ডিজিটাল বাংলাদেশ-------------------------------------------------------------------------------

মো: বাবুল হোসেন ১০ জানুয়ারি,২০২০ ১৭৫ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

“ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এদেশের শিক্ষা, চিকিৎসা, অর্থনীতি,কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।  ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে তথ্য প্রযুক্তির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করে সব মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সমান সুযোগ তৈরী করা। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক সুযোগ সুবিধা জনসাধারণের কাছে সহজ সাধ্য করা জনজীবনকে আরামদায়ক করে তোলা। 

তথ্য প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবন ধারাকে উন্নত করাই হচ্ছে এদেশের তথ্য প্রযুক্তিবিদ ও নীতি নির্ধারকদের  ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন।ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকার ও জনসাধারনকে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে আর সে সব চ্যালেঞ্জ এর জন্য আমাদের যে সকল প্রস্তুতি দরকার একটা দেশের সরকারের পক্ষে তা একা সম্ভব নয়। আমরা যারা সমাজের নানা পেশায় জড়িত তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সচেতনতার ধারা সৃষ্টি করে সমাধান খুজে বের করতে হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে যে সব সমস্যা সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত হবে সে গুলোর মধ্যে শিক্ষিত যুবকদের বেকারত্ব, অনুন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা,তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষার অভাব, দূর্বল ইংরেজী জ্ঞান যা সৃষ্টি করছে নানা রকম সামাজিক সমস্যা। উপরোক্ত সমস্যা গুলোর সমাধানের জন্য আমাদের নিন্মোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

প্রথমত: আমাদের স্কুল কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান বাড়াতে হবে এবং তাদেরকে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে।

2দ্বিতীয়তঃ তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে হবে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলে সুযোগ তৈরী করতে হবে। ইংরেজী শিক্ষাকে সবার জন্য তথ্য প্রযুক্তি সাপোর্টের মাধ্যমে সহজভাবে তুলে ধরতে হবে কারণ তরকারী ছাড়া যেমন ভাত খাওয়া যায় না ঠিক তেমনি ভাল ইংরেজী জ্ঞান ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা লাভ করা যায় না।

ঘরে বসে থাকা শিক্ষিত মহিলাদের ব্যাপকহারে তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে কারণ তথ্য প্রযুক্তি জানা মায়েরাই তাদের  সন্তানদেরকে আগামীদিনের দিক নির্দেশনা দিতে পারবেন। বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য খন্ডকালীন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী করতে হবে যা তাকে ভবিষ্যতের কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে কাজ করতে সাহায্য করবে।

সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য মৌলিক আইসিটি শিক্ষা দরকার ও সবার মাঝে আইসিটি শিক্ষাকে জনপ্রিয় করে তুলতে হবে যেন সবাই এর প্রয়োগিক সুবিধা ভোগ করতে পারে।

একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে অন্যান্য বিষয়ে যেমন ইন্টার পার্সনাল ও এনালাইটিক্যাল স্কীল বাড়াতে হবে কারণ ২১ শতাব্দীতে প্রতিযোগীতামূলক চাকুরীর বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়।

অনার্স ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সমূহে ইংরেজী মাধ্যমে অনার্স চালু করতে হবে যা শিক্ষার্থীর জ্ঞানের পরিধিকে মজবুত করে গড়ে তুলবে এবং বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত পলিটেকনিক কলেজগুলোতে প্রকৌশল শিক্ষার গুণগত মান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং ইংরেজী মাধ্যমে সিলেবাস ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের মাধ্যমে যুগপোযোগী জ্ঞানলাভে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে হলে দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, কারণ অন্ধকার ঘরে বাতি না থাকলে সবকিছুই অন্ধকার।

ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারনা  এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা পাল্টে দিয়ে উন্নত জীবন ধারার সূচনা করবে। তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবের মাধ্যমে এদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠিকে কাজে লাগিয়ে Knowledge Economy  এর যুগে অর্থনৈতিক বুনিয়াদ শক্ত করে তুলবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারনা এদেশের হতাশাগ্রস্থ শিক্ষিত,স্বল্প শিক্ষিত মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী করবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিক চেহারাই পাল্টাবে না সাথে সাথে এদেশের প্রশাসনিক অবকাঠামো, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমকে গতিশীল করবে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তথ্য প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের কাছে শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা পৌছে দেওয়া সহজ হবে। তথ্য জানা এবং তথ্য পাওয়ার  অবাধ সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সাথে সরকার ও রাষ্ট্রের গভীর সম্পর্ক তৈরী হবে যা সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত সহজ করবে। তথ্য প্রযুক্তি সর্বক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেবা  খাতসমূহকে আরো গতিশীল করা হবে এবং জনগনের কাছে উন্নত সেবা পৌছে দেওয়া সম্ভব হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের কর্মসূচীসমূহ বাস্তবায়িত হলে সারাদেশে  বিভিন্ন সেক্টরে প্রতি বছর নতুন নতুন কর্মসংস্থান ও সামাজিক ব্যবসাক্ষেত্র তৈরী হবে, যা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠিকে দিন বদলের নতুন পথ দেখাবে।

সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে মফস্বল শহরে ও গ্রাম অঞ্চলে তথ্য প্রযুক্তি সেবা কেন্দ্র তৈরী হবে যা এদেশের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া  ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য খন্ডকালীন চাকুরীর সুযোগ তৈরী করবে যা একই সাথে তাদেরকে অর্থনৈতিক সহায়তা দিবে এবং ভবিষ্যত কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করে তুলবে।

আগামীতে যে সব ক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক দক্ষ তথ্য প্রযুক্তি জানা মানব সম্পদ দরকার হবে সেগুলো হচ্ছে: তথ্য প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারী, আধা সরকারী প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রকম সামাজিক সংস্থা ,আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রকম উন্নয়নমূলক সংস্থা, স্কুল কলেজ,কর্পোরেট কোম্পানীসমূহ, ব্যাংক ও বিভিন্নরকম সেবামূলক সংস্থা । উল্লিখিত সংস্থা সমূহে তথ্য প্রযুক্তি জানা হাজার হাজার দক্ষ জনবল দরকার হবে, এক্ষেত্রে যে সব চাকুরী জনপ্রিয় হয়ে উঠবে যে গুলো হলো আইটি ম্যানেজার, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, কম্পিউটার অপারেটর, ডাটা এনালাইজার, কল সেন্টার এজেন্ট, প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনার, মাল্টিমিডিয়া অথার, এনিমেটর, হার্ডওয়ার টেকনেশিয়ান, মোবাইল ইঞ্জিনিয়ার, ওয়েব ডেভেলপার, প্রোগ্রামার, নেটওয়ার্ক এডমিন প্রভৃতি।

ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারনা এদেশে সৃজনশীল ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সবার জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ তৈরী করবে এবং  গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। ডিজিটাল বাংলাদেশে ধারনা সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা প্রয়োজন।  আশ্চর্য হলেও সত্য যে, মফস্বল শহরের শতকরা ৯৮.৬৫% শিক্ষক / শিক্ষিকাদের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে কোন ধারনা ও বাস্তব জ্ঞান নেই, যারা আগামী প্রজন্মকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে গড়ে তুলছেন, অন্যান্য পেশাজীবিদের তথ্য উল্লখে করার মতো নয়, শহরতলী ও গ্রামের অবস্থা আরো করুন।

 

 বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী বাস্তবায়নে ”ভিশন ২০২১” ঘোষনা করেছে, যার লক্ষ্য মাত্রা ২০৪১ সালের মধ্যে এদেশের জনসাধারনকে আইসিটি শিক্ষা দ্বারা শিক্ষার মান উন্নয়ন ঘটানো এবং এক্ষেত্রে সরকার অনেক এগিয়ে গিয়েছে যার  মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়া এবং ২০২১ সালের মধ্যে, শিক্ষা, চিকিৎসা, অর্থনীতি,কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে এদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। এক্ষেত্রে আমরা যারা এই বিষয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ গবেষণা কাজে নিয়োজিত তাদের কাছে এটা খুবই একটি সময় উপযোগী ঘোষণা কিন্তু আসল বাস্তবতা হচেছ,এত কম সময়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর এদেশকে আইসিটি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হলে সরকারের একার পক্ষে এত বড় বিশাল কার্যক্রম  এগিয়ে নেওয়া সম্ভবপর নয়। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান হতে কাজ করতে হবে তবেই বাস্তবায়িত হবে এদেশের মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।“

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোঃ হাসনাইন
১৮ জুন, ২০২০ ১২:২৫ অপরাহ্ণ

রেটিং ও লাইকসহ শুভকামনা ও অভিনন্দন। আমার কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও রেটিং প্রদান করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।


ইয়ামিন হোসেন, সিরাজগঞ্জ
০২ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১০:২৩ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ ,আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।


মোঃ মেরাজুল ইসলাম
১০ জানুয়ারি, ২০২০ ০৯:২৭ অপরাহ্ণ

রেটিং সহ শুভকামনা রইল। আমার কন্টেন্টগুলো দেখে লাইক, রেটিং ও কমেন্ট দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।


মো: বাবুল হোসেন
১১ জানুয়ারি, ২০২০ ১০:১২ পূর্বাহ্ণ

Thanks


মো: তৌহিদুল ইসলাম
১০ জানুয়ারি, ২০২০ ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ, স্যার। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখার আমন্ত্রণ।


মো: বাবুল হোসেন
১০ জানুয়ারি, ২০২০ ০৮:২২ অপরাহ্ণ

Thanks