সহকারী অধ্যাপক
২৮ জুন, ২০২৬ ০৫:২৯ অপরাহ্ণ
মানুষের পরিচয় - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
মানুষের পরিচয়
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মুখের রঙে মানুষ নয়,
পোশাকের বাহারে নয় পরিচয়;
অন্তরের আলোয় যে দীপ জ্বলে,
মানুষকে মানুষ করে সেই পরিচয়।
সোনালি পাগড়ি, শুভ্র পাঞ্জাবি,
দামী কোট কিংবা রাজকীয় বেশ—
এসব কেবল চোখের আয়নায়
ক্ষণিকের বিস্ময় আঁকে অবশেষ।
কিন্তু যখন জীবনের পথে
স্বার্থের ঝড় ওঠে হঠাৎ একদিন,
তখনই প্রকাশ পায় মানুষের ভেতর—
সত্য, বিবেক, নাকি ছদ্মবেশের ঋণ।
মিষ্টি কথার চেয়ে মধুরতর
একটি সত্য আচরণ;
হাজার বক্তৃতার চেয়ে মূল্যবান
একটি ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত।
যে হাত সাহায্যে প্রসারিত হয়,
সে হাতই সর্বশ্রেষ্ঠ অলংকার;
যে মুখ সত্য উচ্চারণ করে,
সেই মুখই সৌন্দর্যের অধিকার।
মানুষকে চিনতে হলে দেখো—
ক্ষমতার নয়, দায়িত্বের সময়;
অভাবের দিনে কেমন থাকে,
প্রাচুর্যে ভুলে যায় কি পরিচয়?
লেনদেনের টেবিল মানুষকে শেখায়
কতটা সৎ তার অন্তরখানি;
যেখানে লোভের স্রোত বয়ে যায়,
সেখানে কারা রাখে বিবেকের পানি।
যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোলে না কখনো,
সে-ই তো বিশ্বাসের বৃক্ষ রোপে;
যে আমানত রক্ষা করে নীরবে,
মানবতার ফুল তার হাতেই ফোটে।
বিনয় যার হৃদয়ের ভাষা,
অহংকার যার অচেনা পথ,
অপরের সুখে যার হাসি ফোটে—
সে-ই তো সত্যিকার মহৎ।
দরিদ্রের পাশে যে দাঁড়িয়ে থাকে,
অসহায়ের চোখ মুছে দেয়;
নিজের প্রাপ্তি ভাগ করে নেয়,
মানুষ তাকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করে চিরদিন।
প্রবাদ শুধু মুখে বললে হয় না—
"ব্যবহারে বংশের পরিচয়";
আচরণের প্রতিটি অধ্যায়ে
লিখতে হয় মানবতার জয়।
চেহারার রূপ ক্ষয় হয় একদিন,
বয়সের ছোঁয়ায় বদলে যায় সব;
কিন্তু উত্তম চরিত্রের দীপ্তি
সময়ের দেয়ালে থাকে অমলিন রব।
অলংকার নয়, অলংকৃত হোক
হৃদয়ের নির্মল প্রজ্ঞা;
ক্ষমতা নয়, মহত্ত্বের শক্তি
হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ পূজা।
যে ক্ষমা করতে জানে,
সে-ই প্রকৃত শক্তিমান;
প্রতিশোধে নয়, সহমর্মিতায়
গড়ে ওঠে মানুষের সম্মান।
হাসিমুখে প্রতারণা করা সহজ,
সততার পথে চলা কঠিন;
তবু ইতিহাস মনে রাখে কেবল
সত্যের জন্য নিবেদিত জীবন।
