সহকারী অধ্যাপক
২৯ জুন, ২০২৬ ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ
আমলই চিরসঙ্গী - মোঃ মুজিবুর রহমান
আমলই চিরসঙ্গী
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
ঘরবাড়ি, দালানকোঠা, অট্টালিকার সারি,
জমিজমা, ধনরত্ন, সুখের বাহারি।
সবই রয়ে যাবে একদিন পৃথিবীর বুকে,
বিদায় নেবে মানুষ শুধু নীরব চোখ মুছে।
যে হাতে গড়েছিল প্রাসাদ অগণন,
যে বুকে ছিল কত আশা, কত স্বপ্নগহন,
সেই হাত আজ থেমে যায় মৃত্যুর আহ্বানে,
সব হিসাব মিটে যায় সৃষ্টিকর্তার টানে।
রাজা যায়, প্রজা যায়, ধনী কিংবা গরিব,
মৃত্যুর দুয়ারে সবাই সমান, সবাই নতশির।
ক্ষমতার অহংকার, গৌরবের অলংকার,
মাটির নিচে গিয়ে হয় কতই না অসার।
সঙ্গে যায় না কোনো সোনার সিন্দুক,
যায় না কোনো সম্পদের গর্বিত সুখ।
যায় না কোনো বাহন, যায় না প্রাসাদখানি,
সঙ্গে থাকে শুধু কর্মের সাক্ষ্যবাণী।
সেই আমলনামা খুলবে একদিন,
সত্যের আদালতে হবে বিচার সেদিন।
যেখানে নেই কোনো সুপারিশের জোর,
সত্যই হবে একমাত্র ন্যায়ের মশালধর।
হে মানুষ! কেন তবে অহংকারে ভাসো?
মরুর মরীচিকায় কেন নিজেকে হাসাও?
আজ যে সম্পদ তোমার বলে মনে হয়,
আগামীকাল অন্যের হাতে তারই পরিচয়।
একদিন তোমাকেও ডাকবে অচেনা পথ,
বন্ধ হবে দুনিয়ার সব কোলাহল-রথ।
রয়ে যাবে শুধু কর্মের পরিচয়,
সেই পরিচয়েই হবে অনন্তের জয়।
যে নামাজে দাঁড়ায় বিনয়ভরা প্রাণে,
যে সিজদায় অশ্রু ঝরে আল্লাহরই টানে,
যে রোজায় সংযম শেখে আত্মার গভীরে,
তার জীবন সুবাস ছড়ায় মানবতার নীড়ে।
যে জাকাতে মুছে দেয় দুঃখীর অশ্রুধারা,
যে সদকায় খুঁজে পায় রবেরই ইশারা,
যে হাসিমুখে মানুষের কষ্ট ভাগ করে,
রহমতের দরিয়া নামে তারই অন্তরে।
যে ভুল করলে ফিরে আসে তওবার দুয়ারে,
ক্ষমা চায় বিনম্র হয়ে রাতের অন্ধকারে,
তার হৃদয়ে জ্বলে ওঠে আশার প্রদীপখানি,
আল্লাহর করুণাতেই ধন্য হয় প্রাণী।
হে দয়াময় রব! শোনো আমাদের মিনতি,
ভুলে ভরা জীবনটাকে করো না অগ্রাহ্য অতি।
পাপের কালো ধুলো ধুয়ে দাও অনুক্ষণ,
পবিত্র করো অন্তর, শুদ্ধ করো মন।
আমাদের নামাজে দাও একাগ্রতার আলো,
রোজায় দাও ধৈর্য, সত্যে চলার ভালো।
দানকে করো নির্মল, কথাকে করো মধুর,
অহংকার মুছে দাও, হৃদয় করো সুরভিত ভরপুর।
হিংসা যেন না জাগে কোনোদিন অন্তরে,
ক্ষমার ফুল ফুটুক প্রতিটি আচরণে।
সত্যকে ভালোবাসি, মিথ্যাকে করি ঘৃণা,
ন্যায়ের পথে রাখো সদা দৃঢ় আমাদের চরণ।
যেদিন চোখ দু'টি হবে চিরতরে নীরব,
থেমে যাবে পৃথিবীর হাসি আর কলরব,
সেদিন যেন কবর হয় জান্নাতের বাগান,
রহমতের ছায়ায় ভরে ওঠে প্রতিক্ষণ।
মুনকার-নাকিরের প্রশ্ন যখন আসে,
ভয় নয়, ঈমান যেন হৃদয়ে ভরসা হাসে।
