সহকারী অধ্যাপক
২৯ জুন, ২০২৬ ০৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
অণু পরিমাণ আমল - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
অণু পরিমাণ আমল
(সূরা আয-যিলযাল:৬–৮ আলোকে)-
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
সেদিন মানুষ উঠবে সবাই, কবর ভেঙে জেগে,
ছুটে যাবে দলে দলে, অজানা এক বেগে।
কেউ হবে না রাজা তখন, কেউ হবে না দাস,
একই ময়দানে দাঁড়াবে সব, থেমে যাবে শ্বাস।
সোনার মুকুট থাকবে না আর, থাকবে না অহংকার,
ক্ষমতার সব দম্ভ মুছে, নিভে যাবে অন্ধকার।
যে ছিল ধনী, যে ছিল গরিব,
একই পথে চলবে সবাই, একই হবে নসিব।
দুনিয়াজোড়া প্রাসাদগুলো
থাকবে মাটির বুকে,
মালিকহারা স্মৃতির মতো
নীরব শূন্য সুখে।
হাতে থাকবে না ধন-সম্পদ,
থাকবে না পরিচয়,
সঙ্গে থাকবে আমলনামা—
সেটাই চূড়ান্ত পরিচয়।
পাতা পাতায় লেখা থাকবে
জীবনের প্রতিচ্ছবি,
হাসি-কান্না, দান-অবদান,
সত্য-মিথ্যার ছবি।
একটি মিষ্টি কথাও লেখা,
একটি কঠিন বাক্য,
একটি হাসি, একটি সান্ত্বনা,
সবই হবে সাক্ষ্য।
ক্ষুধার্তকে একমুঠো ভাত,
তৃষ্ণার্তকে জল,
এতটুকু দানও হারাবে না,
রব রাখবেন সম্বল।
একটি খেজুর অর্ধেক যদি
দিয়েছিলে দান,
তারও আলো জ্বলে উঠবে
রহমতেরই গান।
একটি শিশুর চোখের জলে
মুছিয়েছিলে ব্যথা,
একটি বৃদ্ধার কাঁধে রেখে
বলেছিলে সান্ত্বনা-কথা—
সবই লেখা, সবই রক্ষিত,
হারায়নি কিছুই আর,
রবের কাছে অণু পরিমাণ
আমলও অমূল্য ভার।
আবার যদি অবহেলায়
করেছ কারও ক্ষতি,
ভেবেছ—"এ তো সামান্য ছিল,
হবে না কোনো গতি।"
মিথ্যা একটি ছোট্ট কথা,
অকারণে অপবাদ,
অন্যের মনে কষ্ট দেওয়া,
অহংকারের সাধ—
সবই সেদিন সামনে এসে
দাঁড়াবে নীরব হয়ে,
মানুষ তখন কাঁদবে শুধু
নিজের কর্ম লয়ে।
ছোট গোনাহ জমতে জমতে
হয় যে পাহাড়সম,
বিন্দু বিন্দু বৃষ্টিধারা
ভরিয়ে তোলে নদী যেমন।
ছোট ছোট সৎকাজগুলো
জমে আলোর ঢেউ,
সেগুলোই হবে আশ্রয় তখন,
সঙ্গী হবে কেউ।
হাসিমুখে সম্ভাষণ করা,
ভালোবাসার বাণী,
এগুলোও যে ইবাদত হতে
শেখায় দ্বীনের বাণী।
ক্ষমা করা, ধৈর্য ধরা,
অন্যকে সম্মান,
এসব দিয়েই গড়ে ওঠে
মানবতার প্রাণ।
প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া,
অসহায়ের পাশে,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগানো
নীরব ভালোবাসে।
সামান্য মনে করো না আর
এক ফোঁটা অশ্রু মোছা,
হয়তো সেটাই কিয়ামতে হবে
মুক্তির প্রথম দিশা।
মন্দকে ছোট ভেবো না আর,
