Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে চটিপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার


পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার  বা  সোমপুর বিহার  বা  সোমপুর মহাবিহার  বর্তমানে চটিপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার। পালবংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন। ১৮৭৯ সালে কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। পাহাড়পুরকে সর্বোচ্চ বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে। আয়তনে এর সাথে নলন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে। এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের ওপরে লাক্ষা ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল। শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান নয়, চীন, তিব্বত, মায়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশ বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে। খ্রিষ্টীয় সংখ্যা শতকে বিহারের আচার্য ছিল অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।


পুন্ড্রবর্ধনের পুন্ড্রনগর মহাপুন্ড্রনগর (মান) এবং অপর শহর কোটিবর (বনগড়) এর মাঝামাঝি কলমান ছিল সোম মহাবিহার। এর চ্যাবস্টিটি বর্তমান বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গতওগাঁ আধিকারিক বদল পাহাড়পুরে দেখা যাচ্ছে। উপুর জয়পুরহাট থেকে জামালগাঁও রেলস্টেশন এর দূর পশ্চিম দিকে মাত্র ৫ কিমি। এর ভৌগোলিক অবস্থান ২৫°০´ উত্তর থেকে ২৫°১৫´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৫০´ পূর্ব থেকে ৮৯°১০´ পূর্ব দ্রাঘিম অংশ পর্যন্ত। স্থানীয় মধ্যে প্রায় ০.১০ বর্গ প্রশ্ন (১০ হেক্টর) অংশ এই স্থানীয়ীক্তিটি। প্রত্নতাত্ত্বিক এই নিদর্শন ভূমি পরিকল্পনা চতুর্ভূজ আকৃতির।  এটি বিকল্প উত্তরবঙ্গের প্লাবন সমভূমিতে, প্লাস্টোসীন যুগের বরেন্দ্র নামক অনুচ্চ অন্তর্ভুক্ত। মাটিতে লৌহজাতের উপস্থিতির কারণে মাটি লালচে। যদিও বর্তমানে মাটি এ মাটির কুল পললে ঢাকা। পূর্ববর্তী সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৩০৩০ মিটার উচুতে পাহাড় সদৃশ স্থাপনা এটি স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় স্থানীয় পার্ক 'পাল চিতার পাহাড়' আখ্যগোপাল করত। এর নাম পাহাড়পুর, যদিও এর নাম সোমপুর বিহার।৭মহারর সোঁজামাঝি হিউয়েন ৎসাং পুন্ড্রবর্ধনে এবং তার বিস্তারিত বিবরণ বিশদ বিবরণেমপুরের ও মন্দিরের কোন উল্লেখ নেই। গোপালের পুত্র ধর্মপাল (৭৮১ - ৮২২ খ্রি) সিংহাসনে আরোহণ দীর্ঘকাল রাজত্ব করেন এবং দেশকে বাংলা বিহারের সীমান্তের উত্তর - পশ্চিমের বিহার গান্ধার পর্যন্ত। সম্রাট ধর্মপাল অনেক নিষ্ঠাবান বৌদ্ধ ও তিনি বিক্রমশীলা ও সোমপুর বিহার করেন। আরও অন্য ফাস্ট তিব্বতীয় ইতিহাস গ্রন্থ "পাগ সাম জোন ঝাং" এর লেখক অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ধর্মপালের পুত্র দেবপাল (৮১০-৮৫০)কর্তৃক সোমপুরে নির্মিত বিশাল বিহার ও সুউচ্চ মন্দিরের উল্লেখ করেছেন। সোমপুর বিহারের ভিক্ষুরা নালন্দা, বুদ্ধগয়া প্রভৃতি বিভিন্ন বৌদ্ধ অর্থ ও ধন দান করতে বলে বিভিন্ন লিপিতে উল্লেখ করা আছে ১০ - ১১শ শক্তিতী অবস্থার ইঙ্গিত সদস্য করে। আরও ৯ম আসন পর্যন্ত পালরাজদের বিহারের পোস্টকধার সোমপুর বিহার অগ্রপুর (উষ্মপুর, গোটপুর, এতপুর জগদ্দল) ( রাজশাহীর জগদল) বিহার উল্লেখ করা যায়। ৯ম ক্ষমতার শেষভাগে গুর্জর রাজ প্রথম ভোজ ও মহেন্দ্র পাল, পাল সাম্রাজ্যের বিশেষ ক্ষতিসাধন করেন। পরে ১০ম আসন সোরভাগে পালতীয় মহারাজপাল (৯৯৫ - ১০৪৩) সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার ওমপুর বি মেরামত করেন। কিন্তু মহীপাল ও তার পুত্র নয়াপালের পর আবার পাল বংশের পতন শুরু হয়। এই সুযোগে মধ্যভারতের চেদীরাজ কর্ণ, চোলরাজ রাজেন্দ্র ও দিব্বো আক্রমণকারী এক দেশীয় কৈবর্ত সামন্ত নরপতি পর পর বরন্দ্রভূমি করেন। নালন্দায় পাহাড়পুর মন্দির ও বিহারের চটের উল্লেখ সম্ভবত এগুলি আক্রমণ। ১১শ ক্ষমতাতে পাল বংশীয় রামপাল হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধার করেন। ১২. তাদের নিকটে রাজকীয় প্রকাশকতা হার সোয়মপুর। এ সময় শেষ মত সোমপুরের পতন শুরু হয়। ১৩শ শতর শুরুতে ইখতিয়ার ভারতীয় মুহম্মদ - বিন্যাস - বখতিয়ার খিলজি বাংলায় আক্রমণ করে উত্তরবঙ্গইচ করেন। সম্ভবত এই দলের শাসকদের মূর্তি শক্তি মনোভাবের ফলে বৌদ্ধদের এই ও মন্দির সম্পূর্ণরূপে বিরাজ করছে।


