সহকারী অধ্যাপক
০১ মার্চ, ২০২১ ০৭:২৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
"আসমানী"-ছন্দ আর বাস্তবতার আয়না।
পল্লিকবি জসীমউদদীনের এক অনন্য সৃষ্টি "আসমানী" কবিতা।
"আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসূলপুরে যাও।"
কবিতাটি প্রথম লাইন থেকেই ছোট বড় সবাইকে আকর্ষণ করে। এই ছন্দময় কবিতা পাঠককে যেমন আনন্দ দেয়; অন্যদিকে এর নিগূড় সারমর্ম বেদনায় ভারাক্রান্ত করে পাঠক হৃদয়।
আমার অন্যতম একটি প্রিয় কবিতা এটি।
আসমানী কবিতার পরিবেশ, আসমানী চরিত্রটি আমার চারপাশের প্রতিনিধি। । পঞ্চম শ্রেনিতে পড়তে ও আমাতে আসন গেঁড়েছে।
এর ছন্দ, আবেগ,বাস্তবতা সবার উপযোগি।
বৃষ্টি শুরু হলে কবিতার আসমানি মেয়েটি আমার সামনে হাজির হত। তখনও আমাদের বসত ঘর করেনি। দাদার সময়ের ফুটো হওয়া টিনের চালার ঘরে পানি পড়ত। আর আমি আসমানীর প্রতিচ্ছবি দেখতাম। দেখতাম বাবা-মায়ের চিন্তা ক্লিষ্ট মুখ।
এমন কী আমার পাশেরপ্রতিবেশিদের নড়েবড়ে ঘর ঝড়ে আসমানীর ঘর হয়ে যেত।দেখতাম চিন্তা ক্লিষ্ট শত আসমানীর দারিদ্রতা আর কুসংস্কার।
মিয়া বাড়ি ,ভূঁইয়া বাড়ি, জমিদার বাড়ি নয়। গ্রামের একপ্রান্তের রহিমদ্দির বাড়ির দরিদ্র আসমানী আমাদের সমাজেরই প্রতিনিধি।
আমার ছোটবেলায় দেখতাম প্রায়ই আমাদের গ্রামে প্রায় ল্যাংড়া বুড়ির আগমন হত। হাজা-মাজা পুকুরের পানি খেয়ে ডায়রিয়া,ম্যালেরিয়া হত যে- কেউ বুঝত না। ভাবত ল্যাংড়া বুড়ি এসেছে। তাই মানুষ মারা যাচ্ছে।
"আয়-যায়" কথাটি ঐ সময় বলা নিষেধ ছিল। বললে ল্যাংড়া বুড়ি ঘরে ডুকবে। আর কলেরা, আমাশয়ে পরিবারের সদস্যরা মারা যাবে।
এমনকী কুসংস্কার ও চলত। অমুকের মা দেখছেন ল্যাংড়া দুইজনের কাঁধে ভর দিয়ে গেছে। সন্ধ্যাবেলা পেঁচা ডেকে বলেছে, "নিমু নিমু নিমু" ইত্যাদি।
চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা ছিল না। ধুকে ধুকে মরত গ্রামবাসী। একই পরিবারে অনেকেই মারা যেত। এখনও অজপাড়া গাঁয়ে এ কুসংস্কার আর অভাব রয়েছে।
শহরায়নের যুগেও বিশুদ্ধ পানির অভাব। কিলবিল করা জীবানু যেন আসমানীদের পদ্মপুকুর।
সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হল -যে আসমানী কে নিয়ে কবিতা লিখেছেন কবি। "ইত্যাদি" ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে প্রচারের আগে সেই আসমানী চরিত্রটির খবর কেউ নেয়নি। ভাগ্য ফেরেনি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ধুকে ধুকে কাটে জীবন। শেষ বয়সেও তার হাড্ডিসার দেহে অপুষ্টির লক্ষণ ছিল। যা হাজার পুষ্টিহীন শিশুর বাংলাদেশ।
-------------------------------'
নীলুফা আফরোজ বীথি
৫৩
৯১ মন্তব্য