Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ জুন, ২০২৬ ১২:১৯ অপরাহ্ণ

আসুন আজকে একটু অন্ধকারে চাপা পড়া ইতিহাস জেনে নেইঃ
আসুন আজকে একটু অন্ধকারে চাপা পড়া ইতিহাস জেনে নেইঃ
১৯৪৭ সালে আমরা জানি ভারতীয় উপমহাদেশ ভেঙে দুটি দেশ সৃষ্টি হয়। কিন্তু না, এটা ভুল ইতিহাস আমরা জানি।ভারতীয় উপমহাদেশ ভেঙে হয় মোট ৪ টি নতুন ও স্বতন্ত্র দেশ। ভারত,পাকিস্তান, জুনাগড়,হায়দারাবাদ।এছাড়াও ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাষন এর বাহিরে আরো তিনটি দেশ ছিলো। গোয়া,কাশ্মির এবং সিকিম।ভারত পাকিস্তান এর ইতিহাস তো আমরা মোটামুটি জানি, বাকিগুলোর ইতিহাস এবারে বিস্তারিত জানি। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের 'ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট ১৯৪৭' অনুযায়ী, এই রাজ্যগুলোর ওপর থেকে ব্রিটিশ আধিপত্য (Suzerainty) শেষ হয়ে যায়। তাদের সামনে তিনটি পথ খোলা ছিল:
>ভারতের সঙ্গে যোগ দেওয়া।
>পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দেওয়া।
>অথবা, স্বাধীন থাকা।
হায়দ্রাবাদ ও জুনাগড়ঃ
এই রাজ্যগুলো শুরুতে স্বাধীন থাকার চেষ্টা করেছিল।কিন্তু ভারত তাদেরকে হুমকি মনে করলো। কারন এগুলোর চতুরপাশেই ছিলো ভারতীয় সিমান্ত। তবুও হায়দ্রাবাদের নিজাম স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন, আর জুনাগড়ের নবাব পাকিস্তানে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ভারত সরকার সামরিক এবং রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে (যেমন হায়দ্রাবাদে 'অপারেশন পোলো') এই দেশগুলোকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়।
কাশ্মীরঃ
কাশ্মির তখন ছিলো স্বাধীন।কাশ্মির এর মহারাজা হরি সিং শুরুতে স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে অধিক জনসংখ্যা মুসলিম হওয়ায় জনগন চেয়েছিলো পাকিস্তানে যোগ দিতে। তাই মহারাজা হরি সিং পড়ে যান চাপে।তখন ভারত ছিলো কাশ্মীর এর বন্ধু। তিনি ভারতের কাছে সাহায্য চান। ভারত তখন সেখানে তাদের সেনাবাহিনী প্রবেশ করায়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রবেশ দেখে পাকিস্তান ও তাদের সেনাবাহিনী পাঠায়, ফলাফল কাশ্মীর দুই ভাগে বিভক্ত। এক অংশ ভারত দখল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় অন্য অংশ পাকিস্তান।
সিকিমঃ
সিকিম ব্রিটিশ ভারতের অংশ ছিল না। এটি ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত একটি রাজতন্ত্র ছিল। সিকিমের রাজা বা চোগিয়াল পালদেন থোনদুপ নামগিয়াল রাজতন্ত্র ধরে রাখতে চাইলেও জনগণের একটি বড় অংশ মনে করত যে, রাজতন্ত্র তাদের প্রগতি ও রাজনৈতিক অধিকারের পথে বাধা। ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক সচেতনতা শুরু হয়েছিল, তা ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে তীব্র রূপ নেয়। ১৯৭৩ সালে রাজপ্রাসাদের সামনে ব্যাপক জনবিক্ষোভ হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারতের সহায়তা চাওয়া হয়। ফালাফল সিকিম ভারতের রাজ্য হয়ে যায়।
গোয়াঃ
