প্রভাষক
০৫ জুলাই, ২০২০ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
জীবন-জীবিকার তাগিদে অর্থের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ইসলামে বিষয়টি আরো তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামে অর্থবিত্ত মহান আল্লাহর নিয়ামত। এ নিয়ামত অর্জনে ইসলাম সবল, সক্ষম প্রত্যেক অনুসারীকে উৎসাহ করেছে। তবু মানবজীবনে চাহিদার কোনো শেষ নেই। যার অর্থকড়ি যত বেশি তার চাহিদাও তত বেশি। হাদিস শরিফে এসেছে,
হাদিস পাকের অনুবাদ:
“মানুষ যতই বৃদ্ধ হয়, তার মধ্যে দুটি বস্তুর আকাক্সক্ষা ‘যুবক’ হতে থাকে- দীর্ঘায়ু ও অর্থমোহ।”
(বুখারী, হা-৬৪২১, মুসলিম, হা-১০৩১)
মৃত্যুর পর মানুষের মুখে মাটি পড়া পর্যন্ত চাহিদা বাড়তেই থাকে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষ চাইতেই থাকে। যেহেতু মানুষের এই চাহিদা কখনো শেষ হওয়ার নয়, তাই তা সীমিত রাখার মধ্যেই মানবজীবনে সুখ আসে।
অল্পে তুষ্টি মু’মিন চরিত্রের অন্যতম ভূষণ। কারণ প্রকৃত মু’মিন সর্বদা নিজেকে মহান স্রষ্টার নে‘আমতে ডুবে আছে বলে অনুভব করে। তাই সে সবসময় কৃতজ্ঞতা পরায়ণ হয়। সে যখন যা পায় তাকেই নিজের জন্য মহান প্রভুর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে গণ্য করে। তাই সে না পাওয়া বা বঞ্চিত হওয়ার মর্মপীড়ায় ভোগে না। আর যে কোন মূল্যে এটি আমার পেতেই হবে এরূপ চিন্তায়ও মরিয়া হয়ে যায় না।
অবশ্য ঈমানের গুণ অনুপস্থিত হলে মানুষের অবস্থা হয় ভিন্নরূপ। আর তা হলো এই যে, সে যত কিছুই পাক, যত কিছুরই মালিক হোক কিছুতেই তার তৃপ্তি হয় না। সর্বাবস্থায় সে ‘আরো চাই’ ‘আরো চাই’ বলে জপতে থাকে।
হাদীসের শরীফের ভাষায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: হাদিস শরিফেরঅনুবাদ-
পাহাড়সম সোনার মালিক হলেও বনি আদম আকাঙ্ক্ষা করবে যে, আমার যদি আরো আরো.. থাকতো। আর বনি আদমের আরো চাওয়ার এই আকাঙ্ক্ষা মাটি ছাড়া আর কিছু দিয়ে পূর্ণ হবে না। অর্থাৎ মৃত্যু অবধি তার এটিই হবে আকাঙ্ক্ষা।(বুখারী, হা-৪৬৩৭, মুসলিম, হা-১০৪৮, ১০৪৯)
এই প্রবণতাই মানুষকে মহান আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। আর দুনিয়ার ভোগ বিলাসে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে। সে শুধুই অন্যের সাথে নিজের বিলাসী আয়োজনকে তুলনা করে বেড়ায়। যখন দেখে অমুকের এটা আছে, সেটা আছে, তখন ভাবে তাহলে আমার কেন এটা সেটা থাকবে না?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
হাদিস শরীফের অনুবাদ-
‘তোমাদের কেউ যখন ধন-সম্পদ ও সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যে যারা তার চেয়ে এগিয়ে তাদের দিকে তাকায় তখন সে যেন তাদের দিকেও তাকায় যারা তার চেয়ে পিছিয়ে।’ (বুখারী, হা-৬১২৫, মুসলিম, হা-২৯৬৩)
অন্য বর্ণনায় আল্লাহর নে‘আমতকে তুচ্ছজ্ঞান না করার পন্থা হিসেবে নিজের চেয়ে অধিক নে‘আমতপ্রাপ্তদের দিকে না তাকিয়ে কম নে‘আমতপ্রাপ্তদের দিকে তাকাতে বলা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: হাদিস শরীফের অনুবাদ-
যে সহায়-সম্বলে তোমার চেয়ে হীন তার দিকে তাকাও, যে সহায়-সম্বলে তোমার চেয়ে উন্নত তার দিকে তাকিওনা, তখনই আল্লাহ তাআলার নে’মতকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যও করা হবেনা এবং অহংকারও করা যাবেনা। (তিরমিযী-২৫১৩)
