সহকারী অধ্যাপক
২৯ জুন, ২০২৬ ০৬:৪৯ অপরাহ্ণ
সত্য সূর্যের মতো উদ্ভাসিত হবে - মোঃ মুজিবুর রহমান
সত্য সূর্যের মতো উদ্ভাসিত হবে
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
সূর্য যেমন ঢাকে না কেউ হাজার মেঘের আড়ে,
সত্যও তেমনি ফুটে ওঠে যুগের শেষে দ্বারে।
মিথ্যার প্রাসাদ যতই হোক আকাশছোঁয়া উঁচু,
হকের আলো উঠলে শেষে থাকে না তার পিছু।
আজ যে জুলুম হাসে দেখে ক্ষমতারই বল,
কাল সে কাঁদবে নিজের হাতে বোনা কর্মফল।
আজ যে মানুষ অন্যায় করে বুক ফুলিয়ে রয়,
হাশরের সেই ময়দান দেখে হারিয়ে ফেলবে সয়।
সেদিন হবে না কোনো রাজা, হবে না প্রজা ভিন্ন,
একই কাতারে দাঁড়াবে সব মানুষ সমান চিহ্ন।
ধন-সম্পদ, পদ-পদবি, গর্বের অট্টালিকা,
এক নিমিষেই মিলিয়ে যাবে ভাঙা স্বপ্নের রেখা।
কেউ লুকোতে পারবে না আর অন্তরেরই ছল,
প্রকাশ হবে বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখা দল।
চোখের ভাষা, মুখের কথা, হৃদয়েরই ক্ষত,
সবই হবে সাক্ষী সেদিন, খুলবে গোপন পত্র।
যে অশ্রুধারা ঝরেছিল নিরবে রাতের শেষে,
মজলুমের সেই কান্নাধ্বনি উঠবে আসমানে ভেসে।
রবের দরবার শুনেছিলেন প্রতিটি আর্তনাদ,
আজকে হবে ন্যায়ের তরে মহা সুবিচার সাধ।
জালিম যতই হাসুক আজি অন্যায়েরই নেশায়,
সত্য এসে দাঁড়াবে একদিন তারই চোখের পেশায়।
মুখের রঙ হারিয়ে যাবে, কাঁপবে অন্তরখানি,
নিজের কর্ম আগুন হয়ে জ্বালাবে প্রাণবাণী।
হকের দাবিদার দাঁড়াবে সেদিন মাথা তুলে,
কেউ পারিবে না ফিরিয়ে দিতে তাকে অবহেলে।
যা কেড়ে নিয়েছিল জোরে, যা ভেঙেছিল প্রাণ,
সবকিছুরই হিসাব হবে ন্যায়ের অবসান।
নেকির ভাণ্ডার খুলে যাবে পাওনাদারের তরে,
জালিম তখন বুঝবে গিয়ে কী করেছে ধরে।
নেকি যদি শেষ হয়ে যায়, শেষ না হয় দেনা,
পাপের বোঝা কাঁধে নিয়ে কাঁদবে সে যে একা।
একটি কথা, একটি তির, একটি কটু বাক্য,
হিসাব হবে সবকিছুরই, নেই তো কোনো ফাঁক।
অণুসমান অন্যায় যদি করেও থাকে কেউ,
রবের কাছে হারায় না তা, ঢাকে না কোনো ঢেউ।
আজকে যারা ভাবছে বোধহয় কেউ দেখেনি কিছু,
ফেরেশতারা লিখে রেখেছে প্রতিটি দিনের পিছু।
পাতা খুলে পড়া হবে সব জীবনেরই গান,
কোথায় ছিল সত্যপথ আর কোথায় অবমান।
সত্য তখন সূর্য হবে দীপ্ত জ্যোতির রথ,
মিথ্যার যত মুখোশ ছিল খুলে যাবে তত।
মানুষ চিনবে মানুষকে কর্মেরই পরিচয়,
বাহ্যিক সাজ নয় তখন, আমলই হবে জয়।
কত অহংকার ভেঙে যাবে একটুখানি ক্ষণে,
কত বিনয় উজ্জ্বল হবে আল্লাহরই সনে।
