গবেষণা ও ইসলামঃ কন্যা সন্তানের বাবারা দীর্ঘায়ুর অধিকারী হয়।

মোঃ মামুন মিয়া ০৮ অক্টোবর,২০২০ ৪৩ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

কন্যা সন্তানের বাবারা দীর্ঘায়ুর অধিকারী হয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, যে বাবার যত বেশি কন্যা সন্তান, তিনি তত বেশি বছর বাঁচেন বলে এক গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে। পোল্যান্ডের জাজিলোলোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় এই গবেষণা চালায়।

গবেষণার তথ্য মতে, যাদের ছেলে সন্তান আছে সেসব পিতাদের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব ফেলেনি। তবে যাদের কন্যা রয়েছে তারা দীর্ঘায়ু হয়েছেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, মেয়েরা বাবার জন্য বেশি আনন্দ নিয়ে আসে যা বাবার আয়ু বাড়িয়ে দেয়। প্রতিটি কন্যা সন্তানের জন্য ৭৪ সপ্তাহ বা ৫১৮ দিন বা প্রায় দুই বছর বেশি বাঁচেন।

বাচ্চা জন্মানোর সময় পিতার স্বাস্থ্য এবং শরীর কীভাবে প্রভাবিত হয় তা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে। চার হাজার ৩১০ জনেরও বেশি লোকের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে দুই হাজার ১৭৭ জন মা ও দুই হাজার ১৬৩ জন বাবা ছিলেন।

অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের সন্তান নেই তাদের থেকে যাদের সন্তান রয়েছে সেই দম্পতি বেশি দিন বাঁচেন।এবার জেনে নিন রাসুল সাঃ ও ইসলাম কি বলে কন্য সম্পর্কেঃকৃতপক্ষে সন্তান-সন্ততি (ছেলে-মেয়ে উভয়েই) আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত ও শ্রেষ্ঠ উপহার। ইসলাম উভয়কেই আলাদা সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে। কাউকে কারও থেকে ছোট করা হয়নি কিংবা অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়নি।

কন্যা সন্তানের মাধ্যমে আল্লাহ পরিবারে সুখ ও বরকত দান করেন। হাদিসে এমন কথা উল্লেখ হয়েছে। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো অনেক পরিবারে কন্যা সন্তান জন্ম নিলে ইতিবাচক চোখে দেখা হয় না। অনেকে আবার মেয়ে সন্তানের মায়ের ওপর নাখোশও হন। বিভিন্ন কায়দায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

কন্যা সন্তান হলে অপছন্দ করা, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা এবং তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করা, ইসলামপূর্ব বর্বর জাহেলি যুগের কুপ্রথা। এমন কাজে আল্লাহ তাআলা ভীষণ অসন্তুষ্ট হন।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ অন্ধকার হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে নাকি তাকে মাটির নিচে পুতে ফেলবে। শুনে রাখো, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।’ (সুরা আন-নাহল, আয়াত : ৫৮-৫৯)

রাস‍ুল (সা.) মেয়েদের অনেক বেশি ভালোবাসতেন। মেয়েরা ছিল তার আদরের দুলালী। আজীবন তিনি কন্যাদের ভালোবেসেছেন এবং কন্যা সন্তান প্রতিপালনে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। কন্যা সন্তান লালন-পালনে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দু’টি কন্যাকে তারা সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন আমি এবং সে এ দু’টি আঙ্গুলের মতো পাশাপাশি আসবো (অতঃপর তিনি তার আঙ্গুলগুলি মিলিত করে দেখালেন)’। (মুসলিম, হাদিস নং: ২৬৩১, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯১৪, মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং: ১২০৮৯, ইবনু আবি শাইবা, হাদিস নং: ২৫৯৪৮)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলনে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করনে, ‘যার ঘরে কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলো, অতঃপর সে ওই কন্যাকে কষ্ট দেয়নি, মেয়ের ওউপর অসন্তুষ্টও হয়নি এবং পুত্র সন্তানকে তার ওপর প্রধান্য দেয়নি, তাহলে ওই কন্যার কারণে আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবশে করাবেন।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং: ১/২২৩)

হযরত আবদুল্লাহ উমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ওই নারী বরকতময়ী ও সৌভাগ্যবান, যার প্রথম সন্তান মেয়ে হয়। কেননা, (সন্তানদানের নেয়ামত বর্ণনা করার ক্ষেত্রে) আল্লাহ তায়ালা মেয়েকে আগে উল্লেখ করে বলেন, তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।’ (কানযুল উম্মাল ১৬:৬১১)

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমার কাছে এক নারী এলো। তার সঙ্গে তার দুই মেয়ে। আমার কাছে সে কিছু প্রার্থনা করলো। সে আমার কাছে একটি খেজুর ছাড়া কিছুই দেখতে পেলো না। আমি তাকে সেটি দিয়ে দিলাম। সে তা গ্রহণ করললো এবং তা দুই টুকরো করে তার দুই মেয়ের মাঝে ভাগ করে দিলো। তা থেকে সে নিজে কিছুই খেলোল না। তারপর নারীটি ও তার মেয়ে দু’টি উঠে পড়লো এবং চলে গেলো। ইত্যবসরে আমার কাছে নবী (সা.) এলেন। আমি তার কাছে ওই নারীর কথা বললাম। নবী (সা.) বললেন, ‘যাকে কন্যা দিয়ে কোনো কিছুর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় আর সে তাদের প্রতি যথাযথ আচরণ করে, তবে তা তার জন্য আগুন থেকে রক্ষাকারী হবে।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ৬৮৬২; মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং : ২৪৬১৬)