সুখের সন্ধানে মানুষ আজ ব্যাকুল হয়ে ফিরছে। সব কিছুতেই একটা অপূর্ণতা ভাব দেখা যায়। চারদিকে বিরাজ করছে হাহাকার। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী জীবনধারায় সাদাসিধা ভাব নিয়ে আসা। অল্পতেই তুষ্ট থাকা। অল্পে তুষ্ট থাকলে জীবন আরো উপভোগ্য হয়ে উঠবে। ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যমপন্থার জীবনদর্শন ইসলাম। বাড়াবাড়ি-ছাড়াছাড়ি কোনোটিই অনুমোদিত নয় ইসলামে। পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে,
সরল অনুবাদ-
‘এমনইভাবে আমি তোমাদের মধ্যপন্থী উম্মত (সম্প্রদায়) করেছি।’ (সুরা বাকারা : ১৪৩)
কার্পণ্য ও অপব্যয়ের মাঝখানে রয়েছে মিতব্যয়িতা। তাই কৃপণতা ও অপব্যয় রোধ করতেই হবে। এটাই আদর্শ সমাজের চলার পথ। হাজার বছরের অভিজ্ঞতা এই পথকে করেছে শাণিত। সহজে সম্মানে এই পথ সমান প্রার্থিত। মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মহানবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, অনুবাদ-
‘যে ব্যক্তি মধ্যপন্থায় চলে সে অভাবে পড়ে না।’
(আহমদ, হা-৪২৬৯, ত্বাবরানী: কবীর-১০১১৮, আওসাত-৫০৯৪, ইহয়াউল উলুম-৩:২৫৫)
অন্য একটি হাদিসের ভাষ্য আরো উদ্দীপক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, অনুবাদ-
“মিতব্যয়িতা জীবিকার অর্ধেক ‘উত্তম ও সুন্দর চরিত্র-জীবনাচার দীনের অর্ধেক।”
(খতীব বাগদাদী: ১১/১২, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৪৬৮)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ইরশাদ করেন,
হাদিসের অনুবাদ-
‘খরচে মধ্যপন্থা জীবিকার অর্ধেক; মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব বিবেকের অর্ধেক আর উত্তম প্রশ্ন ইলমের অর্ধেক।’
(তবরানী: আওসাত, হা-৬৭৪৪, শুয়াবুল ঈমান, হা-৬১৪৬, আল-মাকাসিদ : হাদিস : ১৪০)
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মিতব্যয়িতার দুই প্রান্তের একটি হল, কার্পণ্য আর অপরটি হল, অপচয়। দুটিই ঘৃণ্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
এক বর্ণনায় আছে, হযরত ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিজন মদীনায় আগমনের পর থেকে তাঁর ইন্তিকাল পর্যন্ত ক্রমাগত তিনদিন পর্যন্ত গমের রুটি পরিতৃপ্ত হয়ে খেতে পাননি।
(সহীহ বুখারী ৫৪১৬, ৫৪২৩, ৫৪৩৮, ৬৪৫৪, ৬৬৮৭, মুসলিম ২৯৭০)
হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহুমা বলেন:
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে কয়েক রাত অনাহারে কাটাতেন এবং পরিবার-পরিজনরা রাতের খাবার পেতেন না। আর তাদের অধিকাংশ রুটি হত যবের।’ (তিরমিযী ২৩৬০, ইবনু মাজাহ ৩৩৪৭, আহমাদ ২৩০৩, ৩৫৩৫)
আল্লাহর প্রিয় বন্ধুর শিক্ষায় শিক্ষিত সাহাবায়ে কেরামও ছিলেন ইসলামের এ প্রেরণা বাস্তবায়নের উত্তম নমুনা। তাঁদের জীবনধারাও ছিল নবীজির আদলে সাবলীল ও অনাড়ম্বর। অল্পতেই তাঁরা অনেক তুষ্ট হতেন। এজন্য তাঁদের জীবন ছিল স্বস্তি ও শান্তিতে প্রাচুর্যময়।
হযরত ফাদ্বালাহ ইবনে ‘উবাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন লোকদের নামায পড়াতেন, তখন কিছু লোক ক্ষুধার কারণে (দুর্বলতায়) পড়ে যেতেন, আর তাঁরা ছিলেন আহলে সুফ্ফাহ। এমনকি মরুবাসী বেদুঈনরা বলত, ‘এরা পাগল।’ একদা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায সেরে তাদের দিকে মুখ ফিরালেন, তখন বললেন, ‘‘তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা যদি তোমরা জানতে, তাহলে তোমরা এর চাইতেও অভাব ও দারিদ্র্য পছন্দ করতে।’’ (তিরমিযী ২৩৬৮, আহমাদ ২৩৪২০)
ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহুর স্ত্রীর একবার ইচ্ছে হলো কিছু মিষ্টি জাতীয় খাবার রান্না করে পরিবারের সবাইকে খাওয়াবেন। স্বামীকে এ ইচ্ছের কথা জানালেন। খলিফা সাফ জবাব দিলেন, মিষ্টির জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা আমার কাছে নেই। তিনি খলিফার সঙ্গে কথা আর না বাড়িয়ে সংসারের দৈনন্দিন খরচ থেকে অল্প অল্প করে রেখে মিষ্টি কেনার পয়সা জমালেন। একদিন খলিফাকে তিনি আনন্দের সঙ্গে সংবাদটি দিলেন। কিন্তু এবার খলিফা গম্ভীর হয়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে রাজকোষে খবর পাঠালেন। রাজকোষের কর্মচারী খলিফার বাড়িতে এসে হাজির হলেন। খলিফাপত্নী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন, খলিফা তার সঞ্চিত অর্থ রাজকোষের লোকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। স্ত্রীর সঞ্চিত অর্থ রাজকোষে জমা দিয়ে খলিফা আবুবকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহু বললেন, এই সঞ্চয়ের ঘটনায় প্রমাণ হলো যে, এ পরিমাণ অর্থ বায়তুল মাল থেকে না তুললেও আমার সংসারের খরচ চলবে। অতিরিক্ত সম্পদ আমি কিছুতেই রাজকোষ থেকে গ্রহণ করতে পারি না।
সময়ের স্রোতধারায় আবিলতাযুক্ত জীবনবোধে বর্তমানে ইসলামের সেই আদর্শিক শিক্ষাটা আর অবশিষ্ট নেই। মুসলমানরা আজ ভোগ-বিলাসের সম্ভারে ডুবে আছে। সাদাসিধে অল্পেতুষ্টির জীবনের কাহিনী আজ অলিক ও অকল্পনীয় মনে হবে। বৈষয়িকতার প্রাবল্যের কারণে জীবনের সুখ-শান্তি আজ অনুপস্থিত। শান্তির সন্ধানে মানুষ আজ ব্যাকুল হয়ে ফিরছে। সবকিছুতেই একটা অপূর্ণতা ও খাই খাই ভাব অনুভব করা যাচ্ছে। চারদিকে বিরাজ করছে হাহাকার। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় ইসলামের প্রেরণা অনুযায়ী জীবনধারায় সাদাসিধে ভাব নিয়ে আসা। অল্পতেই তুষ্ট থাকা। অল্পে তুষ্ট থাকলে জীবনটুকু হবে আরও উপভোগ্য। কারণ ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ায় চাওয়ার মাত্রাটা বাড়িয়ে লাভ নেই। যাওয়ার সময় খালি হাতেই যেতে হবে।
হযরত আবূ উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
‘‘হে আদম সন্তান! উদ্বৃত্ত মাল (আল্লাহর পথে) খরচ করা তোমার জন্য মঙ্গল এবং তা আটকে রাখা তোমার জন্য অমঙ্গল। আর দরকার মত মালে নিন্দিত হবে না। প্রথমে তাদেরকে দাও, যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে।’’
[মুসলিম ১০৩৬, তিরমিযী ২৩৪৩, আহমাদ ২১৭৫২]
হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে মিহসান আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার ঘরে অথবা গোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপদে ও সুস্থ শরীরে সকাল করেছে এবং তার কাছে একদিনের খাবার আছে, তাকে যেন পার্থিব সমস্ত সম্পদ দান করা হয়েছে।’’ [তিরমিযী ২৩৪৬, ইবনু মাজাহ ৪১৪১]
হযরত আবূ মুহাম্মাদ ফাদ্বালা ইবনে উবাইদ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন,
‘তার জন্য শুভ সংবাদ যাকে ইসলামের পথ দেখানো হয়েছে, পরিমিত জীবিকা দেওয়া হয়েছে এবং সে (যা পেয়েছে তাতে) পরিতুষ্ট আছে।’’ [তিরমিযী ২৩৪৯, আহমাদ ২৩৪২৬]
হযরত হাকীম ইবনে হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর নিকট কিছু চাইলে তিনি আমাকে দিলেন। আবার চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন। আবার চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন। অতঃপর বললেন, ‘‘হে হাকীম! এ সম্পদ শ্যামল-সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি (লোভহীন) প্রশস্ত হৃদয়ে তা গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি অন্তরের লোভসহ গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে না। আর সে হবে এমন ব্যক্তির মত, যে খায় কিন্তু তার ক্ষুধা মেটে না। উপর হাত নিচু হাত হতে উত্তম।’’ (দাতা গ্রহীতা হতে উত্তম।)
