সহকারী অধ্যাপক
০৪ মে, ২০২৬ ০৪:৫০ পূর্বাহ্ণ
তিনটি আমানত - মোঃ মুজিবুর রহমান
তিনটি আমানত
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মানুষ তুমি মানুষ হও, ভুলো না সেই বাণী,
জান, মাল আর সম্মান—সবই পবিত্র ধনখানি।
কারো প্রাণে আঘাত দিও না, এ যে গুরু পাপ,
একটি প্রাণের মূল্য যে—সমস্ত দুনিয়া চাপ।
অন্যের হক কাড়তে যেও না, মাল যেন না লুট,
হালাল পথে জীবন গড়ো, এটাই সত্য রুট।
মানুষের মান ভাঙো না তুমি, কথা দিয়ে ক্ষত,
একটি শব্দ আগুন হয়ে জ্বালায় শত শত।
গিবত, অপবাদ, তুচ্ছ হাসি—সবই বিষের দান,
ভালোবাসা বপন করো, গড়ো সুন্দর প্রাণ।
রাসূলের এই বাণীটি রাখো অন্তরে জাগ্রত,
এই পথেই শান্তি নামে, জীবন হয় আলোকিত।
***
শুনো হে মানব, শোনো হে প্রাণ,
এক বাণী নামে আসমান থেকে জ্ঞান—
“তিনটি জিনিস পবিত্র, অটুট, মহান—
মানুষের জান, মাল, আর সম্মান।”
একটি প্রাণ শুধু রক্ত-মাংস নয়,
তার মাঝে স্বপ্ন, আশা, ভালোবাসা রয়।
যে প্রাণ তুমি নিভাও অন্যায় হাতে,
সে আগুন জ্বলবে বিচার দিনের রাতে।
অন্যের সম্পদে দৃষ্টি রেখো না লোভে,
হারাম রুটি শান্তি আনে না কখনো ভোগে।
হালাল উপার্জন—নূরের মতো দীপ্ত,
সেই রুটিতে বরকত থাকে অনন্ত।
মানুষের সম্মান কাঁচের মতো ভঙ্গুর,
একবার ভাঙলে হয় না আর পূর্ণ সুন্দর।
কথার আঘাতে রক্ত ঝরে না ঠিকই,
তবু হৃদয়ের ক্ষত হয় গভীর দুঃখী।
পেছনে কথা বলা—অন্ধকারের কাজ,
এতে বন্ধ হয় রহমতের সব দরজার আজ।
তুমি যদি দেখো ভাইয়ের ত্রুটি,
ঢেকে দাও তা—এটাই সত্য গুণগতি।
যখন মানুষ ভুলে যায় এই তিন বিধান,
ভেঙে পড়ে তখন সমাজের প্রাণ।
বিশ্বাস হারায়, সম্পর্ক হয় ক্ষয়,
শান্তির বদলে অশান্তি রয়।
যে দাঁড়ায় সত্যের পথে, রাখে হকের মান,
সে-ই তো আসল মানুষ, সে-ই মহীয়ান।
নিজেকে শোধরাও, অন্যকেও ডাকো,
ন্যায়ের আলো দিয়ে অন্ধকার ঢাকো।
হৃদয়ে জাগাও আল্লাহর ভয়,
প্রতিটি কাজে সচেতন হয়।
কেউ দেখুক আর না-ই দেখুক,
প্রভু তো দেখেন—এ কথা স্মরণ রাখুক।
যেখানে জান নিরাপদ, মাল থাকে হেফাজতে,
সম্মান থাকে অটুট ভালোবাসার সাথে—
সেই সমাজ জান্নাতের ছায়া,
সেই পথেই মুক্তির মায়া।
এসো সবাই করি এই অঙ্গীকার—
কাউকে করবো না কভু অধিকারহীন আর।
জান, মাল, সম্মান রাখবো হেফাজতে,
এই পথেই মুক্তি—দুনিয়া ও আখিরাতে।
এই হাদিস শুধু একটি উপদেশ নয়—
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।
যে এটি মেনে চলে—
সে নিজে শান্তি পায়,
আর সমাজকে শান্তির পথে নিয়ে যায়।
***
শুনো হে মানব, জাগো অন্তর,
আসমান ভরা সত্যের কণ্ঠস্বর।
তিনটি আমানত—অটুট মান,
মানুষের জান, মাল, আর সম্মান।
নবীর বাণী—নূরের দীপ,
অন্ধকারে জ্বালে সত্যের নীপ।
এই তিন হক যার মনে রয়,
তার জীবনেই শান্তি হয়।
একটি প্রাণ দুনিয়ার চেয়ে দামী,
এতে লুকায় রহমতের নামই।
কারো প্রাণে দিও না ক্ষত,
এ পাপের নেই কোনো মওকুফ রত।
এক ফোঁটা রক্ত যদি ঝরে,
আকাশ কাঁদে, জমিনও ধরে।
অন্যায় হত্যা আগুন সমান,
জ্বালায় আখিরাত, জ্বালায় প্রাণ।
তোমার নয় যা, ছোঁয়ো না তা,
হক ছাড়া কিছু নিও না আর কভু না।
অন্যের সম্পদ আগুনের শিখা,
ধরলে পুড়বে জীবন দীক্ষা।
অল্প হালাল, তবু শান্তি,
হারামে থাকে শুধু ক্লান্তি।