যে নত হয়ে চলেছিল রবের ভয়ে সদা,
সেই হবে সম্মানিত অনন্ত সুখের পথধরা।
কত মুকুট ধুলায় মিশে লুটাবে অপমানে,
কত গরিব হাসবে সেদিন জান্নাতেরই টানে।
দুনিয়াতে যে অপমানিত ছিল সত্যের তরে,
রবের দানে সম্মান পাবে অনন্ত আলোকঘরে।
সত্য কখনো মরে না ভাই, ঘুমিয়ে থাকে ক্ষণ,
সময় এলেই বজ্রকণ্ঠে জানায় আপন মন।
সূর্য যেমন পূর্বাকাশে আপন আলো ঢালে,
হকও তেমনি জয়ী হবে কিয়ামতের কালে।
তাই চল আজ সত্যপথে ন্যায়ের পতাকা ধরি,
কারও হক আর নষ্ট করব না কোনোদিনই করি।
মিষ্টি ভাষায় মানুষ জয়, ক্ষমার সুধা ঢালি,
জুলুম থেকে দূরে থাকি, ভালোবাসা জ্বালি।
অহংকারের মুকুট ফেলে বিনয়েরই মালা,
মানুষ যেন মানুষ থাকে—এই হোক সবার পালা।
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগাই সেবার কোমল হাতে,
এই তো হবে সেরা পুঁজি হাশরেরই রাতে।
হে পরম দয়াময় আল্লাহ, তুমি করো দান,
সত্য বলার সাহস দাও, শুদ্ধ করো প্রাণ।
কারও হক যেন নষ্ট না হয় আমার হাতের ছোঁয়ায়,
তোমার ভয় থাকুক সদা অন্তরেরই কোণায়।
জুলুম থেকে বাঁচাও মোদের, বাঁচাও অন্যায় পথ,
মিথ্যার সাথে আপস যেন না করি কোনো রথ।
ক্ষমা করো ভুলত্রুটি সব, করো হৃদয় পবিত্র,
তোমার প্রেমে জাগুক প্রাণ, হোক আমল সুগভীর।
হাশরের সেই কঠিন দিনে রেখো রহমতের ছায়ায়,
মিজানের পাল্লা ভারী করো নেক আমলের মায়ায়।
হকের পথে অবিচল রাখো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ যুক্ত।
যেদিন সত্য সূর্য হয়ে উদিত হবে শেষে,
আমাদের মুখ উজ্জ্বল রেখো তোমার নূরের দেশে।
লাঞ্ছনা নয়, দিও প্রভু তোমার স্নেহের স্থান—
হকের পথে জীবন কাটুক, এ-ই হোক শেষ প্রার্থনা।
আমীন, ইয়া রব্বুল আলামীন।
সত্য সূর্যের মতো উদিত হবেই
সত্যকে ঢাকে না কোনো মেঘ, কোনো অন্ধকার ঘোর,
সূর্য যেমন ভোরের বেলা জাগায় আলোর ডোর।
হকের দীপ নিভে না কভু শত ঝড়েরই তাপে,
মিথ্যার প্রাসাদ ভেঙে পড়ে সত্যের এক চাপে।
দুনিয়াতে যে জুলুম করে শক্তির গর্বে ভরে,
ভাবছে বুঝি রক্ষা পাবে ক্ষমতারই ঘরে।
জেনে রাখুক—রবের কাছে লুকায় না কিছুই,
অন্তরেরও গোপন কথা অজানা নয় কভুই।
আজ যে কেড়ে নিল অন্যের শ্রমের ন্যায্য দাম,
আজ যে ভাঙল নিরপরাধের আশা-ভরা ঘরবাড়ি-গ্রাম,
আজ যে হাসল দুর্বল দেখে অহংকারের সুরে,
আগামীকাল দাঁড়াবে সে বিচারেরই নূরে।
সেদিন হবে না কোনো প্রহরী, হবে না কোনো প্রাচীর,
সেদিন হবে না কোনো মন্ত্রী, হবে না ক্ষমতার শির।