হাকীম বলেন, আমি বললাম, ‘যিনি আপনাকে সত্যসহকারে পাঠিয়েছেন, তাঁর কসম! ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার পর মৃত্যু পর্যন্ত আমি কারো কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করব না।’ তারপর হযরত আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহু হাকীমকে অনুদান গ্রহণের জন্য ডাকতেন, কিন্তু তাঁর নিকট থেকে কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করতেন। অতঃপর হযরত উমার রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহু তাঁকে কিছু দেওয়ার জন্য ডাকলেন, কিন্তু তিনি তাঁর নিকট থেকেও কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। হযরত উমার রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহু বললেন, ‘‘হে মুসলিমগণ! হাকীমের ব্যাপারে আমি তোমাদেরকে সাক্ষী বানাচ্ছি যে, আমি তাঁর কাছে ‘ফাই’ (গনিমতের মাল) থেকে তাঁর প্রাপ্য পেশ করছি, কিন্তু সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে।’’ (সত্য সত্যই) হাকীম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কোন মানুষের নিকট থেকে কিছু গ্রহণ করেননি।
[সহীহ বুখারী ১৪২৮, ১৪৭২, ২৮৫০, ৩১৩৪, ৬৪৪১, মুসলিম ১০৩৪, ১০৩৫, তিরমিযী ২৪৬৩,)
হযরত হাকীম ইবনে হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা ইরশাদ করেন,
‘উপরের (দাতা) হাত নিচের (গ্রহীতা) হাত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে আছে তাদেরকে আগে দাও। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে সাদকাহ করা উত্তম। যে ব্যক্তি (হারাম ও ভিক্ষা করা থেকে) পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন এবং যে পরমুখাপেক্ষিতা থেকে বেঁচে থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবশূন্য করে দেন।’’
[সহীহ বুখারী ১৪২৮, ১৪৭২, ২৭৫০, ৩১৪৩, ৬৪৪১, মুসলিম ১০৩৪]
হযরত ইবনে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামইরশাদ করেন,
‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সর্বদা ভিক্ষা করতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে তো (সে এই অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে,) তার চেহারায় কোন মাংস টুকরা থাকবে না।’’
(সহীহ বুখারী ১৪৭৫, ৪৭১৮, মুসলিম ১০৪০)
হযরত আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
‘যে ব্যক্তি মাল বৃদ্ধি করার জন্য মানুষের নিকট ভিক্ষা করে, সে আসলে আগুনের অঙ্গার ভিক্ষা করে থাকে। ফলে (সে এখন তা) অল্প ভিক্ষা করুক অথবা বেশী।’’
[(মুসলিম ১০৪১, ইবনু মাজাহ ১৮৩৮, আহমাদ ৭১২৩)
হযরত সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা ‘আনহু বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
‘যে ব্যক্তি আমার জন্য এ কথার জামিন হবে যে, সে লোকদের নিকট কোন কিছু চাইবে না, আমি তার জন্য জান্নাতের জামিন হব।’’ আমি বললাম, ‘আমি (এর জামিন)।’ সুতরাং সাওবান কারো নিকট কোন কিছু চাইতেন না।
(আবূ দাউদ ১৬৪৩, নাসায়ী ২৫৯০, ইবনু মাজাহ ১৮৩৭)
অতএব সত্যিকার মু’মিন হয়ে থাকলে যে অবস্থায় আছি তাতেই আমরা তুষ্ট থাকবো। তাহলে মহান আল্লাহও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন এবং আমাদের প্রতি তাঁর নে‘আমত আরো বাড়িয়ে দিবেন। মহান আল্লাহ তাআলা সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন, আমিন।
৭৩
১৪৬ মন্তব্য