মুখোশ পরে সবাই অভিনয় পারে,
অভিনয়ে জয় মেলে কিছুক্ষণ;
কিন্তু চরিত্রের আয়নায় ধরা পড়ে
প্রত্যেক হৃদয়ের গোপন স্পন্দন।
যে অন্যের অশ্রু মুছে দেয়,
সে-ই মানুষের আপনজন;
যে অন্যের চোখে জল আনে,
সে হারায় নিজেরই মনুষ্যত্বের ধন।
বাহ্যিক চাকচিক্য ম্লান হয়ে যায়,
সময়ের ধুলোয় ঢেকে যায় রং;
কিন্তু ন্যায়ের আলো, সত্যের দীপ্তি
থাকে অনন্তকাল অক্ষয় সঙ্গ।
জীবনের প্রতিটি লেনদেন
হোক বিশ্বাসের একেকটি সেতু;
প্রতিটি বাক্য হোক সত্যের শপথ,
প্রতিটি কর্ম হোক কল্যাণের ঋতু।
শ্রদ্ধা কেনা যায় না অর্থ দিয়ে,
সম্মান গড়ে ওঠে কর্মে;
মানুষের হৃদয়ে স্থান পায় সে-ই,
যে থাকে সত্য ও ন্যায়ের ধর্মে।
সুখে নয়, দুঃখের প্রহরে
চেনা যায় আপন মানুষ;
ঝড় এলে বোঝা যায় কোন বৃক্ষ
মাটির গভীরে রেখেছে শিকড়ের স্পর্শ।
তাই এসো, আমরা শিখি—
পোশাক নয়, চরিত্র গড়তে;
বাহ্যিক নয়, অন্তরের আলো
মানবতার প্রদীপ জ্বালতে।
আমাদের পরিচয় হোক
সততার দীপ্ত ইতিহাস;
আমাদের ভাষা হোক
বিনয়ের নির্মল সুবাস।
আমাদের লেনদেন হোক স্বচ্ছ,
আমাদের আচরণ হোক নির্মল;
আমাদের হৃদয় হোক দয়ার নদী,
আমাদের বিবেক হোক অমল।
যেন পৃথিবী একদিন বলে—
"এই মানুষটি সত্যিই মানুষ ছিল";
তার পোশাক নয়, তার চরিত্রই
সব হৃদয়ে অমর হয়ে রইল।
কারণ শেষ পর্যন্ত
মানুষের পরিচয় মুখে নয়, মুখোশে নয়;
পরিচয় লেখা থাকে তার কর্মে,
তার সততায়, তার ব্যবহারে, তার মানবতায়।
চিরন্তন সত্য—
লেবাস চোখকে আকর্ষণ করে,
কিন্তু চরিত্র হৃদয়কে জয় করে;
চেহারা পরিচিতি দেয়,
কিন্তু মনুষ্যত্বই মানুষকে অমর করে।
***
মানুষের পরিচয়
মানুষ জন্মে মানুষ হয় না—
মানুষ হয়ে ওঠে।
জন্ম দেয় প্রকৃতি,
কিন্তু চরিত্র গড়ে বিবেক;
রক্ত দেয় বংশ,
কিন্তু মর্যাদা দেয় কর্ম।
পোশাক চোখে পড়ে,
চেহারা মনে দাগ কাটে,
কিন্তু হৃদয়ের ইতিহাস লেখা থাকে
আচরণে, ব্যবহারে,
সততায়, ন্যায়ে,
দায়িত্বে, আমানতে,
ভালোবাসায়, ক্ষমায়,
এবং অপরের কল্যাণে নিবেদিত কর্মে।
বাহ্যিক লেবাসের জৌলুস
সময়ের সঙ্গে ম্লান হয়ে যায়;
কিন্তু উত্তম চরিত্রের দীপ্তি
যুগ পেরিয়েও আলো ছড়ায়।
স্বর্ণখচিত অলংকার
মানুষকে ধনী করতে পারে,
কিন্তু সত্যবাদিতা
তাকে মহৎ করে।
অট্টালিকা
ক্ষমতার পরিচয় দিতে পারে,
কিন্তু একটি নির্মল হৃদয়
মানবতার পরিচয় বহন করে।
জ্ঞান অহংকারে কলুষিত হলে
তার দীপ্তি নিভে যায়;
অথচ বিনয়,
