সহকারী শিক্ষক
১৩ মে, ২০২১ ০৭:০২ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি IQ এর অধিকারী ছিলেন উইলিয়াম জেমস সিডিস(William James Cidis),যার আইকিউ আইনস্টাইন নিউটনের চেয়েও বেশি।
ইন্টিলিজেন্স কোশেন্ট বা আইকিউ।
মানুষের বুদ্ধির পরিমাপ করা হয় আইকিউ-এর মাধ্যমে।সব মানুষের আইকিউ সমান হয় না। স্বাভাবিকভাবেই অ্যালবার্ট আইনস্টাইন,আইজ্যাক নিউটনের মতো বিজ্ঞানীদের সাধারণ মানুষের তুলনায় আইকিউ অনেকটা বেশি।
পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি IQ এর অধিকারী ছিলেন William James Cidis নামক এক মার্কিন তরুণের। তার IQ এর পরিমাণ ছিল 260।
যেখানে আলবার্ট আইনস্টাইনের IQ ছিলো 160, নিউটনের 190,টেসলার 180,লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির 180,এঁরা সবাই বিশ্বের খ্যাতনামা ব্যক্তি। বর্তমান সময়ের অন্যতম বিশিষ্ট তরুণ উদ্যোক্তা ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের আইকিউ হলো ১৫২।
কিন্তু জেমসের আইকিউ এঁদের থেকেও বেশি, ২৬০! যদিও তাঁর ব্যাপারে জানেন এমন লোক হাতে গোনা।
আইকিউ পরিমাপের ক্ষেত্রে ১০০ কে ধরা হয় সাধারণ পরিমাপ,যেখানে ১৩০ এর উপরের পরিমাপকে বলা হয় অনন্য সাধারণ এবং ৭০ এর নিচের পরিমাপকে ধরা হয় কম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন। সেখানে সিডিস এর আইকিউ ছিল ২৬০ এর উপরে এবং তা ছিল ৩ টা মানুষের আইকিউ এর সমষ্টি।
উইলিয়াম জেমস সিডিস (জন্ম: এপ্রিল 1, 1898 - মৃত্যুর তারিখ জুলাই 17, 1944) সর্বকালের একজন ইহুদি-আমেরিকান গণিতবিদ, অসামান্য গণিত এবং ভাষার দক্ষতা, গড়ে 260–300 আইকিউ।
ছোট থেকেই তিনি ছিলেন বিস্ময় বালক।এজন্য তাকে “Child Prodigy” উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
১৮৯৮ সালের ১লা এপ্রিল নিউইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করা উইলিয়াম জেমস সিডিস ছিলেন একইসাথে তুখোড় গণিতবিদ এবং বহু ভাষাবিদ।
তিনি মাত্র 18 মাস বয়সে পুরো New York times পত্রিকা পড়ে ফেলতে পারতেন। মাত্র আট বছর বয়সে উইলিয়াম আটটি ভাষা শিখে ফেলেন সেগুলো হলো ল্যাটিন, গ্ৰীক, ফ্রেঞ্চ, রাশিয়ান, জার্মান, হিব্রু, তুর্কি ও আর্মেনিয়ান ভাষা। শুধু ভাষা শিখেই ক্ষান্ত হননি।
এ ছোট বয়সেই তিনি “Vendergood” নামক একটি ভাষা আবিষ্কার করেন। তিনি মাত্র নয় বছর বয়সে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং মাত্র এগারো বছর বয়সেই হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিতের প্রফেসর হন।
উইলিয়ামের বাবা Boris Cidis ছিলেন একজন প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী। জেমস একাকী থাকতে ভালোবাসতেন।কেউ তার সঙ্গী হোক তিনি তা চাইতেন না।এজন্য তিনি বিয়েও করেননি এবং নারীর প্রতি তার কোনো আকর্ষন ছিলো না।
উইলিয়ামের বাবা বরিস জানতেন তার ছেলে অলৌকিক মেধার অধিকারী,তাই তিনি তার ছেলের উপর অনেক কিছু চাপিয়ে দিতে চাইতেন কিন্তু উইলিয়াম জেমস চাইতেন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে। এসব নিয়ে তার বাবা ও তাঁর মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। তার বাবার সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ক্ষোভে তিনি পড়ালেখা ছেড়ে দেন এবং মাত্র 100 ডলার মাসিক বেতনের একটি ছোটখাট চাকরিতে যোগ দেন।
এ খবর পুরো আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন নিউজ পেপার উপহাস করে হেডলাইন দেয় যে, উইলিয়াম তার শৈশবের সেই মেধা হারিয়ে ফেলেছেন।
ইউক্রেন থেকে শরণার্থী হিসাবে আমেরিকায় এসেছিলেন তাঁর বাবা-মা। তাঁর বাবা বরিস ছিলেন একজন মনোবিদ, মা সারা ছিলেন চিকিৎসক।
