ গোঠ গোকূলে।।'

ওই দূরে দেখা যায়, মৈথিলী কবি বিদ্যাপতির রচনা করেছেন পদাবলী । রাধার পূর্বরাগ, প্রথম মিলন, বিরহ, ভাব সম্মেলন, বেদনা মধুর আলিঙ্গন । সেযে সর্বকালের । একে একে এপথ ধরেই আসছেন কীর্তিবাস, মালাধর বসু আরো কতো কতো পদকর্তা ।


ওই দেখো, এই বাংলার নদীয়ার বুকে শচীমাতার কোল আলো করে জন্মেছে এক শিশু । বাঙালি হৃদয় মন্থন করে আবির্ভূত হয়েছেন তিনি । শ্রীচৈতন্য নাম তার । প্রেমের সাগরে ভাসিয়ে দিলেন প্রতিটি মানুষকে । তাঁর প্রভাবেই বদলে গেলো এই নদীর ধারা । সেই ধারা বেয়েই ছুটে এলেন চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দ দাস । রাধা-কৃষ্ণ মিশে গেলেন এক দেহে । রাধার সেই দেহময়, অথচ দেহাতীত ক্রন্দন উঠল ফুটে । 

'রূপলাগি আখি ঝুরে গুণে মন ভোর।

প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।

পরান-পিরীতি লাগি থির নাহি বান্ধে।।


তারপর; ওই আসছে দেখো, লালন ফকির, মধুসূদন,  রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম । বাংলা সাহিত্যে বইছে নতুন খাত । যে ভগবান একদিন হয়েছিলেন মানুষ, সে মানুষই পরিবর্তিত হচ্ছে ভগবানে ।

মতামত দিন