শৈশবে ইসলামী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা

আফসিনা ২২ ডিসেম্বর,২০২০ ৫৭ বার দেখা হয়েছে লাইক ১৫ কমেন্ট ৫.০০ (১১ )

আমার আমার শিক্ষক বন্ধুদের অভিজ্ঞতা হলো প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সাধারণ মোটিভেশনের তুলনায় শিশুরা ধর্মীয় অনুপ্রেরণাটি বেশি গ্রহণ করে। কেননা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম বা শুধু নৈতিকতার প্রশ্নে শিশুদের লক্ষ্য থাকে ফাঁকি দেওয়া বা এড়িয়ে যাওয়া। কিন্তু যখন তাদের সামনে ইসলামী আদেশ-নিষেধ হিসেবে কোনো কিছু উপস্থাপন করা হয়, তখন পরকালীন জবাবদিহির বিষয়টিও তাদের সামনে থাকে। পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো উপদেশ দেওয়া হলে ছাত্র-ছাত্রীরা তা যতটা মেনে চলে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো কিছুর গুরুত্ব তুলে ধরা হলে তারা বেশি আগ্রহী হয়।

প্রবন্ধ, কবিতা, গল্প, উপন্যাস পড়ানোর মাধ্যমে, বিভিন্ন বৈষয়িক সাবজেক্টের পাঠ্যসূচিতে নৈতিক শিক্ষাসংশ্লিষ্ট পাঠগুলো অন্তর্ভুক্ত করে, মনীষীদের জীবনী পড়ানোর মাধ্যমে শিশুদের নৈতিক শিক্ষা প্রদান সম্ভব। তবে ইসলামী শিক্ষা তার চেয়ে বহু গুণ বেশি ফলপ্রসূ। ইসলামী শিক্ষার বহুবিধ কল্যাণের মধ্যে একটি হচ্ছে, শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি সৃষ্টি করে। তাকওয়া এমন একটি গুণ, যা অর্জিত হলে মানুষ সর্বদা আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করে। সেই অনুভবের কারণে সে কোনো অন্যায় কাজ করার সাহস পায় না। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে যাবে মনে করে মানুষ সাধারণত সিসি ক্যামেরার সামনে বসে অন্যায় কাজ করে না। তাকওয়া মানুষের মধ্যে এই চেতনা জাগিয়ে তোলে। আল্লাহর ক্ষমতা সিসি ক্যামেরার চেয়ে কোটি গুণ বেশি। সিসি ক্যামেরা শুধু মানুষের বাহ্যিক চলাফেরা, নড়াচড়া, গতিবিধি ধারণ করতে পারে। আর আল্লাহ গোপন-প্রকাশ্য, আলো-অন্ধকারের সব কিছু জানেন দেখেন। তাঁকে ফাঁকি দেওয়ার কোনো উপায় নাই।

আল্লাহভীরু মানুষ অন্যায় কাজ করা দূরের কথা, অন্যায়ের চিন্তাও করে না। কারণ সে জানে, নিশ্চয়ই শ্রবণ, দর্শন এবং অন্তরের চিন্তা সম্পর্কেও তাকে একদিন জিজ্ঞাসিত হতে হবে, শাস্তি পেতে হবে। যেসব অনাচারের কারণে পরিবার, সমাজ রাষ্ট্রে এত অশান্তি; যেমনচুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, ব্যভিচার, ধর্ষণ, ওজনে কম দেওয়া, খাদ্যে ভেজাল দেওয়া, মাতা-পিতার অবাধ্যতা, সুদ খাওয়া, ঘুষ আদান-প্রদান করা, নারী নির্যাতন করা, গিবত-চোগলখুরি, ধূমপান, মাদকাসক্তি ইত্যাদি অপরাধ দমনেও আল্লাহভীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

শৈশব কৈশোরের শিক্ষা মানুষের মনস্তত্ত্ব চিন্তা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শৈশবে সুশিক্ষা না পেলে পরবর্তী জীবনে শিশুর আদর্শ জীবন গঠন সম্ভব নয়। আবার পারিবারিক শিক্ষাও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। বিশেষত বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ হওয়ায় শিশু তাদের অভিভাবকদের অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়া প্রায় অসম্ভব। আবার সব অভিভাবকের পক্ষে শিশুর জন্য পৃথক ধর্মীয় শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব আয়োজন করাও সম্ভব হয় না।

স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষাধারা বা মূলধারা বলা হয়। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি এই মূলধারায় তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের ১০০ নম্বরের ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে পড়ানো হয়। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য তাদের ধর্মও পড়ানো হয়। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নিজ ধর্মের প্রয়োজনীয় জ্ঞান লাভ করার পাশাপাশি পরমতসহিষ্ণু পরধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হিসেবে গড়ে তুলছে। তেমনি স্কুল-কলেজে ১০টি বিষয়ের স্থলে ৯টি বিষয় পড়ানো হলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। কিন্তু ধর্ম নৈতিক শিক্ষা না থাকলে জাতির যে ক্ষতি হবে তা পূরণ করা কিছুতেই সম্ভব নয়। ধর্মীয় শিক্ষা চরিত্র গঠনের সর্বোত্তম হাতিয়ার। শিক্ষা না থাকলে জাতি চরিত্রহীন হবে, চরিত্র হারাবে। তাই বলা হয়, হোয়েন ক্যারেক্টার ইজ লস্ট এভরিথিং ইজ লস্ট, অর্থাৎ চরিত্র হারানো মানে সব হারানো।

