Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ

বিচার দিন - মোঃ মুজিবুর রহমান


বিচার দিন

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

সেদিন ভোর হবে বিচার দিনের আলো,
কারো মুখে জ্যোতি, কারো মুখে কালো।
জিজ্ঞেস হবে তখন—
“
ঈমান এনেছিলে, কেন করলে ভুল?
কেন ফিরলে পথে, কেন হলে বিভ্রান্ত কূল?”

কালো মুখেরা কাঁদে, লজ্জা আর ভয়,
নিজ হাতেই গড়েছিল নিজেরই ক্ষয়।
আর সাদা মুখেরা, শান্তির ছায়ায়,
রহমতের নদীতে চিরকাল ভাসায়।

আকাশ-জমিন সব, আল্লাহরই দান,
তাঁর কাছেই ফিরবে সকল প্রাণ।
হে মানব, তুমি হও সত্যের দল,
ভালো ডাক দাও, থামাও মন্দ চল।

তোমরাই সেই উম্মত, শ্রেষ্ঠ যাদের স্থান,
মানুষের কল্যাণে যাদের আহ্বান।
ঈমানে দৃঢ় হও, ন্যায়ের পথে চলো—
তবেই রক্ষা পাবে, উজ্জ্বল হবে আলো।

যেদিন ভেঙে যাবে সব নীরবতার দেয়াল,
সময়ের বুক চিরে উঠবে হাশরের কাল,
সূর্য থমকে যাবে, কাঁপবে মহাকাশ,
মানুষ দাঁড়াবে সেদিন—নেই কোনো আশ্রয়, নেই কোনো সর্বনাশের পাশ।

সেদিন চেহারা কিছু হবে উজ্জ্বল নূরে ভরা,
আর কিছু চেহারা হবে আঁধারে ঘেরা।
চোখে তাদের ভয়, অন্তরে বিষাদ,
নিজ কর্মফলেই জড়াবে অনন্ত অবসাদ।

ধ্বনিত হবে প্রশ্ন—কাঁপবে সব প্রাণ,
“
তোমরা কি ফিরেছিলে সত্য থেকে, করেছিলে অবমান?”
ঈমান এনেছিলে, তবু কেন হারালে পথ?
কেন ভুললে প্রতিশ্রুতি, কেন করেছিলে রথ?

সেই প্রশ্নে কেঁপে উঠবে হৃদয়ের প্রাচীর,
স্মৃতিরা ফিরবে সব—এক এক করে ধীর।
কিন্তু সেদিন আর নেই কোনো ফেরার পথ,
শুধু ফল ভোগ—কর্মেরই রথ।

যাদের মুখ কালো, তারা কাঁদে হাহাকার,
নিজ দোষেই তারা হয়েছে অধিকারহীন ভার।
আযাবের আগুনে জ্বলে তাদের প্রাণ,
কারণ তারা ফিরেছিল সত্য থেকে—এটাই তাদের জ্ঞান।

লোভ, অহংকার, মিথ্যার ছিল নেশা,
ভেবেছিল দুনিয়াই শেষ, নেই আর কোনো দিশা।
আজ তারা বুঝে—সবই ছিল ক্ষণিক,
কিন্তু সে উপলব্ধি আজ আর নিরর্থক।

আর যাদের মুখ সাদা, শান্তির দীপ জ্বলে,
তারা আছে রহমতে, আলোর কূলে।
তাদের চোখে নেই ভয়, নেই কোনো ক্লেশ,
কারণ তারা ধরেছিল সত্যের রেশ।

রবের রহমতে তারা চিরস্থায়ী,
আনন্দের আবাস তাদের অন্তর জুড়ায়ই।
সেখানে নেই দুঃখ, নেই কোনো ক্ষয়,
শুধু শান্তির সুর—অন্তহীন জয়।

এই আকাশ, এই ধরা—সবই তাঁর দান,
প্রতিটি কণা বলে—“আল্লাহ মহান।”
যা কিছু আছে, সবই তাঁরই অধীন,
তাঁর কাছেই ফিরবে সব, এটাই সত্য দিন।

মানুষ যতই ভাবুক সে স্বাধীন,
শেষে সে বুঝবে—সে তো এক যাত্রী বিন্দুমাত্র ঋণ।
কর্মের ফল নিয়েই ফিরবে সবাই,
কেউ পাবে শান্তি, কেউ দুঃখের ঠাঁই।

