বাতায়নের সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা ও আমার প্রতীক্ষা

মোঃ রেজাউল হাসান ১০ ডিসেম্বর,২০১৯ ৩০০ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

রাত পোহাবার আর কত দেরী পাঞ্জেরী ...

হায়রে সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা! জানিনা আমার এই প্রতিক্ষার প্রহর শেষ হতে আর কতো দিন অপেক্ষা করতে হবে। ০৫/০৬/২০১৫ ইং সনে আমি কিশোরগঞ্জ পিটিআই হতে আইসিটি বিষয়ে প্রথম হাতে খড়ি। মাত্র ১২ দিনের এই প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদ্যালয়ে আসলাম ঠিকই কিন্তু শিক্ষার্থীদের যে মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে পাঠদান করব এই অবস্থায় আমার বিদ্যালয় ছিল না। ছিল না মাল্টিমিডিয়ায় পাঠদানের কোন উপকরণ। এইভাবেই কেটে গেল প্রায় তিন বছর। মাঝে মাঝে শিক্ষক বাতায়নে প্রবেশ করতাম এবং দেখতাম প্রতি সপ্তাহে তিনজন করে সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা হচ্ছেন। তখন অবশ্য আমার এই কন্টেন্ট তৈরিতে তেমন কোন আগ্রহ ছিল না। এরই মাঝে একদিন দেখতে পেলাম শিক্ষক বাতায়নে সেরা কন্টেন্ট নির্মাতাদের নিয়ে হাসান হাফিজুর রহমান (হাসান ক্যাম্ব্রিয়ান) স্যারের অসাধারণ সেরার বচন। এই সেরার বচন দেখে নিজের মধ্যে এতই স্পৃহা জন্মালো যে, পণ করলাম সেই সেরার বচনে একদিন না একদিন আমার নাম অবশ্যই অন্তর্ভূক্ত করতেই হবে।

শুরু হলো আমার জীবনে শিক্ষকতার এক নতুন ধাপ। নিজ উদ্যোগেই একটি সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ কিনলাম এবং কন্টেন্ট নির্মাণ শুরু করলাম। প্রথম দিকের কন্টেন্টগুলো যখন বানাতাম এবং পাশাপাশি অন্য স্যারদের কন্টেন্টগুলোর সাথে আমার কন্টেন্টের তুলনা করতাম তখন ভাবতাম কেমন করে এত সুন্দর কন্টেন্ট তৈরি করেন। এরই মধ্যে একদিন হাসান স্যার ফ্যাসবুকে আপলোড দিলেন তার ৬৯ টি মডেল কন্টেন্ট। সাথে সাথে আমি সবগুলো কন্টেন্ট ডাউনলোড করে দেখতে লাগলাম। যতই দেখি ততই অবাক হতে লাগলাম। একদিন স্যারকে ইনবক্স করলাম,”স্যার এত সুন্দর সুন্দর এনিমেশন আপনি কীভাবে দেন? এগুলোই কী পাওয়ার পয়েন্টে আছে?” স্যার রিপ্লাই দিলেন, সবই পাওয়ার পয়েন্টেই আছে। তারপর স্যারের প্রতিটি কন্টেন্ট ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম এবং পাওয়ার পয়েন্টের অনেক কিছু জানতে পারলাম। পাশাপাশি শুরু করলাম মুক্তপাঠে বিভিন্ন কোর্স সম্পাদন। অনেক কিছু মুক্তপাঠ থেকে শিখলাম এবং নিজ বিদ্যালয়ে এর প্রয়োগ করতে লাগলাম। নিয়মিত মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান করতে লাগলাম এবং এমএমসি এপসের দ্বারা প্রতিবেদন জমা দিতে লাগলাম। এরই মধ্যে ৩০ / ১০ / ২০১৮ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত হলো আমাদের উপজেলায় “মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ডিজিটাল কন্টেন্ট প্রতিযোগীতা।” উক্ত প্রতিযোগিতায় আমি অংশগ্রহণ করি এবং প্রথম হওয়ার গৌরব লাভ করি।    

শুরু করলাম নতুন করে কন্টেন্ট নির্মাণ। একেক করে ৩০ টি কন্টেন্ট যখন নির্মাণ করলাম তখন থেকে স্বপ্ন দেখতে লাগলাম সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা হওয়ার। সপ্তাহের পর সপ্তাহ যায়, আমার প্রতীক্ষার প্রহর কেবল দীর্ঘায়িত হতেই থাকল। প্রতি সপ্তাহে তিন জন সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা ঘোষণা করা হয় আর সাথে সাথে দেখতে থাকি কোন যোগ্যতায় তারা সেরা হলো। কতটি কন্টেন্ট তারা আপলোড করল। তাদের এমন বিশেষ কী দক্ষতা আছে যা আমার মধ্যে নেই। অনেকের কাছে আমার কন্টেন্ট নিয়ে দেখালাম সবাই উচ্ছাসিত প্রশংসাই করেছেন। বাতায়নে কন্টেন্ট আপলোডের মধ্যেই দেখতে পেরেছি কেউ মাত্র ১০ টি কন্টেন্ট আপলোড করে সেরা হয়েছে্ন আবারো কেউ ৭১ টি কন্টেন্ট আপলোড করে সেরা হয়েছেন। যখন দেখলাম একজন স্যার মাত্র ১০ টি কন্টেন্ট ২ মাসের কম সময়ে আপলোড করে সেরা হয়েছেন তখন অনেক কষ্ট পেয়েছি। মনে মনে হিংসে হয়েছে এই ভেবে যে, স্যার কতো সুভাগ্যবান! আবার যখন দেখলাম একজন ম্যাডাম ৭১ টি কন্টেন্ট আপলোড করে সেরা হয়েছেন তখন ভাবলাম আমাকে যেতে হবে আরো অনেক দূর!

