প্রভাষক
২২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৯:৪০ অপরাহ্ণ
???তালের পুরুষ-গাছ আর স্ত্রী-গাছ আলাদা
তালের পুরুষ-গাছ আর স্ত্রী-গাছ আলাদা।পুরষ ও স্ত্রী উভয় গাছে ফুল হলেও ফল বা তাল হয় শুধু স্ত্রী গাছে, পুরুষ গাছে কোনো তাল হয় না। তবে পুরুষ ও স্ত্রী উভয় গাছ থেকেই তালের রস পাওয়া যায়। প্রবাদ আছে,
এক পুরুষ তাল গাছ লাগিয়ে গেলে তারা তাল খেতে পারে না। পরের পুরুষ খায়। তালগাছের পরিপক্বতা বা maturity আসতে ১২-১৩ বছরের বেশি লাগার কথা নয়।পরিপক্বতা বলতে এখানে ফুল আসাকে বোঝানো হয়েছে।তালগাছে যদি ফুল আসে তবে সেটা পরিপক্ব গাছ। তবে ফুল আসা আর ফল বা তাল ধরা এক জিনিস নয়।ফল আসবে যদি ফুলে পরাগায়ন সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ পরাগমিলন হলেই কেবল স্ত্রী গাছের ফুল গুলো ফলে পরিণত হবে। এজন্য কাছাকাছি কোনো পুরুষ তালগাছ থাকা আবশ্যক। পুরুষ গাছ না থাকলে পরাগমিলন হবে না। আর পরাগমিলন না হলে এক পুরুষ কেনো, কোনো পুরুষই তাল খেতে পারবে না। একারণে পরাগায়নের সুবিধার জন্য অনেক জায়গায় জোড়া তালগাছ লাগানো হয়, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে যেখানে আশেপাশে তালগাছ থাকার কোনো সম্ভাবনা নাই।তবে জোড়া থাকলেই যে একটি পুরুষ ও অন্যটি স্ত্রী হবে এমন নিশ্চয়তা নাই।কারণ রোপণকালে তালের আঁটি বা বীজ দেখে বোঝার কায়দা নেই কোনটা পুরুষ আর কোনটা স্ত্রী। শুধু তা-ই নয়,তালগাছ দেখেও স্ত্রী, পুরুষ বোঝা যায় না। শুধু ফুল আসলেই বোঝা যাবে এটা পুরুষ নাকি স্ত্রী গাছ।গাছ লাগিয়ে যত্ন করে বড় করে যদি দেখে গাছটি পুরুষ, তবে তো তাল খেতে পারবে না, শুধু রস খেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এ কারণেই সম্ভবত তাল-চাষের প্রচলন নাই।
একটা তালে সাধারণত ১-৪ টি আঁটি বা বীজ থাকে।
তবে বেশিরভাগ তালেই ২-৩ টি বীজ থাকে। কোনটা
পুরুষ বীজ আর কোনটা স্ত্রী বীজ তা দেখে বোঝা যায় না। ভারতের কেরালা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিশিষ্ট Plant Embryologist (উদ্ভিদ ভ্রূণ-বিজ্ঞানী)
Dr.Anitha Karun, তালবীজের লিঙ্গ-নির্ধারণের উপর একটা পরীক্ষা চালিয়েছেন যেটা "Marker assisted detection of seed sex ratio in palmyrah palm (Borassusflabellifer L.)" নামক প্রবন্ধ আকারে ১টা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দশটা তালগাছ থেকে দৈব-চয়নের (random) ভিত্তিতে এক বীজের ১০০ টি, দুই বীজের ১০০ টি ও তিন বীজের ১০০ টি- মোট ৩০০ টি পাকা-তালবীজ নিয়ে বপন করেছেন (তাল ভাঙার পর আটি বা বীজগুলো collection করেছেন। কারণ তাল ভাঙার আগে কোনটায় কয়টা বীজ তা বোঝা
যায় না)। চারা হবার পর পাতা সংগ্রহ করে DNA Fingerprint প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি ৩০০ গাছের লিঙ্গ-নির্ধারণ করেছেন। এতে দেখা গেছে ১০০ টি এক বীজের মধ্যে ৫৭ টি পুরুষ ও ৪৩ টি স্ত্রী গাছ, ১০০ টি দুই বীজের মধ্যে ৩৫ টি পুরুষ ও ৬৫ টি স্ত্রী গাছ, ১০০ টি তিন বীজের মধ্যে ৬১ টি পুরুষ ও ৩৯ টি স্ত্রী গাছ।তার পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে-যে তালে দুটো বীজ বা আঁটি থাকে,সেগুলোতে স্ত্রী গাছের সংখ্যা বেশি।সুতরাং তাল খেতে হলে দুই বীজের তালের আঁটি রোপন করেন।
সড়ক বা রাস্তার দুই ধারে তাল গাছ লাগালে একটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। পথচারীদের মাথায় তাল পরে আহত হবার সম্ভাবনা থাকে।কতই না ভালো হতো যদি বোঝা যেতো তাল গাছ পুরুষ নাকি স্ত্রী। তাহলে রাস্তার দুই ধারে সব পুরুষ গাছ আর গ্রামব্যাপী সব স্ত্রী তাল গাছ লাগানো যেতো। মৌমাছিরা সড়কের পুরুষ তালগাছের পরাগরেনু নিয়ে গ্রামের সব স্ত্রী তালগাছের ফুলে পরাগমিলন করিয়ে দিতো।এতে গ্রামের সব গাছে তাল ধরতো আর পথচারীরাও পুরুষ তালগাছের নীচের রাস্তা দিয়ে নিরাপদে হাটতে পারতো।
৫
৫ মন্তব্য