প্রভাষক
১৮ মে, ২০২০ ০৫:০৭ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
#বাংলাদেশের_অর্থনীতি
#অর্থনীতির প্রারম্ভিক কথা-বার্তা:-
১। ‘Economics’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Oikonomia’ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ‘গৃহস্থালী পরিচালনা’।এল রবিন্স প্রদত্ত সঙ্গাঃ তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি মানুষের অভার ও বিকল্প ব্যবহারযাগ্য সীমিত সম্পদের সম্পর্ক বিষয়ক মানব আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
২। অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথ। আধুনিক অর্থনীতির জনক পল স্যামুয়েলসন। অর্থনীতিকে সর্বপ্রথম দুই ভাগে (ব্যাষ্টিক ও সামষ্টিক) ভাগ করেছেন র্যাগনার ফ্রেশ।
৩। বিশ্বের চার ধরণের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ১. পুঁজিবাজার, ২. সমাজতান্ত্রিক, ৩. মিশ্র, এবং ৪. ইসলামী। আধুনিক অর্থনীতিকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ধরণ হলো মিশ্র অর্থনীতি।বাংলাদেশে অর্থবছর - ১ জুলাই থেকে ৩০ শে জুন। মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হলো সম্পত্তির ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা থাকে। বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু হয় ১৯৯১ সালের ১ জুলাই। বিশ্বব্যাংকের ঘোষণা মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৬০২ মার্কিন ডলার (অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭)।
৪। অর্থনীতিতে বাজার বলতে বোঝায়-দ্রব্য, দাম এবং ক্রেতা-বিক্রেতা যেখানে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। ভোক্তার সর্বোত্তম বাজার প্রতিযোগিতামূলক বাজার। অর্থনীতিকে কল্যাণে বিজ্ঞান বলে আখ্যায়িত করেছেন-মার্শাল। এডাম স্মীথ, ‘The Wealth of Nations’ গ্রন্থের লেখক। অ্যাডাম স্মীথ কর্তৃক ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে রচিত গ্রন্থ ‘An Enquary into the Nature and Causes of the Wealth of Nations’ নামক গ্রস্থে অর্থনীতিকে সম্পদের বিজ্ঞান আখ্যায়িত করে বলেন, ‘Economics is prince of wealth’।
৫। নব্য বুনিয়াদী অর্থনীতিঃ ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কিছু তত্ত্বের সমষ্টি হিসেবে ‘নব্য বুনিয়াদী অর্থনীতি’ বা ‘প্রান্তিক অর্থনীতি’ গড়ে উঠে। পুঁজি অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক হল সরকার।
৬। জাতীয় কর দিবস পালিত হয় ১৫ই সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশে বিক্রয় করের বিকল্প হিসেবে ধার্য করা হয় ‘মূল্য সংযোজন কর’। মূল্য সংযোজন কর বাংলাদেশে চালু করা হয় ১লা জুলাই, ১৯৯১ সালে।
#উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রেক্ষিত ও পঞ্চবার্ষিকী
# উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোঃ
১। বাংলাদেশে উন্নয়ন পরিকল্পনার ০৪ (চার) ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কাজ করে। যথা- ক. পরিকল্পনা কমিশন, খ. জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ, গ. জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি, ঘ. মন্ত্রণালয়/বিভাগের পরিচালনা উইং।
#পরিকল্পনা কমিশন (Planning Commission): বাংলাদেশে পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান ‘প্রধানমন্ত্রী’। পরিকল্পনা কমিশন অবস্থিত ‘শেরে বাংলানগরে’। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন গঠিত হয় ১৯৭২ সালে। সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে উপর্যুক্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ তথা উন্নততর জীবনযাত্রা নিশ্চিত করণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
#জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (National Economic Council-NEC): এ পরিষদ কর্তৃক প্রণীত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী সাধারণত বিভিন্ন সদস্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের নিজ নিজ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করে। মন্ত্রিপরিষদের সকল সদস্য এ পরিষদের সদস্য থাকেন। প্রধানমন্ত্রী তথা সরকার প্রধান পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করেন।
#জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (The Executive Committee of the National Economic Council –ECNEC): জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদনির্বাহী কমিটি (ECNEC) ১৯৮২ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি গঠন কাঠামো ও কার্যাবলি নিরূপণ করা হয়। এই প্রস্তাবের ফলে এ সম্পর্কিত পূর্ববতী সকল আদেশ বাতিল হয়ে যায়। ১৯৮২ সালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠিত হয়।
#মন্ত্রণালয়/বিভাগের পরিচালনা উইং: উইং এর কার্যক্রম হলো- প্রকল্প প্রকিয়াকরণ, প্রকল্পের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ণ ও রিভিউ, বিভিন্ন সমীক্ষা গ্রহণ, বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রণয়ন, দাতা দেশ/সংস্থার সাথে যোগাযোগ রক্ষা।
#উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রেক্ষিত ও পঞ্চবার্ষিকী
