একজন আজিজ মিয়ার আত্মচিৎকারের গল্প

মোঃ আব্দুল কাদের সুমন ৩০ ডিসেম্বর,২০২০ ৬৮ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

একজন আজিজ মিয়ার গল্প

                      বেলির মা কই তুমি ? (রান্না ঘর থেকে বেলির মার জবাব) ঐ রম ষাড়ের মত চিল্লাচ্ছ ক্যান? 

                 আজিজ মিয়া – না তুমাকে অনেক সুময় দেখতিছি না তাই। জেসমিন বেগম ( বেলির মা) – আর

ভালবাসা দ্যাহনো লাগবে না ।

    [ বাংলা মায়ের নিভৃত এক পল্লির বাসিন্দা আজিজ মিয়া ও জেসমিন বেগমসম্পর্কে তারা স্বামী- স্ত্রী । বেলি তাদের একমাত্র  কন্যা সন্তান । আজিজ মিয়া পেশায় একজন দিনমজুর আর জেসমিন বেগম একজন গৃহিনী । আজিজ মিয়া স্বভাবে একজন শান্ত প্রকৃতির সহজ – সরল মানুষ। বউকে সে সবচেয়ে ভালবাসে। তাই বউয়ের সব কটু কথা বা খারাপ আচারণ মাথা পেতে নেয় তবু ও বউয়ের সঙ্গে খারাপ আচারণ  না করার চেষ্টা করে ।কিন্তু যখন সীমা অতিক্রম করে তখন আজিজ মিয়া আর সহ্য করতে পারে না তাই দু’ একটা কথা বলে । কখনো কখনো বউয়ের দিকে তেড়ে  যায় ।

অপরপক্ষে জেসমিন বেগম খুবই বদমেজাজী ও ঝগড়াটে মহিলা । স্বামীর সরলতার সুযোগ নিয়ে সে স্বামীকে ঠকায় এবং একটু এদিক ওদিক হলেই স্বামীর সঙ্গে খুবই বাজে আচারণ করে ।]

বউ তুমি কিরম কথা কও ? আমি তুমারে ভালবাসিনে ? অনেক সুমায় তুমারে দেখতিছিনে তাই একটু খোজ খবর করতেছিলাম ।

থাক আমার আর সহ্যু হ্যচ্ছে না । আগলা পিরিত আর দ্যহনো লাগবে না । আমি তুমার ভালবাসা বুঝি – ক্যাইল তুমারে কইলাম রিনা বু দুকুন শাড়ী কিনেছে মিলা ভালো । আমার খুব পছন্দ হইছে ।, তুমিতো গা লাগালে না । আবার ভালবাসা দ্যাহাচ্ছে !!

বেলির মা এই জন্যি রাগ দ্যাহাচ্ছ ? তুমিতো  জান আমি লোকের খ্যাতে কাজ করি । এবার ঝড় ব্যররষার জন্যি কাম-কাজ মিলা একটা নাই । সেভাবে কাম – কাজ মিলা একটা করতি পারছি না । আমার একটাই শার্ট তাতেও আবার তিনটা সিলাই দিয়ি পরতিছি । আমি শার্ট না কিনি তুমার জন্যি শাড়ী কিনিছি । তাও তুমি এই কুথা(কথা) কচ্ছ ?

হ কচ্ছি । যহন দিতি পারবা না তহন বিয়ি করিছো ক্যান ? বিয়ি না করলি পাততি (পারতে) । এই বাস্তে ( এই সংসারে) আসি আমি কি পালাম তুমি কওতো ? ক্যিচ্ছু পায়নি । আর কুথা কওন লাগবে না গেলন দিছি (খাবার দিয়েছে) আসি গিলি ( খেয়ে ) যাও ।

(আজিজ মিয়ার দু’চোখ অশ্রুতে ভিজে গেল । হৃদয়ে বড় ব্যথা অনুভব করলো সে । নিজের সাধ্য মত বউকে খুশি করার চেষ্টা করে যাচ্ছে সে , তবুও বউ তাকে কথা শোনাতে পিছপা হয় না । )

আর কোন কথা না বলে বউয়ের পিছন পিছন খেতে চলে গেল । কোন রকম আধ পেট খেয়ে রান্না ঘর থেকে বের  হয়ে এল ।

বিকাল তিনটা আজিজ মিয়া তিন সেলাইয়ের ময়লা জামাটা পরে কাজের খোঁজে বেরিয়ে গেল বাড়ী থেকে । রাস্তায় দেখা হলো গ্রামের জমাদ্দার রসু মিয়ার সঙ্গে –

ও আজিজ্যা কহনে যাস ? মড়ল সাব কাজের খোজে বেরুলাম । ক’দিন ধরে কাম কাইজ নেই যদি কোন কাম – কাইজ পাই –

ও – ও  , তাইলে এক কাজ করকাইল আমার বাগান থেকে কাঠ- কোট গুলো আমার বাড়ীর বায়ে যে  ফাকা জাগাটা আছে ওহানে আনতে পারবি ? তরে তিন শ টাকা দিবানে । মড়ল সাব কি কন ? ঐ কাঠ – কট তো দু’জনে মিল্যাওতো আনতি পারবো না ।  দু’দিন লাগবো । আমারে ছ শ টাহ্যা দিয়েন।

