নারীর 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম'/'বাড়ি থেকে কাজ' ও রূঢ় বাস্তবতা

আফসিনা ২৩ ডিসেম্বর,২০২০ ৫৫ বার দেখা হয়েছে লাইক ১৭ কমেন্ট ৫.০০ ()

কভিড-১৯ এর এই সময়ে ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করাতে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' বা 'বাড়ি থেকে কাজ' জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কর্মস্থলে না গিয়ে বাড়িতে অবস্থান করে নির্ধারিত কাজ করে তা অনলাইনে সম্পন্ন করাই 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' বিশ্বের বৃহৎ সংস্থাগুলোর মধ্যে গুগল-২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত এবং টুইটার অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মীদের 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম'-এর সুবিধা দিয়েছে। আরও এক ধাপ এগিয়ে ফেসবুক ২০২১ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত কর্মীদের বাড়িতে কাজ করার সিদ্ধান্ত সেইসঙ্গে বাড়িতে অফিসের প্রয়োজনীয় কাজকর্মের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
ইউরোপ আমেরিকায় বহু আগে থেকেই এভাবে কাজ করার পরিকাঠামো ছিল। তবে এটা ঠিক, লকডাউনে এর ব্যাপকতা নিশ্চিতভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশও করোনার সময়ে এই 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' বাস্তবায়িত হয়। শুরুতেই এদেশে হোম অফিসের বাড়তি কিছু সুবিধা যেমন- যাতায়াতের সময় নষ্ট না হওয়া, দূষণ থেকে মুক্তি, পরিবারকে অনেক সময় দেওয়া, প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন কভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা ব্যাপারগুলো সবাই উপভোগ করতে শুরু করে। তবে মানুষের জীবন প্রণালি, চিন্তাধারা তার সঙ্গে নারীদের হোম অফিস ব্যাপারটি সহজভাবে ধরা দেয় না। করোনাকালে নারীদের সহযোগিতার জন্য গৃহপরিচারিকা নেই, তাই তার কাজ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সেইসঙ্গে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' তার কাজকে তিন গুণ বাড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মতে 'যে কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক মেলে না তার / অংশ কাজ এখনও মেয়েদের করতে হয়।' করোনার সময়ে বাড়ির সদস্যরা বেশি সময় ধরে বাসায় অবস্থান করছেন। তাদের জন্য নারীদের বেশি সময় দিতে হচ্ছে। সবাই তাদের বাড়তি চাওয়া পাওয়ার জন্য তার ওপর নির্ভরশীল থাকছেন।
পরিবারের সদস্যদের এটা বোঝানো যাচ্ছে না যে, তিনি এখন অফিসের কাজে ব্যস্ত এটা তার ঘরের কাজের সময় নয়। সময় শাশুড়ি রান্না শেষ করার তাগিদ দেওয়া কিংবা সন্তান পছন্দের খাবার তৈরির জন্য আবদার করা। বিষয়গুলো নারীর মানসিক চাপ সৃষ্টির কারণ। নিজের ঘরেও আলাদা অফিস স্পেস থাকাটা জরুরি। তবে কতজন নারী আমাদের দেশে তার ঘরে এই আলাদা স্পেস তৈরি করতে পারছেন তা ভাবার বিষয়।
ঘরে অফিস বাইরে অফিস দুইয়ের পার্থক্য রয়েছে, বাইরে একসঙ্গে কাজ করলে যে আবেগের জায়গাটা অর্থাৎ মিলেমিশে কাজ করার ব্যাপারটা আছে, তা থেকে আমরা সরে আসছি। এখানে সামনাসামনি দেখার বিষয়টি নেই, অনলাইনে ভিডিও অফ থাকলে অনেক সময় কমিউনিকেশন গ্যাপ তৈরি হয়। নারীদের ঘরের কাজের একঘেয়েমি থেকে যেখানে বাইরের অফিসের কাজের ফাঁকের টি টাইম স্বস্তি নিয়ে আসত এবং তা কাজের ক্ষেত্রে নতুন নতুন আইডিয়া খুঁজে পেতে সহায়ক হতো, এখন আর তেমনটি হয় না।
বাংলাদেশের নারীরা যে কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পিছপা হয় না। তবে এক্ষেত্রে পরিবার তাকে কতটুকু সহযোগিতা করছে তা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে টেকনিক্যাল সাপোর্টের চেয়ে পারিবারিক সাপোর্ট বেশি জরুরি। পরিবারের ছোট-বড় সবাই নারীর ওপর কম-বেশি নির্ভরশীল থাকেন বলে অনেক নারী নির্ধারিত অ্যাসাইনমেন্টগুলো ঘরের কাজের শেষে বেশি রাত জেগে করছেন। অনেক সময় তার স্বামীকে এটা বোঝাতে হিমশিম খান যে, তিনি তার নির্ধারিত কাজগুলো নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী সম্পন্ন করার জন্য রাত-দিন কষ্ট করছেন।
চাকরি ক্ষেত্রে কমিটমেন্টগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরিবারও তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি পর্যায়ে এসে তিনি এই দুটি বিষয়ে ব্যালেন্স করতে গিয়ে প্রচণ্ড মানসিক চাপ অনুভব করছেন। জার্মানির শ্রমমন্ত্রী হবার্টুস হাইল হোম অফিসের কর্মীদের স্বার্থরক্ষার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের কথা বলেন। বিশেষ করে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার সময়সীমার ব্যাপারে। তিনি বলেন কোনো কর্মী ২৪ ঘণ্টা কাজ করার জন্য বাধ্য থাকা উচিত নয়। হোম অফিস মানে এই নয় যে, একজন কর্মীকে সারাক্ষণই কাজের জন্য তৈরি থাকতে হবে। কর্মীরা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে তার চাকরি ব্যক্তিগত জীবনের সমন্বয় করতে পারে- সেদিকে নজর দিতে হবে।

