###ইতিহাস ও ঐতিয্যের প্রতিক "বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর"।###

মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন ০৫ ডিসেম্বর,২০২২ ১৯ বার দেখা হয়েছে লাইক ১৬ কমেন্ট ৫.০০ ()

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে অবস্থিত দেশের জাতীয় জাদুঘর। এটি ২০, মার্চ, ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং ৭ আগস্ট, ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ নভেম্বর তারিখে এটিকে জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা দেয়া হয়। জাদুঘরটি শাহবাগ মোড়ের সন্নিকটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা পার্কচারুকলা ইন্সটিটিউটের পাশে অবস্থিত। এখানে নৃতত্ত্ব, চারুকলা, ইতিহাস, প্রকৃতি এবং আধুনিক ও প্রাচীন বিশ্ব-সভ্যতা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি বিষয়ে আলাদা ৪৪টি প্রদর্শনশালা (গ্যালারি) রয়েছে। এছাড়া এখানে একটি সংরক্ষণাগার, গ্রন্থাগার, মিলনায়তন, সিনেস্কেইপ এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনালয় রয়েছে।

ইতিহাস

১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর "দ্য ঢাকা নিউজ" পত্রিকায় প্রথম এদেশে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ তৎকালীন সচিবালয়ে (বর্তমান ঢাকা মেডিক্যাল)-এ দুই হাজার রুপি তহবিল নিয়ে জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু। বাংলার তৎকালীন গভর্নর লর্ড কারমাইকেল তৎকালীন সচিবালয়ের একটি কক্ষে এই ঢাকা জাদুঘর উদ্বোধন করেন। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের ৭ আগস্ট ঢাকা জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ আগস্ট সর্বসাধারণের জন্য জাদুঘর উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ঢাকা জাদুঘরের প্রথম অস্থায়ী তথা সূচনাকালীন কিউরেটর বা তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এন গুপ্ত। প্রথম কিউরেটর নলিনীকান্ত ভট্টশালী ১৯১৪ থেকে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ সরকার এদেশে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করে বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে। শাহবাগ এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জন্য একটি অত্যাধুনিক বৃহদায়তন ভবনের উদ্বোধন করা হয় ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের ১৭ নভেম্বর। আট একর জমির ওপর নির্মিত চারতলা ভবনটির তিনটি তলা জুড়ে রয়েছে ৪৪টি গ্যালারি। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর স্থাপনার নকশা করেছেন দেশের প্রখ্যাত স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন

কাঠামো

জাতীয় জাদুঘরের নিদর্শনাদির বিভাগগুলো হচ্ছে:

  • ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা
  • জাতিতত্ত্ব ও অলঙ্করণ শিল্পকলা
  • সমকালীন শিল্পকলা ও বিশ্বসভ্যতা
  • প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগ
  • সংরক্ষণ গবেষণাগার

এছাড়া রয়েছে জনশিক্ষা বিভাগ।

সংগৃহীত নিদর্শন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংগৃহীত নিদর্শনের সংখ্যা প্রায় ৯৪ হাজার। প্রতিটি নিদর্শনের একটি একসেশন নম্বর আছে। নিদর্শনের নাম, সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও ফটো নিয়ে কম্পিউটার ডেটাবেইস প্রণয়ন করা হয়েছে। এবং ৭৫০০ নিদর্শনের বর্ণনামূলক ক্যাটালগ প্রণয়ন ও প্রকাশ করা হয়েছে।

সংগৃহীত নিদর্শনসমূহের প্রায় ৪ হাজার নিদর্শন ৪৫টি প্রদর্শন কক্ষে জনসাধারণের দর্শনের জন্য সাজিয়ে রাখা আছে। ৩৭ নম্বর প্রদর্শন কক্ষে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রদর্শনী প্রকোষ্ঠ করা হয়েছে। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংক ও দৃকের সহায়তায় ৩৫ নম্বর গ্যালারিতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন চিত্রশালা স্থাপন করা হয়েছে। ২৬ নম্বর কক্ষটি “সাহিত্য গ্যালারী” হলেও এতে দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন নাগরিক সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দর্শনার্থী

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে প্রতিদিন গড়ে ২০০০-এর বেশি দর্শনার্থী পরিদর্শন করতে আসেন। এদের মধ্যে বিদেশীরাও আছেন। দর্শনীর পরিমাণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০ টাকা। বিদেশীদের জন্য ৫০০ টাকা। তবে সার্কভুক্ত দেশের দর্শনার্থীরা ৩০০ টাকার টিকেটে প্রবেশাধিকার পান।

ব্যবস্থাপনা কাঠামো

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান যা আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও একটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের নিয়ন্ত্রণাধীন। তবে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন মহাপরিচালক এই জাদুঘরের প্রধান নির্বাহী হিসেবে সামগ্রিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে বর্তমানে ৩৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। সাংবৎসরিক ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি টাকা।

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মো: আনোয়ার হোসেন
০৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ আপনার জন্য শুভকামনা।


মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন
০৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
০৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ আপনার জন্য শুভকামনা।


মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন
০৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


মোঃ সোহরাব হোসাইন
০৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ আপনার জন্য শুভকামনা।


মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন
০৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


ফিরোজ আহমেদ
০৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ

Best wishes for you with likes and full ratings. Looking forward to my uploaded content, video content and blog, your valuable like rating and feedback and suggestions. Link to my content: https://www.teachers.gov.bd/content/details/1354234


মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন
০৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


মোঃ শফিকুল ইসলাম
০৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:২৪ পূর্বাহ্ণ

পূর্ণ রেটিংসহ আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। আমার আপলোডকৃত কনটেন্ট দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।


মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন
০৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


প্রবীর রঞ্জন চৌধুরী
০৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১১:০৭ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ আপনার জন্য শুভকামনা।


মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন
০৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


আজিজুল হক
০৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:০৭ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।


মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন
০৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


রুমানা আফরোজ
০৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:০১ অপরাহ্ণ

লাইক ও পূর্ণ রেটিং সহ আপনার জন্য শুভকামনা। শিক্ষক বাতায়নে এ পাক্ষিকে আমার আপলোডকৃত ১২০ তম কনটেন্ট ও ব্লগ দেখে আপনার মূল্যবান মতামত ও সুচিন্তিত পরামর্শ প্রত্যাশা করছি। আমার কন্টেন্ট লিঙ্কঃ https://www.teachers.gov.bd/content/details/1355652


মোহাম্মদ রেহান উদ্দিন
০৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।