কুরআনের আলো যেন সঙ্গী হয়ে রয়,
সৎকর্মের সুবাসে জীবন ধন্য হয়।
হে আল্লাহ! আমলগুলো কবুল করে নাও,
ত্রুটি যত আছে সব ক্ষমা করে দাও।
রিয়া, অহংকার, লোভ থেকে রক্ষা করো,
শুধু তোমার সন্তুষ্টির পথে আমাদের ধরো।
দুনিয়ার মোহ যেন না করে অন্ধ,
তোমার স্মরণেই থাকুক জীবন আনন্দ।
যা কিছু দিয়েছ তুমি—সবই তোমার দান,
কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠুক আমাদের প্রাণ।
শেষ নিশ্বাস যখন থেমে যাবে একদিন,
ঠোঁটে যেন থাকে শুধু তোমারই পবিত্র নামধ্বনি।
ঈমানের আলো নিয়ে পার হই সে পথ,
যেখানে শেষ হবে সব দুঃখের রথ।
হাশরের ময়দানে দাও রহমতের ছায়া,
হিসাবের দিনে করো না কঠিন মায়া।
ডান হাতে আমলনামা দিও মহান রব,
তোমার ক্ষমায় মুছে যাক সব অপরাধ-দাগ।
সিরাতের সেতু পার করো সহজতায়,
পদে পদে রেখো তুমি রহমতের ছায়ায়।
আটকে যেন না যাই পাপের ভারে কভু,
তোমারই অনুগ্রহে মুক্তি পাক এ প্রাণভুবন।
জান্নাতের শীতল ছায়ায় ডেকো আপন করে,
নবী-রাসুল, সিদ্দীক, শহীদদের ঘিরে।
সৎজনের কাতারে দিও আমাদের স্থান,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের সম্মান।
ঘরবাড়ি রয়ে যাবে, মাটিতে পড়ে ধন,
চলে যাবে মানুষ একা, থেমে যাবে জীবন।
সঙ্গে যাবে কেবল আমলেরই আলো—
সেই আলোয় উজ্জ্বল হোক প্রতিটি ভালো।
এসো সবাই গড়ি তবে সত্যের জীবন,
মানবতার পথে হোক প্রতিদিন গমন।
আল্লাহর প্রেমে ভরে উঠুক অন্তর,
শুদ্ধ আমলেই হোক জীবনের সমাপন।
***
আমলই অনন্তের আলো
ঘরবাড়ি, দালানকোঠা, অট্টালিকার শোভা,
জমিজমা, ধনসম্পদ, সুখের রঙিন ভুবনভরা—
সবই একদিন রয়ে যাবে নিঃশব্দ পৃথিবীর বুকে,
মানুষটি একা চলে যাবে অনন্তের অজানা মুখে।
যে হাতে গড়েছে স্বপ্নমাখা প্রাসাদের প্রাচীর,
যে চোখে ছিল শত আকাঙ্ক্ষা, ভবিষ্যতের নীল নকশার নীড়,
সেই হাত একদিন নিথর হবে, থেমে যাবে সকল গান,
সময়ের ডাকে ফিরে যাবে মাটিরই আপন ঠিকানায় প্রাণ।
রাজদণ্ড, রাজমুকুট, সিংহাসনের গৌরব,
ক্ষমতার অহংকার, ঐশ্বর্যের সব উৎসব—
মৃত্যুর দুয়ারে এসে হারায় আপন পরিচয়,
মানুষ তখন কেবল মানুষ—নেই ধনী, নেই গরিবের ভেদরেখা আর কোনো ভয়।
সোনার ভাণ্ডার, রূপার পাহাড়, অগণিত সম্পদের ভার,
কবরের অন্ধকার পথে নয় কারও সহযাত্রার অধিকার।
সঙ্গে থাকে না আপনজন, থাকে না প্রিয় সংসার,
শুধু আমলনামা নীরব সাক্ষী হয়ে চলে অবিরাম বারবার।
সেই দিন খুলবে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়,
গোপন কিংবা প্রকাশ্য—সবই হবে সত্যের মহিমায়।
একটি বিন্দু অন্যায়ও লুকিয়ে থাকবে না কোথাও,
করুণাময় রবের বিচারে প্রকাশ পাবে সবই ন্যায়ের আলোয়।
হে মানুষ! ক্ষণিক পৃথিবীর মোহে কেন এত গর্ব?
