আরবি ক্যালেন্ডারের নবম মাস মাহে রমজানের গুরুত্ব।

শেখ মোঃ সোহেল রানা ১৪ এপ্রিল,২০২১ ১৫৪ বার দেখা হয়েছে ১০৯ লাইক কমেন্ট ৫.০০ (১০৭ )

মাহে রমজানের গুরুত্ব

আরবি ক্যালেন্ডারের নবম মাস রমজান। এ মাসের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে গোটা মুসলিম বিশ্বে শুরু হয় সাওম বা রোজা। এর পরিসমাপ্তি ঘটে আরবি দশম মাস শাওয়ালের আনন্দঘন ঈদের বাঁকা চাঁদ দেখে। একটানা এক মাস সুবহে-সাদেক থেকে সূর্যাস্ত অবধি চলে পানাহার-সহবাস প্রভৃতি জৈবিক, মানবিক চাহিদা ও প্রয়োজন পূরণ থেকে বিরত থাকার সংযম সাধনা। রোজার বিধান প্রায় সব ধর্মে বিদ্যমান থাকলেও এক নাগাড়ে এক মাস অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে রোজা পালন কেবলমাত্র ইসলামেরই বৈশিষ্ট্য ও অলঙ্কার।

রমজানুল মোবারকের মাসব্যাপী রোজার গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। এটা ইসলামের অন্যতম একটা ভিত। সেই সঙ্গে একটি মহান এবাদত। বিশ্বনবী মুহাম্মদ (স.) বলেন: ইসলামের মহান সৌধ পাঁচটি ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত। সেগুলো হচ্ছে যথাক্রমে-(১) আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (স.) তার প্রেরিত পুরুষ- এ সাক্ষ্য প্রদান, (২) নামাজ প্রতিষ্ঠা, (৩) যাকাত প্রদান, (৪) হজ্ব এবং (৫) রমজানের রোজা।

ইসলামে রোজার গুরুত্ব কত বেশি তা উপরোক্ত হাদিস থেকে সহজেই অনুমেয়। বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, কেউ যদি রোজা পালন না করে তাহলে সে হবে গুণাহগার, পাপী। কিন্তু কেউ যদি রোজার অবশ্য পালনীয়তা (ফরজিয়েত)-কে প্রত্যাখ্যান করে তাহলে তার ঈমানই থাকবে না। রোজার বিধান সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন: ‘হে বিশ্বাসীগণ ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হল, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হয়ে যেতে পার। এ রোজা নিদিষ্ট ক’দিনের জন্য মাত্র। তবে তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে অথবা প্রবাসে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। আর যে ব্যক্তির রোজা পালন দুঃসাধ্য তার পক্ষে একটি রোজার পরিবর্তে একজন অভাবগ্রস্তকে অন্নদান করা কর্তব্য। তবুও যদি কেউ নিজের খুশিতে পূণ্য কাজ করে তবে তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর এবং যদি তোমরা উপলদ্ধি করতে পারতে তবে বুঝতে, রোজা পালন তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণপ্রসূ। সূরা আল বাকারা, আয়াত- ১৮৩-১৮৪।

পবিত্র কুরআনে রোজা সম্পর্কিত উপরোক্ত আয়াত দু’টিতে অনেক বিষয় এসেছে। পূববর্তী এবং বর্তমান শরিয়তে রোজার বিধান, রোজার উদ্দেশ্য, সময়সীমা, অসুস্থ ও মুসাফিরের রোজার বিধান, অক্ষমের ফিতরা দান প্রভৃতি অনেক বিষয় আয়াত দু’টিতে এসেছে। প্রতিটি বিষয় যথেষ্ট বিশ্লেষণ সাপেক্ষ। আমরা এখানে শুধুমাত্র তুলে ধরব আমাদের শরিয়তে রোজা ফরজ হওয়ার বিষয়কে। ইসলামের প্রথমদিকে অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (স.) এর মক্কার জীবনে রোজা ফরজ হয়নি। ফরজ হয়েছে পরে। মদিনা জীবনের দ্বিতীয় বছরে। বিশ্বনবী (স.)-এর মক্কা জীবনের প্রথম ‘দশ বছর’ প্রধানত নিয়োজিত ছিল ঈমান প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে। দশম বছর ইসলামের অন্যতম ভিত দৈনিক পাঁচ বেলা নামাজ ফরজ হয়। ত্রয়োদশ বছরে রাসুলুল্লাহ (স.) ইসলামবিরোধীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আল্লাহতায়ালার আদেশে জন্মস্থান মক্কা শরিফ ত্যাগ করে মদিনা শরিফ হিজরত করে চলে যান। ওখানেই রোজা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি ইসলামের অধিকাংশ বিধানাবলী সম্বলিত পবিত্র কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়। হিজরতের দু’বছর পর নামাজ ফরজ হয়। নামাজ ফরজ হওয়ার পাঁচ বছর পর মাহে রমজানুল মোবারকের রোজা ফরজ সংক্রান্ত উপরোক্ত আয়াতদ্বয় অবতীর্ণ হয়। সেই থেকে মুসলমানরা আল্লাহতায়ালার দেওয়া রোজার বিধান নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছে।