সাধারণ মানুষকেও
অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
মানুষকে চিনতে হলে
তার মুখের ভাষা নয়,
তার জীবনের ভাষা পড়তে হয়।
কারণ মুখে উচ্চারিত বাক্য
কখনো অভিনয় হতে পারে,
কিন্তু প্রতিদিনের ব্যবহার
অভিনয় জানে না।
অর্থের লেনদেন,
ক্ষমতার ব্যবহার,
অঙ্গীকারের পালন,
বিপদের মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানো,
অসহায়ের প্রতি সহমর্মিতা—
এসবই মানুষের অন্তরলোকের
অবিকৃত প্রতিচ্ছবি।
সুতরাং,
চেহারা নয়—
চরিত্রই পরিচয়।
লেবাস নয়—
লেনদেনই সাক্ষ্য।
বংশ নয়—
ব্যবহারই মর্যাদা।
বাক্য নয়—
কর্মই ইতিহাস।
যে মানুষ নিজের স্বার্থের আগে
অন্যের অধিকারকে স্থান দেয়,
যে সত্যের জন্য ক্ষতি স্বীকার করে,
যে আমানত রক্ষা করে,
যে প্রতারণার সুযোগ পেয়েও
সততার পথ ছাড়ে না,
যে ক্ষমা করতে জানে,
যে বিনয়ে মাথা নত করে,
যে দয়ার হাত বাড়িয়ে দেয়—
সেই মানুষই প্রকৃত মানুষ।
এই কাব্য
বাহ্যিক সৌন্দর্যের নয়,
অন্তরের সৌন্দর্যের বন্দনা;
ক্ষমতার নয়,
নৈতিকতার জয়গান;
মুখোশের নয়,
মনুষ্যত্বের মহিমার চিরন্তন স্তব।
এসো,
আমরা এমন এক সমাজ গড়ি,
যেখানে মানুষের পরিচয় হবে
তার পোশাকে নয়,
তার প্রতিশ্রুতিতে;
তার চেহারায় নয়,
তার চরিত্রে;
তার কথায় নয়,
তার কর্মে।
কারণ ইতিহাসের শেষ পৃষ্ঠায়
মানুষের নাম লেখা থাকে না
তার পরিধেয় বস্ত্রের জন্য;
লেখা থাকে
তার সততা,
তার ন্যায়পরায়ণতা,
তার দয়া,
তার মানবতা
এবং তার রেখে যাওয়া
আলোর উত্তরাধিকারের জন্য।
মানুষের পরিচয়
মুখের রঙে মানুষ নয়,
পোশাকের বাহারে নয় পরিচয়;
অন্তরের আলোয় যে দীপ জ্বলে,
মানুষকে মানুষ করে সেই পরিচয়।
সোনালি পাগড়ি, শুভ্র পাঞ্জাবি,
দামী কোট কিংবা রাজকীয় বেশ—
এসব কেবল চোখের আয়নায়
ক্ষণিকের বিস্ময় আঁকে অবশেষ।
কিন্তু যখন জীবনের পথে
স্বার্থের ঝড় ওঠে হঠাৎ একদিন,
তখনই প্রকাশ পায় মানুষের ভেতর—
সত্য, বিবেক, নাকি ছদ্মবেশের ঋণ।
মিষ্টি কথার চেয়ে মধুরতর
একটি সত্য আচরণ;
হাজার বক্তৃতার চেয়ে মূল্যবান
একটি ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত।
যে হাত সাহায্যে প্রসারিত হয়,
সে হাতই সর্বশ্রেষ্ঠ অলংকার;
যে মুখ সত্য উচ্চারণ করে,
সেই মুখই সৌন্দর্যের অধিকার।
মানুষকে চিনতে হলে দেখো—
ক্ষমতার নয়, দায়িত্বের সময়;
অভাবের দিনে কেমন থাকে,
প্রাচুর্যে ভুলে যায় কি পরিচয়?
