Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

আজ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩।১৯৮৯ সালের এই দিনে ডা.ইব্রাহিম মৃত্যুবরণ করেন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক প্রত্যন্ত গ্রামে তার জন্ম। বাবা ছিলেন গ্রামের স্বল্প বেতনের পোস্টমাস্টার। তাদের বাড়ি থেকে নিকটতম স্কুলের দূরত্বও ছিল ৬ মাইল। স্কুলে যেতে হতো পায়ে হেঁটে। সংসারে অভাব অনটন ছিল। সেকালে মুসলিম ছাত্রদের জন্য বৃত্তি পাওয়া ছিল ভীষণ কঠিন। বহু কষ্টে একটি বৃত্তি পেয়েছিলেন তিনি।  গ্রামের স্কুল থেকে প্রাইমারি শেষ করে ভর্তি হয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের এডওয়ার্ড হাইস্কুলে। এরপর পড়াশোনা করেন কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে। ১৯৩৮ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্থান নিয়ে এমবিবিএস পাশ করেন তিনি। কর্মজীবন শুরু হয়েছিল কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার হিসেবে। একটানা ৭ বছর মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োজিত থাকার পরে আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন তিনি।পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অবস্থা সন্তোষজনক ও অনুকূলে না থাকায় তিনি চলে আসেন পূর্ব পাকিস্তানে। পূর্ব পাকিস্তানে এসে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন হন ডা. ইব্রাহিম। একইসঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের শিক্ষকও ছিলেন। এরপর এমআরসিপি ডিগ্রি অর্জনের জন্য পাড়ি জমান লন্ডনের বিশ্বখ্যাত রয়েল‌ কলেজ অব ফিজিশিয়ানে। সেখানে ডিগ্রি সম্পন্ন করে এফসিসিপি ডিগ্রির জন্য যান যুক্তরাষ্ট্রে।

১৯৫০ সালে দেশে ফিরে এসে ডা. ইব্রাহিম ঢাকা মেডিকেল কলেজে ফিজিশিয়ান হিসেবে যোগ দেন। পরে তাকে মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। বাঙালি হয়েও মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে চিকিৎসা গবেষণা কাউন্সিল, পাকিস্তানের বিজ্ঞান গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন অধ্যাপক ডা. ইব্রাহিম।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৯৫৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও সমাজসেবীদের সহযোগিতায় ঢাকার সেগুনবাগিচায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন পাকিস্তান ডায়াবেটিক সমিতি। দেশ স্বাধীনের পর যার নাম দেওয়া হয় বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। 

বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে তার অবদান চিরস্মরণীয়। দেশের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পুরো জীবন তিনি উৎসর্গ করে গেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখে গেছেন, কাজ করে গেছেন নিরন্তর।

পঞ্চাশের দশকেই ডা. ইব্রাহিম বুঝতে পেরেছিলেন, আসন্ন সময়ে ডায়াবেটিস হতে যাচ্ছে এ দেশের মানুষের অন্যতম বড় শত্রু। সত্তরের দশকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিহ্যাবিলিটেশন ইন ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন অ্যান্ড মেটাবলিক ডিজঅর্ডারস (বারডেম)।

কালের বিবর্তনে সেই বারডেমই আজ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। আজ ৬ সেপ্টেম্বর  ডা.ইব্রাহিমের মৃত্যু দিবস।১৯৮৯ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