Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ জুন, ২০২৬ ০৩:৩৭ অপরাহ্ণ

রিযিকের একমাত্র দাতা-আল্লাহ তায়ালা - মোঃ মুজিবুর রহমান

                                 রিযিকের একমাত্র দাতা-আল্লাহ তায়ালা

(সূরাঃ আল-মুলক আয়াতঃ ২১ মাক্কী-আলোকে)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

কে দেবে রিযিক, বলো তবে,
যদি রব তা থামিয়ে দেন?
কে আনবে মেঘ আকাশ ভরে,
কে নামাবে বৃষ্টিধারা ক্ষণে ক্ষণে?

কে জাগাবে শস্যখেতের
ঘুমিয়ে থাকা সবুজ প্রাণ?
কে ফুটাবে ফলের হাসি,
কে ভরাবে গোলার ধান?

সূর্য যদি আলো না দেয়
কার হাতে সে আলোর শিখা?
নদী যদি শুকিয়ে যায়,
কে বইয়ে দেয় জীবনধারা?

বাতাস যদি স্তব্ধ হয়ে যায়,
কে জাগাবে প্রাণের গান?
বীজের বুকে অঙ্কুর ফোটায়
কারই বা আছে সেই সম্মান?

একটি শিশুর প্রথম কান্না,
মায়ের বুকে দুধের ধারা,
পাখির ঠোঁটে অন্নকণা,
সবই তাঁরই দানের সারা।

ক্ষুদ্র পিপীলিকার আহার,
গভীর সাগর মাছের খাদ্য,
আকাশ জুড়ে উড়ন্ত পাখি,
সবই তাঁরই অসীম সাধ্য।

তিনি দিলে ভরে ওঠে
শূন্য মাঠে সোনার ঢেউ,
তিনি নিলে কোটি ধনেও
একটি দানাও থাকে না কেউ।

অহংকারে বুক ফুলিয়ে
মানুষ ভাবে—"আমিই বড়!"
ভুলে যায় সে, নিঃশ্বাসটুকুও
রয়েছে তাঁর ইশারায় গড়া।

ধন-সম্পদ, প্রাসাদ, ক্ষমতা,
কতই না তার বাহাদুরি!
এক নিমেষে সবই মুছে
হয় ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্নই।

যে কৃষক ভোরে মাঠে নামে,
সে জানে বৃষ্টির মূল্য কত।
যে জেলে নামে নদীর বুকে,
সে জানে স্রোতের গোপন রথ।

যে শ্রমিক ঘামে ভিজিয়ে
রচনা করে সভ্যতার পথ,
সে-ও জানে—পরিশ্রম সার্থক
যখন মেলে রবের মত।

পরিশ্রম করো, অবশ্যই করো,
এ জীবন কর্মের স্থান;
তবু মনে রেখো—ফল দান করেন
রহমতের মহান দয়াময় প্রাণ।

তিনি না চাইলে অঙ্কুর ফোটে না,
তিনি না চাইলে ফুলও নয়;
তিনি না চাইলে ফলের ডালে
মিষ্টি রসের জন্ম হয়?

তবু কেন এই উদ্ধত মন,
কেন এত গর্বের ভাষা?
যার দয়াতে সকাল জাগে,
তাঁকেই কেন করি নিরাশা?

সত্যের ডাকে সাড়া না দিয়ে
কতই মানুষ দূরে সরে,
নিজের গড়া মিথ্যার দেয়াল
নিজেকেই যে বন্দী করে।

উপদেশ আসে বারবার,
তবু হৃদয় জাগে না কেন?
অহংকারের পাথরচাপায়
সত্যের আলো লাগে না যেন।

ক্ষমতা ক্ষণিক, জীবন ক্ষণিক,
ক্ষণিক পৃথিবীর সব আয়োজন;
চিরস্থায়ী কেবল তাঁরই
অপরিসীম অনুগ্রহ-দান।

অন্নের দানা হাতে এলে
শুকরিয়ার গান শিখি,
এক ফোঁটা জল ঠোঁটে ছুঁলেই
স্মরণ করি—তিনি আছেনই।

দুঃখ এলে ধৈর্য রাখি,
সুখ এলে করি না গর্ব;
রিযিকদাতার প্রতি ভরসাই
মুমিন জীবনের সর্বস্ব।