ছোটবেলা পড়েছি এবং বড় হয়ে শিক্ষা দিচ্ছি,

“বারে বারে তুই জ্বালাবি বাতি

হয়তো বাতি জ্বলবে না-

তাই বলে, তোর হার মানা তো চলবে না।”

তাই আবারো শুরু হলো নতুন করে পথচলা। সেরাতো হতেই হবে! ধাপে ধাপে আজ আমি ৫২ টি কন্টেন্ট তৈরি করলাম এবং প্রাণের শিক্ষক বাতায়নে আপলোড দিলাম। আমার পরে অনেককে বাতায়নে যুক্ত হতে দেখেছি এবং অনেক কম কন্টেন্ট তৈরি করে আমার অনেক আগেই সেরা হতে দেখেছি। এতদিন সেরা হতে না পেরে কষ্ট লাগতো কিন্তু আজকাল যখন দেখি অনেক জুনিয়র স্যাররা খুব অল্প সময়েই সেরা হয়ে চলে যাচ্ছেন স্মৃতির আর্কাইবে তখন কিছুটা অপমানজনক লাগছে। জানিনা কেন আমি এমন নির্লজ্জ্বভাবে ব্যার্থ হচ্ছি। শিক্ষক বাতায়নে একটি বিষয়ে স্পষ্ট হয়েছি, এখানে কেউ কারো ভুল ধরিয়ে দেয় না, শুধু প্রশংসাই করে। এই প্রশংসাই আমাদের জন্য অনেকটা ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। আগে দেখতাম সবুজ স্যার প্রায়ই কন্টেন্টগুলোতে গঠনমূলক কমেন্ট করতেন। তিনি কন্টেন্ট ডাউনলোড করে দেখে তারপর কমেন্ট করতেন। আর আমরাতো চোখ বন্ধ করে বলে দেই, “চমৎকার ও শ্রেণি উপযোগী কন্টেন্ট আপলোড করার জন্য পূর্ণ রেটিংসহ ধন্যবাদ। আমার কন্টেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও রেটিং প্রদানের অনুরোধ রইল।” অথচ আমরা পুরো মিথ্যা একটি কমেন্ট করে যাচ্ছি (হয়তোবা ব্যাতিক্রম থাকতে পারে)। ইদানীং দেখতে পাচ্ছি রেটিং এর প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এফবিতে স্ট্যাটাস দিচ্ছে, “এই সপ্তাহে ২৪৫ রেটিং পেয়েও সেরা হতে পারলাম না। যিনি সেরা হয়েছে তিনি পেয়েছেন ৪৫ রেটিং।”  তাই আজ মনে প্রশ্ন জাগছে, কেন এই রেটিং! এটির কী আদৌ কোন প্রয়োজন আছে?  

যাই হোক এগুলো কর্তৃপক্ষ ভালো জানেন। আমাকে সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা হতে হবে এটাই আমার লক্ষ্য। হয়তোবা একদিন সেরা হবো হতোবা হবোনা। কিন্তু আমি আমার কন্টেন্ট দিয়ে আমার ক্লাস নিতে পারব এটাই আমার স্বার্থকতা। এতটুকুতেই আমি খুশি। আমি হয়তোবা প্যাডাগোজী স্যারদের মনের মতো কন্টেন্ট তৈরি করতে পারছি না কিন্তু আমার মনে বিশ্বাস আছে আমার কন্টেন্ট মান সম্মত। কারণ আমার কন্টেন্ট দ্বারা আমি আমার শিক্ষার্থীদের কঠিন বিষয়গুলো সহজেই তাদের কাছে বোধগম্য করে তুলতে পারছি। এখানেই আমার তুষ্টি, এখানেই আমার আত্মতুষ্টি। সবার সুস্থতা কামনা করছি।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোঃ হাসনাইন
০২ জুলাই, ২০২০ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

ঘরে থাকুন, সুস্থ্ থাকুন। শ্রেণি উপযোগী সুন্দর কনটেন্ট তৈরীর জন্য আপনাকে অনেক অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। পূর্ণরেটিং ও লাইকসহ শুভকামনা। আমার এই পক্ষের কন্টেন্ট দেখে মতামত রেটিং দেওয়ার অনুরোধ করছি।