রাজা-প্রজা, ধনী-গরিব, জ্ঞানী কিংবা বলবান,
একই মাঠে দাঁড়াবে সবাই—রবেরই বিধান।
হাশরের সেই বিশাল প্রান্তর নিস্তব্ধ মহাক্ষণ,
কাঁপবে সেদিন মানবহৃদয়, স্তব্ধ হবে মন।
কেউ পারিবে না গোপন রাখতে অন্যায়ের ইতিহাস,
সত্য তখন সূর্যের মতো করবে প্রকাশ।
যে চোখে ছিল প্রতারণার কালো ধোঁয়ার রেখা,
সে চোখেই আজ লজ্জার অশ্রু হবে নীরব লেখা।
যে হৃদয় ছিল কঠোর পাষাণ, দয়ার ছিল শূন্য,
নিজের কর্মেই জ্বলবে সেদিন, হারাবে সব পুণ্য।
হকের দাবিদার এগিয়ে এসে বলবে নত নয়,
“হে পরম বিচারক! আজ চাই ন্যায়েরই পরিচয়।”
রব বলবেন—“আজ কারও প্রতি হবে না অবিচার,
অণু পরিমাণ কর্মও আজ হবে প্রতিদানসার।”
যার ছিল নেক আমলের ভাণ্ডার ভরা দীপের আলো,
অন্যের হক নষ্ট করে করেছে জীবন কালো—
সেই নেকি যাবে হকদারের ন্যায্য পাওনা হয়ে,
জালিম তখন দাঁড়িয়ে থাকবে শূন্য হাতে কেঁদে।
যদি নেকির ভাণ্ডার ফুরায়, দেনা থাকে বাকি,
মজলুমের পাপ এসে তখন তারই কাঁধে ঢাকি।
কী ভয়াবহ সেই বিচার! কী কঠিন সে ক্ষণ!
অন্যায়েরই আগুনে জ্বলবে অপরাধী মন।
সেদিন ধনরত্ন কাজে লাগবে না একটুও আর,
বন্ধু, স্বজন, বংশগৌরব হবে না উদ্ধার।
পদ-পদবি, বাহাদুরি, বাহ্যিক সম্মান,
আমলেরই পাল্লায় হবে সবার মূল্যায়ন।
যে নিরবে সহ্য করেছে অপমানের দাহ,
রবের দয়ায় সে-ই পাবে শান্তির সুবাহ।
যে ক্ষমা করে বাঁচিয়েছে শত বিদ্বেষের আগুন,
তারই জন্য খুলবে রহমতের অফুরন্ত দিগন্তগুণ।
সত্য কখনো হারে না, সত্য ঘুমায় শুধু ক্ষণ,
সময় এলেই বজ্রকণ্ঠে জাগায় বিশ্বমন।
সূর্যের আলো যেমন ভেদে রাত্রির ঘন জাল,
হকের আলো তেমনি ভাঙে মিথ্যার সব জাল।
তাই হে মানুষ! অন্যের হক কেড়ে নিও না কভু,
কারও অশ্রু ঝরিও না, করো না হৃদয় রুধু।
মাপের পাল্লা সোজা রাখো, রাখো ভাষা মধুর,
ন্যায়ের পথে চলতে শিখো, করো হৃদয় সুর।
সত্য বলো, সত্য লেখো, সত্যকেই ভালোবাসো,
মিথ্যার ক্ষণিক লাভ ত্যাগে চিরকল্যাণ খোঁজো।
অহংকারের মুকুট খুলে বিনয়েরই ফুল পরো,
মানুষ হয়ে মানুষেরই পাশে দাঁড়াতে শিখো।
যে দান করে গোপনে, যে ক্ষমা করে চুপে,
রবের রহমত বর্ষে তার জীবনভরা রূপে।
যে কষ্ট দিয়েও হাসে না, অন্যায়ে সায় দেয় না,
তারই জন্য জান্নাতের দুয়ার বন্ধ হয় না।
এসো তবে শপথ করি, জুলুম করব না আর,
কারও হক নষ্ট করব না কোনো অবস্থার।
সত্যকে রাখব হৃদয় মাঝে ঈমানেরই দীপ,
ন্যায়ের পথে কাটবে জীবন, হোক সে যতই কঠিন সীঁপ।