লেনদেনের টেবিল মানুষকে শেখায়
কতটা সৎ তার অন্তরখানি;
যেখানে লোভের স্রোত বয়ে যায়,
সেখানে কারা রাখে বিবেকের পানি।
যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোলে না কখনো,
সে-ই তো বিশ্বাসের বৃক্ষ রোপে;
যে আমানত রক্ষা করে নীরবে,
মানবতার ফুল তার হাতেই ফোটে।
বিনয় যার হৃদয়ের ভাষা,
অহংকার যার অচেনা পথ,
অপরের সুখে যার হাসি ফোটে—
সে-ই তো সত্যিকার মহৎ।
দরিদ্রের পাশে যে দাঁড়িয়ে থাকে,
অসহায়ের চোখ মুছে দেয়;
নিজের প্রাপ্তি ভাগ করে নেয়,
মানুষ তাকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করে চিরদিন।
প্রবাদ শুধু মুখে বললে হয় না—
"ব্যবহারে বংশের পরিচয়";
আচরণের প্রতিটি অধ্যায়ে
লিখতে হয় মানবতার জয়।
চেহারার রূপ ক্ষয় হয় একদিন,
বয়সের ছোঁয়ায় বদলে যায় সব;
কিন্তু উত্তম চরিত্রের দীপ্তি
সময়ের দেয়ালে থাকে অমলিন রব।
অলংকার নয়, অলংকৃত হোক
হৃদয়ের নির্মল প্রজ্ঞা;
ক্ষমতা নয়, মহত্ত্বের শক্তি
হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ পূজা।
যে ক্ষমা করতে জানে,
সে-ই প্রকৃত শক্তিমান;
প্রতিশোধে নয়, সহমর্মিতায়
গড়ে ওঠে মানুষের সম্মান।
হাসিমুখে প্রতারণা করা সহজ,
সততার পথে চলা কঠিন;
তবু ইতিহাস মনে রাখে কেবল
সত্যের জন্য নিবেদিত জীবন।
মুখোশ পরে সবাই অভিনয় পারে,
অভিনয়ে জয় মেলে কিছুক্ষণ;
কিন্তু চরিত্রের আয়নায় ধরা পড়ে
প্রত্যেক হৃদয়ের গোপন স্পন্দন।
যে অন্যের অশ্রু মুছে দেয়,
সে-ই মানুষের আপনজন;
যে অন্যের চোখে জল আনে,
সে হারায় নিজেরই মনুষ্যত্বের ধন।
বাহ্যিক চাকচিক্য ম্লান হয়ে যায়,
সময়ের ধুলোয় ঢেকে যায় রং;
কিন্তু ন্যায়ের আলো, সত্যের দীপ্তি
থাকে অনন্তকাল অক্ষয় সঙ্গ।
জীবনের প্রতিটি লেনদেন
হোক বিশ্বাসের একেকটি সেতু;
প্রতিটি বাক্য হোক সত্যের শপথ,
প্রতিটি কর্ম হোক কল্যাণের ঋতু।
শ্রদ্ধা কেনা যায় না অর্থ দিয়ে,
সম্মান গড়ে ওঠে কর্মে;
মানুষের হৃদয়ে স্থান পায় সে-ই,
যে থাকে সত্য ও ন্যায়ের ধর্মে।
সুখে নয়, দুঃখের প্রহরে
চেনা যায় আপন মানুষ;
ঝড় এলে বোঝা যায় কোন বৃক্ষ
মাটির গভীরে রেখেছে শিকড়ের স্পর্শ।
তাই এসো, আমরা শিখি—
পোশাক নয়, চরিত্র গড়তে;
বাহ্যিক নয়, অন্তরের আলো
মানবতার প্রদীপ জ্বালতে।
আমাদের পরিচয় হোক
সততার দীপ্ত ইতিহাস;
আমাদের ভাষা হোক
বিনয়ের নির্মল সুবাস।
আমাদের লেনদেন হোক স্বচ্ছ,
আমাদের আচরণ হোক নির্মল;
আমাদের হৃদয় হোক দয়ার নদী,
আমাদের বিবেক হোক অমল।
যেন পৃথিবী একদিন বলে—
"এই মানুষটি সত্যিই মানুষ ছিল";
তার পোশাক নয়, তার চরিত্রই
সব হৃদয়ে অমর হয়ে রইল।
কারণ শেষ পর্যন্ত
