প্রকৃতির এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিক্ষক হিসেবে আমার দ্বায়িত্ব

মোসাঃ নাসরীন আক্তার বীনা ১৭ ডিসেম্বর,২০২০ ৭১ বার দেখা হয়েছে ১৭ লাইক কমেন্ট ৫.০০ (১৭ )

শুরুতেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সৃষ্টিকর্তার প্রতি এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে স্বুস্থ রাখার জন্য ।

১৬ই মার্চের পর বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় কোভিড-১৯ এর কারনে ।

এরপর মাঝেমাঝে বিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজ নিয়েছি বাকি সময় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ রেখেছি । তারপরেও মনে হচ্ছিলো আমি পুরোপুরি দ্বায়িত্ব ,কর্তব্য পালন করতে পারছি না ।

আমার বিদ্যলয়টি গ্রামে অবস্থিত হওয়ায় নিয়মিত তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করাও ছিলো কষ্টসাধ্য বিষয় ।

ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অনলাইন স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে সারা দেশে ।

বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যাকে কাটিয়ে “২ জুন কুড়িগ্রাম অনলাইন স্কুলে” প্রথম লাইভ ক্লাস শুরু করি । এরপর “বরিশাল অনলাইন স্কুল” “ঘরে বসে শিখি “ “লার্নিং বী” সহ ১৪ টি পেজে লাইভ ক্লাস উপস্থাপন করি । জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে  বাবা,মা ও একমাত্র মেয়ে একই সাথে করোনা পজেটিভ হয় । বাবার ফুসফুস ২৪% আক্রান্ত হয় । এমন পরিস্থিতিতে ৩দিন পাঠদান বন্ধ রেখে ,পুনরায় তাদের সেবা করার পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করি ।

আগষ্টের ৩ তারিখে মোটরবাইক দূর্ঘটনায় পায়ে প্রচন্ড আঘাত পেয়ে ২০ দিন ব্যান্ডেজ করে রাখতে হয় আমার বাম পা । যদিও এখনো স্বাভাবিক ভাবে হাটতে একটু কষ্ট হয় তারপরও আমার পাঠদান কার্যক্রমকে বন্ধ করে দেইনি ।

যেহেতু বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শেখানোর সুযোগ নেই তাই শিক্ষক হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই সকল প্রতিকুল পরিবেশের মাঝেও চেষ্টা করেছি কিছুটা হলেও নিজের দ্বায়িত্ব পালন করতে ।আমার একটি ক্লাসে যদি দেশের একজন শিক্ষার্থীও উপকৃত হয় সেটিই আমার সার্থকতা ।

মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আজ তিনি আমাকে ২০০ তম লাইভ ক্লাসটি নেয়ার সামর্থ্য দিয়েছেন ।

সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করছি এই পরিস্থিতিতেও যেন আমার দ্বায়িত্ব পালন করতে পারি । ধন্যবাদ ।