বর্তমানে ১০০ নম্বরের ইসলামী শিক্ষা দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক আছে, যা যথাস্থানে রাখার বিকল্প নাই। গুচ্ছের আওতায় ফেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তর থেকে ইসলামী শিক্ষা বিদায়ের পথে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। উচ্চ মাধ্যমিকে ইসলামী শিক্ষাকে শুধু মানবিক বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট করা এবং চতুর্থ বিষয় করার কারণে বিজ্ঞান ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। মানবিক বিভাগের গুটিকয়েক ছাত্র-ছাত্রী বিষয়টি পড়ছে। কারণ তারা তৃতীয় বিষয় হিসেবে নিতে পারছে না, তাদের পড়তে হচ্ছে চতুর্থ বিষয় হিসেবে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ইসলামী শিক্ষার কল্যাণকর প্রভাব থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা বঞ্চিত হচ্ছে।

সমাজ রাষ্ট্রে দিন দিন সামাজিক অনাচার বেড়েই চলছে ধর্মবিমুখতার কারণে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত সব শ্রেণিতে ১০০ নম্বরের ইসলামী শিক্ষা পড়ানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে। এই স্তরে দেশ সম্পর্কে জানার মতো কোনো বিষয় পাঠ্যভুক্ত নেই। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। অনুরূপভাবে ধর্ম সম্পর্কে জানার ব্যবস্থাও নেই বললেই চলে, যা অনভিপ্রেত। অতএব, দেশ জাতির কল্যাণে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ৫০ নম্বরের ধর্মশিক্ষা এবং ৫০ নম্বরের বাংলাদেশ স্টাডিজএই মোট ১০০ নম্বরের একটি বিষয় বাধ্যতামূলক হিসেবে সংযোজন করা সময়ের অনিবার্য দাবি।

 

 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
রেহানা আক্তার ঝর্ণা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৯:৩৮ অপরাহ্ণ

শুভকামনা।


মোছাঃ জেসমিন আক্তার
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৯:০৮ অপরাহ্ণ

শ্রেণি উপযোগী ও মান সম্মত কনটেন্ট আপলোড করে বাতায়নকে সমৃদ্ধি করার জন্য ধন্যবাদ। লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো। এ পাক্ষিকে আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে লাইক ও রেটিংসহ আপনার মতামত দেওয়ার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।


আব্দুল মাজিদ
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:৩৫ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম
২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৯:৫০ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


অচিন্ত্য কুমার মন্ডল
২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৫:১০ অপরাহ্ণ

শুভকামনা রইলো এবং সেই সাথে পূর্ণ রেটিং । আপনার তৈরি কন্টেন্ট আমার দৃষ্টিতে সেরার তালিকা ভুক্ত। সে জন্য আপনাকে একটু সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সেই সাথে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমার এ পাক্ষিকের কন্টেন্ট ও ব্লগ দেখার ও রেটিং সহ মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ কন্টেন্টঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/814593 ব্লগঃ https://www.teachers.gov.bd/blog-details/586661


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


আব্দুল্লাহ আত তারিক
২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৯:০৪ পূর্বাহ্ণ

সুপ্রভাত, আপনার দিনটি শুভ হোক । অনেক শ্রমলব্ধ আপনার এই নির্মাণ। পূর্ণ রেটিংসহ আপনার সফলতা গল্প শোনার অপেক্ষায় থাকলাম । ডিসেম্বর - ২০ এর পাক্ষিক - ২ আমার নির্মিত কনটেন্ট নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের কবি শামসুর রাহমান রচিত "তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা" দেখার জন্য আমন্ত্রণ রইল ।


মোঃ মেহেদুল ইসলাম
২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

আসসালামু আলাইকুম। শ্রদ্ধেয় প্যাডাগজি রেটার, এডমিন, সেরা কনটেন্ট নির্মাতা, শিক্ষক বাতায়নের সকল শিক্ষক- শিক্ষিকা ও আইসিটি জেলা অ্যাম্বাসেডর স্যারদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা http://teachers.gov.bd/content/details/814604


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


আব্দুল আলীম
২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৮:২৯ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ শুভ কামনা। আমার ব্লগ দেখে আপনার মূল্যবান মতামত কামনা করছি। লিংকঃ https://www.teachers.gov.bd/blog-details/585992


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


লুৎফর রহমান
২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৮:২০ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।শ্রদ্ধেয় প্যাডাগজি রেটার মহোদয়, এডমিন মহোদয়, সেরা কনটেন্ট নির্মাতা মহোদয়, সেরা উদ্ভাবক মহোদয়, সেরা নেতৃত্ব মহোদয়, বাতায়নের সকল শিক্ষক- শিক্ষিকা ও আইসিটি জেলা এম্বাসেডর মহোদয়কে আমার এ পাক্ষিকে আপলোডকৃত ৪৪ তম কনটেন্টটি দেখে লাইক,গঠন মূলক মতামত ও রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। কনটেন্ট লিংকঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/812261 Blog link: https://www.teachers.gov.bd/blog-details/586674


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