Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ

হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা প্রস্তাবে চীন রাশিয়া ভেটো

নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়ার এই ভেটো প্রদানের ঘটনাটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এর বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু
বাহরাইন এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (GCC) দেশগুলো এই খসড়া প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল । এর প্রধান লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালী—যা বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা। প্রস্তাবে ইরানের নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, ওই এলাকায় ড্রোন ও মিসাইল হামলা বন্ধে দেশগুলোকে 'প্রতিরক্ষামূলকভাবে একজোট' হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
২. চীন ও রাশিয়ার আপত্তির কারণ
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও চীন ও রাশিয়া মনে করছে এটি সমস্যার মূল সমাধান নয়:
রাশিয়ার অবস্থান: রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, প্রস্তাবটি ছিল একপেশে। এটি কেবল ইরানের কর্মকাণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, কিন্তু ওই অঞ্চলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উস্কানি বা হামলার বিষয়টি এড়িয়ে গেছে ।
চীনের অবস্থান: চীন যুক্তি দিয়েছে যে, শক্তি প্রয়োগ করে বা কোনো এক পক্ষকে চাপ দিয়ে প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতসহ আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতিই লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা কমানোর একমাত্র পথ ।
৩. ভোটের পরিসংখ্যান
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্যের মধ্যে ফলাফল ছিল নিম্নরূপ:
পক্ষে (১১টি দেশ): যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং বাহরাইনসহ মোট ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ।
বিপক্ষে/ভেটো (২টি দেশ): চীন এবং রাশিয়া ।
ভোটদানে বিরত (২টি দেশ): কলম্বিয়া এবং পাকিস্তান ।
৪. ইরান ও আঞ্চলিক প্রভাব
ভেটো দেওয়ার পর জাতিসংঘে ইরানের মিশন একে 'যৌক্তিক ও সাহসী পদক্ষেপ' হিসেবে অভিহিত করে এবং চীন-রাশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে । অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই ভেটোকে 'দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলে মন্তব্য করেছে, কারণ তাদের মতে এটি সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের পরিপন্থী ।
এই ভেটোর ফলে বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে কোনো আন্তর্জাতিক টহল বা একক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা সম্ভব হলো না।

মন্তব্য করুন

ব্লগ