সহকারী প্রধান শিক্ষক
১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৭:১৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
রাউজান উপজেলার প্রাচীন ইতিহাসের সাথে বৌদ্ধ উপনিবেশের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জানা গেছে যে, রাউজানে আদি বসতি স্থাপনকারী হলো বৌদ্ধরা। বিনাজুরীতে প্রায় ৪ শত বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার রয়েছে। রাউজান এলাকার নামকরণের সাথেও বৌদ্ধ ঐতিহ্য জড়িত। কারণ মোগল সুবেদার শায়েস্তা খান কর্তৃক ১৬৬৬ খৃষ্টাব্দে চট্টগ্রাম বিজয়ের প্রায় ১০০০ বছর পূর্ব থেকে সারা চট্টগ্রাম অঞ্চলই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মগ বা আরাকানীদের অধিকারে ছিল। ফলে রসিকতা করে অনেকে চট্টগ্রামকে ‘মগের মুল্লুক’ও বলতেন। সে অনুযায়ী ধারণা করা হয় যে, রাউজানও একসময় আরাকান রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। আরাকানী ভাষায় এটিকে বলা হতো ‘রজোওয়াং’ বা রাজ পরিবারের ভূমি। আর এ নামের অপভ্রংশ থেকেই রাউজান নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে বিশিষ্ট পণ্ডিতগণের ধারণা। ১৯৪৭ সালের আগষ্ট মাসে রাউজান থানার কার্যক্রম শুরু করা হয়। নব্বই এর দশকে এটি উপজেলা এবং ২০০০ সালে পৌরসভা ঘোষিত হয়।
রাউজান উপজেলা:-
রাউজান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত চট্টগ্রামের একটি আলোকিত জনপদের নাম রাউজান।
চট্টগ্রামের বুকে এক চিলতে রোদেলা আকাশ রাউজান। বহমান উন্নয়নের স্রোতধারার ফলশ্রুতিতে দেশ-বিদেশের কাছে রাউজানের সুনাম দিন দিন ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু কীর্তিমান রাউজান নামের
গোড়াপত্তন সম্পর্কে এখনো অনেকের কাছে অজানা রহস্যময় কিংবদন্তি লোক-কাহিনী। ঐতিহাসিক তথ্য থেকে এবং বয়োবৃদ্ধদের কাছ থেকে যতদূর জানা
যায়, আদি রাউজান কি নামে ছিল কিংবা রাউজান নামকরণ কিভাবে হয়েছে তার কোন সঠিক তথ্য নিয়ে
রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মতামত। তবে রাউজান যে আরাকান প্রভাবজাত এ ব্যাপারে অনেক ইতিহাস গবেষক ঐক্যমত পোষন করেন। সঙ্গত কারণে রাউজান নামের পেছনে কোন ঐতিহাসিক তথ্য কিংবা লোক- কাহিনী জড়িত থাকা স্বাভাবিক একটি ঘটনা মাত্র। মরণোত্তর একুশে পদক প্রাপ্ত গবেষক চট্টল তত্ত্ববিদ আবদুল হক চেীধুরী রচিত ‘রাউজান নামের
উৎস’ বইয়ে রাউজান নামের নামকরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে কক্সবাজারের বাসিন্দা আরাকানী ভাষার বংশোদ্ভুত রাখাইন মং হ্লা প্রু পিন্টুর বরাত দিয়ে জানানো হয় আরাকানী ভাষায় ছোট ছোট গ্রামকে
রোয়াঙে এবং গ্রামের শেষ অংশকে রোয়াজোয়েঙ বলা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে এই রোয়াজোয়েঙ শব্দটি কালের বিবর্তনে বিকৃত হয়ে ‘রাউজান’ নামের সূচনা হয়েছে। রাউজানের হলদিয়া ইউনিয়নের একটি ছোট ধানী বিলকে এখনো