আগুনও স্ফুলিঙ্গ হয়,
একটি স্ফুলিঙ্গ দাবানলে
বনভূমি পুড়িয়ে লয়।
তাই তো আজই জাগো সবাই,
করো অন্তর শুদ্ধ,
সৎকর্ম দিয়ে সাজাও জীবন,
হোক বিবেক বুদ্ধ।
প্রতিটি ক্ষণ অমূল্য ধন,
ফিরে আসে না আর,
আজকের কাজই কালকে হবে
জীবনের অধিকার।
সময় নদী থেমে থাকে না,
দিন ফুরিয়ে যায়,
জীবনের এই ক্ষণস্থায়ী পথ
চিরবিদায় চায়।
হে মানুষ! মনে রেখো সদা—
রব দেখেন সব,
গোপন কথা, অন্তর ভাবনা,
সবই তাঁরই রব।
তাই তো এসো, করি প্রতিজ্ঞা,
সত্য হবে পথ,
অন্যায় ছেড়ে ন্যায়ের ডাকে
করব জীবন রত।
অণু পরিমাণ সৎকাজ যেন
হয় না কোনোদিন ক্ষয়,
অণু পরিমাণ পাপকেও যেন
দূরে রাখি নির্ভয়।
হে দয়াময়, ক্ষমার সাগর,
শোনো অন্তর ধ্বনি,
আমলখাতা আলোকিত করো
তোমার নূরের বাণী।
আমাদের সব ভুল ক্ষমা করো,
দাও তাওবার দ্বার,
ছোট-বড় সব গোনাহ মুছে
করো হৃদয় উদার।
সৎকর্মে দাও অটল রাখো,
দাও ইখলাসের আলো,
শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত যেন
করি শুধু ভালো।
যেদিন সবাই বেরিয়ে আসবে
বিক্ষিপ্ত জনসমুদ্র,
সেদিন যেন ডান হাতে পাই
আমলখাতার পত্র।
অণু পরিমাণ সৎকর্মগুলো
হোক মুক্তির সোপান,
তোমার রহমতে জান্নাত হোক
আমাদের চিরস্থান।
আমীন।
অণু পরিমাণ আমল
যেদিন ধরণী কাঁপবে ভীষণ, ভাঙবে নীরব ঘুম,
কবর হতে মানুষ উঠবে, থামবে না কোনো ধুম।
বিক্ষিপ্ত দলে এগিয়ে যাবে বিচার দিনের পানে,
সত্য তখন জেগে উঠবে মহান রবের টানে।
রাজা-প্রজা এক কাতারে, ধনী কিংবা গরিব,
ক্ষমতার সব গর্ব মুছে একই হবে নসিব।
সোনার প্রাসাদ, অট্টালিকা, ধনরত্নের ভার,
পৃথিবীরই বুকে রবে, যাবে শুধু অধিকার।
যে হাতে গড়েছিল নগর,
যে বুনেছিল স্বপ্ন,
সে-ই হাতে আজ ধরা থাকবে
আমলখাতার পত্র।
লেখা থাকবে প্রতিটি ক্ষণ,
প্রতিটি আচরণ,
একটি কথা, একটি দৃষ্টি,
প্রতিটি স্পন্দন।
এক ফোঁটা অশ্রু মুছে দিলে
লেখা আছে তাও,
ক্ষুধার্ত মুখে ভাত তুলে যে
দিয়েছিলে, তাও।
তৃষ্ণার্তকে এক মগ পানি,
ক্লান্তকে এক ছায়া,
সান্ত্বনার এক কোমল বাক্য
হারায় না তার মায়া।
হাসিমুখে সম্ভাষণ যদি
করেছিলে কভু,
সেই হাসিটুকুও রয়ে গেছে
সর্বজ্ঞানের প্রভু।
অর্ধেক খেজুর দানটি যদি
করেছিলে নীরবে,
রহমতেরই নূর হয়ে তা
আলোক ছড়াবে রবে।
প্রতিবেশীর দুঃখে যদি
ছিলে তুমি সাথি,
অভাবীর ঘরে পাঠিয়েছিলে
সামান্য উপহারটি—
ছোট্ট হলেও হারাবে না,
মূল্য পাবে ঠিক,
অণু পরিমাণ সৎকর্মও
আল্লাহর কাছে দিক।
আবার যদি ভেবেছ মনে—
"এ তো ক্ষুদ্র পাপ!"
