প্রাথমিক শিক্ষায় কাব স্কাউটিং , 🌹🌹🌹🌹🌹🌹✌️✌️✌️✌️✌️✌️✌️✌️✌️✌️✌️✌️✌️🌹🌹🌹

শাহেনা আক্তার ১৯ জুন,২০২২ ৩৯ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ ()

সফলতা প্রতিটি মানুষেরই জীবনের পরম আকাঙ্ক্ষিত সম্পদ। তবে মানুষকে জীবনের প্রতি মুহূর্তেই কিছু না কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। আবার শুধু চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা বা সমাধান করার মধ্যেই জীবনের আনন্দ নিহিত নয়। তাই যা কিছুই করা হোক না কেন তা আনন্দের মধ্য দিয়ে করা উচিত। মনের স্বাধীনতা দেয়া উচিত। আবদ্ধ খাঁচার পাখি কখনো স্বাধীনভাবে আকাশে উড়তে পারে না। তাইতো বর্তমান সরকার একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার জন্য শ্রেণি রুটিনে চারু ও কারুকলা, সংগীত, শারীরিক শিক্ষা এবং কাবিং  ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে ১ম ও ২য় শ্রেণিতে রবি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শেষ পিরিয়ডে (৪র্থ পিরিয়ডে) পরিবেশ পরিচিতি, শারীরিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলা, সংগীত ও কাবিং অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত চারু ও কারুকলা, সংগীত ও কাবিং অন্তর্ভুক্ত আছে। এক শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও বিষয়গুলো সব শ্রেণির রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করা আছে। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, কাবিং কার্যক্রম, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচি, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টসহ আরো অনেক ইতিবাচক কার্যক্রম সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম হিসেবে বিদ্যালয়ে চালু আছে। বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়া নিরানন্দময় জীবনে একজন ছাত্র কিছু শিখতে পারে না। কীভাবে দলগতভাবে কাজ করতে হবে, দুর্যোগ কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে, সমাজের অন্য মানুষের সঙ্গে কি ধরনের আচরণ করতে হবে তা স্কুলে শিখানো একান্ত জরুরি। মোদ্দাকথা হলো একজন সুশিক্ষিত কর্মক্ষম ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে আমাদের সন্তানদের গড়তে হলে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদেরকে কিছু বাড়তি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্যে উত্তম হলো স্কাউট আন্দোলন।

স্কাউট আন্দোলন বিশ্বব্যাপী একটি জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী গতিশীল অরাজনৈতিক আন্দোলন। এটি একটি শিক্ষামূলক কার্যক্রম যা বয়স্ক নেতাদের সমর্থনে পরিবেশিত হয়ে আসছে। শিশু-কিশোর ও যুববয়সীদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৎ, চরিত্রবান, পরোপকারী, আত্মনির্ভরশীল করে তোলা, আনন্দের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ গ্রহণে অভ্যস্ত করা সর্বোপরি আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই স্কাউট আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। এই ধরাবাহিকতায় শিশুদের প্রাণোচ্ছল, উদ্যমী, দায়িত্বশীল, সহানুভ‚তিশীল করার লক্ষ্যে রবার্ট স্টিফেন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল (বিপি) ১৯০৭ সালে ২১ জন বালক নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্রাউন্সি দ্বীপে ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলনের সূচনা করেন। পরবর্তীতে মেয়েরাও উৎসাহিত হলে ১৯১০ সালে শুরু করেন গার্লস গাইড। ১৯০৭ সালে স্কাউট আন্দোলনের যাত্রা শুরু হলেও বাংলাদেশে এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ১৯৭২ সালে। ৮-৯ এপ্রিল ১৯৭২ সারাদেশের স্কাউট নেতারা ঢাকায় এক সভায় মিলিত হয়ে গঠন করেন বাংলাদেশ স্কাউট সমিতি। ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ১১১নং অধ্যাদেশ বলে উক্ত সমিতি সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। এর আগে প্রধান স্কাউটার সলিমুল্লাহ কাহমীর নেতৃত্বে২২ মে ১৯৪৮ সালে ঢাকায় গঠিত হয়েছিল ‘ইস্টবেঙ্গল স্কাউট অ্যাসোসিয়েশন’। বিশ্বস্কাউট সংস্থা (ডড়ংস) ১৯৭৪ সালের ১ জুন ‘বাংলাদেশ স্কাউট সমিতিকে’ ১০৫তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তবে ১৯৭৮ সালের ১৮ জুন এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ স্কাউট’।

স্কাউট আন্দোলন সব ধরনের ছেলেমেয়েদের জন্য উš§ুক্ত। সুষ্ঠু পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশে স্কাউটিং নিম্নোক্ত তিনটি শাখায় বিভক্ত: ১। কাবস্কাউটস (৬ থেকে ১১ বছর) ২। স্কাউটস (১১ থেকে ১৭ বছর) এবং ৩। রোভার স্কাউটস (১৭ থেকে ২৫ বছর)। কাব অর্থ শাবক বাচ্চা। স্কাউটিং এ ‘কাব’ অর্থে নেকড়ে বাঘের বাচ্চাদের কথা বুঝানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী (৬-১১ বছর বয়সের) বাচ্চাদের এই নামকরণের মধ্য দিয়ে উদ্যমী ও সাহসী করে তোলা হয়।