‘রোয়াঙে ’ বিল বলা হয়ে থাকে। তবে আবার অনেকের মতে বেীদ্ধ ধর্মীয় পুরোহিত ‘রাউলি’ থেকে রাউজান নামটি এসেছে; পরবর্তীতে বিতর্কিত হয়ে
‘রাউজান’ নামের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঐতিহাসিক হামিদুল খাঁ রচিত ১৮৭০ সালের দিকে প্রকাশিত ‘আহাদিসুল খাওয়ানিন’ বইয়ে নোয়াপাড়া ‘রায়’
পরিবারের বর্ণনা দিয়ে রায়উজান থেকে রাউজান নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ ইতিহাস গবেষকেরা মনে করেন রাউজান নামের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন
মতামত থাকলে ও সময়ের পালাবদলে রাউজান একটি কিংবদন্তি জনপদে পরিণত হয়েছে একথা নিঃসন্দেহে বলা চলে।
অবস্হান :-
রাউজান অক্ষাংশ ২২.৫৩৩৩ দক্ষিণ ৯১.৯৩৩৩ পূঃ এ অবস্থিত। এখানে ৪৫৭৭৫ খানাঘর এবং মোট আয়তন ২৪৬.৫৮ কিমি। দুই প্রধান নদী রাউজান উপজেলা
উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আর এগুলো হলো কর্ণফুলী নদী ও হালদা নদী । রাউজান উপজেলার উত্তরে ফটিকছড়ি উপজেলা, দক্ষিণে বোয়ালখালী উপজেলা ও কর্ণফুলী নদী, পূর্ব রাঙ্গুনিয়া ও কাউখালী (রাঙ্গামাটি), পশ্চিমে হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলা দ্বারা বেষ্টিত।
আয়তন:-
উপজেলার আয়তন ২৪৩ বর্গ কিলোমিটার।
জনসংখ্যা:-
মোট জনসংখ্যা ৩,২৫,৩৮৯ জন (প্রায়)।
পুরুষ ১,৬৩,৯৬৩ জন (প্রায়)।
মহিলা ১,৬১,৪২৬ জন (প্রায়)।
প্রশাসনিক এলাকা:-
নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-6। মোট ভোটার
সংখ্যা ২,১৯,৯১৫ জন। উপজেলার মোট গ্রামের সংখ্যা ৭৬ টি। উপজেলার মোট মৌজা ৬০ টি। উপজেলার মোট পৌরসভা ০১ টি। রাউজান উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৪ টি ইউনিয়ন আছে।
পৌরসভা হচ্ছে: রাউজান, ইউনিয়ন গুলো হচ্ছে:
1. বাগোয়ান
2. বিনাজুরী
3. রাউজান ইউনিয়ন
4. চিকদাইর
5. ডাবুয়া
6. পূর্ব গুজরা
7. পশ্চিম গুজরা
8. গহিরা
9. হলদিয়া
10. কদলপূর
11. নওয়াজিশ পূর
12. নোয়াপাড়া
13. পাহাড়তলী
14. উড়কির চর ও
15. সুলতানপুর ।
ইতিহাস:-
রাউজান উপজেলার প্রাচীন ইতিহাসের সাথে বৌদ্ধ উপনিবেশের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জানা গেছে যে, রাউজানে আদি বসতি স্থাপনকারী হলো বৌদ্ধরা। বিনাজুরীতে প্রায় ৪ শত বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার রয়েছে। রাউজান
এলাকার নামকরণের সাথেও বৌদ্ধ ঐতিহ্য জড়িত। কারন মোগল সুবেদার শায়েস্তা খান কর্তৃক ১৬৬৬ খৃষ্টাব্দে চট্টগ্রাম বিজয়ের প্রায় ১০০০ বছর পূর্ব থেকে সারা চট্টগ্রাম অঞ্চলই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী
মগ বা আরাকানীদের অধিকারে ছিল। ফলে রসিকতা করে অনেকে চট্টগ্রামকে ‘মগের মুল্লুক’ও বলতেন। সে অনুযায়ী ধারণা করা হয় যে, রাউজানও একসময় আরাকান রাজ্যের অন্তর্গত ছিল।
আরাকানী ভাষায় এটিকে বলা হতো ‘রজোওয়াং’ বা রাজ পরিবারের ভূমি। আর এ নামের অপভ্রংশ থেকেই রাউজান নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে বিশিষ্ট পন্ডিতগণের ধারণা। ১৯৪৭ সালের আগষ্ট মাসে রাউজান থানার কার্যক্রম শুরু করা হয়। ৯০ এর দশকে এটি উপজেলা এবং পৌরসভা ঘোষিত হয় ২০০০ সালে।