আজ নয়, কাল নয়, কোনোদিন
হবে না এর চাপ।
একটি মিথ্যা, একটুখানি
অন্যায় অবহেলা,
কারও মনে কষ্ট দেওয়া,
হিংসার বিষখেলা।
অহংকারের একটি দৃষ্টি,
তিক্ত একটি বাণী,
অকারণে অপবাদ দিয়ে
ভাঙা কারও প্রাণই—
সবই লেখা, সবই রক্ষিত,
কিছুই নয় হারায়,
বিচার দিনের ন্যায়ের পাল্লা
সব হিসাবই চায়।
ধূলিকণার চেয়েও ক্ষুদ্র
যে কর্ম অদৃশ্য,
রবের জ্ঞানে তাও স্পষ্ট,
তাঁরই কাছে দৃশ্য।
সূর্যের রশ্মি ভেদ করে যে
ধুলোর কণা ভাসে,
সেই পরিমাণ আমলও যে
বিচারের খাতায় আসে।
ছোট গোনাহ জমতে জমতে
পাহাড় হয়ে যায়,
বিন্দু বিন্দু জল মিলিয়ে
সাগর গড়ে তায়।
ছোট সৎকাজ মিলতে মিলতে
আলোকশিখা জ্বলে,
রহমতেরই সুবাতাসে
জীবন নূরে দোলে।
তাই হে মানুষ, আজই জাগো,
বদলে ফেলো মন,
সত্য, ন্যায় আর তাকওয়াতে
হোক জীবন গঠন।
কাউকে কভু তুচ্ছ কোরো না,
করো না অবহেলা,
একটি ভালো ব্যবহারে
ফুটুক প্রেমের মেলা।
অসহায়ের পাশে দাঁড়াও,
দুঃখীর হও বন্ধু,
মানুষ গড়ার মহাসাধন
এই তো শ্রেষ্ঠ পন্থা।
ক্ষমা করতে শেখো সদা,
ভালোবাসো প্রাণ,
কল্যাণময় আচরণেই
সুন্দর হয় জ্ঞান।
আজ যে সময় হাতে আছে
কাল তা নাও রবে,
আজকের আমল চিরদিনের
ভাগ্যলেখা হবে।
মুখের ভাষা, চোখের দৃষ্টি,
অন্তরেরই ভাব,
সবকিছুরই হিসাব হবে,
নেই কোনোই চাপা।
গোপন কথা, নিভৃত কান্না,
নিঃশব্দ ইবাদত,
সবই জানেন বিশ্বপালন
রহমতেরই সত্তা।
হে দয়াময়! অন্তর হতে
মুছে দাও সব কালিমা,
সৎকর্ম দিয়ে ভরিয়ে দাও
আমাদের প্রতিমা।
অহংকার আর হিংসা-বিদ্বেষ
দূর করো অন্তর,
সত্যের পথে অবিচল রাখো
প্রতিটি প্রহর।
অণু পরিমাণ সৎকর্ম যেন
না হয় কোনো ক্ষয়,
অণু পরিমাণ পাপকেও যেন
ভয় করি নির্ভয়।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেন
ইখলাস থাকে প্রাণে,
ডান হাতে পাই আমলখাতা
বিচার দিবসখানে।
যেদিন সবাই বিক্ষিপ্ত দলে
উঠবে কবর ছেড়ে,
সেদিন যেন রহমতের ডাক
শুনি অন্তর ভরে।
হে পরম রব! তোমার দয়ায়
ক্ষমা করো অপরাধ,
অণু পরিমাণ সৎকর্মগুলো
করো জান্নাতের সাধ।
এই হোক মোদের জীবনপথ,
এই হোক অন্তর গান—
ছোট্ট সৎকাজ বৃথা নয়,
ছোট পাপেও অবসান।
অণু পরিমাণ আমল নিয়েই
মানুষ পাবে ফল,
ন্যায়ের মালিক আল্লাহর কাছে
নেই কোনোই ছল।
তাই এসো সবাই প্রতিজ্ঞা করি,
সত্যের পথে চলি,
সামান্য ভালো অবহেলা নয়,
পাপ থেকেও টলি।
কারণ প্রতিটি কর্ম একদিন
দাঁড়াবে সাক্ষী হয়ে,
রহমতেরই আশায় মোরা
ফিরব রবের বুকে।
অণু পরিমাণ আমল
ধরণী যখন কেঁপে উঠবে মহা বিচারের ভোরে,
মানুষ তখন জেগে উঠবে কবরেরই ঘোরে।
দলে দলে সব বেরিয়ে আসবে বিস্ময়েরই টানে,
দাঁড়াবে গিয়ে বিচারপতির সুবিশাল ময়দানে।
সেদিন কারও রাজ্য থাকবে না,