মোঃ হাসনাইন
০২ জুলাই, ২০২০ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

ঘরে থাকুন, সুস্থ্ থাকুন। শ্রেণি উপযোগী সুন্দর কনটেন্ট তৈরীর জন্য আপনাকে অনেক অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। পূর্ণরেটিং ও লাইকসহ শুভকামনা। আমার এই পক্ষের কন্টেন্ট দেখে মতামত রেটিং দেওয়ার অনুরোধ করছি।


মোঃ হাসনাইন
০২ জুলাই, ২০২০ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

ঘরে থাকুন, সুস্থ্ থাকুন। শ্রেণি উপযোগী সুন্দর কনটেন্ট তৈরীর জন্য আপনাকে অনেক অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। পূর্ণরেটিং ও লাইকসহ শুভকামনা। আমার এই পক্ষের কন্টেন্ট দেখে মতামত রেটিং দেওয়ার অনুরোধ করছি।


মোঃ হাসনাইন
০২ জুলাই, ২০২০ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

ঘরে থাকুন, সুস্থ্ থাকুন। শ্রেণি উপযোগী সুন্দর কনটেন্ট তৈরীর জন্য আপনাকে অনেক অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। পূর্ণরেটিং ও লাইকসহ শুভকামনা। আমার এই পক্ষের কন্টেন্ট দেখে মতামত রেটিং দেওয়ার অনুরোধ করছি।


মুহাম্মাদ আলীমুদ্দীন
২০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ

রেটিং সহ শুভকামনা। আমার সকল কনটেন্ট দেখে লাইক, রেটিং ও মতামত দেওয়ার জন্য অনুরোধ রইলো।


লাইলী আক্তার
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০২:৩২ অপরাহ্ণ

লাইক এবং পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা রইল। আমার এই সপ্তাহের কনটেন্ট ৫ম শ্রেণির English বিষয়ের Happy Birthday, Unite: 15 কনটেন্টটি দেখবেন এবং মতামত ও রেটিং দিবেন।


মোঃ রেজাউল হাসান
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:০২ অপরাহ্ণ

thanks


মোহাম্মদ গোলাম ছামদানী
১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৫২ অপরাহ্ণ

সুন্দর শ্রেণী উপযোগী ও মানসম্মত কন্টেন্ট আপলোড এর জন্য পূর্ণ রেটিং সহ শুভকামনা রইল। আমার কন্টেন্ট দেখে রেটিং সহ মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমার ছবির উপর ক্লিক করেন > কনটেন্ট টাইটেলের উপর ক্লিক করেন প্লিজ পূর্ণ রেটিং সহ মন্তব্য করুন। ধন্যবাদ। ICT4E জেলা শিক্ষক অ্যাম্বাসেডরশিপ প্রোগ্রাম শিক্ষাক্ষেত্রে আইসিটির বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, গুণগত শিক্ষা বাস্তবায়ন ও শিক্ষায় উদ্ভাবনী সংস্কৃতির বিকাশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ও এটুআই এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে ICT4E জেলা শিক্ষক অ্যাম্বাসেডরশিপ প্রোগ্রাম। আমাদের লক্ষ্য আইসিটির বহুমাত্রিক ব্যবহারে প্রতি উপজেলায় কমপক্ষে ১০ জন করে দক্ষ শিক্ষকদের ICT4E জেলা শিক্ষক অ্যাম্বাসেডর হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা যারা নিজ জেলা ও উপজেলায় শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করণে শিক্ষাক্ষেত্রে চলমান আইসিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন। ICT4E জেলা শিক্ষক অ্যাম্বাসেডর নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু মানদণ্ডঃ - শিক্ষক বাতায়নের সক্রিয় সদস্য হতে হবে। - শিক্ষক বাতায়নে নিজের তৈরি কমপক্ষে ২০ টি কনটেন্ট থাকতে হবে। - সপ্তাহের সেরা কনটেন্ট নির্মাতা (শিক্ষক বাতায়ন) - মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট কম্পিটিশনে সেরা মডেল কনটেন্ট নির্মাতা - মাস্টার ট্রেইনার অফ আইসিটি ইন এডুকেশন - অ্যাডভানসড আইসিটি ট্রেনিং কোর্স সম্পন্নকারী - মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর -মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সক্রিয়করণে বিশেষ ভুমিকা পালনকারী - মুক্তপাঠ প্রত্যয়িত (মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরি –MMCD ও বেসিক টিচার্স ট্রেনিং (BTT) কোর্স) - বেসিক টিচার্স ট্রেনিং (BTT) কোর্স)- আইসিটি ২ প্রকল্প - ধারাবাহিক মুল্যায়ন প্রশিক্ষণ- সেসিপ প্রকল্প উপরিউক্ত যে মানদণ্ডে (কমপক্ষে ৪ টি মানদণ্ড) আপনি নির্বাচিত হবেন তার প্রমাণপত্র সহ উপজেলা মাধ্যমিক/জেলা শিক্ষা অফিসের সুপারিশ দাপ্তরিক পত্রের মাধ্যমে স্ক্যান কপি avijitsdu@gmail.com এই ঠিকানাই পাঠাতে হবে।


মোঃ রেজাউল হাসান
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:০২ অপরাহ্ণ

thanks