প্রসঙ্গত কন্যা সন্তান প্রতিপালনে শুধু পিতাকেই নয়; ভাইকেও উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। বোনের কথাও বলা হয়েছে হাদিসে। যারা মনে করেন, মেয়ে বা বোনের পেছনে টাকা খরচ করলে ভবিষ্যতের তার কোনো প্রাপ্তি নেই, তারা মূলত ভুলের মধ্যে আছেন।

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘কারও যদি তিনটি মেয়ে কিংবা বোন থাকে অথবা দু’টি মেয়ে বা বোন থাকে, আর সে তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের সঙ্গে সদাচার করে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং : ১১৪০৪; আদাবুল মুফরাদ লিল-বুখারি: ৭৯)

কন্যা সন্তান প্রতিপালনে যেন বৈষম্য না করা হয় এবং বস্তুবাদী ব্যক্তিরা যেন হীনমন্যতায় না ভোগেন, তাই তাদের কন্যা প্রতিপালনে ধৈর্য ধরার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। শোনানো হয়েছে পরকালে বিশাল প্রাপ্তির সংবাদ।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যার তিনটি কন্যাসন্তান থাকবে এবং সে তাদের কষ্ট-যাতনায় ধৈর্য ধরবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুহাম্মদ ইবন ইউনূসের বর্ণনায় এ হাদীসে অতিরিক্ত অংশ হিসেবে এসেছে) একব্যক্তি প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসুল, যদি দু’জন হয়? উত্তরে তিনি বললেন, দু’জন হলেও। লোকটি আবার প্রশ্ন করলো, যদি একজন হয় হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন, একজন হলেও।’ (বাইহাকি, শুয়াবুল ঈমান : ৮৩১১)

আউফ বিন মালেক আশজায়ি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির তিনটি মেয়ে রয়েছে, যাদের ওপর সে অর্থ খরচ করে বিয়ে দেওয়া অথবা মৃত্যু পর্যন্ত, তবে তারা তার জন্য আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। তখন এক নারী বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আর দুই মেয়ে হলে? তিনি বললেন, দুই মেয়ে হলেও।’ (বাইহাকি, শুয়াবুল ঈমান, হাদিস নং : ৮৩১৩)

আল্লাহর উপহার ভেবে এবং বাস্তবিক ভালোবেসে যারা কন্যা সন্তানদের প্রতিপালন করবে, সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে, আল্লাহ তাআয়া তাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন। আর যারা অবজ্ঞা করবে ও তাদের লালন-পালনে অবহেলা করবে, আল্লাহ তাআলা তাদের শাস্তি দেবেন। তাই কন্যা সন্তানকে হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসা উচিত।তাদের হক পরিপূর্ণ আদায় আবশ্যক। সেজন্য আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোঃ হাসনাইন
০৬ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ০৪:০০ অপরাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগি কনটেন্ট তৈরী করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য ধন্যবাদ। লাইক ও রেটিং সহ শুভ কামনা রইলো। আমার এ পাক্ষিকের কনটেন্ট এ আপনার মতামত, লাইক ও রেটিং প্রদান করার অনুরোধ রইলো।


মোঃ হাসনাইন
০৬ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ০৩:৫৯ অপরাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগি কনটেন্ট তৈরী করে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করার জন্য ধন্যবাদ। লাইক ও রেটিং সহ শুভ কামনা রইলো। আমার এ পাক্ষিকের কনটেন্ট এ আপনার মতামত, লাইক ও রেটিং প্রদান করার অনুরোধ রইলো।


মোঃ মামুন মিয়া
০৫ নভেম্বর, ২০২০ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


মোঃ গোলাম ওয়ারেছ
০৯ অক্টোবর, ২০২০ ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ

শুভকামনা রইল। আপনার তৈরিকৃত কন্টেন্ট আমার দৃষ্টিতে সেরার তালিকা ভুক্ত। সে জন্য আপনাকে একটু সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি এবং কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। সেই সাথে আমার অক্টোবর ২০২০ ইং ১ম পাক্ষিকের কন্টেন্ট Data Transmission Mode ও ব্লগ দেখে রেটিংসহ মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ


মোঃ মামুন মিয়া
১১ নভেম্বর, ২০২০ ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ ♥


অচিন্ত্য কুমার মন্ডল
০৮ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:৫৮ অপরাহ্ণ

শুভকামনা রইলো এবং সেই সাথে পূর্ণ রেটিং । আপনার তৈরি ব্লগ আমার দৃষ্টিতে সেরার তালিকা ভুক্ত। সে জন্য আপনাকে একটু সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সেই সাথে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমার এ পাক্ষিকের কন্টেন্ট ও ব্লগ দেখার ও রেটিং সহ মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ https://www.teachers.gov.bd/blog-details/578919


মোঃ মামুন মিয়া
১১ নভেম্বর, ২০২০ ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ ♥