হৃদয় জুড়ে বিনয় ফুটুক,
সত্য হোক জীবনের শপথ;
অন্যায়, ঔদ্ধত্য, হিংসা ছেড়ে
ধরি ন্যায়ের আলোকপথ।

মানুষ মানুষকে ভালোবাসুক,
ভাঙুক বিভেদের প্রাচীর;
রিযিকের মালিক একমাত্র যিনি,
তাঁরই হোক অন্তর স্থির।

তিনি দিলে দারিদ্র্যেও শান্তি,
তিনি নিলে ঐশ্বর্যও শূন্য;
তাঁরই নামে শুরু হোক পথ,
তাঁরই নামে হোক জীবন পূর্ণ।

এসো সবাই মাথা নত করি,
ত্যাগ করি অহংকারের ভার;
রিযিকদাতার দয়ার ছায়ায়
গড়ি মানবতার সংসার।

হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তর করুন নম্র,
হালাল রিযিকে ভরিয়ে দিন
প্রতিটি সকাল, প্রতিটি প্রহর।

অহংকার, অবাধ্যতা, বিমুখতা
দূর করুন অনন্ত কৃপায়;
সত্যকে ভালোবাসার শক্তি দিন,
রাখুন হিদায়াতের ছায়ায়।

আপনার দানেই বাঁচি আমরা,
আপনার দানেই জীবনের জয়;
আপনাকেই করি পূর্ণ ভরসা,
আপনাকেই করি সর্বময়।

যেদিন থেমে যাবে এ জীবনের
সমস্ত কর্ম, সমস্ত গান,
সেদিনও চাই আপনার রহমত,
আপনার ক্ষমা, আপনার সম্মান।

আপনিই রিযিক, আপনিই ভরসা,
আপনিই জীবনের আলো;
আপনার সন্তুষ্টির পথেই চলি,
হে রব, আমাদের রাখুন ভালো।

***

কে আছে বলো এই ভুবনে,

রিযিক দেবে তাঁরই মতো?

তিনি যদি বন্ধ করেন

করুণাধারার অমৃতস্রোত।

কে আনবে মেঘ দিগন্ত ভরে,

কে বর্ষাবে সুধাবৃষ্টি?

কে সাজাবে সবুজ ধরণী,

কে দেবে শস্যে সোনার সৃষ্টি?

কে জাগাবে মৃত মাটিকে,

অঙ্কুর ভরা প্রাণের টানে?

কে হাসাবে ফলের বাগান,

কে সুবাস ছড়াবে ফুলের গানে?

কে ভরাবে নদীর বুকে

কলকল স্রোতের উচ্ছ্বাস?

কে রাখবে সাগর জীবন্ত,

কে দেবে বাতাসে শ্বাস?

সূর্য যদি আলো গুটায়,

চাঁদ যদি হারায় জ্যোৎস্নার রূপ,

নক্ষত্র যদি নিভে যায় সব,

কার হাতে জ্বলবে আলোর ধূপ?

তিনি বলেন—হয়ে যাও,

অস্তিত্ব পায় বিশ্বজগৎ;

তিনি চাইলে ক্ষুদ্র বীজও

বৃক্ষ হয়ে ছোঁয় আকাশপথ।

তিনি না চাইলে শস্যখেতে

একটি শীষও ফলে না আর;

তিনি না চাইলে গাছের ডালে

ফোটে না ফুল, ফলে না ভার।

তিনি দেন বলেই শিশুর মুখে

মায়ের দুধের স্নিগ্ধ ধারা,

তিনি দেন বলেই পাখির ছানার

ঠোঁটে পৌঁছে খাদ্যসারা।

ক্ষুদ্র পিঁপড়ে বালুর নিচে,

গভীর সাগর তিমির দলে,

উঁচু পাহাড়, মরুপ্রান্তর—

সবাই বাঁচে তাঁরই বলে।

অরণ্যের হরিণদল,

নীল আকাশের ঈগলপাখি,

নদীর বুকে রূপালি মাছ,

সবই তাঁরই দানের সাক্ষী।

কৃষকের ঘামে সোনার ধান,

জেলের জালে মাছের সারি,

শ্রমিকের হাতে জীবনের গান,

সবই তাঁরই অনুগ্রহ ভারী।

তবু মানুষ কত সহজে

নিজেকেই ভাবে শক্তিমান!