বৌদ্ধ বিহারটির ভূমি-পরিকল্পনা চতুষ্কোনাকার। উত্তর ও দক্ষিণ বাহুডয় ২৭৩.৭ মি এবং পূর্ব ও পশ্চিম বাহুডয় ২৭৪.১৫ মি। এর চারদিক চওড়া সীমান্ত দিয়ে ঘেরা ছিল। সীমানা দেওয়া কলা সীমান্ত অভন্তর সারিবদ্ধ ছোট ছিল। উত্তরের দিকে বাহুতে ৪৫টি এবং অন্য তিন দিকের বাহুতে রয়েছে ৪৪টি কক্ষ। এই কক্ষ স্থানীয় মেঝে আবিস্কৃত হয়েছে। মেঝে বিছানো ইন্টের উপর পুরু সুরকি দিয়ে অত্যন্ত মজবুত ভাবে তৈরি করা হয়েছিল। প্রথম যুগে ৯২টি কক্ষে মেঝের উপর বিভিন্ন স্তরের বেদী নির্মাণ করা হয়। এ থেকে অনুমান করা যায়, প্রথম যুগে সবগুলো কক্ষই ভিক্ষুদের আবাসিক দেখতে দেখতে পরবর্তীকালে কিছু কক্ষ প্রার্থনাকারী রূপান্তর করা হয়েছিল।কক্ষপথে আছে। এই দিকের দিকে চলে গেছে কিন্তু প্রশস্ত হয়েছে কোন কক্ষে কুলুঙ্গি পাওয়া যায়। কুলুঙ্গি সম্বলিত কক্ষল মেঝেতে ব্যবহারযোগ্য বেশ কিছু ব্যাদি পাওয়া যায়। গত দিকে কক্ষগুলি ৪.২৬ মি এবং প্রস্থ ৪.১১ মি। কক্ষের উল্টো দিকের  উত্তরের সীমানা দেওয়াল ৪.৮৭মি এবং খোলার দেওয়াল ২.৪৪মি চওড়া। কক্ষগুলোয় ২.৫মি প্রশস্ত তানা বারান্দা আছে। বিভিন্ন দিকের উন্মুক্ত চত্বরের সাথে বাহু সিঁড়ি যুক্ত।


বিহারের উত্তর বাহুর মাঝ সীমান্ত রয়েছে প্রধান ফটক। এর উন্মেষ স্তম্ভের দিকে একটি সম্বলিত হলঘর এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কুরু আছে। এই কুঠুরিগুলো বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা। প্রধানফটক বি-এর উত্তর-পূর্বের কোন মাঝামাঝি অবস্থানে এবং আরও একটি ছোট পথ পথ। যে সিঁড়ি হতে পারে তা আজও বিদ্যমান। উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম বাহুতে অনুরূপ সিঁড়ির ব্যবস্থা। মাতালি কেবল পশ্চিম বাহুর সিঁড়ির চিহ্ন আছে। উত্তর বাহুর পথের পথ ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত একটি পুকুর ছিল। ১৯৮৪-৮৫ তারিখে তথ্য অনুযায়ী প্রথম নির্মাণ যুগের পরবর্তী আমলে এ কুরবানী করা হয় এবং অংশের সিঁড়িটি চটি করা হয়। পরবর্তীকালে পুকুরটি ভরাট করে দেওয়া হয়।


পাহাড়পুর সংলগ্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত বিপুল মূর্তি


বেলে পাথরের চামুন্ডা মূর্তি, লালের দন্ডায়মান শীতলা মূর্তি, কৃষ্ণ কৃষ্ণের বিষ্ণুর খন্ড অংশ, কৃষ্ণ কৃষ্ণের দন্ডায়মান গণেশ, বেলেলে কার্তি কীর্তি মূর্তি, দুবলহাতী মহারাণীর তলচিত্র, হরগৌরীর ক্ষতিগ্রস্থ মূর্তি, কৃষ্ণের লক্ষরীর ক্ষতিগ্রস্থ মূর্তি, বেলেলের গৌরী , বেলেলের বিষ্ণু মূর্তি, নন্দী মূর্তি, কৃষ্ণ কৃষ্ণের বিষ্ণু মূর্তি, সূর্য মূর্তি।

মন্তব্য করুন