Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ জুন, ২০২৬ ১০:২৬ অপরাহ্ণ

ঈমান - মোঃ মুজিবুর রহমান



ঈমান

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মানুষ আসে পৃথিবীতে
দুটো চোখে স্বপ্ন নিয়ে,
সত্য-মিথ্যার মোহনায় সে
পথ খুঁজে ফেরে ধীরে ধীরে।

কখনো সুখের রঙিন প্রভাত,
কখনো দুঃখের কালো রাত,
কখনো জয়ের উল্লাসধ্বনি,
কখনো ব্যর্থতার আঘাত।

এই জীবনের বাঁকেবাঁকে
একটি আলো ডাকে অবিরাম,
হৃদয় জুড়ে শান্তি ছড়ায়—
সেই আলোর নামই ঈমান।

ঈমান শুধু মুখের বাণী নয়,
নয় কেবল কিছু শব্দ,
ঈমান হলো আত্মার ভেতর
সত্যের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার দৃপ্ত।

ঈমান হলো বিশ্বাসের দীপ,
আত্মসমর্পণের মহাগান,
মানুষকে মানুষ করে তোলে
যে মহাশক্তি—তারই নাম ঈমান।

এক আকাশের অসীম নীলে,
এক সূর্যের দীপ্ত আলো,
এক পৃথিবীর রঙিন বুকে
ছড়িয়ে আছে তাঁর ভালো।

পর্বত দাঁড়ায় মহিমা নিয়ে,
নদী ছুটে যায় সাগর পানে,
ফুলের পাপড়ি হাসি ছড়ায়
তাঁরই অপার অনুগ্রহ দানে।

তিনি একক, তিনি মহান,
তাঁর সমকক্ষ নেই কেউ,
তিনি ছাড়া আর উপাস্য নেই,
সকল শক্তির উৎসও তিনি।

তিনি দয়াময়, পরম করুণাময়,
ক্ষমাশীল ও প্রজ্ঞাবান,
তিনি জানেন অন্তরের ভাষা,
শোনেন নিঃশব্দ আর্তনাদ।

ঝড়ের মাঝে আশার প্রদীপ,
অন্ধকারে আলোর দিশা,
তাঁর উপর ভরসা রেখে
মানুষ পায় মুক্তির আশা।

তাওহীদের এই মহাসত্য
যখন হৃদয়ে জাগে প্রাণ,
তখন মানুষ সত্যিকার অর্থে
খুঁজে পায় নিজের পরিচয় জ্ঞান।

আছে এক জগৎ অদৃশ্য,
চোখে যাদের দেখা যায় না,
তবু তারা পালন করে
প্রভুর আদেশ বিরামহীনভাবে।

নূরের সৃষ্টি ফেরেশতারা,
অত্যন্ত অনুগত বান্দা,
তাদের নেই কোনো অহংকার,
নেই অবাধ্যতার ধারা।

কেউ আনে ওহীর বাণী,
কেউ লেখে কর্মের খাতা,
কেউ করে দোয়ার আমীন,
কেউ পাহারা দেয় সৃষ্টিজগৎটা।

মানুষ যখন ভালো কাজ করে,
তারা খুশি হয় নীরবে,
মানুষ যখন সৎপথ বেছে,
আনন্দ জাগে তাদের রবে।

অদেখা হলেও সত্য তারা,
ঈমানের এক মহা স্তম্ভ,
এই বিশ্বাস জাগায় মনে
দায়িত্ববোধের দৃঢ় গম্ভীরতা।

মানবজাতির পথপ্রদর্শক
হিসেবে যুগে যুগে,
এসেছে কিতাব আলোর মতো
অন্ধকারের বুক চিরে।

তাওরাত এসেছে সত্য নিয়ে,
যাবুর এসেছে গান,
ইঞ্জিল এনেছে দয়ার বাণী,
জাগিয়েছে কল্যাণ।

সবশেষে নেমেছে কুরআন,
চিরন্তন আলোর গ্রন্থ,
যার প্রতিটি আয়াত জুড়ে
রয়েছে সত্যের সুগন্ধ।

কুরআন শেখায় ন্যায় ও দয়া,
শেখায় মানবপ্রেম,
শেখায় জ্ঞান আর প্রজ্ঞার পথে
চলতে নির্ভয়ে প্রতিক্ষণ।