হ – হ , সখ কত ?? না হলি থাক । ত্যোর কাম – কাইজ নাই তাই কলাম । ও আমি বিনুরে কবানে । ত্যর সাথে আর কথা কহনের সময় নেই আমি গেলাম ( বলে রসু মিয়া হন হন করে চলে গেল )

উদাস দৃষ্টিতে আজিজ মিয়া তার পথপানে চেয়ে থাকলো ,তারপর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল

                                  “ হায় গরীবের কাজের কোন মূল্য নেই” ।  

আজিজ মিয়া আস্তে- ধীরে হাটে গেল। অনেক ঘুরাঘুরি করেও কোন কাজ জুটাতে পারলো না  । হতাশ মনে বাড়ীর পথে পা বাঁড়ালো । বাড়ীর উঠানে পা দিতেই বউয়ের গর্জন শোনা গেল ।

কী কিচ্ছু কী জুটুতে পারলে,  না ষাড়ের মত হাট ঘুরে ঘুরে চলে আসিছো ?

আজিজ মিয়া কোন কথা না বলে ঘরে ঢুকলো । বউ পিছন পিছন গিয়ে   গজর গজর করতে লাগলো ।

ক্ষুধার্ত , তৃষ্ণার্ত, ক্লান্ত আজিজ মিয়ার মাথায় তখন রাজ্যের চিন্তা ।। কি করবে সে ? কোথায় যাবে ? কোথায় গেলে একটু কাজ পাবে  - দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পারবে, মেয়ে আর বউকে খাওয়াতে পারবে । বউয়ের যন্ত্রণা থেকে  রক্ষা পাবে।দু’চোখে তার অমানিশার অন্ধকার ।

বউ তখনো অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে যাচ্ছে ।

হঠাৎ যেন কি হলো , আজিজ মিয়া বউয়ের দিকে তেড়ে গেল ।

আর বউ হাতের কাছে থাকা লাঠি  আজিজ মিয়ার ঘাড়ে বসিয়ে দিলো –

আজিজ মিয়া ব্যাথা পেল কিনা  বোঝা গেল না , শুধু তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল – “ আজ-কাল এইরম হবে”।

সে দিন রাতে আজিজ মিয়ার আর ঘুম হলোনা । পরদিন সকালে দেখা গেল আজিজ মিয়ার দু’চোখ পড়ন্ত বিকালের অস্তমিত সূর্যের মত লাল। মুখে শুধু একটাই কথা

                              “ আজ- কাল এইরম হবে”।

সবাই ভাবলো আজিজ মিয়া পাগল হয়ে গেছে । কিন্তু রাতের আধারে কি ঘটলো তা কেঊ জানলো না ।

এরও তিনদিন পর রাত তিনটা পনের মিনিটে আজিজ মিয়া প্রিয় সন্তান, ভালবাসার স্ত্রী ও সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল । সেই রাতের অন্ধকারে বউ কেঁদেছিল কিনা তা কেউ জানে না । তবে সেদিন রাত ছিল ঝঞ্ঝা – বিক্ষুব্ধ। প্রকৃতি সেদিন অঝরে কেঁদেছিল ।। 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মো মারুফুল হক
২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:০৭ অপরাহ্ণ

আসসালামু আলাইকুম। সম্মানিত স্যার/ম্যাম আমার চলতি , পাক্ষিকে আমার আপলোডকৃত কনটেন্টটি দেখে সুচিন্তিত মতামত ও পূর্ণ রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি লিংক ঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/846876


মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন
২২ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন। অশেষ ধন্যবাদ।


মো মারুফুল হক
০৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো। এ পাক্ষিকে আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে লাইক ও রেটিংসহ আপনার মতামত দেওয়ার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।


মো মারুফুল হক
০৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:২২ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো। এ পাক্ষিকে আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে লাইক ও রেটিংসহ আপনার মতামত দেওয়ার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।


অচিন্ত্য কুমার মন্ডল
৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০১:৩২ অপরাহ্ণ

শুভকামনা রইলো এবং সেই সাথে পূর্ণ রেটিং । আপনার তৈরি কন্টেন্ট আমার দৃষ্টিতে সেরার তালিকা ভুক্ত। সে জন্য আপনাকে একটু সহযোগিতা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সেই সাথে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমার এ পাক্ষিকের কন্টেন্ট ও ব্লগ দেখার ও রেটিং সহ মতামত প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ কন্টেন্টঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/814593 ব্লগঃ https://www.teachers.gov.bd/blog-details/587506


মোঃ আব্দুল কাদের সুমন
৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:০৩ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ স্যার


মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম
৩০ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:০৮ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো। আমার এ পাক্ষিকে আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে লাইক,গঠন মূলক মতামত ও রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।


মোঃ আব্দুল কাদের সুমন
৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:০২ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ স্যার