প্রধান শিক্ষক
২৬ জুন, ২০২৬ ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক
সংসদে মাননীয় সংসদ সদস্যের দেওয়া এই বক্তব্যটি নিয়ে ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং শিক্ষক সমাজে বেশ আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। একজন সচেতন নাগরিক ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়ে কয়েকটি দিক বিবেচনা করা যায়:
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা একটি দেশের শিক্ষার মূল ভিত্তি গড়ে তোলেন। তাঁদের সামাজিক মর্যাদা অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। সংসদে যখন সামগ্রিকভাবে শিক্ষকদের নিয়ে এমন মন্তব্য করা হয়, তখন তা অনেক সময় মাঠপর্যায়ে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের হৃদয়ে আঘাত দেয় এবং তাঁদের পেশাগত আত্মমর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।
যদি কোনো একটি বা দুটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলে বা কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে এমন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেও থাকে, তবে সেটাকে পুরো শিক্ষক সমাজের সাধারণ চিত্র হিসেবে তুলে ধরাটা যৌক্তিক নয়। বাংলাদেশের হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য ঢালাওভাবে মন্তব্য করলে ভালো কাজের স্বীকৃতি ম্লান হয়ে যায়।
অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, সীমানা প্রাচীর বা শিক্ষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট কমনরুমের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে বন্যাপ্রবণ বা অতিবৃষ্টির অঞ্চলে অনেক সময় শিক্ষকদের নানা বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তবে তা কখনোই বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ বা শৃঙ্খলার পরিপন্থী হওয়া উচিত নয়।
সংসদ হচ্ছে নীতি নির্ধারণের সর্বোচ্চ স্থান। সেখানে শিক্ষকদের ছোটখাটো ভুলের দিকে ইঙ্গিত করার চেয়ে—প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা হওয়াটা অধিক প্রত্যাশিত।
পরিশেষে: শিক্ষকেরা সমাজের আলোর দিশারী। কোনো শিক্ষক যদি অজান্তে বা অবহেলায় বিদ্যালয়ের পরিবেশের পরিপন্থী কিছু করেও থাকেন, তবে তা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম বা জবাবদিহিতার আওতায় সংশোধন করা সম্ভব। তবে সর্বোচ্চ আইনসভায় তাঁদের সম্মান বজায় রেখে গঠনমূলক সমালোচনা করাই শ্রেয়, যাতে শিক্ষকেরা উৎসাহ নিয়ে তাঁদের মহান দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
১
১ মন্তব্য