ভুলে যায় সে—একটি নিঃশ্বাস

নয় তো নিজের অর্জন।

ধন-সম্পদ, প্রাসাদ, ক্ষমতা,

জ্ঞান-বিজ্ঞান, খ্যাতির মালা—

সবই ক্ষণিক আমানত মাত্র,

স্থায়ী নয় কোনো কীর্তিকথা।

আজ যে রাজা সিংহাসনে,

কাল সে মাটির নীরব মানুষ;

আজ যে গর্বে বুক ফুলিয়ে,

কাল সে কবরের নিঃশব্দ বাস।

যে অহংকার সত্য ঢাকে,

সে অহংকার আগুনসম;

নিজেকেই সে গ্রাস করে,

হারায় বিবেক, হারায় লজ্জা।

ওয়াজ শুনেও জাগে না মন,

সত্য শুনেও ফেরে না পথ;

অবাধ্যতার ঘন আঁধারে

হারায় জীবনের মহারথ।

মিথ্যার প্রাসাদ যত উঁচু,

ভিত তার থাকে বালুর ওপর;

সত্যের একটি নির্মল ঢেউ

ভেঙে দেয় তার গর্বঘর।

যে বিনয়ী, সে-ই মহান,

যে কৃতজ্ঞ, সে-ই ধনী;

রবের দানে সন্তুষ্ট প্রাণ

চিরকাল থাকে আলোকগুণী।

পরিশ্রম করো নিষ্ঠাভরে,

আলস্য যেন না পায় ঠাঁই;

তবু মনে রেখো সর্বদা—

ফলদাতা এক আল্লাহই।

রিযিক শুধু অর্থ নয়,

জ্ঞানও রিযিক, স্বাস্থ্যও তাই;

সময়, শান্তি, সৎ-সন্তান,

ঈমান—সবই তাঁর দান ভাই।

এক ফোঁটা জল, একমুঠো ভাত,

একটি নিরাপদ নিশি,

একটি হাসি, একটি প্রভাত—

সবই তাঁরই অফুরন্ত দিশি।

তাই এসো সবাই মাথা নত করি,

ত্যাগ করি মিথ্যা অহংকার;

রিযিকদাতার শুকরিয়ায়

ভরে উঠুক সংসার।

মানুষ মানুষকে ভালোবাসুক,

হিংসা-বিদ্বেষ যাক মুছে;

সত্য, ন্যায় আর দয়ার আলো

জ্বলে উঠুক ঘরে ঘরে।

দুঃখ এলে ধৈর্য রাখি,

সুখে যেন না হই গর্বিত;

সব অবস্থায় বলি অন্তরে—

"আমার রবই পরম অভিভাবক।"

হে সর্বশক্তিমান আল্লাহ!

হালাল রিযিকে করুন ধন্য;

হারাম থেকে রাখুন দূরে,

করুন হৃদয় পবিত্র, অনন্য।

অহংকার, অবাধ্যতা,

সত্যবিমুখ সব প্রবৃত্তি,

আপনার কৃপায় দূর হোক,

জাগুক অন্তরে ঈমানভিত্তি।

যেন আপনার দানের কদর করি,

না হই কখনো অকৃতজ্ঞ;

যেন বিপদেও ভরসা রাখি,

না হই অবিশ্বাসে বিভ্রান্ত।

আপনিই দাতা, আপনিই পালনকর্তা,

আপনিই ভরসা, আপনিই নূর;

আপনাকেই চাই জীবনের শেষে,

আপনারই সন্তুষ্টি হোক সুর।

যেদিন স্তব্ধ হবে এ পৃথিবী,

থেমে যাবে জীবনের গান,

সেদিন যেন আমলনামায়

লিখা থাকে কৃতজ্ঞ প্রাণ।

আপনার রহমতের ছায়াতলে

শেষ হোক জীবনের পথ;

আপনার দয়া, আপনার ক্ষমা—

হোক আমাদের চিরসম্বল।

রিযিকের মালিক একজনই—

তিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

তাঁরই ওপর পূর্ণ ভরসা,

তাঁরই ইবাদতে জীবনের সার্থক।

***

যখন আকাশ মেঘহীন হয়,

মাটি ফেটে ওঠে চৌচির,

তখনও আশার প্রদীপ জ্বালে

বিশ্বাসী হৃদয় অধীর।

জানে সে—যিনি মেঘের মালিক,

তিনিই দয়ার সাগর;