হে উম্মত, তুমি তো শ্রেষ্ঠের দল,
মানুষের কল্যাণে তোমারই সম্বল।
তুমি ডাক দাও ভালোতে, থামাও অন্যায়,
তোমার হাতেই লেখা মানবতার ভবিষ্যৎ পথচায়।

তোমার কাজ শুধু নিজের নয়,
সমাজের হৃদয়ে জাগাও আলোর জয়।
অন্যায় দেখলে চুপ থেকো না আর,
ন্যায়ের পথে দাঁড়াও, হও সত্যের দ্বার।

যারা পেয়েছিল কিতাব, জ্ঞান আর দিশা,
তাদের মধ্যেও ছিল বিভ্রান্তির নিশা।
কেউ ছিল সত্যে, কেউ ছিল পথহারা,
ফাসিকের দলেই ছিল অধিকাংশ ধারা।

তাই হে মানব, শিক্ষা নাও এ থেকে,
সত্য জেনেও যেন না ফিরো পিছু দেখে।
ঈমান শুধু মুখে নয়, অন্তরে রাখো,
কর্মে প্রমাণ দাও—সত্যকে আঁকো।

শেষে সবাই ফিরবে সেই এক ঠিকানায়,
যেখানে নেই মিথ্যা, নেই কোনো ছলনায়।
আল্লাহর দরবারে দাঁড়াবে সব প্রাণ,
সত্য তখন স্পষ্ট—কোনো নেই অবমান।

তাই আজই বেছে নাও আলোর পথ,
সত্যকে ধরো, ত্যাগ করো সব ক্ষত।
যাতে সেদিন মুখ হয় নূরে ভরা,
আর চিরকাল থাকো রহমতের ধারা।

এই কাব্য শুধু ভয় নয়, আশা দেয়,
মানুষকে জাগায়, পথ দেখায় ন্যায়।
যে বুঝে নেয় আজ, সে-ই সফল কাল,
তার মুখেই জ্বলবে চির শান্তির জ্যোতির জাল।

***

শোনো মানবজাতি, শোনো অন্তরের ডাক,
সময় যে ক্ষণিক, জীবন শুধু ফাঁক।
যে পথে চলছ আজ, ভাবো তার শেষ,
আলো না আঁধার—কোথায় হবে রেশ?

এই দুনিয়া রঙিন, কিন্তু ক্ষণস্থায়ী,
চোখে ধাঁধা লাগে, তবু তা মিথ্যাই।
ধন-সম্পদ, খ্যাতি—সবই যাবে ফুরায়,
কর্ম ছাড়া কিছুই সাথে না যায়।

এক রব আছেন—সব কিছুর অধিপতি,
তাঁরই দিকে ফেরা—জীবনের গতি।
তাঁর বাণী সত্য, তাঁর পথ সরল,
যে মানে সে পায় শান্তির ফল।

সেদিন আসবে—অবশ্যই একদিন,
কাঁপবে আকাশ, স্তব্ধ হবে দিন।
মানুষ দাঁড়াবে সারি বেঁধে,
কেউ হাসবে, কেউ কাঁদবে দুঃখে।

কারো মুখে আলো, নূরের দীপ্তি,
কারো মুখে আঁধার—অশান্তি, ভীতি।
এই পার্থক্য গড়ে নিজেরই কাজ,
এটাই বিচার—নেই কোনো লাজ।

বলা হবে তখন—
“
ঈমান এনেও কেন ফিরলে পিছে?”
কেন হারালে পথ, কেন গেলে মিছে?
উত্তর দিতে গিয়ে স্তব্ধ সব মুখ,
কারণ সত্য তখন করে দেবে দুখ।

যারা ফিরেছিল, অবহেলায় ভরা,
তাদের পরিণতি ভয়ংকর ধরা।
নিজ হাতে গড়া নিজেরই ক্ষতি,
আজ তারা ভোগে তারই গতি।

তাদের চারপাশে জ্বলে অনল,
চোখে জল, তবু নেই কোনো ফল।
আক্ষেপে ভরে উঠে তাদের প্রাণ,
কিন্তু ফেরার আর নেই কোনো স্থান।