রিজিক যেখানে পবিত্র হয়,
সেখানে সুখ নিজেই রয়।
মানুষের ইজ্জত আয়নার মতো,
একবার ভাঙলে জোড়া লাগে না ততো।
একটি কথা ক্ষত করে মন,
অশ্রু ঝরে নিঃশব্দ ক্ষণ।
তলোয়ারের চেয়েও ধারালো বাণ,
মুখের শব্দে ভাঙে সম্মান।
ভেবে বলো প্রতিটি বাক্য,
নচেৎ তা হয়ে ওঠে শাস্ত্র।
পেছনে বলা অন্ধকার কাজ,
এতে হারায় রহমতের সাজ।
ভাইয়ের দোষ ঢেকে দাও চুপে,
এতেই আছে নেকির রূপে।
মিথ্যা কথা আগুনের মতো,
দগ্ধ করে শত হৃদয় ততো।
একটি অপবাদ ভেঙে দেয় ঘর,
নষ্ট করে সম্পর্কের ডর।
যখন মানুষ ভুলে যায় হক,
সমাজে নামে বিভেদের শোক।
বিশ্বাস ভাঙে, হৃদয় দূরে,
অশান্তি ঘিরে ধরে সুরে।
ন্যায় মানে সত্যের পাশে থাকা,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রাখা।
যে দাঁড়ায় সত্যের ডাকে,
আল্লাহ রাখেন তাকে।
নিজেকে দমন করো আগে,
রাগকে বেঁধে রাখো লাগাম লাগিয়ে।
যে নিজেকে জিতে নেয়,
সে-ই প্রকৃত বিজয় পায়।
মানুষ দেখে বাহিরের রূপ,
প্রভু দেখেন অন্তরের ধূপ।
মনের ভেতর হক রাখো,
তবেই জীবন আলোকিত থাকো।
আল্লাহর ভয়, রহমতের আশা,
এই দুইয়ে জীবন ভালোবাসা।
হকের পথে যারা চলে,
তাদের পথ সহজ ফলে।
যখন দুনিয়া হয় অন্ধকার,
মিথ্যা হয় সত্যের সমান ভার—
তখন হকের পথ কঠিন হয়,
তবু তাতেই মুক্তি রয়।
ধৈর্য হলো মুমিনের ঢাল,
এতে রক্ষা পায় প্রতিটা কাল।
অন্যায় সহ্য নয়—সংযম চাই,
ন্যায়ের পথে দৃঢ়তা ভাই।
ক্ষমা করো, যদি পারো তুমি,
এতে জ্বলে নূরের ভূমি।
যে ক্ষমা করে আল্লাহর তরে,
তার মর্যাদা বাড়ে ঘরে ঘরে।
ভালোবাসায় গড়ো সমাজ,
হিংসা থেকে রাখো বিরত আজ।
হকের ভিত্তিতে গড়া যে প্রাণ,
সেই তো পায় শান্তির জ্ঞান।
সত্য কথা হৃদয়ের দীপ,
এতে জ্বলে জীবনের নীপ।
মিথ্যার পথে নেই কোনো জয়,
শেষে তা অন্ধকার হয়।
আসবে একদিন কঠিন বিচার,
প্রতিটি কাজ হবে প্রকাশিত তার।
জান, মাল, সম্মানের হিসাব,
দিতে হবে সেদিন নিরবধি চাপ।
সেদিন কেউ কারো নয়,
নিজের আমল সাথী হয়।
যা করেছো দুনিয়ার মাঝে,
তা-ই দাঁড়াবে বিচার সাজে।
যার হক নিয়েছো অন্যায় করে,
সে দাঁড়াবে তোমারই ঘাড়ে।
ক্ষমা না পেলে তার কাছ থেকে,
মুক্তি মিলবে না কোনো মতে।
অন্যের হক নিলে যদি,
তোমার নেকি যাবে খুঁটি খুঁটি।
শেষে যদি নেকি ফুরায়,
গুনাহ এসে ঘাড়ে চড়ায়।
অন্যায়ের আগুন ভয়ংকর রূপ,
জ্বালাবে আত্মা, করবে ক্ষূপ।
হকের ক্ষতি যে করে যায়,
সে শাস্তি থেকে বাঁচে না কায়।
তবু খোলা আছে ক্ষমার দ্বার,
ফিরে এলে মিলবে উপহার।
হক ফিরিয়ে দাও যার যার,
তবেই মিলবে মুক্তির পার।
ভুল বুঝে ফিরো সঠিক পথে,
সত্যকে রাখো হৃদয়ের সাথে।
যে ফিরে আসে অনুতাপে,
আল্লাহ নেন তাকে কৃপাতে।
যেখানে হক রক্ষা পায়,
সেই সমাজে শান্তি চায়।
নিরাপদ জান, সম্মান অটুট,
সেখানে সুখ হয় অবিরত।
যারা রাখে এই তিন হক,
তাদের জন্য সুখের লোক।
জান্নাত হবে তাদের ঠিকানা,
সেখানে নেই কোনো বেদনা।
এসো করি দৃঢ় অঙ্গীকার—
অন্যের হক রাখবো অটুট আর।
জান, মাল, সম্মান—এই তিন মান,
রক্ষাতেই সফল মানবজীবন।
এই মহাকাব্য একটি স্মরণিকা—
মানুষের হক রক্ষা মানেই ঈমানের পূর্ণতা।
যে এই পথে চলে—
সে দুনিয়ায় সম্মান পায়,
আর আখিরাতে পায় চিরশান্তির ছায়া।
***
১৪
২৪ মন্তব্য