গোয়া কখনোই ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল না। এটি ছিল পর্তুগিজদের অধীনে একটি উপনিবেশ। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হলেও গোয়া পর্তুগিজদের দখলেই ছিল। ভারত পর্তুগিজ দের তাড়াতে ১৯৬১ সালে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভারত গোয়াকে পর্তুগিজ শাসন থেকে মুক্ত করে এবং ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে। কারন গোয়া আলাদা থাকলে তা হতো ভারতের জন্য খুবই বিপদজনক।
এবার আসি ১৯৭১ এর প্রসঙ্গে। ভারত কি সত্যি আমাদের সাহায্য করেছিলো? আসলে ভারত চেয়েছিলো পাকিস্তান কে তাড়িয়ে তারা নিজেদের দখলে নিবে। কিন্তু বাংলাদেশের ততকালীন নেতারা মুক্তিযুদ্ধ শেষে সর্বপ্রথম ভারতীয় সেনাবাহিনী কে ফেরত যেতে বললো। আসলে বিষয়টা তখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচনার বিষয় ছিলো। ততকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের মতো দেশগুলো এই যুদ্ধে প্রবেশের চেষ্ঠা করেছিলো। ফলে ভারত সেই সময় তাদের সেনাবাহিনী ফেরত নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু তাদের মনে সেই ক্ষত থেকে যায়। আজকের দিনে দাড়িয়ে একটা চিন্তা করেন যে বাংলাদেশ ভারত এর জন্য কতোটা হুমকি। চতুর্পাশে ভারত কিন্তু বাংলাদেশ মাঝখানে তাদের বাধা।তাদের সেভেন সিস্টার বাচাতে হলে বাংলাদেশ লাগবে।আবার সেই অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠা করতে গেলেও বাংলাদেশ লাগবে। কিন্তু তারা বহু চেষ্টা চালিয়েছে ইভেন এখন পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ফলাফল আমাদের দেশে সামরিক সক্ষমতার দিকে তাকালে বুঝা যায়। কারন এ পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় থেকে ভারতের কথামতো চলেনি তাদের পরিনাম খারাপ হয়েছে। উদাহরণ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জিয়াউর রহমান ততকালীন জামায়াত নেতাদের পরিনতি দেখলেই বুঝা যায়। ভারতের চেষ্টা চলতেছে এখন ভিন্ন লেভেলে। আমি জানি না তারেক রহমান সরকার কার কথামতো চলছে।কিন্তু খালেদা জিয়া সরকার থাকা কালিন পর্যন্ত তিনি ভারতের দিকে ঝুকেননি। তার ফলাফল কি হয়েছে সেটাও আমরা দেখেছি। কিন্তু ভারত চাচ্ছে এমন কোনো সুযোগ যাতে তারা সামরিক অভিযান বা হস্তক্ষেপ করতে পারে। আপনি একটা বিষয় খেয়াল করবেন ভারত আমাদের কে চাল ডাল পেয়াজ এমনকি তেল সহ অন্যান্য জিনিস আমাদের সাথে বানিজ্য করছে।সেইটা নিয়ে অনেক ভারতীয় আমাদের খোটা দেয়। কিন্তু একটাবারও ভেবে দেখেছেন তারা চাইলে কিন্তু এই বানিজ্য বন্ধ করতে পারে।কিন্তু কেনো করে না জানেন। তখন আমাদের বিকল্প দেশ থেকে আমদানি করতে হবে। হোক চায়না বা হোক পাকিস্তান। তার ফলাফল কি হবে,তাদের সাথে আমাদের ভালো বন্ধুত্ব সম্পর্ক তৈরি হবে। আর এটাই চায় না ভারত। আমাদের মধ্যেই এমনও লোক আছে যারা এখনও বলে যে ভারত আমাদের বন্ধু। আমি বলবো তারা ইতিহাস জানে না আর নয়তো তারা চায় যে বাংলাদেশ ভারতের অংশ হোক।
সোর্সঃ "The Last Days of the British Raj"
লেখক: লিওনার্ড মোসলি।
See less
মন্তব্য করুন

ব্লগ