কেন ভুলে যাও মৃত্যুই জীবনের অবধারিত পর্ব?
আজ যে প্রাসাদ তোমার, কাল হবে অন্যের ঘর,
সময়ের স্রোত শেখায়—পৃথিবীতে কেউ নয় চিরঅধিকারী পর।
তাই এসো, হৃদয় গড়ি বিনয়, সত্য আর ঈমানে,
জীবন সাজাই সৎকর্মের সুবাসিত পুষ্পবাগানে।
নামাজ হোক আত্মার আলো, রোজা হোক সংযমের দীপ,
জাকাত হোক দয়ার নদী, সদকা হোক মানবতার নীড়।
তওবার অশ্রু ধুয়ে দিক অন্তরের সকল কলঙ্ক,
ক্ষমার সুবাস ভরিয়ে দিক জীবনের প্রতিটি অলঙ্কার।
অহংকারের মরুভূমিতে ফুটুক বিনয়ের কুসুম,
সত্য, ন্যায় আর ভালোবাসায় হোক মানবজীবন সুমধুর সুরভিত ভূমি।
হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তরকে করো নির্মল, আমলকে করো ইখলাসে উজ্জ্বল।
যা করি—তোমার সন্তুষ্টির জন্যই করি;
যা বলি—সত্য ও কল্যাণের ভাষায় বলি।
গুনাহের অন্ধকার থেকে ফিরিয়ে আনো তোমার নূরের পথে,
রিয়া, হিংসা, লোভ, অহংকার থেকে রক্ষা করো সর্বক্ষণ।
আমাদের কবরকে রহমতের বাগান বানিয়ে দিও,
হাশরের ময়দানে রহমতের ছায়ায় স্থান দিও।
আমলনামা ডান হাতে দিও, হিসাব সহজ করো,
সিরাতের সেতু নিরাপদে পার করিয়ে দিও।
তোমার অসীম করুণায় জান্নাতুল ফিরদাউস দান করো,
আর আমাদের শেষ নিঃশ্বাসকে ঈমানের সুগন্ধে ভরে দিও।
ঘরবাড়ি রয়ে যাবে, মাটির বুকে সব ধন,
চলে যাবে মানুষ একা, শেষ হবে দুনিয়ার জীবন।
সঙ্গে যাবে শুধু আমল—সেই চিরন্তন আলোর দিশা;
সেই আলোয় আলোকিত হোক আমাদের ইহকাল ও পরকালের আশা।
আমীন।
***
আমলই অনন্তের আলো
ভোরের শিশির শুকিয়ে যায় রৌদ্রের প্রথম ছোঁয়ায়,
বসন্ত শেষে ফুল ঝরে যায় নিঃশব্দ বিদায়-বেলায়।
নদীর জলের মতো জীবন বহে নিরবধি স্রোতে,
কাল এসে ডাকে সকল প্রাণকে অনিবার্য পরিণতিতে।
ঘরবাড়ি, দালানকোঠা, অট্টালিকার উচ্চ মিনার,
রাজপথজুড়ে গর্বে দাঁড়ায় সভ্যতার অহংকার।
সোনার ভাণ্ডার, রূপার পাহাড়, রঙিন সুখের মেলা,
সময়ের কাছে একদিন সবই হারায় আপন খেলা।
জমিজমা, ক্ষেতের ধান, সবুজ শস্যের ঢেউ,
অগণিত ধনের অহমিকা থাকে না চিরকাল কেউ।
যে বলে—"সবই আমার", কালের হাসি শুনে,
একদিন তাকেই চলে যেতে হয় নিঃসঙ্গ অজানার বুকে।
যে হাতে গড়েছে অট্টালিকা, যে হাতে লিখেছে নাম,
যে কণ্ঠে উঠেছে বিজয়ের গান, সম্মানের অবিরাম ধ্বনি,
সেই হাত একদিন থেমে যাবে, স্তব্ধ হবে সব সুর,
সময়ের মহাফরমান তখন করবে জীবন ভরপুর নীরব।
রাজা যাবে, প্রজা যাবে, যাবে ধনী-গরিব,