তাই বুদ্ধিমত্তা ছিল তাঁর রক্তে।
তার মেধার প্রখরতা ছিল বরিস ও সারাহ এর ধারণার বাইরে। বরিস এবং সারাহ ছিলেন ইউক্রেন শরণার্থী। শরণার্থীদের মধ্যে অনেকেই নিউইয়র্ক সিটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, এমনকি অনেকেই বোস্টন শহরে।
সিডিসের মেধার জের ধরেই পিতা বরিস মাত্র ৮ বছর বয়সেই হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। কিন্তু বয়স কম হওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ বরিসকে ভর্তি করতে রাজি না হলেও, ৩ বছর পরে ১১ বছর বয়সে প্রতিভার দুরন্তপনা দেখে তারা তাকে ভর্তি করতে বাধ্য হন।তিনি হলেন হার্ভার্ডের ইতিহাসে সব থেকে কম বয়সে ভর্তি হওয়া ছাত্র।
হার্ভার্ডে ভর্তি হয়েই চমক দেখাতে শুরু করেন জেমস। অল্পদিনের মধ্যেই অঙ্কে তাঁর মুন্সিয়ানা বুঝতে পারেন সেখানকার শিক্ষকরা। ওই বয়সেই বিভিন্ন বিষয়ে লেকচার দিতেন তিনি। তারপরই তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সবাই তাঁকে বিস্ময় বালক হিসাবে চিহ্নিত করেন।
১৯১০ সালে যখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন তরুণ শিক্ষার্থী তখনই তিনি গণিতের জটিল বিষয় শিক্ষকদের চেয়ে ভালো পড়াতে পারতেন। এমনকি কোনও কোনও বিষয় তাঁদের চেয়েও ভালো বুঝতেন। অতঃপর তরুণ এই প্রতিভাবান মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তার স্নাতক সম্পন্ন করেন।
কিন্তু এর মধ্যেই কলেজে সমস্যা শুরু হয়।
একদল ছাত্র নিয়মিতভাবে তাঁকে নির্যাতন করতে থাকে। সে জন্য কলেজ ছেড়ে তিনি টেক্সাসের রাইস ইনস্টিটিউটে অঙ্কের শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন।
সেখানকার অধিকাংশ ছাত্র তাঁর থেকে বড় হওয়ায় তাঁকে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়। এই সময়কালের মধ্যেই ছদ্মনামে একাধিক বই লিখেছিলেন তিনি।
একটু বড় হতেই তাঁর জীবনে পরিবর্তন আসে। লোকজন ছেড়ে তিনি একাকী জীবনযাপন করতেই বেশি ভালবাসতেন। সংবাদপত্রে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিয়ে না করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়ে দেন তিনি।
১৯১৯-এ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় বোস্টনে যুদ্ধ বিরোধী প্যারেডে অংশগ্রহণ করেন তিনি। সে জন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দেশদ্রোহী আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করে পুলিশ। এ জন্য ১৮ মাস জেলে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।
তিনি 1920 সালে প্রকাশিত তাঁর অ্যানিমেট অ্যান্ড ইননিমেট বইটি দিয়ে বিশ্ব জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। যা অন্ধকার পদার্থ, এনট্রপি এবং থার্মোডাইনামিক্সের প্রসঙ্গে জীবনের উৎস নিয়ে কাজ করে।
এই পরিমাণ আইকিউ নিয়েও গবেষণার পথে হাঁটেননি তিনি। সামান্য ক্লার্কের কাজ করে জীবন যাপন করতেন তিনি। তাঁর এই জীবনযাত্রাকে ব্যঙ্গ করে কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। কিন্তু আদালত তাঁর আবেদন মানেনি। আদালত বলেছিল, যে ব্যাক্তি একবার পাবলিক ফিগার হয়ে যায়, সে সারাজীবন পাবলিক ফিগার।
উইলিয়ামের শেষ জীবন খুব একাকী কাটে।
তিনি তাঁর পিতা-মাতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। 1944 সালে মাত্র 46 বছর বয়সে এই সুপার হিউম্যান পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন।
তিনি আত্নহত্যা করেছিলেন নাকি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন তা এখনো একটি রহস্য।
তাঁর বুদ্ধিমত্তার এই কাহিনি চলে যায় লোকচক্ষুর আড়ালে।
৪
৪ মন্তব্য