যে হৃদয়ে কুরআনের আলো,
সেই হৃদয় পায় প্রশান্তি,
ঝড় এলেও টলে না সে,
হারায় না পথের কান্তি।

যখন পৃথিবী ভুলে গেছে
সত্যের পবিত্র পথ,
তখন আল্লাহ পাঠিয়েছেন
নবীদের আলোকরথ।

আদম থেকে নূহ, ইবরাহিম,
মূসা, ঈসা মহান,
সকলেই ডেকেছেন মানুষকে
এক আল্লাহর দিকে প্রাণভরে।

তাঁদের জীবন ত্যাগের কাহিনি,
সাহস, ধৈর্য, প্রেম,
মানবতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ
চিরকাল জাগাবে নেমে।

সব নবীদের শিরোমণি,
সর্বশেষ রাসূল মহান,
হযরত মুহাম্মদ (সা.)
মানবতার শ্রেষ্ঠ সম্মান।

তাঁর চরিত্র ছিল কুরআনের
জীবন্ত ব্যাখ্যান,
তাঁর জীবন আজও জাগায়
সত্য ও ন্যায়ের আহ্বান।

এই পৃথিবী শেষ ঠিকানা নয়,
এ কেবল পরীক্ষার ঘর,
এখানে যা কিছু ক্ষণস্থায়ী,
চিরস্থায়ী নয় কোনো পর।

একদিন নিভে যাবে জীবন,
বন্ধ হবে দেহের শ্বাস,
তবু শেষ হবে না যাত্রা,
শুরু হবে নতুন আভাস।

হাশরের সেই বিশাল ময়দান,
বিচারের মহান দিন,
সেখানে লুকাবে না কিছু,
প্রকাশ পাবে সব ঋণ।

যে করেছে ন্যায় ও সৎকর্ম,
পাবে শান্তির আবাস,
যে করেছে জুলুম ও অন্যায়,
তার জন্য কঠিন সর্বনাশ।

আখিরাতের এই বিশ্বাস
জাগায় সততার প্রাণ,
মানুষকে করে জবাবদিহিমূলক,
সুন্দর করে জীবনযাপন।

সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি,
দিনের পরে রাত,
সবকিছুই আল্লাহ জানেন,
তাঁরই নির্ধারিত প্রভাত।

তবু মানুষ কর্ম করবে,
চেষ্টা করবে প্রাণপণে,
ভরসা রাখবে রবের উপর
সব অবস্থার ক্ষণে ক্ষণে।

সফল হলে অহংকার নয়,
ব্যর্থতায় নয় হতাশা,
তাকদীরের এই বিশ্বাস দেয়
ধৈর্যের অমল আশা।

ঝড়ে ভাঙে না যার মন,
দুঃখে হারায় না জ্ঞান,
সে বুঝেছে তাকদীরের
মহিমান্বিত কল্যাণ।

মৃত্যু কোনো শেষ নয়,
নয় অস্তিত্বের অবসান,
আল্লাহ আবার জীবিত করবেন
সকল মানুষ একদিন।

শুকনো মাটিতে যেমন আবার
বৃষ্টি এলে জন্মে প্রাণ,
তেমনি মৃত মানুষও উঠবে
প্রভুর ডাকে অবিরাম।

এই বিশ্বাস মানুষকে শেখায়
প্রতিটি কর্মের মূল্য,
কোনো কাজই বৃথা নয়,
সবই হবে একদিন উন্মোচ্য।

অন্তরে বিশ্বাস প্রথম শর্ত,
সত্যকে মেনে নেওয়া,
দ্বিধাহীন দৃঢ় প্রত্যয়ে
রবের পথে রওনা হওয়া।

মুখে স্বীকৃতি দ্বিতীয় ধাপ,
কালেমার সুমধুর ধ্বনি,
যা ঘোষণা করে বিশ্বজুড়ে
বান্দার আত্মপরিচয়খানি।

আর তৃতীয় হলো আমল,
সত্যকে কাজে রূপ দেওয়া,
নিজেকে গড়ে, সমাজ গড়ে,
মানবতাকে সম্মান করা।