এক ফোঁটা বৃষ্টিতে ফিরিয়ে দেন

শত মরুভূমির কুসুমঘর।

কৃষক বোনে অগণিত বীজ,

তবু বলে—"রবের ভরসা।"

জেলে নামে উত্তাল নদীতে,

স্মরণ করে তাঁরই আশা।

পাখি ভোরে বাসা ছাড়ে,

সঙ্গে থাকে না খাদ্যের ভাণ্ডার;

তবু সন্ধ্যায় ফিরে আসে

রবের দেওয়া রিযিকে অপার।

শিশুর মুখে প্রথম হাসি,

মায়ের চোখে স্নেহের জল,

সবই তাঁর অনুগ্রহে ভরা—

করুণার অফুরন্ত ফল।

কেউই নিজের শক্তিতে নয়,

নিজের বুদ্ধির গর্বে নয়;

রবের অশেষ মেহেরবানিতে

মানুষ সফলতার পরিচয় পায়।

যে ধনী আজ সম্পদে ভাসে,

কাল সে হতে পারে নিঃস্ব;

যে দরিদ্র আজ অশ্রু ঝরায়,

কাল সে পেতে পারে ঐশ্বর্য।

তাই ধন নিয়ে অহংকার কোরো না,

ক্ষমতা নিয়ে কোরো না গর্ব;

সবই ক্ষণিক পরীক্ষামাত্র,

চিরস্থায়ী কেবল তাঁর করুণা।

রিযিক শুধু খাদ্যের নাম নয়,

রিযিক শুধু মুদ্রার স্তূপ নয়;

সুস্থ দেহ, নির্মল মন,

সৎ-সঙ্গ, শান্তি—সবই তাঁর দান।

ক্ষমা করার শক্তিও রিযিক,

সত্য বলার সাহসও তাই;

সৎপথে অটল থাকার তাওফিক

মহান রবের অমূল্য দানই।

কত জ্ঞানী জ্ঞান হারিয়েছে,

কত শক্তিমান হয়েছে দুর্বল;

কত প্রাসাদ ধুলোয় মিশেছে,

রয়েছে শুধু কর্মের ফল।

তবু মানুষ শিক্ষা নেয় না,

বারবার ভুলের পুনরাবৃত্তি;

অহংকারের ঘন কুয়াশায়

ঢেকে যায় সত্যের দীপ্তি।

এসো তবে অন্তর খুলে

শুকরিয়ার সুরে গান গাই;

যে শ্বাসটি এখন বুকের ভেতর,

তাও তো তাঁরই দেওয়া ভাই।

হে আল্লাহ!

আমাদের চোখে দিন সত্যের আলো,

কানে দিন উপদেশের সুর;

হৃদয় থেকে মুছে দিন

অহংকারের অন্ধকার ঘোর।

হালাল রিযিকে দিন বরকত,

অল্পতেই দিন সন্তোষ;

অন্যের হক থেকে বাঁচিয়ে

করুন জীবন কল্যাণময়।

যেন কারও অন্ন কেড়ে না খাই,

কারও অধিকার নষ্ট না করি;

নিজের প্রাচুর্যে মত্ত না হয়ে

অভাবীর পাশে দাঁড়াতে শিখি।

যেন রিযিক পেয়ে কৃতজ্ঞ হই,

রিযিক কমে ধৈর্য ধরি;

সব অবস্থায় বলি অন্তরে—

"আমার রবই যথেষ্ট, তিনিই ভরসা।"

যেদিন শেষ হবে দুনিয়ার সফর,

থামবে জীবনের ব্যস্ত রথ,

সেদিন যেন সাক্ষ্য দেয়

আমাদের কৃতজ্ঞ প্রতিটি শ্বাস।

আমাদের হাতে যা ছিল,

সবই ছিল আমানত মাত্র;

ফিরে যাব শূন্য হাতে,

সঙ্গে যাবে আমলপত্র।

তাই আজই গড়ি নেক আমলের

সুগন্ধভরা অমর বাগান;

রিযিকদাতার সন্তুষ্টিতেই

সফল হোক মানবজীবন।

তিনি একাই দাতা,

তিনি একাই পালনকর্তা,

তিনি একাই আশ্রয়,

তিনি একাই পরম ভরসা।

তাঁরই নামে সূচনা হোক,

তাঁরই নামে সমাপন;

তাঁরই রহমতে পূর্ণ হোক

মানবতার প্রতিটি জীবন।

***

প্রভাত যখন আলো ছড়ায়

পূর্বাকাশের রাঙা বুকে,

কে জ্বালিয়ে দেয় সূর্যদীপ

অসীম শক্তির সুখের মুখে?