হে পরম করুণাময়, অন্তর করো নির্মল,
মিথ্যা, হিংসা, জুলুম হতে রাখো সদা সফল।
কারও হক যেন না নষ্ট হয় আমার হাতের তরে,
ক্ষমা করো সব অপরাধ তোমার দয়ার ঘরে।
হাশরের সেই মহাদিনে করো না লাঞ্ছিত,
তোমার রহমতের ছায়ায় রেখো চিরসম্মানিত।
মিজানের পাল্লা ভারী করো শুদ্ধ আমলের দানে,
তোমার সন্তুষ্টি দাও প্রভু জীবনের পরিণামে।
যেদিন সত্য সূর্য হয়ে উদিত হবে ধরা,
লজ্জিত নয়—করো আমাদের নূরে ভরা সরা।
হকের পথে মৃত্যু হোক, হকের পথে প্রাণ,
তোমার দয়ায় সফল হোক ইহকাল-পরকাল জ্ঞান।
সত্য সূর্যের মতোই উদিত হবে—
হকের আলো কখনো নিভে না।
জুলুমের ছায়া যত দীর্ঘই হোক,
আল্লাহর ন্যায়বিচারের সামনে তা একদিন নিশ্চয়ই বিলীন হবে।
আমীন, ইয়া রব্বুল আলামীন।
***
সত্য সূর্যের মতো উদিত হবেই
আলোকে কি বন্দী রাখে অন্ধকারের দেয়াল?
সত্যকে কি থামিয়ে রাখে মিথ্যার কুয়াশাজাল?
সূর্য যেমন উদয় হলে মুছে নিশির ভয়,
হকের আলো তেমনি একদিন জয়ী হবেই—জয়।
যুগে যুগে সত্যের পথে উঠেছে কত ঝড়,
অন্যায় এসে রুখতে চেয়েছে ন্যায়ের দৃঢ় ঘর।
ক্ষমতার সব রক্তচক্ষু, মিথ্যার সব জাল,
রবের ইচ্ছায় ভেঙে যায়—হয় না কোনো কাল।
অহংকারের সোনার মুকুট মাটির ধূলি হয়,
মানবতার সাদা পতাকা অনন্ত বিজয় লয়।
ধনরত্নের অহমিকা সব মিলিয়ে যায় শেষে,
শুধু থাকে কর্মের আলো চিরদিনের দেশে।
কেউ বলে না চিরদিনের আমি শক্তিমান,
কেউ রাখেনি মৃত্যুকে রুখে নিজের সম্মান।
যে এসেছিল শূন্য হাতে, ফিরবেও তেমনি একা,
সঙ্গে যাবে আমল শুধু—রবের দেওয়া দেখা।
দুনিয়াটা ক্ষণিক পথ, মুসাফিরের ঠিকানা,
চিরস্থায়ী আবাস নয় সুখের কারখানা।
হাসি-কান্না, লাভ-লোকসান, জয়-পরাজয় মিলে,
মানুষ শেখে জীবনেরই গভীর অর্থ খুলে।
হাজার রঙের প্রাসাদ গড়ে মানুষ যত চায়,
সময়েরই এক ইশারায় সব ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
শুধু থাকে নেক আমলের অমল সোনার দাগ,
যা কখনো মুছে না যায় যুগের পর যুগ ভাগ।
সত্যকে যে বুকে রাখে ঈমানেরই দীপ,
ঝড় এলেও নিভে না তার অন্তরের প্রদীপ।
মিথ্যার রথ যত দ্রুতই ছুটুক শত পথ,
শেষে এসে থেমে যাবে ন্যায়ের মহারথ।
কারও চোখের অশ্রুবিন্দু বৃথা ঝরে না কভু,
সবই জানেন, সবই দেখেন বিশ্বজগতের রব।
অসহায়ের নীরব দীর্ঘশ্বাস রাতের আকাশ ভেদে,
রহমতেরই দরবারে যায় ন্যায়ের দাবি নিয়ে।
জুলুম যতই শক্তিশালী দেখাক বাহির রূপ,
অন্তরে তার ভয়ের আগুন জ্বলে অনুপম ধূপ।
হকের পথে দাঁড়ানো জন ক্ষণিক কষ্ট পায়,