নামাজ, রোজা, দান ও সেবা,
সততা, দয়া, প্রেম,
সবকিছুই ঈমানের ফুল,
সবই তার মহিমার হেম।

হাসিমুখে কথা বলাও ঈমান,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো,
অসহায় মানুষের পাশে গিয়ে
সহমর্মিতার হাত বাড়ানো।

পথের কষ্টদায়ক বস্তু সরানো,
প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা,
মিথ্যা, হিংসা, অহংকার ছেড়ে
সত্যের পতাকা ধরা।

মাতা-পিতার সম্মান রাখা,
প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া,
ক্ষুধার্তকে অন্ন পৌঁছে
দুঃখীর অশ্রু মুছে দেওয়া।

ক্ষমা করা, ধৈর্য ধরা,
ন্যায়ের পক্ষে থাকা,
এসবই ঈমানের বাগানে
সুগন্ধি ফুল হয়ে ফোটা।

হে মানুষ, যদি চাও তুমি
শান্তিময় এক জীবন,
তবে হৃদয়ে জ্বালাও সদা
ঈমানের পবিত্র প্রদীপখন।

ঈমান শেখায় ভালোবাসতে,
ঈমান শেখায় ক্ষমা,
ঈমান শেখায় সত্যের পথে
চলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।

ঈমান শেখায় বিনয় হতে,
অহংকারকে হারাতে,
মানুষকে মানুষ জেনে
হৃদয়ের দুয়ার খুলে দিতে।

যতদিন সূর্য উঠবে আকাশে,
বইবে নদীর গান,
ততদিন সত্যের পথ দেখাবে
এই মহামূল্যবান ঈমান।

হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তরে দাও
বিশুদ্ধ ও অটল ঈমান,
মুখে দাও সত্যের স্বীকৃতি,
কর্মে দাও তার বাস্তব প্রমাণ।

ঈমানের আলোয় আলোকিত হোক
পরিবার, সমাজ, দেশ ও প্রাণ,
সত্য, ন্যায় ও কল্যাণে ভরে উঠুক
সমস্ত মানবজীবনের অবিরাম গান।॥

***

হে মানব,
তুমি মাটির দেহে গড়া,
তবু তোমার প্রাণে জ্বলে
আসমানের অমর শিখা।

তুমি কেবল রক্ত-মাংস নও,
নও ক্ষণিক সময়ের যাত্রী,
তোমার বুকে লুকিয়ে আছে
অনন্তকালের এক পবিত্র স্মৃতি।

যেদিন স্রষ্টা বলেছিলেন—
“
আমি তোমাদের রব”,
সেদিন আত্মার গভীর থেকে
উঠেছিল স্বীকৃতির রব।

সেই চিরন্তন অঙ্গীকার,
সেই অদৃশ্য সাক্ষ্যদান,
মানবহৃদয়ে আজও জাগে
যার নাম—পবিত্র ঈমান।

ঈমান কোনো নিছক শব্দ নয়,
নয় কেবল মুখের উচ্চারণ,
এ হলো হৃদয়ের গভীরতম সত্য,
আত্মার নীরব আত্মসমর্পণ।

এ হলো অন্ধকার রাতের শেষে
আলোর প্রথম আহ্বান,
এ হলো বিপথগামী প্রাণের তরে
সত্যপথের দিশারী গান।

যখন ছিল না সূর্য, চন্দ্র,
ছিল না নক্ষত্রলোক,
ছিল না সময়ের গতি,
ছিল না পৃথিবীর শোক,

তখনও ছিলেন তিনি—
মহান সত্তা, চিরঞ্জীব,
সকল অস্তিত্বের উৎসধারা,
সকল মহিমার অধিপতি অদ্বিতীয়।

তাঁরই আদেশে সৃষ্টি হলো
আকাশ, বাতাস, নদী,
তাঁরই ইচ্ছায় ফুটল ফুল,
বহল জীবনের গতি।

পর্বতের নীরব স্থিরতায়,
সমুদ্রের গর্জনধ্বনিতে,
শিশিরভেজা ভোরের বুকে,
রঙিন সন্ধ্যার রক্তিমায়,

প্রতিটি কণায় লেখা আছে—
একই মহাসত্যের বাণী:
“
তিনি এক, তিনি মহান,
তাঁর সমতুল্য নেই আর কোনো জন।”