বিশ্বনবী (স.)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পনেরো বছরের সময় পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারকের রোজা ফরজ হয়। এর অর্থ এই নয় যে, এর আগে রাসুলুল্লাহ (স.) এবং সাহাবাগণ কখনও রোজা রাখেননি। মাহে রমজানুল মোবারকের রোজা ফরজ হওয়ার আগেও রাসুলুল্লাহ (স.) এবং সাহাবাগণ রোজা রেখেছেন। পবিত্র কুরআনের প্রখ্যাত ভাষ্যকার ইবনে জাবির তবরী (রা.) জামিউল রমান ফি ‘তাফসিরুল কুরআন’ নামক তাফসির গ্রন্থে বিখ্যাত সাহাবি হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণনা করে লিখেছেন, রাসুলুল্লাহ (স.) মদিনায় আসার পর আশুরা এবং প্রত্যেক মাসে তিনটি করে রোজা রাখতেন। অতঃপর ‘হে বিশ্বাসীগণ। তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হল’ এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। ইমাম ইবনে কাসীর (র.) এ সম্পর্কে তাফসিরুল কুরআনিল আজিম নামক তাফসীর গ্রন্থে লিখেছেন, ইসলামের প্রথম দিকে প্রতিমাসে তারা (সাহাবাগণ) তিনটি করে রোজা রাখতেন। অতঃপর তা মাহে রমজানুল মোবারকের রোজা ফরজ হওয়ার মাধ্যমে মনসুখ (রহিত) হয়ে যায়। মাহে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে রাসুলুল্লাহ (স.) এবং সাহাবাগণ আশুরাসহ প্রতিমাসে তিনটি করে যে রোজা রাখতেন তা কী রকম রোজা ছিল, এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও হাদিস বিশেষজ্ঞ আলেমগণের দুটি অভিমত রয়েছে।

(১). সে রোজাও ফরজ ছিল। (২). তা ফরজ নয়, নফল ছিল। প্রথমোক্ত অভিমত খন্ডন করে ইমাম ইবনে জাবির (র.) তার পূর্বোক্ত তাফসির গ্রন্থে লিখেছেন, ‘মাহে রমজানুল মোবারকের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে অন্য রোজা মুসলমানদের উপর ফরজ ছিল এবং রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার মাধ্যমে পূর্ববর্তী রোজা ‘মনসুখ’ (রহিত) হয় বলে যে অভিমত প্রচলিত আছে তা গ্রহণযোগ্য কোনো তথ্য-প্রমাণ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নয়। আশুরাসহ প্রতিমাসে তিনটি রোজা নফল হিসাবে রাখা হতো।’ উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, দ্বিতীয় হিজরিতে মাহে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগেও রাসুলুল্লাহ (স.) এবং সাহাবাগণ ফরজ অথবা নফল হিসাবে রোজা রেখেছেন। মাহে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর প্রথমাবস্থায় বিধান ছিল ইফতারের পর রমজানের রাতে ঘুমাবার আগ অবধি পানাহার-সহবাস সব কিছু বৈধ। একবার ঘুমিয়ে পড়লেই শেষ। পরের দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত খানাপিনা, সহবাস সব কিছু নিষিদ্ধ। রাত থেকেই শুরু করে দিতে হতো রোজা। মাহে রমজানুল মোবারকের রাত্রিকালীন এ বিধান রহিত হয়ে পরবর্তীতে শিথিল হয়। রাতের এ বিধান রহিত হওয়ার পেছনে স্মরণীয় হয়ে আছে দু‘জন সাহাবির দুটি ঘটনা। প্রথম ঘটনাটি হচ্ছে কায়স ইবনে সারমা নামের একজন আনসারি সাহাবীর। ইমাম ইবনে কাসিব লিখেছেন, ওই সাহাবি রোজা রেখে নিজ খামারে কাজ করছিলেন। ইফতারের সময় হলে তিনি বাড়ি ফিরলেন। স্ত্রীকে বললেন, খাবার কিছু আছে? স্ত্রী বললেন না, কিছু নেই। তবে বের হচ্ছি, খুঁজে নিয়ে আসব কিছু একটা। 

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মোঃ তরিকুল ইসলাম
২১ এপ্রিল, ২০২১ ০৭:২২ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা। আমার ব্লগ দেখার আমন্ত্রণ রইলো।


মোঃ আবুল কালাম
১৫ এপ্রিল, ২০২১ ০২:০৯ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ শুভকামনা। আমার কন্টেন্ট ও ব্লগ দেখার আমন্ত্রণ রইলো।


মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন
১৫ এপ্রিল, ২০২১ ১২:৩৯ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন। আবারও ধন্যবাদ।


লুৎফর রহমান
১৪ এপ্রিল, ২০২১ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র মাহে রমজান ও বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা। লাইক ও পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো। আমার এ পাক্ষিকে আপলোডকৃত ৫৬ তম কনটেন্ট ও ব্লগ দেখে লাইক,গঠন মূলক মতামত ও রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। কনটেন্ট লিংকঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/913039 Blog link: https://www.teachers.gov.bd/blog-details/598292


মোঃ নূরল আলম
১৪ এপ্রিল, ২০২১ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

শুভেচ্ছা রইল লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ। আপনাকে একটু সহ্যোগিতা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সেই সাথে কর্তৃপক্ষের সু দৃস্টি কামনা করছি।আমার আপলোডকৃত ৪৯ ও ৫০তম কনটেন্ট দেখে মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।