Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

পুন্ড্রবর্ধন: বাংলার প্রাচীনতম নগরীর সন্ধানে

পুন্ড্রবর্ধন: বাংলার প্রাচীনতম নগরীর সন্ধানে 


মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহত্তম নগর ‘পুন্ড্রবর্ধন’ অবস্থিত। বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে প্রাচীন এই নগরীর অবস্থান। মূলত মহাস্থানগড় বিখ্যাত এখানকার দুর্গনগরী পুন্ড্রবর্ধন এর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের জন্য। এখান থেকে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্লেষণ করে অনুমান করা হয় নগরীটি গড়ে উঠেছিল প্রাচীন মৌর্য শাসকদের হাত ধরে। এছাড়াও আরো জানা যায়, পুন্ড্রবর্ধন এর গোড়াপত্তন যীশু খ্রিস্টের জন্মেরও প্রায় পাঁচশ বছর পূর্বে করা হয়েছিল। অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে এই প্রাচীন নগরীর গোড়াপত্তন হয় মৌর্যদের হাত ধরে। সেসময় মহাস্থান তথা পুন্ড্রবর্ধন ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী। কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে পুন্ড্রবর্ধনের সেই গৌরব। মহাস্থানগড় শুধু সেই গৌরবময় ইতিহাসের ধ্বংসাবশেষ মাত্র। মহাস্থানগড় মূলত একক কোনো স্থান নয়, এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশাল নগরী যা প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে হাজার বছর ধরে।

নগরীতে প্রবেশের শুরুতেই পুন্ড্রবর্ধনের পুরো নগরী ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা উচু সুরক্ষা দেয়াল যেন এখনো নগরীকে নিরাপত্তা দিচ্ছে বহির্শত্রুর হাত থেকে। পুরো নগরীর চারপাশ ঘিরে গড়ে ওঠা এই দেয়াল ছয় ফুট উচু এবং প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ। পুন্ড্রবর্ধনের এই দেয়ালের উপর হাঁটতে হাঁটতে আপনি হারিয়ে যেতে পারেন ইতিহাসের গহীনে, যখন এই নগর ছিল সেসময়ের ইতিহাসের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। পুরো নগরীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বেশ কিছু বৌদ্ধ মঠ। প্রাচীনকালে তিব্বত ও চীন থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুকরা এই মঠগুলোতে আসতেন দীক্ষা গ্রহণ করার জন্য। দীক্ষা গ্রহণ শেষে তারা বেড়িয়ে পড়তেন আশেপাশের অঞ্চলে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে। কথিত আছে, যখন পুন্ড্রবর্ধন বাংলার রাজধানী ছিল তখন নগরীর পাশের করতোয়া নদী এতটাই খরস্রোতা ছিল যে, নদী নিজেই বহিঃশত্রুর হাত থেকে নগরীকে অনেকাংশে রক্ষা করতো। আর করতোয়া নদীর বুকে বজরা ভাসিয়েই চলতো সকল ব্যবস্যা বাণিজ্যের কাজ। কালের ব্যবধানে পুন্ড্রবর্ধন আর নেই, করতোয়াও এখন মৃতপ্রায়।

 

মন্তব্য করুন