তাওহীদের এই অমর শিক্ষা
ভেঙে দেয় সব মিথ্যা গর্ব,
মানুষকে শেখায় বিনয়, প্রেম,
আর সত্যের মহাসম্ভ্রম।

চোখে দেখা যায় না যাদের,
তবু তারা আছে সদা,
আল্লাহর আদেশ পালনে
নেই তাদের কোনো ক্লান্তি বা বাধা।

নূরের সৃষ্টি ফেরেশতারা
শুদ্ধ আনুগত্যের প্রতীক,
তাদের জীবনে নেই অবাধ্যতা,
নেই কোনো বিদ্রোহের ইতিহাস লিখিত।

কেউ আনে ওহীর পবিত্র বার্তা,
কেউ লেখে কর্মের হিসাব,
কেউ করে বান্দার জন্য দোয়া,
কেউ পাহারা দেয় রাতদিন অবিরাম।

তাদের অস্তিত্ব স্মরণ করায়—
মানুষ কখনো একা নয়,
প্রতিটি কাজ, প্রতিটি কথা
একদিন হিসাবের খাতায় রয়।

যখন অজ্ঞতার অন্ধকার
মানুষকে ঘিরে ধরে,
তখন আসমান থেকে নামে
আলোর বাণী ঘরে ঘরে।

তাওরাত এসেছিল সত্য নিয়ে,
যাবুর এসেছিল সুর,
ইঞ্জিল এনেছিল দয়ার বার্তা,
করেছিল অন্তর ভরপুর।

অবশেষে কুরআন নেমে এলো—
মানবতার চূড়ান্ত দিশা,
যার প্রতিটি আয়াতে ঝরে
হেদায়েতের নির্মল ভাষা।

কুরআন শেখায় জ্ঞান ও প্রজ্ঞা,
শেখায় ন্যায় ও সাম্য,
শেখায় কেমন করে মানুষ হবে
মানুষের জন্য কল্যাণময়।

যুগে যুগে এসেছে নবীগণ,
সত্যের পতাকা হাতে,
মানুষকে ডেকেছেন অবিরাম
কল্যাণের মহাপথে।

নূহের ধৈর্য, ইবরাহিমের ত্যাগ,
মূসার সাহস দীপ্তিমান,
ঈসার দয়া, ইউসুফের সৌন্দর্য,
সবই ঈমানের গৌরবগান।

অবশেষে এলো সেই প্রভাত,
যার জন্য ছিল প্রতীক্ষা,
মুহাম্মদ (সা.) এলেন হয়ে
বিশ্বমানবতার শ্রেষ্ঠ দিশা।

তাঁর চরিত্র ছিল সত্যের আলো,
করুণার অনন্ত সাগর,
তাঁর শিক্ষা আজও আলোকিত করে
মানবসভ্যতার প্রতিটি প্রহর।

এই পৃথিবী ক্ষণিকের মেলা,
চিরস্থায়ী নয় কোনো স্থান,
আজ যে রাজা, কাল সে মাটি,
এটাই জীবনের বিধান।

একদিন থেমে যাবে সময়,
নিভে যাবে জীবনের প্রদীপ,
তখন খুলে যাবে আখিরাতের দ্বার,
জাগবে নতুন এক নসীব।

হাশরের মাঠে দাঁড়াবে সবাই,
ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা,
সেখানে থাকবে না কোনো প্রভাব,
থাকবে শুধু আমলের সাজা-পুরস্কার।

এই বিশ্বাস মানুষকে শেখায়
অন্যায়ের সামনে না নত হতে,
সত্যের জন্য দৃঢ় থাকতে,
ন্যায়ের পথে জীবন গড়তে।

ঝড় আসে, আবার থামে,
রাত নামে, আবার ভোর,
মানুষ ভাবে অনেক কিছু,
কিন্তু রব জানেন অন্তরঘোর।

তাকদীর মানে অলসতা নয়,
নয় হাত গুটিয়ে থাকা,
বরং চেষ্টা আর তাওয়াক্কুলে
প্রভুর উপর ভরসা রাখা।

যা পাইনি তাতে হতাশ নই,
যা পেয়েছি তাতেও গর্ব নয়,
রবের ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা—
ঈমানদারের মহৎ পরিচয়।

একদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে,
কেঁপে উঠবে মহাবিশ্বখানি,
পর্বত হবে ধূলিকণা,
নিভে যাবে জগতের বাণী।

তারপর আবার ডাকা হবে—
উঠে দাঁড়াও, হে মানবজাতি!
প্রতিটি প্রাণ ফিরে পাবে
তার কর্মের পূর্ণ পরিণতি।

যেমন মৃত মাটিতে বৃষ্টি এলে
সবুজ অঙ্কুর জেগে ওঠে,
তেমনি মৃত মানুষও জাগবে
রবের আদেশমতে।

ঈমান কেবল বিশ্বাস নয়,
এ জীবন গড়ার শিক্ষা,
এ ভালোবাসা, দয়া, ক্ষমা,
এ মানবতার দীক্ষা।

মুখের হাসি এক শাখা,
সত্য কথা আরেকটি,
ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া,
এও ঈমানের মুক্তা অতি।

মাতা-পিতার সেবা করা,
প্রতিবেশীর খবর রাখা,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে থাকা।

হিংসা ত্যাগ, অহংকার বর্জন,
বিনয়ের পথে চলা,
ক্ষমার সুধায় হৃদয় ভরিয়ে
মানুষকে আপন বলা।

যতদিন সূর্য উঠবে পূর্বাকাশে,
যতদিন নদী বহবে স্রোত,
যতদিন মানুষ খুঁজবে সত্য,
ততদিন ঈমান থাকবে জ্যোতির্ময় রথ।

ঈমান মানুষকে আকাশ শেখায়,
তবু রাখে মাটির কাছে,
ঈমান মানুষকে শক্তি দেয়,
তবু বিনয়ের মালা গাঁথে।

হে আল্লাহ!
আমাদের হৃদয়ে দাও
সত্য, বিশুদ্ধ ও অটল ঈমান,
মুখে দাও সত্যের স্বীকৃতি,
কর্মে দাও তার উজ্জ্বল প্রমাণ।

ঈমানের আলোয় আলোকিত হোক
পরিবার, সমাজ, দেশ ও বিশ্বমানবতা,
ন্যায়, দয়া, সত্য ও কল্যাণে
ভরে উঠুক সমগ্র সভ্যতা।

মানুষ হোক মানুষের আপন,
ঘুচে যাক বিভেদ-অভিমান,
আলোয় ভরে উঠুক পৃথিবী—
জাগুক হৃদয়ে চিরন্তন ঈমান। ॥

***

ঈমান :

ঈমান কোনো ক্ষণিক আবেগ নয়,
নয় উচ্ছ্বাসের ঢেউ,
নয় কেবল উৎসবের দিনে
জাগ্রত হওয়া কোনো বোধ।

ঈমান হলো মহাসমুদ্র,
গভীর যার প্রতিটি স্তর,
যতই ডুব দেবে মানুষ,
ততই খুলবে নতুন প্রহর।

বাহিরে যার শান্ত জ্যোতি,
ভিতরে অফুরন্ত শক্তি,
দুঃখ-ঝড়ের উত্তাল ঢেউয়ে
যে দেয় অবিচল ভক্তি।

কখনো যখন চারদিক জুড়ে
নেমে আসে হতাশার রাত,
ঈমান তখন প্রদীপ হয়ে
দেখায় আশার প্রভাত।

কখনো যখন অন্যায়ের শক্তি
দেখায় ক্ষমতার অহংকার,
ঈমান তখন সত্যের তলোয়ার,
ন্যায়ের অমর উচ্চারণ।

ফুল যেমন সুবাস ছড়ায়,
গাছ যেমন দেয় ফল,
তেমনি সত্য ঈমানের পরিচয়
সৎকর্মে হয় উজ্জ্বল।

যে ঈমান হৃদয়ে থাকে,
কর্মে যার প্রকাশ নাই,
সে যেন মেঘের প্রতিশ্রুতি,
যার বৃষ্টি ঝরে না তাই।

সততা তার প্রথম অলংকার,
বিশ্বাস তার মুকুটখানি,
মানবসেবায় খুঁজে পায় সে
রবের সন্তুষ্টির বাণী।