মৃত্যুর দরজায় সবাই সমান, সবাই হবে নতশির।
ক্ষমতার মুকুট খুলে পড়ে মাটির ধূলিকণায়,
মানুষ তখন শুধু মানুষ—রবেরই মহিমায়।
চোখের জ্যোতি নিভে যাবে, থেমে যাবে বাক্,
যে হাসি ছিল সংসারজুড়ে, হবে স্মৃতির ফাঁক।
প্রিয়জনেরা কাঁদবে কিছুক্ষণ, মুছে যাবে অশ্রুধারা,
সময় আবার চলবে আপন নিয়মে, চলবে সংসার-ধারা।
সঙ্গে যাবে না প্রাসাদের চাবি,
যাবে না ধনের কোনো হিসাবখাতা।
যাবে না সিংহাসনের গৌরব,
যাবে না অলংকারের ব্যস্ততা।
যে পথ একদিন একাই পাড়ি দিতে হবে,
সেই পথে থাকবে না কোনো পরিচিত রবে।
বন্ধু থাকবে না, থাকবে না আত্মীয়ের হাত,
সঙ্গে থাকবে শুধু কর্মের সত্য সাক্ষাৎ।
আমল—মানুষের নীরব ইতিহাস,
অন্তরের লুকানো সকল বিশ্বাস।
যা করেছে গোপনে, যা করেছে প্রকাশে,
সবই ধরা থাকবে মহান রবের কাছে।
ভালোবাসার একটি বাক্য,
অসহায়ের মুখে একফোঁটা হাসি,
ক্ষুধার্তকে দেওয়া একমুঠো অন্ন,
সবই রবে অনন্তের খাতায় ভাসি।
আবার কঠিন একটি অন্যায়,
কারও চোখের নীরব অশ্রু,
অহংকারে ভাঙা একটি হৃদয়,
সবই হবে বিচারের বিষয় একদিন।
তাই হে মানুষ!
পৃথিবীর মোহে নিজেকে হারিয়ো না।
যা ক্ষণিক, তাকে চিরন্তন ভেবো না;
যা থাকবে না, তার অহংকারে ডুবিয়ো না প্রাণ।
তোমার সত্য পরিচয়
তোমার পোশাকে নয়,
তোমার ধনে নয়,
তোমার বংশে নয়,
তোমার প্রাসাদে নয়—
তোমার পরিচয় তোমার চরিত্রে,
তোমার পরিচয় তোমার আমলে।
নামাজ হোক হৃদয়ের প্রশান্তি,
রোজা হোক আত্মার সংযম।
জাকাত হোক সমাজের মমতা,
সদকা হোক মানবতার সেতুবন্ধন।
ক্ষমা হোক শক্তির পরিচয়,
বিনয় হোক জ্ঞানের অলংকার।
সত্য হোক জীবনের ভাষা,
ন্যায় হোক চলার অধিকার।
হিংসার আগুন নিভে যাক,
লোভের অন্ধকার মুছে যাক।
মানুষ মানুষকে ভালোবাসুক,
পৃথিবী হোক শান্তির উদ্যান।
কারণ,
একদিন সব হিসাব মিলবে,
সব গোপন প্রকাশ পাবে,
সব অহংকার ভেঙে যাবে,
সব মুখোশ খুলে যাবে।
সেদিন থাকবে না কোনো ভান,
থাকবে না মিথ্যার জয়গান।
শুধু সত্যের দীপ্ত আলোয়
প্রকাশ পাবে মানুষের প্রকৃত পরিচয়।
হে পরম করুণাময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তরকে করো নির্মল,
আমাদের আমলকে করো ইখলাসে উজ্জ্বল।
অহংকার থেকে রক্ষা করো,
রিয়া থেকে দূরে রাখো,
সত্যের পথে অটল রাখো।
যখন এই পৃথিবীর সব শব্দ থেমে যাবে,
শেষ নিশ্বাসটি নীরব হয়ে যাবে,
তখন যেন আমাদের হৃদয় বলে—
"হে রব!