১। বাংলাদেশে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে ‘বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন’। বাংলাদেশে এ যাবত মোট ১০ টি উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তন্মধ্যে ৭ টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, ২ টি দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র এবং ১ টি দ্বি-বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা।
২। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট যোসেফ স্ট্যালিন সর্বপ্রথম (১৯২১ সালে) উন্নয়নের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন বলে তিনিই ‘পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার’ প্রবর্তকের স্থান দখল করেছেন।
৩। বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসমূহ-
প্রথম পঞ্চবির্ষিকী পরিকল্পনা (১লা জুলাই, ১৯৭৩ – ৩০ জুন, ১৯৭৮)
দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৮০-১৯৮৫)
তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৮৫-১৯৯০)
চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৯০-১৯৯৫)
পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৯৭-২০০২)
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১১-২০১৫)
সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০): সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রতিপাদ্যঃ প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ: প্রত্যেক নাগরিকের ক্ষমতায়ন। ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা – প্রায় ৩২ লাখ কোটি টাকা। বেশী প্রাধান্য পাবে-স্বাস্থ্য খাত। #সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিক্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ উন্নীতকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিদ্যুত জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চচিকরণ এবং বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ। তিনটি ধাপে এ সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরিকল্পন বাস্তবায়ন শুরুর প্রথম ধাপ জুলাই ২০১৫ শেষ পর্যন্ত. দ্বিতীয় ধাপ ২০১৬-২০১৮ পর্যন্ত এবং শেষ বা চূড়ান্ত ধাপ ২০১৮- ২০২১ সাল পর্যন্ত।
#সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রধান প্রধান পরিকল্পনাসমূহঃ
১. প্রাথমিক শিক্ষার হার শতভাগ এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার হার ৬০ শতাংশে উন্নীত করা
২. ৫ বছরের নিচে শিশুর মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৫০ জনে নামিয়ে আনা
৩. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ শতাংশে নামিয়ে আনা
৪. বিদ্যুৎ সরবরাহ ২৩,০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা
৫. গবেষণা ও উন্নয়নে সরকারি ব্যয় জিডিপির ১ শতাংশে উন্নীত করা
৬. প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ শতাংশ এবং সে লক্ষ্যে গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৪০ শতাংশ।
৭. দারিদ্র্যের হার ১৮.৬০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৮.৯ শতাংশে নামিয়ে আনা
৮. মূল্যস্ফীতি ৫.৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা
৯. গড় আয়ু ৭২ বছরে উন্নীত করা
৪। দ্বি বার্ষিক পরিকল্পনা : বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার মাঝে মাঝে একটি দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৮-১৯৮০ মেয়াদে এ পরিকল্পনাটি গৃহীত হয়।
৫। দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (PRSP): বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন এনজিওগুলো নানা কল্যাণমূখী পদক্ষেপ গ্রহণৈর মাধ্যমে দেশের দারিদ্য-হ্রাসের আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় সরকার দু’বার PRSP বা‘Poverty Reduction Strategy Paper’ গ্রহণ করেছিল। প্রথম বা PRSP –Iএর মেয়াদ ছিল জুলাই ২০০৬ থেকে জুন ২০০৮ এবং দ্বিতীয় বা PRSP –II এর মেয়দকাল ছিল জুলাই ২০১০ থেকে জুন ২০১২ সাল পর্যন্ত। PRSP গ্রহণের পূর্বে সরকার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০৩ সালে একবার IPRSP- Interim Poverty Reduction Strategy Paper গ্রহণ করেছিল যা এর ভিত্তি স্বরূপ কাজ করেছে।
#এ টপিকে আরও কিছু গুরত্বপূর্ণ কথা-বার্তাঃ
#বাংলাদেশে প্রথম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন গঠিত হয় ১৯৮২ সালে। বর্তমানের বাংলাদেশের সাথে যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন রয়েছে ১৭ টি দেশ ও ১টি সংস্থার সাথে।
#বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম গঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। এটি বাংলাদেশের ‘এইড কনসোর্টিয়াম’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশে ২০০৩ সালে থেকে উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধান সমন্নয়কারী সংস্থা বিশ্বব্যাংক।বৈদেশিক সাহায্যে শীর্ষ দেশ –জাপান। বাংলাদেশে বৈদেশিক সাহায্যে শীর্ষে আইডিএ। জাপানের বৈদেশিক জাণিজ্য সংস্থার নাম ‘জাইকা’।
৭
৭ মন্তব্য