Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ জুন, ২০২০ ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

বন্যার পূর্ব প্রস্তুতি ও বন্যকালীন করণীয়

বন্যার পূর্ব প্রস্তুতি ও বন্যায় করণীয়:-

সংক্রমণের প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও মহামারী করোনা ভাইরাস আমাদের দেশে এখনো বিস্তার লাভ করছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থান। জলাবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী চলে প্লাবিত হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন িএলাকা। ফলে দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। একদিকে যেম কৃষি অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর ধ্বংসাত্বক প্রভাব বিস্তার করে, অন্যদিকে সৃষ্টি হয় খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব। এছাড়াও ছড়িয়ে পড়ে নানাবিধ পানিবাহিত রোগ। 

তাই, বন্যার আগেই এবং বন্যাকালীন কিছু পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বন্যা মোকাবেলা করা অনেক সহজ হয়। যেমন-

বন্যার পূর্বে করণীয়:-

১। বসতবাড়ির ভিটা, নলকূপ ও টয়লেট উঁচু জায়গায় স্থাপন করতে হবে। 

২। কৃষি শস্য ও বীজ সংরক্ষণের জন্য উঁচু মাচা তৈরি করতে হবে। 

৩। গৃহপালিত পশু (গরু, মহিষ, ভেঁড়া, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি) নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। 

৪। শুকনো খাবার (চিড়া, মুড়ি, গুড়, চিনি) সংরক্ষণ করতে হবে। 

৫। বিশুদ্ধ খাবার পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। 

৬। রান্নার জ্বালানী ও সহজে বহনযোগ্য চুলার ব্যবস্থা করতে হবে। 

৭। পানিবাহিত রোগ (কলেরা, উদারাময়) এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে। 

বন্যাকালীন করণীয়:- 

১। শিশু, বৃদ্ধ, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী মহিলাদের উপর বিশেষ নজর দিতে হবে। 

২। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র (টাকা-পয়সা, শিক্ষাগত সনদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র) নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে।

৩। বন্যার পানিতে থালাবাসন ধোয়া, রান্নার কাজে ব্যবহার করা, গোসল করা কিংবা জামা কাপড় ধোয়া যাবে না। 

৪। বন্যার দূষিত পানি পান করা যাবে না। তবে পানি বিশুদ্ধকরণ টেবলেট ব্যবহার করে পানি পান করা যাবে। 

৫। একে অন্যের বিপদে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। 

# শিক্ষক হিসেব আমাদের মানববোধ এবং নৈতিকতাবোধ থেকে বন্যকালীন নিজের পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনসহ সকলকে উক্ত করণীয় বিষয় সম্পর্কে সচেতন করা, নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখা, প্রয়োজনে সাধ্যমত সহযোগিতা করা। তাহলে নিজে যেমন উপকৃত হবো তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হবে। তাই আসুন নিজে সচেতন হই, অন্যকে সচেতন করি এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই। নিরাপদ থাকি, নিরাপদ রাখি। 

মো: হোসেন আলী

সহকারী শিক্ষক

পূর্ব পয়ড়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম।

০১৭৬৮৮৩৮৩৪৯।

মন্তব্য করুন

ব্লগ