থাকবে না অহংকার,
ক্ষমতার সব রঙিন মুকুট
হবে ধূলিসার।
যে ছিল ধনী, যে ছিল গরিব,
যে ছিল মহাশক্তিমান,
একই কাতারে দাঁড়াবে সবাই,
একই হবে স্থান।
ঘরবাড়ি আর অট্টালিকা
থাকবে পৃথিবীতেই,
সঙ্গে যাবে শুধু আমলগুলো
চিরদিনের সাথেই।
স্বর্ণ-রৌপ্য, ধন-সম্পদ,
কিছুই হবে না সঙ্গী,
সৎকর্ম শুধু আলোর প্রদীপ,
পাপই অন্ধকার ভঙ্গি।
খুলে যাবে সব আমলখাতা,
লুকোবে না কিছুই,
প্রতিটি কথা, প্রতিটি দৃষ্টি,
প্রকাশ পাবে সেইই।
একটি হাসি, একটি সম্ভাষণ,
একটি স্নেহবাণী,
অমূল্য হয়ে জ্বলে উঠবে
রহমতেরই খানি।
তৃষ্ণার্তকে এক মগ পানি,
ক্ষুধার্তকে ভাত,
অসহায়ের কাঁধে হাত রাখা—
সবই হবে প্রভাত।
অর্ধেক খেজুর দানটি যদি
করেছিলে আল্লাহর তরে,
সেই সামান্য দানও সেদিন
আলোক হয়ে ঝরে।
একটি শিশুর কান্না থামাও,
একটি প্রাণে হাসি,
এসব কাজের প্রতিদানও
রব রাখেন খাঁটি।
প্রতিবেশীর দুঃখে যদি
হয়েছিলে আপন,
সেই মুহূর্তও লেখা আছে
চিরসত্যের পত্রে গোপন।
কোনো ভালো কাজই ছোট নয়,
ছোট নয় দয়ার দান,
অণু পরিমাণ নেক আমলেও
ভরে রহমতভুবন।
আবার যদি মনে করো—
"এ তো ছোট পাপ",
সেই ভুলটুকুই একদিন হবে
দুঃখের কঠিন চাপ।
একটি মিথ্যা, একটি গালি,
অকারণে অপবাদ,
একটি তাচ্ছিল্যভরা হাসি,
একটি অন্যায় সাধ।
এক ফোঁটা বিষ যেমন গিয়ে
দূষিত করে জল,
ছোট্ট গোনাহ তেমনি গড়ে
অপরাধের দল।
বিন্দু বিন্দু বৃষ্টি যেমন
নদী ভরিয়ে যায়,
ছোট ছোট পাপ জমে শেষে
পাহাড়সম হয়।
আবার বিন্দু বিন্দু সৎকর্ম
জমে নূরের ঢেউ,
সেই আলোয়ই মুক্তির পথে
সঙ্গী হবে কেউ।
তাই হে মানুষ! ভেবো না আর—
"সামান্য এতে কী?"
আল্লাহর কাছে প্রতিটি আমল
চিরমূল্যবানই।
হাসিমুখে কথা বলাটাও
ইবাদতের রঙ,
ভালোবাসার একটি শব্দ
মুছে শতই জ্বালা-দহন।
ক্ষমা করো, নম্র হও,
ভাঙা মনকে জোড়ো,
মানবতার এই শিক্ষাটি
জীবনভরে ধরো।
অহংকারের মুকুট খুলে
বিনয় মাথায় নাও,
অন্যায়ের সব পথ ছেড়ে
সত্যপথে যাও।
কারও প্রতি ঘৃণা রেখো না,
রেখো না অবজ্ঞা,
মানুষ হয়ে মানুষ গড়াই
জীবনেরই যজ্ঞ।
চোখের পানি মুছে দেওয়া,
ভালোবাসার হাত,
এসব দিয়েই প্রস্ফুটিত হয়
মানবধর্মের প্রভাত।
যে নামাজে হৃদয় জাগে,
যে সিজদায় নূর,
সেই আমলই আলোক হয়ে
করবে পথটা দূর।
যে কুরআনের বাণী শুনে
জীবন বদলে যায়,
সেই আলোয়ই অন্তরজুড়ে
সত্যের সূর্য ওঠায়।
হে মানুষ! সময় অল্প,
জীবন নদীর ঢেউ,
আজ যে সুযোগ হাতের মুঠোয়
কাল তা থাকবে নেউ।
আজই গড়ো নেকির বাগান,
আজই বদলাও প্রাণ,
আজকের আমল কালকে হবে
চিরজীবনের মান।
মুখের ভাষা, অন্তর ভাব,
চোখের নীরব জল,
সবকিছুরই হিসাব হবে,
রহবে না বিফল।
অন্ধকারে গোপন পাপও
রবের অজানা নয়,
নিভৃত রাতে কান্নার দোয়াও