পরিবারের সহযোগিতা একজন নারীর চলার পথ সহজ করে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; তবে এটাও সত্য যে, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নারীদের তেমন একটি পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। আমাদের দেশে বেশিরভাগ পুরুষরা সামাজিকতার বেড়াজাল দেখিয়ে যেমন ঘরের কাজে বিমুখ থাকেন, তেমনি আশা করেন নারীই তাদের দেখাশোনা করবেন। সংগত কারণেই পরিবারের কেউ যখন অসুস্থ হয়, তার সেবা করার পুরো দায়িত্ব নারীর ওপর আসে। সেইসঙ্গে এমন অনেক চাপ তাকে পারিবারিক জীবনে নিতে হয়। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় ঘরের কাজে নারীর অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ঘরে অফিসের কাজে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীরা পরিবারের পূর্ণ সমর্থন পান না। করোনার এই দুর্যোগকালে সবাইকে গৃহস্থালির কাজ শিশুদের দেখাশোনা ভাগ করে নিতে হবে। নারীর কর্মস্থলের পরিবেশটিও হতে হবে তার জন্য সহযোগিতাপূর্ণ। পুরুষ বা নারী হিসেবে নয়, সবাইকে মানুষ হিসেবে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। সর্বোপরি প্রার্থনা এই যে, মহামারি
থেকে ঘুরে দাঁড়াবে বিশ্ব। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে চারদিক, পরিবর্তন হবে দৃষ্টিভঙ্গির, এগিয়ে যাবে দেশ ও জাতি।

 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
অচিন্ত্য কুমার মন্ডল
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৭:০৭ অপরাহ্ণ

শুভকামনা রইলো এবং সেই সাথে পূর্ণ রেটিং । আপনার তৈরি কন্টেন্ট আমার দৃষ্টিতে সেরার তালিকা ভুক্ত। সে জন্য আপনাকে একটু সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সেই সাথে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমার এ পাক্ষিকের কন্টেন্ট ও ব্লগ দেখার ও রেটিং সহ মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ কন্টেন্টঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/814593 ব্লগঃ https://www.teachers.gov.bd/blog-details/586661


আব্দুল মাজিদ
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:৩৫ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


মোঃ আবু আব্দুর রহমান সিদ্দিকী
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

স্যার, কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার পক্ষ থেকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা। আপনার আপলোডকৃত কনটেন্টের জন্য নিঃসন্দেহে লাইক, পূর্ণ রেটিং সহ অসংখ্য ধন্যবাদ। বাতায়নে কনটেন্ট আপলোড করে শিক্ষক বাতায়নের আর্কাইভ সমৃদ্ধ করে চলেছেন, সমৃদ্ধ হচ্ছি আমরা শিক্ষক সমাজ। শুধু ধন্যবাদ দিলে খাটো করা হবে। এজন্য কাজ চালিয়ে যাবার সনির্বন্ধ অনুরোধ করছি। ধৈর্যের ফল আসবেই একদিন না একদিন পাবেন ইনশাল্লাহ। অতঃপর, যদি সম্ভব হয় আমার সদ্য আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখার বিনীত আমন্ত্রন জানাচ্ছি। পাশাপাশি আপনাদের গঠনমূলক মতামত, লাইক ও পূর্ণ রেটিং প্রত্যাশা করছি। শুভ কামনা সকলের জন্য সব সময়। ধন্যবাদ।


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম
২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৯:২৫ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


মোঃ সাইফুর রহমান
২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৮:৩৫ অপরাহ্ণ

ম্যাম অনেক সুন্দর হয়েছে। লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ শুভকামনা রইল। আমার উদ্ভাবনের গল্প দেখার আমন্ত্রণ রইল।


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


অচিন্ত্য কুমার মন্ডল
২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৫:০৪ অপরাহ্ণ

শুভকামনা রইলো এবং সেই সাথে পূর্ণ রেটিং । আপনার তৈরি কন্টেন্ট আমার দৃষ্টিতে সেরার তালিকা ভুক্ত। সে জন্য আপনাকে একটু সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সেই সাথে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমার এ পাক্ষিকের কন্টেন্ট ও ব্লগ দেখার ও রেটিং সহ মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ কন্টেন্টঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/814593 ব্লগঃ https://www.teachers.gov.bd/blog-details/586661


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


আ ফ ম সাইফুল ইসলাম
২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৫:০০ অপরাহ্ণ

Thanks a lot.


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


লাইলী আক্তার
২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০১:৩৫ অপরাহ্ণ

লাইক এবং পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা রইল। আমার ব্লগটিতে লাইক ও রেটিং দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল। ব্লগ লিংক https://www.teachers.gov.bd/blog-details/586760


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ


আব্দুল্লাহ আত তারিক
২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৯:০৭ পূর্বাহ্ণ

সুপ্রভাত, আপনার দিনটি শুভ হোক । অনেক শ্রমলব্ধ আপনার এই নির্মাণ। পূর্ণ রেটিংসহ আপনার সফলতা গল্প শোনার অপেক্ষায় থাকলাম । ডিসেম্বর - ২০ এর পাক্ষিক - ২ আমার নির্মিত কনটেন্ট নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের কবি শামসুর রাহমান রচিত "তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা" দেখার জন্য আমন্ত্রণ রইল ।


আফসিনা
২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