যে শ্রমিক ঘামে ভেজা দেহে
সৎ উপার্জন করে,
যে শিক্ষক জ্ঞানের আলো
নীরবে বিলিয়ে ধরে,

যে কৃষক মাঠে ফসল ফলায়,
যে চিকিৎসক প্রাণ বাঁচায়,
যে বিচারক ন্যায়ের পক্ষে
সব ভয়-ভীতি হারায়—

তাদের কর্মের প্রতিটি বিন্দু
যদি থাকে রবের তরে,
তবে সেসবও ইবাদত হয়ে
নূরের মালা গাঁথে ঘরে।

ঈমান মানুষকে বড় করে,
তবু করে না অহংকারী,
বরং শেখায়—মহান সে-ই,
যে থাকে বিনয়ধারী।

ফলভরা গাছ যেমন নত,
নদী যেমন বহে নিচে,
জ্ঞানী হৃদয় তেমনি থাকে
নম্রতারই পিছে পিছে।

অহংকা  আগুনের মতো,
পুড়িয়ে ফেলে প্রাণ,
বিনয় হলো বৃষ্টিধারা,
শীতল করে জ্ঞান।

যে নিজেকে দেখে ক্ষুদ্র,
রবকে দেখে মহান,
তার হৃদয়ে প্রস্ফুটিত হয়
বিশুদ্ধতম ঈমান।

ঈমান শেখায় ভ্রাতৃত্ব,
শেখায় ভালোবাসা,
শেখায় মানুষের দুঃখে কাঁদতে,
শেখায় সুখের আশা।

রঙে নয়, ভাষায় নয়,
ধনে নয়, বংশে নয়,
মানুষ বড় মানুষের গুণে—
ঈমান এ শিক্ষা দেয়।

ক্ষুধার্ত শিশুর অশ্রুবিন্দু,
বৃদ্ধের নীরব দীর্ঘশ্বাস,
অসহায়ের কাতর আহ্বান—
সবই তো মানবতার প্রকাশ।

যে এগিয়ে যায় সাহায্যের তরে,
যে মুছে দেয় কারও ব্যথা,
তার হাত ধরেই পৃথিবীতে
নেমে আসে রহমতা।

তরুণ তুমি, জাগো এবার,
সামনে ভবিষ্যৎ মহান,
তোমার হাতে গড়বে আবার
সভ্যতার নতুন গান।

জ্ঞান অর্জনে হও অগ্রগামী,
সত্যের পথে দৃঢ়,
নৈতিকতার পতাকা তুলে
হও মানবতার বীর।

প্রলোভনের ঝড় আসিবে,
আসিবে অনেক ডাক,
ঈমান যদি থাকে হৃদয়ে,
ভাঙবে না তোমার পাখা।

তোমার কলম, তোমার মেধা,
তোমার শ্রম, তোমার প্রাণ—
সবকিছু হোক কল্যাণময়,
আলোকিত হোক জগৎখান।

হে আল্লাহ,
তুমি আমাদের হৃদয়ে দাও
তাওহীদের নির্মল আলো,
সত্যকে চিনার প্রজ্ঞা দাও,
অসত্য হতে রাখো ভালো।

ফেরেশতাদের স্মরণে জাগুক
দায়িত্ববোধের জ্ঞান,
কিতাবের আলোয় উদ্ভাসিত হোক
আমাদের প্রতিটি প্রাণ।

নবীদের আদর্শে গড়ো,
আখিরাতের স্মরণ দাও,
তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট রেখে
ধৈর্যের শিক্ষা শিখাও।

পুনরুত্থানের বিশ্বাস দিয়ে
জাগাও নেক আমলের তৃষ্ণা,
ঈমানের সব শাখা-প্রশাখায়
ভরাও জীবনের দিশা।

পরিবারে দাও শান্তির ছায়া,
সমাজে দাও সম্প্রীতি,
দেশে দাও ন্যায় ও কল্যাণ,
বিশ্বে দাও মানবপ্রীতি।

যতদিন আকাশে সূর্য জ্বলবে,
যতদিন উঠবে ভোর,
ততদিন ঈমানের আলোয়
আলোকিত হোক মানবঘর।

আমিন। ॥

মন্তব্য করুন

ব্লগ