কিন্তু শেষে সম্মান তার ইতিহাসে জায়।
সূর্য যেমন পূর্বাকাশে সময়মতো ওঠে,
তেমনি সত্য নির্ধারিত ক্ষণে বিশ্বমাঝে ফোটে।
মেঘের আড়াল যতই হোক, আলো থামে না,
রবের লেখা ন্যায়ের বিধান বদলায় না।
মানুষ শুধু মানুষ হবে—এই তো শ্রেষ্ঠ ডাক,
বিদ্বেষ, হিংসা, ঘৃণার আগুন করুক আজই ফাঁক।
ভাঙা হৃদয় জুড়ে দিই ভালোবাসার সুরে,
হকের আলো জ্বালিয়ে দিই পৃথিবীর প্রতিটি ঘরে।
যে ক্ষমা করে, সে-ই বড়; যে দয়া করে, জয়,
যে সত্য বলে, সে-ই শেষে অমর পরিচয়।
অন্যায় যদি সামনে আসে, নত না করি শির,
রবের ভয়ে রাখি প্রাণে ন্যায়ের অটল নীর।
চল তবে আজ শপথ করি—হক করিব মান,
কারও অধিকার নষ্ট হবে না আমার প্রাণ।
সত্য হবে জীবনের পথ, ন্যায় হবে অবলম্বন,
আল্লাহরই সন্তুষ্টিতে পূর্ণ হোক জীবন।
এ কাব্যের প্রতিটি পঙ্ক্তি এক আহ্বানের গান—
মানুষ যেন মানুষ থাকে, জাগুক বিবেকপ্রাণ।
হাশরের সেই মহাদিনে লজ্জিত নয়, হে রব,
তোমার নূরের ছায়ায় রেখো—এই আমাদের সব।
সত্য সূর্যের মতো উদিত হবেই
আলোকে কি বন্দী রাখে অন্ধকারের দেয়াল?
সূর্যকে কি রুখে দিতে পারে মেঘের জাল?
সত্যও তেমনি চিরউজ্জ্বল, অমল, অবিনাশী,
কালের বুকে জেগে থাকে অক্ষয় আলোকরাশি।
যুগে যুগে মিথ্যার মুকুট উঠেছে কতবার,
ক্ষমতারই অহংকারে কেঁপেছে সংসার।
তবু শেষে সত্যই জিতেছে ইতিহাসের পাতায়,
ন্যায়ের সূর্য উদিত হয়েছে আল্লাহরই ইচ্ছায়।
হাজার ঝড়, লক্ষ বাধা, অগণিত অবহেলা,
হকের পথে চলার মাঝে এসেছে কত বেলা।
তবু যারা সত্য বুকে রেখেছে অবিচল,
তাদের জীবন দীপ্যমান নক্ষত্রসম উজ্জ্বল।
দুনিয়াটা ক্ষণিক সফর, ক্ষণিক সুখের মেলা,
আজ যে হাসে, কালই তার শেষ হয়ে যায় খেলা।
ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদা, প্রাসাদ, রাজদণ্ড,
মৃত্যুর কাছে সবই একদিন হয় নীরব স্তব্ধ।
যে এসেছিল শূন্য হাতে, ফিরবে শূন্য হয়েই,
সঙ্গে যাবে আমল শুধু রবের ডাকে সয়েই।
সোনা-রূপা, হীরামুক্তা, জমি কিংবা ভিটে,
কবরপথে কেউ নিতে পারে না সেগুলো সাথে।
অহংকারের মুকুট যত মাথায় তুলে রয়,
সময়েরই এক আঘাতে ধূলিসাৎ তা হয়।
বিনয়ের যে নত শির আল্লাহরই তরে,
চিরসম্মান তারই থাকে জান্নাতেরই ঘরে।
কারও অশ্রু বৃথা নয়, বৃথা নয় আর্তনাদ,
রবের কাছে সংরক্ষিত প্রতিটি অভিযোগপত্র।
নিঃশব্দ রাতে মজলুমের দীর্ঘশ্বাসের ধ্বনি,
আরশ পানে পৌঁছে যায় অশ্রুভেজা বাণী।
জালিম ভাবে—"কেউ তো দেখেনি আমার কর্মফল!"