মানুষের পরিচয় মুখে নয়, মুখোশে নয়;
পরিচয় লেখা থাকে তার কর্মে,
তার সততায়, তার ব্যবহারে, তার মানবতায়।
চিরন্তন সত্য—
লেবাস চোখকে আকর্ষণ করে,
কিন্তু চরিত্র হৃদয়কে জয় করে;
চেহারা পরিচিতি দেয়,
কিন্তু মনুষ্যত্বই মানুষকে অমর করে।
মানুষের পরিচয়
মানুষ জন্মে মানুষ হয় না—
মানুষ হয়ে ওঠে।
জন্ম দেয় প্রকৃতি,
কিন্তু চরিত্র গড়ে বিবেক;
রক্ত দেয় বংশ,
কিন্তু মর্যাদা দেয় কর্ম।
পোশাক চোখে পড়ে,
চেহারা মনে দাগ কাটে,
কিন্তু হৃদয়ের ইতিহাস লেখা থাকে
আচরণে, ব্যবহারে,
সততায়, ন্যায়ে,
দায়িত্বে, আমানতে,
ভালোবাসায়, ক্ষমায়,
এবং অপরের কল্যাণে নিবেদিত কর্মে।
বাহ্যিক লেবাসের জৌলুস
সময়ের সঙ্গে ম্লান হয়ে যায়;
কিন্তু উত্তম চরিত্রের দীপ্তি
যুগ পেরিয়েও আলো ছড়ায়।
স্বর্ণখচিত অলংকার
মানুষকে ধনী করতে পারে,
কিন্তু সত্যবাদিতা
তাকে মহৎ করে।
অট্টালিকা
ক্ষমতার পরিচয় দিতে পারে,
কিন্তু একটি নির্মল হৃদয়
মানবতার পরিচয় বহন করে।
জ্ঞান অহংকারে কলুষিত হলে
তার দীপ্তি নিভে যায়;
অথচ বিনয়,
সাধারণ মানুষকেও
অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
মানুষকে চিনতে হলে
তার মুখের ভাষা নয়,
তার জীবনের ভাষা পড়তে হয়।
কারণ মুখে উচ্চারিত বাক্য
কখনো অভিনয় হতে পারে,
কিন্তু প্রতিদিনের ব্যবহার
অভিনয় জানে না।
অর্থের লেনদেন,
ক্ষমতার ব্যবহার,
অঙ্গীকারের পালন,
বিপদের মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানো,
অসহায়ের প্রতি সহমর্মিতা—
এসবই মানুষের অন্তরলোকের
অবিকৃত প্রতিচ্ছবি।
সুতরাং,
চেহারা নয়—
চরিত্রই পরিচয়।
লেবাস নয়—
লেনদেনই সাক্ষ্য।
বংশ নয়—
ব্যবহারই মর্যাদা।
বাক্য নয়—
কর্মই ইতিহাস।
যে মানুষ নিজের স্বার্থের আগে
অন্যের অধিকারকে স্থান দেয়,
যে সত্যের জন্য ক্ষতি স্বীকার করে,
যে আমানত রক্ষা করে,
যে প্রতারণার সুযোগ পেয়েও
সততার পথ ছাড়ে না,
যে ক্ষমা করতে জানে,
যে বিনয়ে মাথা নত করে,
যে দয়ার হাত বাড়িয়ে দেয়—
সেই মানুষই প্রকৃত মানুষ।
এই কাব্য
বাহ্যিক সৌন্দর্যের নয়,
অন্তরের সৌন্দর্যের বন্দনা;
ক্ষমতার নয়,
নৈতিকতার জয়গান;
মুখোশের নয়,
মনুষ্যত্বের মহিমার চিরন্তন স্তব।
এসো,
আমরা এমন এক সমাজ গড়ি,
যেখানে মানুষের পরিচয় হবে
তার পোশাকে নয়,
তার প্রতিশ্রুতিতে;
তার চেহারায় নয়,
তার চরিত্রে;
তার কথায় নয়,
তার কর্মে।
কারণ ইতিহাসের শেষ পৃষ্ঠায়
মানুষের নাম লেখা থাকে না
তার পরিধেয় বস্ত্রের জন্য;
লেখা থাকে
তার সততা,
তার ন্যায়পরায়ণতা,
তার দয়া,
তার মানবতা
এবং তার রেখে যাওয়া
আলোর উত্তরাধিকারের জন্য।
১৪
২৪ মন্তব্য