যারা ছিল সত্যে দৃঢ় অবিচল,
তাদের মুখে আলো—অন্তরে সফল।
রহমতের ছায়ায় তারা থাকে,
শান্তির নদীতে হৃদয় ভাসে।

সেখানে নেই ভয়, নেই কোনো দুঃখ,
প্রতিটি মুহূর্ত আনন্দের সুখ।
আল্লাহর দয়া তাদের ঘিরে রয়,
এই তো সফলতা—চিরন্তন জয়।

আকাশ ও জমিন—সবই তাঁর,
প্রতিটি সৃষ্টি তাঁরই অধিকার।
কেউ নয় স্বাধীন, সবাই তাঁর দাস,
তাঁর কাছেই ফিরবে—এই তো বিশ্বাস।

যা কিছু করি, লেখা হয় সব,
ফিরে আসবে তা—হিসাব হবে রব।
একদিন দাঁড়াতে হবে সবারই সামনে,
সত্য হবে স্পষ্ট, লুকাবে না গোপনে।

তোমরাই সেই দল—শ্রেষ্ঠ যাদের নাম,
মানুষের কল্যাণে যাদের অবদান।
ভালো কাজে ডাক, মন্দ হতে বিরত,
এই দায়িত্বেই তোমরা সম্মানিত।

শুধু নিজের নয়, অন্যেরও ভাবো,
অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ জানাও।
চুপ থাকা মানে অন্যায়ের সাথী,
সত্য বলাই হলো ঈমানের গাথা।

ঈমান শুধু মুখের কথা নয়,
অন্তরের আলো, কর্মে তার জয়।
যে বিশ্বাস রাখে অন্তর দিয়ে,
সে-ই টিকে থাকে সত্য বুকে নিয়ে।

যারা পেয়েছিল জ্ঞান ও দিশা,
তাদের মধ্যেও ছিল বিভ্রান্তির নিশা।
কিছু ছিল সত্যে, কিছু পথভ্রষ্ট,
এই শিক্ষা মানবের জন্য স্পষ্ট।

অধিকাংশই পথ হারায় শেষে,
লোভে পড়ে ভুলে যায় উপদেশে।
সত্য জানলেও মানে না তা,
এটাই ফাসিকতার ব্যথা।

হে মানুষ, শিখো অতীত থেকে,
সত্য জেনেও ফিরো না পিছু দেখে।
জীবন ক্ষণিক—সময় যে কম,
আজই গড়ো তোমার ভবিষ্যৎ ঘর।

সত্য বলো, ন্যায় পথে চলো,
অন্যের জন্য ভালো কিছু বলো।
এই পথেই আছে মুক্তির দিশা,
এই পথেই শান্তির নিশা।

যেখানে ভালো কাজের প্রচার হয়,
সেই সমাজেই শান্তি লয়।
যেখানে মন্দ কাজ দমন পায়,
সেই সমাজেই আলোর ছায়া।

নিজেকে দেখো, নিজেকে বদলাও,
ভুল বুঝে তা থেকে ফিরে আসো।
অন্যকে দোষারোপ নয়,
নিজেকে ঠিক করাই বড় জয়।

দুটি পথ সামনে—আলো আর আঁধার,
তুমি কোন পথে হবে পথচার?
সিদ্ধান্ত আজ, ফল কাল,
এই সত্য চির অটল।

মৃত্যু আসবে হঠাৎ করে,
কেউ জানে না কখন দ্বারে।
তাই প্রস্তুত হও আজই থেকে,
নইলে আফসোসে কাঁদবে শেষে।

রবের সামনে দাঁড়াবে সব প্রাণ,
নেই কোনো অজুহাত, নেই অবকাশ।
সত্য তখন হবে উন্মোচিত,
মিথ্যা সব হবে পরাজিত।

যারা সফল, তারা নূরে ভরা,
রহমতের মাঝে চিরদিন ধরা।
আর যারা হারায়, আঁধারে পড়ে,
নিজ কর্মেই তারা দুঃখে মরে।

হে মানব, এই কাব্য শুধু গান নয়,
এ এক জাগরণ—সত্যের জয়।
আজ যদি বোঝো, কাল তুমি রক্ষা,
নইলে আফসোস হবে একমাত্র ভাষা।

-সূরাঃ আলে-ইমরান আয়াতঃ ৬,৭,৯,১০ মাদানী

মন্তব্য করুন

ব্লগ