তাঁর দরবারে রয়।
তাই তো এসো, শুদ্ধ হই,
সত্যে গড়ি মন,
ইখলাস দিয়ে সাজাই জীবন,
বাড়াই নেকির ধন।
হে পরম দয়াল আল্লাহ,
ক্ষমা করো মোরে,
অজ্ঞতাতে যত ভুল করেছি
দিন ও রাতের ঘোরে।
অণু পরিমাণ সৎকর্ম যেন
না যায় কখনো হারিয়ে,
অণু পরিমাণ পাপকেও যেন
রাখি ভয়ে সরিয়ে।
আমলখাতা ডান হাতে দিও
বিচার দিবসপ্রাতে,
রহমতের ছায়া দিও মোরে
মহা সমাবেশমাঠে।
মীযানের পাল্লা ভারী হোক
নেক আমলের নূরে,
পুলসিরাত পার করো মোরে
তোমার রহমত সুরে।
জান্নাতের সেই শান্তি-ছায়ায়
ডেকে নিও শেষে,
তোমার সন্তুষ্টি হোক যে প্রাপ্তি
সব অর্জনের শেষে।
কারণ মানুষ বেঁচে থাকে না
ধন, ক্ষমতা, মানে—
বেঁচে থাকে সে নেক আমলের
অমর আলোকগানে।
অণু পরিমাণ সৎকর্ম যার,
সে-ই সত্যিকারের ধনী;
অণু পরিমাণ পাপকে যে ভয় করে,
সে-ই প্রজ্ঞাবান জ্ঞানী।
এই হোক মোদের অঙ্গীকার,
এই হোক জীবনের বাণী—
"ছোট কোনো নেকি নয় তুচ্ছ,
ছোট কোনো পাপ নয় হালকা জানি।"
অণু পরিমাণ আমল
যেদিন ধরণী কাঁপবে ভীষণ,
উল্টে যাবে কাল,
মানুষ জেগে উঠবে সেদিন
ভেঙে কবরজাল।
দিগন্তজোড়া জনসমুদ্র
বেরিয়ে আসবে ধীরে,
বিক্ষিপ্ত সব মানবদল
বিচার দিনের তীরে।
কেউ হবে না রাজাধিরাজ,
কেউ হবে না দাস,
একই কাতারে দাঁড়াবে সবাই,
থেমে যাবে শ্বাস।
ক্ষমতার সব সিংহাসন
রহবে ধুলোর তলে,
অহংকারের উঁচু মিনার
ভেঙে পড়বে জলে।
দালান-কোঠা, ধনরত্ন,
স্বর্ণখচিত ঘর,
সবই থাকবে পৃথিবীতে,
যাবে শুধু পর।
যে হাতে গড়েছিল নগর,
যে বুনেছিল স্বপ্ন,
সেই হাতেই ধরা থাকবে
আমলখাতার পত্র।
খুলে যাবে প্রতিটি পাতা,
প্রকাশ হবে সব,
গোপন কথা, নিভৃত কান্না,
সবই জানেন রব।
একটি হাসি, একটি কথা,
একটি শুভেচ্ছা,
একটি কোমল সান্ত্বনাবাণী,
একটি ভালো ইচ্ছা—
কিছুই যাবে না হারিয়ে,
কিছুই হবে না ক্ষয়,
প্রতিটি নেকির প্রতিদান
অমলিন হয়ে রয়।
ক্ষুধার্ত মুখে একমুঠো ভাত,
তৃষ্ণার্তকে জল,
একটি ছায়া পথিককে,
একটি মধুর বল—
এতটুকু নেকিও সেদিন
হবে আলোর ফুল,
রহমতেরই পাল্লায় গিয়ে
হবে না কখনো ভুল।
অর্ধেক খেজুর দান করেছ,
নিভৃতে আল্লাহর তরে,
সেই সামান্য দানও সেদিন
নূরের দীপ জ্বরে।
একটি এতিম শিশুর মাথায়
রেখেছিলে যে হাত,
সেই মমতার স্মৃতি হবে
চিরউজ্জ্বল প্রভাত।
ভাঙা হৃদয় জুড়ে দিলে
ভালোবাসার বাঁধন,
সেই কাজটিও অমূল্য হবে
রবের মহা সাধন।
প্রতিবেশীর দুঃখে যদি
ছিলে আপনজন,
সেই মুহূর্তও রক্ষিত আছে
অমর স্মৃতিপণ।
হাসিমুখে সম্ভাষণ করা,
ক্ষমা করা প্রাণে,
নম্রতার সেই আলোকরেখা
জ্বলবে অনুপম টানে।
তাই তো নেকি ছোট নয়,
ছোট নয় উপকার,
অণু পরিমাণ সৎকর্মও
অমূল্য উপহার।
আবার যদি মনে করো—
"এ তো সামান্য পাপ!"