কাবের মূলমন্ত্র বা আইন হলো: ১। বড়দের কথা মেনে চলা ২। আল্লাহ/ সৃষ্টিকর্তাও দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করা ৩। প্রতিদিন কারো উপকার করা ৪। আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করব অর্থাৎ কোনো কাজে বিফলতায় মুখ ফেরানো নয়। বার বার চেষ্টা করে সফলতা আনা। এই আইনগুলো যদি সঠিকভাবে শিশুদের শেখানো হয় তাহলে নিঃসন্দেহে তারা স্কুল গন্ডির বাহিরে গিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করবে এবং নিজেদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। কাবরা কাজ শেখে ক্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে, নিজেদের কাজ নিজেরা করে, ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে দলগতভাবে কাজ করে ফলে মিলে মিশে কাজ করা শেখে এবং নেতৃত্ব দেয়ার গুণাবলী অর্জন করে যা পরবর্তী জীবনে তাদের দায়িত্বশীল মানুষে পরিণত করে। শহর অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা শুধু স্কুল আর বাসা পর্যন্ত আসা-যাওয়া করে, বাহিরের জগৎ সম্পর্কে তাদের ধারণা কম থাকে তাদের কায়িক পরিশ্রম কম হয়। কাবিং কার্যক্রমে বাহিরের খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের নিজের কাজ নিজে করা শেখানো হয়। এ কারণে শিশুদের কাবিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বাচ্চাদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে তারা নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারবে। কাবদের নিজস্ব পোশাক থাকে। কাবিংয়ের মাধ্যমে শিশুদের আঙ্গুলের বিশেষ কায়দায় সালাম দেয়া ও গ্রহণ করা, ডান হাতে করমর্দন করা ইত্যাদি বিষয় শেখানো হয়। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিশুরা নিয়মশৃঙ্খলার বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে যা পরবর্তী জীবনে তাদের চিন্তা, কথা ও কাজে নির্মল হতে সাহায্য করে।


বাংলাদেশে ১৯৯৫ সাল থেকে কাবিং সম্প্রসারণ কাজ চলছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এর কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সরকার ও সুশীল সমাজ এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০১৭ সালের বার্ষিক স্কাউট পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে স্কাউটের সংখ্যা ১৬৮২৭৬১ এর মধ্যে কাব স্কাউটের সংখ্যা ৭৬৮৭৫১ জন। সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশ স্কাউট বিশ্বে ৫ম স্থানে রয়েছে। কাবিং এর ফলাফল আমরা পেতে শুরু করেছি। ছোটবেলা থেকেই শিশুরা শিখছে এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে যেমন- পরিবেশ সুরক্ষা, বৃক্ষ রোপণ, দুস্থ, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ, অসহায় মানুষেরপাশে দাঁড়ানো এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় অংশগ্রহণ। এমনকি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জনগণকে সচেতন করায় কাবরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আজকের শিশু আগামীর কাণ্ডারি এই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী এবং বিস্তৃত করা হলে এই শিশুরাই দেশ গঠনে যথার্থ ভ‚মিকা রাখতে পারবে।


দেশ থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি মাদকসহ সব অসামাজিক কর্মকাণ্ড দূর করে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে আর এজন্য আগামী প্রজন্মের প্রত্যেককেই স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। স্কাউট আন্দোলনকে আরো গতিশীল করে ছেলেমেয়েদের শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক অর্থাৎ পরিপূর্ণ অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বিকাশের মাধ্যমে তাদের ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তি, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তাইতো ২০২১ সালের মধ্যে রূপকল্প বাস্তবায়ন, ২০৩০ এর মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সর্বোপরি ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ ও মেধাসম্পন্ন জাতি গঠনে আগামী প্রজন্মকে করতে হবে স্কাউটময় যার সূচনা হবে কাবিংয়ের মাধ্যমে।



মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
প্রবীর রঞ্জন চৌধুরী
৩১ জুলাই, ২০২২ ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা।


লুৎফর রহমান
২০ জুন, ২০২২ ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ

Thanks for nice content and best wishes including full ratings. Please give your like, comments and ratings to watch my innovation story-2 https://www.teachers.gov.bd/content/details/1275215 Presentation link 83: https://www.teachers.gov.bd/content/details/1265703 Blog link 502: https://www.teachers.gov.bd/blog-details/648531


জামিলা খাতুন
২০ জুন, ২০২২ ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট ও ব্লগ দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ প্রত্যাশা করছি।


কোহিনুর খানম
২০ জুন, ২০২২ ০৬:১১ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ প্রত্যাশা করছি।কনটেন্ট লিংক-https://teachers.gov.bd/content/details/1274186


জাহিদুল ইসলাম
১৯ জুন, ২০২২ ১০:৩১ অপরাহ্ণ

আসসালামু আলাইকুম/আদাব। লাইক ও রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট ও ব্লগ দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ প্রত্যাশা করছি। কনটেন্ট লিংক: https://www.teachers.gov.bd/content/details/1273517


মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন
১৯ জুন, ২০২২ ০৯:৪২ অপরাহ্ণ

আসসালামু আলাইকুম/আদাব। লাইক ও রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট ও ব্লগ দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ প্রত্যাশা করছি।


মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন
১৯ জুন, ২০২২ ০৯:৪২ অপরাহ্ণ

আসসালামু আলাইকুম/আদাব। লাইক ও রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট ও ব্লগ দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ প্রত্যাশা করছি।


শাহেনা আক্তার
১৯ জুন, ২০২২ ০৯:৩৪ অপরাহ্ণ

Happy Scouting 🌹🌹✌️✌️✌️✌️✌️✌️✌️🌹🌹🌹🌹🌹