সহকারী শিক্ষক
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ড. আহমদ শরীফ: চিন্তার মুক্তি ও প্রথাবিরোধী বাঙালির প্রতীক
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় প্রথাবিরোধী মনন, যুক্তিবাদী চিন্তা এবং মানবিক মূল্যবোধের যে ধারা, তার অন্যতম অগ্রপথিক ছিলেন ড. আহমদ শরীফ। তিনি শুধু একজন ভাষাবিদ বা অধ্যাপক নন—তিনি ছিলেন এক সাহসী চিন্তাবিদ, যিনি সমাজ, ধর্ম, সংস্কৃতি ও রাজনীতির নানা প্রশ্নে নির্ভীকভাবে মত প্রকাশ করেছেন।
জন্ম: ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯২১, সুচক্রদণ্ডী, পটিয়া, চট্টগ্রাম
শিক্ষা: পটিয়া হাই স্কুল → চট্টগ্রাম কলেজ → ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ডিগ্রি: এম.এ (বাংলা, ১৯৪৪), পিএইচ.ডি (মধ্যযুগের কবি সৈয়দ সুলতানের উপর গবেষণা, ১৯৬৭)
প্রথম কর্মস্থল: লাকসাম পশ্চিমগাঁও নওয়াব ফয়জুন্নেসা কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক
রেডিও পাকিস্তান: কিছুদিন অনুষ্ঠান সহকারী হিসেবে কাজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯৫০ সালে বাংলা বিভাগে গবেষণা সহকারী হিসেবে যোগ দেন, পরে অধ্যাপক হন
অবদান: ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন
প্রধান পরিচয়: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য গবেষক, প্রথাবিরোধী লেখক, যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ
প্রকাশিত গ্রন্থ:
বিচিত চিন্তা
বাঙলার সূফী-সাধনা ও সূফী-সাহিত্য
মধ্যযুগের সাহিত্যে সমাজ ও সংস্কৃতির রূপ
জীবনে-সমাজে-সাহিত্যে
স্বদেশ অন্বেষা
সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা
দর্শন: ধর্মীয় গোঁড়ামি, সামাজিক কুসংস্কার ও রাজনৈতিক অন্ধত্বের বিরুদ্ধে ছিলেন তিনি। তাঁর লেখায় যুক্তি, মানবতা ও মুক্তচিন্তার জোর ছিল প্রবল।
একুশে পদক: ১৯৯১ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য
মৃত্যু: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯, ঢাকা
উত্তরাধিকার: প্রগতিশীল চিন্তার ধারক ও বাহক হিসেবে আজও তিনি তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
ড. আহমদ শরীফ ছিলেন এমন একজন বাঙালি, যিনি ভয়হীনভাবে প্রশ্ন তুলেছেন, যুক্তির আলোয় সমাজকে দেখেছেন, এবং সাহিত্যকে ব্যবহার করেছেন চিন্তার মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে। তাঁর লেখনী ও জীবনদর্শন আজও আমাদের সাহস জোগায়—প্রশ্ন করতে, ভাবতে, এবং পরিবর্তনের পথে হাঁটতে।
১৩
১৫ মন্তব্য