কে সাজিয়ে দেয় শিশিরবিন্দু

ঘাসের ডগার মুক্তোর মালা?

কে আঁকিয়ে দেয় রঙধনুটি

বৃষ্টিভেজা নীলের জ্বালা?

যে বাতাসে প্রাণ জুড়ায়,

যে নদী বয়ে চলে গান,

যে বৃক্ষে ফলে রসাল ফল,

সবই তো তাঁর অনুগ্রহ দান।

তিনি চাইলে মরুপ্রান্তর

ফুলে ফলে হয় উদ্যান,

তিনি চাইলে সজল বনও

মুহূর্তে হয় শূন্য প্রাণ।

তিনি চাইলে শুকনো ডালে

নবপল্লব জাগে আবার,

তিনি চাইলে সবুজ বনে

নেমে আসে খরার ভার।

মানুষ কেবল চেষ্টা করে,

ফল তো থাকে তাঁরই হাতে;

তিনি লেখেন সফলতার

অমলিন সব জয়ের গাঁথে।

তাই যে পায় সে গর্ব কোরো না,

যে হারায় সে ভেঙো না মন;

রবের ফয়সালায় রয়েছে লুকায়

অগণিত কল্যাণের কারণ।

কত রাজা মুকুট হারায়,

কত ভিখারি হয় সম্মানিত;

কত জ্ঞানী পথ ভুলে যায়,

সরল হৃদয় হয় আলোকিত।

অহংকারের অন্ধ মিনার

একদিন ভেঙে ধুলায় মেশে,

বিনয়ের ছোট কুঁড়েঘরও

শান্তির আলোয় থাকে হেসে।

যে কৃতজ্ঞ, সে ধনী সত্য,

যদিও ঘরে অল্পই থাকে;

অকৃতজ্ঞের সোনার ভাণ্ডারও

শূন্যতারই দুঃখ ডাকে।

রিযিক শুধু ভোগের জন্য

মানুষকে নয় দেওয়া হয়;

দান, সহমর্মিতা, সেবার মাঝে

রিযিকের পূর্ণ সৌন্দর্য রয়।

অভাবীর মুখে অন্ন তুলে

যে হাসি ফোটায় নীরব মনে,

তারই নামে রহমতের ফুল

ফোটে আসমানের অঙ্গনে।

সত্যের পথে চলতে গিয়ে

যদি আসে শত বাধা,

রিযিকদাতার ওপর ভরসা

দেয় হৃদয়ে অটল সাধা।

যিনি দেন তিনি পরীক্ষা নেন,

যিনি নেন তিনিই ফেরান;

দুঃখের রাতের পরেই তিনি

আশার প্রভাত জাগান।

তাই বিপদে হতাশ নই,

সুখে নই আত্মভোলা;

রবের প্রতি নির্ভরতার

প্রদীপ জ্বলে নিরন্তর জ্বলা।

হে পরম করুণাময়!

আমাদের অন্তর রাখুন জাগ্রত,

আপনার দানে কৃতজ্ঞ হয়ে

করি যেন জীবন সমৃদ্ধ।

অহংকারের সব শিকল

চূর্ণ হোক আপনার নূরে;

সত্য, ন্যায় আর সেবার পথে

চলি যেন দৃঢ় সুরে।

হালাল রিযিকে দিন বরকত,

হারাম হতে রাখুন দূরে;

অল্প পেয়েও সন্তুষ্ট থাকি,

শুকরিয়া ঝরে অন্তঃপুরে।

যেদিন থেমে যাবে জীবনযাত্রা,

নিস্তব্ধ হবে কর্মের রথ,

সেদিন যেন বলতে পারি—

"রব, আপনারই ছিল সব পথ।"

আপনার দয়াই মূল সম্বল,

আপনার কৃপাই শ্রেষ্ঠ ধন;

আপনার সন্তুষ্টির মাঝেই

সফল হোক মানবজীবন।

আপনিই রিযিক, আপনিই রহমত,

আপনিই শক্তি, আপনিই নূর;

আপনার নামেই হৃদয় জাগে,

আপনার নামেই জীবন ভরপুর।

মন্তব্য করুন

ব্লগ