তোমার সন্তুষ্টিই ছিল জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।"
আমীন।
আমলই অনন্তের আলো-২
যে বীজ নীরবে মিশে থাকে উর্বর মাটির তলে,
একদিন সে-ই মহীরুহ হয়ে দাঁড়ায় আকাশ ছুঁয়ে।
তেমনি ক্ষুদ্র সৎকর্মও হারায় না কভু,
করুণাময়ের অশেষ ভাণ্ডারে থাকে তারই প্রভু।
এক ফোঁটা দয়ার জল,
একটি সত্য উচ্চারণ,
একটি মমতার স্পর্শ,
একটি নিষ্কলুষ আচরণ—
মানবজীবনের ইতিহাসে
এগুলোই হয়ে ওঠে অনন্তের অমর সম্পদ।
অন্ধকার রাতে যে জ্বালে
অপরের জন্য একটি প্রদীপ,
নিজের পথও আলোকিত হয়
সেই আলোয় ধীরে ধীরে।
কল্যাণের প্রতিটি পদক্ষেপ
ফিরে আসে আশীর্বাদের নদী হয়ে।
ধন যার অগাধ,
কিন্তু হৃদয় শূন্য—
সে প্রকৃত ধনী নয়।
যার অন্তরে আছে ঈমান,
চরিত্রে আছে সততা,
আচরণে আছে করুণা,
সে-ই প্রকৃত সৌভাগ্যবান।
সোনার অলংকারে নয়,
মানুষের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে
সৎচরিত্রের দীপ্তিতে।
বিদ্যার গৌরবও ম্লান হয়ে যায়,
যদি বিনয়ের আলো
হৃদয়ে জ্বলে না।
যে মুখ সত্য বলে,
যে হাত অন্যায় রোধ করে,
যে চোখ অশ্রুসিক্ত মানুষকে দেখে কাঁদে,
যে হৃদয় ক্ষমা করতে জানে—
সেই মানুষই পৃথিবীর
সত্যিকারের অলংকার।
নামাজ হোক আত্মার জাগরণ,
রোজা হোক প্রবৃত্তির সংযম।
জাকাত হোক ভ্রাতৃত্বের সেতু,
সদকা হোক ভালোবাসার ভাষা।
কুরআনের আলোয়
জেগে উঠুক প্রতিটি প্রাণ।
সুন্নাহর সুবাসে
সুগন্ধিত হোক প্রতিটি দিন।
জ্ঞান আর প্রজ্ঞার মিলনে
গড়ে উঠুক ন্যায়ের সমাজ।
হিংসা যেন শুকিয়ে যায়
অনাবৃষ্টির নদীর মতো।
অহংকার ঝরে পড়ুক
শুকনো পাতার মতো।
লোভের শৃঙ্খল ভেঙে
মানুষ ফিরে পাক
স্বাধীন বিবেকের ঠিকানা।
যে ক্ষমা করে,
সে ছোট হয় না;
বরং মহত্ত্বের উচ্চতায়
আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
যে সত্য আঁকড়ে ধরে,
তার পথ কঠিন হতে পারে,
কিন্তু তার পরিণতি
সম্মানের আলোয় দীপ্ত।
তওবার অশ্রু
কেবল চোখ ভেজায় না,
অন্তরের মরুভূমিতেও
করুণার বৃষ্টি নামায়।
যে ভুল স্বীকার করে,
সে পরাজিত নয়—
সে-ই আত্মজয়ের প্রথম বিজয়ী।
হে মানুষ!
আজই গড়ে নাও
তোমার আগামী দিনের পাথেয়।
আজকের প্রতিটি মুহূর্ত
আগামী বিচারের দিনের
নীরব সাক্ষী হয়ে থাকবে।
কাউকে তুচ্ছ কোরো না,
কারও অধিকার হরণ কোরো না,
কারও হৃদয় ভেঙো না,
কারও অশ্রুর কারণ হয়ো না।
কারণ মানুষের হৃদয় ভাঙা
কোনো ইটের দেয়াল ভাঙা নয়;
তার প্রতিধ্বনি পৌঁছে যায়
অসীম আকাশের ওপারে।
জীবনের প্রকৃত সাফল্য
প্রশংসার করতালিতে নয়,
রবের সন্তুষ্টিতে।
প্রকৃত সম্মান
ক্ষমতার সিংহাসনে নয়,
সৎ আমলের মহিমায়।
তাই এসো,
আমরা এমন জীবন গড়ি,
যেখানে সত্য হবে ভাষা,
ন্যায় হবে পথ,
করুণা হবে পরিচয়,
আর ইখলাস হবে
প্রতিটি আমলের প্রাণ।
হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তরকে অহংকারমুক্ত করো,
আমাদের জিহ্বাকে সত্যের ভাষা দাও,
আমাদের হাতকে কল্যাণের কাজে নিয়োজিত করো,
আমাদের পদক্ষেপকে ন্যায়ের পথে স্থির রাখো।
আমাদের প্রতিটি আমল
তোমার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করো।
আমাদের জীবনকে করো
মানবতার কল্যাণে নিবেদিত,
আর মৃত্যুকে করো
তোমার রহমতের সঙ্গে
শান্তিময় এক মিলনের সূচনা।
আমীন।
১৪
২৪ মন্তব্য