কিন্তু ফেরেশতা লিখে রাখে প্রতিটি অনল।
চোখের চাহনি, মুখের ভাষা, অন্তরেরও ভাব,
রবের কাছে অদৃশ্য কিছু থাকে না কোনো কালে।
অণুসমান সৎকর্ম যেমন হারিয়ে যায় না কভু,
অণুসমান অন্যায়ও অজানা নয় রব।
মিজানের পাল্লায় সেদিন উঠবে সকল কাজ,
কেউ পাবে না পক্ষপাতের সামান্যও কোনো সাজ।
সূর্য যেমন পূর্বদিগন্ত ভেদ করে উদয় হয়,
সত্যও তেমনি নির্ধারিত ক্ষণে আনে জয়।
মিথ্যার যত অট্টালিকা ভেঙে পড়ে শেষে,
হকের আলো ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজগত দেশে।
মানুষ তখন মানুষ হবে কর্মের পরিচয়ে,
বাহ্যিক রূপ মুছে যাবে বিচারেরই প্রভায়।
বংশ, পদ, পরিচয়, খ্যাতি থাকবে না আর সেদিন,
শুধু আমল বলবে তখন—কে সফল, কে অধীন।
হে মানুষ, আজই জাগো সত্যের আহ্বানে,
ন্যায়ের পতাকা তুলে ধরো পৃথিবীরই টানে।
কারও হক নষ্ট কোরো না ক্ষমতার মোহে,
অন্যায় করে সুখ মেলে না কোনো কালের দোহে।
মিষ্টি ভাষা দান করো, ক্ষমার দ্বার খোলো,
বিদ্বেষের সব অন্ধকার ভালোবাসায় ভোলো।
ভাঙা হৃদয় জুড়ে দাও সহমর্মিতার হাতে,
এই তো হবে শ্রেষ্ঠ পুঁজি হাশরেরই রাতে।
অহংকারের সিংহাসন আজই করো ত্যাগ,
মানবতার বাগিচাতে ফুটুক প্রেমের ফাগ।
যে নিজেকে ছোট ভাবতে শেখে রবের ভয়ে,
সেই-ই হবে শ্রেষ্ঠজন অনন্ত মহিমায়।
এসো তবে শপথ করি, সত্য হবে প্রাণ,
ন্যায়ের পথে কাটবে মোদের জীবনেরই গান।
জুলুম, মিথ্যা, প্রতারণা করব চিরবর্জন,
মানবতার সেবায় হবে জীবনের অর্জন।
হে পরম করুণাময়, অন্তর করো শুদ্ধ,
সত্য বলার সাহস দাও, করো বিবেক বুদ্ধ।
কারও হক যেন নষ্ট না হয় আমার হাতের ছোঁয়ায়,
তোমার ভয় থাকুক সদা হৃদয়ের গভীর কোণায়।
হাশরের সেই মহাদিনে রেখো রহমতের ছায়ায়,
মিজানের পাল্লা ভারী করো নেক আমলের মায়ায়।
যেদিন সত্য সূর্য হয়ে উদিত হবে শেষে,
আমাদের মুখ উজ্জ্বল রেখো তোমার নূরের দেশে।
আমীন।Top of FormBottom of Form
১
১ মন্তব্য