শিক্ষা রাউজান উপজেলার শিক্ষার হার ৬৪.১৩%। রাউজান উপজেলার মোট জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় ৬টি, মোট উচ্চ বিদ্যালয়(সহ শিক্ষা) ৪৮টি, মোট দাখিল মাদ্রাসা ১১টি, মোট আলিম মাদ্রাসা
৪টি, ফাজিল মাদ্রাসা ৪টি, কামিল মাদ্রাসা
২টি, মোট কলেজ ৯টি।
পত্রিকাসমূহ:-
দৈনিক পূর্বকোণ।
দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ।
দৈনিক পূর্বদেশ।
হালদা নদী:-
হালদা নদীর মুখে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মদুনাঘাট জিয়া বাজারে প্রচুর শুটকি উৎপন্ন হতো। বাঁশখালীর লোকেরা গদুনা নৌকা করে প্রচুর শুটকি ও লবণ হালদা নদী হয়ে খালের মধ্যে প্রবেশ করে বেচা কেনা করত। বাঁশ, বেত ও পাটি পাতার তৈরী কুটির শিল্পের জন্য রাউজান বিখ্যাত ছিল। হাল চাষের জন্য লাঙ্গল জোয়াল, ইত্যাদিতে কাঠ পাহাড়ে উৎপন্ন হতো। রাউজানে কুটির শিল্পের বিশেষতঃ লাঙ্গল জোয়াল তৈরির জন্য বিখ্যাত ছিল। কোরবানীর জন্য রাউজানের চৌধুরী হাট, সুদূর ইংরেজ ও পাকিস্তান আমলে নামকরা বাজার ছিল। কোরবানী গরুর জন্য ব্রাহ্মণ হাট এখন উত্তর চট্টগ্রামে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।
ব্যবসা বাণিজ্য:-
চট্টগ্রামের মরিচের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। ঐ মরিচের আকার, রং ও স্বাদে খুবই অতুলনীয়। রাউজানের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে প্রচুর মরিচ জন্মে।
মরিচ ছাড়াও ধনিয়া, পিয়াজ, বাদাম, আখ, তরমুজ, শশা, সরিষা, কলই, ফেলন প্রভৃতি উৎপাদিত হয়। রাউজান কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে হলদিয়া ও পাহাড়তলী এলাকার পাহাড়ে আদা, রসুন, পিয়াজ, হলুদ, তেজপাতা, দারুচিনিসহ, কলা,
নারিকেল, আনারস, সুপারী, জলপাই ইত্যাদির চাষ করা হচ্ছে। রাউজান কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট নতুন জাতের বিভিন্ন বীজ উৎপাদন করে এবং দশ হাজার জাতের বীজসংরক্ষণ করে।
হালদা নদীর মুখে ১৯৬০ খ্রি: পর্যন্ত মদুনাঘাট জিয়া বাজারে প্রচুর শুটকি উৎপন্ন হতো। বাঁশখালীর লোকেরা গদুনা নৌকা করে প্রচুর শুটকি ও লবণ হালদা নদী হয়ে খালের মধ্যে প্রবেশ করে বেচা কেনা করত। বাঁশ, বেত ও পাটি পাতার
তৈরী কুটির শিল্পের জন্য রাউজান বিখ্যাত ছিল। হাল চাষের জন্য লাঙ্গল জোয়াল, ইত্যাদিতে কাঠ পাহাড়ে উৎপন্ন হতো।
রাউজানে কুটির শিল্পের বিশেষতঃ-
লাঙ্গল জোয়াল তৈরির জন্য বিখ্যাত
ছিল হালের গরু, কোরবানীর জন্য রাউজানের চৌধুরী হাট, সুদূর ইংরেজ ও পাকিস্তান আমলে নামকরা বাজার ছিল। কোরবানী গরুর জন্য ব্রাহ্মণ হাট এখন উত্তর চট্টগ্রামে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।
কৃতী ব্যক্তিত্ব:-
অধ্যাপক আব্দুল জলিল শাহ (র:)
কবি হামিদ আলী
কবি দৌলত কাজী
মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ
শিক্ষাবিদ তোফায়েল আহমদ
কলামিস্ট হারুন-অর রশীদ
গবেষক আব্দুল হক চৌধুরী
সাহিত্যিক মাহবুব উল আলম চৌধুরী
ফজলুল কাদের চৌধুরী
ফজলুল কবির চৌধুরী
ভাষা সৈনিক আবদুল্লাহ-আল-হারুন
কবি মাহবুব আলম চৌধুরি
মুহাম্মদ আবদুল অদুদ চৌধুরী
মাষ্টারদা সূর্য সেন
নবীনচন্দ্র সেন
নূতন চন্দ্র সিংহ
সুকুমার বড়ুয়া
ড. বেণীমাধব বড়ুয়া।
ঐতিহাসিক স্থান:-
শাহ বিবির মসজিদ, রাউজান থানার রাউজান গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদ। আঠার শতকের প্রথম দিকে নির্মিত এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই পাকা মসজিদটি আজো অটুট অবস্থায় আছে। এই মসজিদের
প্রতিষ্ঠাতা হলেন ষোল শতকের চট্টগ্রামের
ঐতিহাসিক আনোয়ারা থানার শোলকাটা
ঝিউরি গ্রামের জমিদার আমির মোহম্মদ চৌধুরীর স্বনামধন্য পত্নী শাহবিবি। চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ মলকা বাণু ছিলেন শাহবিবির কন্যা। শাহী আমলের সনদ অনুসারে এই মসজিদের একুশ দ্রোন বার কানি এক গন্ডা দুই কড়া লাখেরাজ জমি ছিল।
রাউজানের মুক্তিযুদ্ধ:-
১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল পাকবাহিনী উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ঊনসত্তরপাড়ায় ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায় এবং ৪৮ জন নিরীহ লোককে হত্যা করে। একই দিন রাউজানস্থ চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (বর্তমানে চুয়েট) সামনে সম্মুখ লড়াইয়ে পাকবাহিনীর হাতে শহীদ হন সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরী, অধ্যাপক দিলীপ কুমার চৌধুরী, শেখ মোজাফ্ফর আহমদ, আবদুর রব ও ইউনূস। উক্ত স্থানে শহীদদের স্মৃতি ফলক উন্মোচন করা হয়েছে। ১৩ এপ্রিল ১৯৭১ সালে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহকে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সামনে পাকবাহিনী ও রাজাকাররা নৃশংসভাবে হত্যা করে। এছাড়াও রাউজান পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের জগৎমল্লাপাড়ার ৩৫ জনকে পাকবাহিনীরা নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন:
বধ্যভূমি - ৩ (ঊনসত্তরপাড়া, জগৎমল্লাপাড়া, গহিরা-শিলাপাড়া)
স্মৃতিস্তম্ভ - ১ (পৌরসভা চত্তরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলক)
[১] মইস্যা বিবির মসজিদ - রাউজান থানার শাহ বিবির মসজিদের একশত গজ দক্ষিণে অবস্থিত। এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি আজো অটুট অবস্থায় আছে। মইস্যা বিবি ছিলেন শাহবিবির স্বনামখ্যাত পুত্রবধু জমিদার মোহম্মদ জাফর
চৌধুরীর পত্নি।
[২] নবীনচন্দ্র সেন এর শ্মশান মহামুনি বৌদ্ধবিহার ডাবুয়া ধরের বাড়ি রায়মুকুট দীঘি লস্কর উজির দীঘি ঈসা খাঁ দীঘি।
(শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ দিন।
ধন্যবাদ
Wikipedia Link:-
https://bn.m.wikipedia.org/wiki/রাউজান_উপজেলা
৬
১২ মন্তব্য