সেই অবহেলাই একদিন
হবে ভয়ের চাপ।
একটি মিথ্যা, একটি গালি,
একটি তিক্ত বাণী,
একটি হিংসা, এক অহংকার,
একটি ছলনাখানি—
সবই লেখা, সবই গোনা,
নেই কোনো বিস্মরণ,
ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লায়
হবে তারই পরিমাপণ।
ধূলিকণার মতো ক্ষুদ্র
যে অপরাধখানি,
তাও যে সেদিন সামনে এসে
দেবে নিজের বাণী।
বিন্দু বিন্দু বৃষ্টি যেমন
নদী ভরিয়ে যায়,
ছোট ছোট পাপ জমে শেষে
পাহাড়সম হয়।
আবার ক্ষুদ্র নেকির ধারা
মিললে শত সহস্র,
রহমতেরই সাগর গড়ে,
জ্বলে নূরের অস্ত্র।
তাই হে মানুষ, জেগে ওঠো,
সময় বড় কম,
আজকের আমল কালকে হবে
চিরজীবনের সম।
সত্যকে ভালোবাসো সদা,
ন্যায়কে রাখো প্রাণ,
মানুষ হয়ে মানুষ গড়াই
হোক জীবনের জ্ঞান।
অসহায়ের পাশে দাঁড়াও,
ভাঙা মনকে জোড়ো,
ক্ষমা দিয়ে বিদ্বেষ ধুয়ে
আলোর পথে চলো।
অহংকারের ভার নামিয়ে
বিনয় করো সাথী,
তাকওয়ারই সুগন্ধ ছড়াক
জীবনের প্রতিপথে।
মুখের ভাষা কোমল করো,
চোখে দাও মমতা,
হৃদয়জুড়ে জাগুক সদা
সত্যের পবিত্রতা।
যে নামাজে মন নত হয়,
যে সিজদায় নূর,
সে ইবাদত পথ দেখাবে
অসীম শান্তি-সুর।
যে কুরআনের আলো বুকে
জাগায় সত্যজ্ঞান,
সে-ই আলোয় প্রস্ফুটিত হোক
প্রতিটি প্রাণপ্রাণ।
আজ যে ক্ষণটি হাতে আছে,
ফিরবে না আর কভু,
আজই গড়ো নেকির বাগান,
ডাকো আপন রবকে।
হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
শোনো মনের আর্তি,
আমলখাতা নূরে ভরো,
দাও ইখলাসের ভারতি।
অণু পরিমাণ নেকিগুলো
করো কবুল সব,
অণু পরিমাণ পাপকেও
ক্ষমা করো রব।
শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত যেন
থাকি সত্যপথে,
অটল থাকি ঈমান নিয়ে
তোমারই রহমতে।
যেদিন মানুষ বিক্ষিপ্ত দলে
উঠবে কবর ছেড়ে,
সেদিন যেন ডান হাতে পাই
আমলখাতা ধরে।
মীযানের পাল্লা ভারী হোক
নেক আমলের তরে,
পুলসিরাত পার করো মোরে
রহমতেরই ঘোরে।
জান্নাতের সেই শান্তিবাগে
ডেকে নিও শেষে,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক
আমার শ্রেষ্ঠ দেশে।
এই হোক মোদের অঙ্গীকার,
এই হোক প্রাণের বাণী—
ছোট কোনো নেকি নয় তুচ্ছ,
ছোট কোনো পাপ নয় হালকাখানি।
অণু পরিমাণ কর্মেরও
আছে অনন্ত ফল,
ন্যায়বিচারের মালিক যিনি,
তিনি মহান, অমল।
তাই এসো সবাই, নেকির পথে
গড়ি জীবনের গান,
রবের সন্তুষ্টিই হোক মোদের
চিরদিনের সম্মান।
১৪
২৪ মন্তব্য