সহকারী অধ্যাপক
৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ
একমাত্র মহান রব –আল্লাহ মোঃ মুজিবুর রহমান
একমাত্র মহান রব –আল্লাহ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
আদিতে ছিলে তুমি, নেই কোনো আদির আগে,
শেষেরও পরে থাকবে তুমি, অনন্ত আলোর রাগে।
কালের আগে, কালের পরে, সময় তোমার দাস,
তোমার ইচ্ছায় ঘোরে বিশ্ব, তোমার বিধানই শ্বাস।
তুমি এক, চির একাকী, তুলনা যার নাই,
তোমার মতো কেউ কখনো ছিল না, হবে নাই।
জন্ম নাওনি, জন্ম দাওনি নিজের কোনো রূপে,
মহিমা তোমার অম্লান চির, সত্যের দীপ্ত কূপে।
তোমার নামে জাগে প্রাণে ঈমানেরই গান,
তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে ধন্য হয় প্রাণ।
তোমার স্মরণ হৃদয়জুড়ে শান্তির নির্মল ঢেউ,
তোমার দয়ার সাগর ছাড়া আশ্রয় কোথাও নেই।
তুমি গড়েছ আকাশভরা অগণিত নক্ষত্র,
সূর্য-চন্দ্র ঘুরছে নিত্য মানে তোমার সূত্র।
মেঘের বুকে জলের ভাণ্ডার, বজ্রের গর্জনধ্বনি,
সবই চলে তোমার হুকুমে, হে পরাক্রমধনী।
তুমি বলো, ভোরের আলো পূর্বাকাশে ফোটে,
তুমি বলো, সন্ধ্যার পাখি নীড়ের পথে ছোটে।
তুমি বলো, নদী বয়ে যায় সাগরেরই পানে,
তুমি বলো, ফুলের হাসি ছড়ায় সুবাসখানে।
তুমি দাও সবুজের রং শস্যভরা ক্ষেতে,
তুমি দাও ফলের মাধুরী গাছের নীরব মেতে।
তুমি দাও শিশিরবিন্দু ঘাসের কোমল গায়ে,
তুমি দাও রঙধনুর রঙ বৃষ্টিভেজা ছায়ায়।
তুমি দাও পাহাড়চূড়ায় দৃঢ়তারই পাঠ,
তুমি দাও মরুভূমিতে ধৈর্যের অমল ঠাঁট।
তুমি দাও সমুদ্রজুড়ে গভীরতার ভাষা,
তুমি দাও মানুষের মনে জ্ঞানের শুভ আশা।
অণু হতে নীহারিকা, ক্ষুদ্র হতে বিশাল,
সবকিছুই সাক্ষ্য বহে—তুমিই মহাকাল।
সৃষ্টির মাঝে যত নিয়ম, যত বিস্ময়খানি,
সবই তোমার কুদরতেরই উজ্জ্বল নিদর্শনী।
তুমি দেখো অশ্রুবিন্দু, গোপন দীর্ঘশ্বাস,
শোনো মনের নীরব ভাষা, অন্তরেরই আশ।
ঠোঁট না খুলে কাঁদলেও তুমি জানো সবই ঠিক,
তোমার জ্ঞানে লুকিয়ে নেই কোনো অজানার দিক।
তুমি জানো পাতার ঝরা, শিশুর প্রথম হাসি,
তুমি জানো পাখির ডানা, মৌমাছিরই বাসা।
সাগরতলে মুক্তার ঘুম, মরুর বালুকণা,
সবই তোমার জ্ঞানের মাঝে অনন্তেরই গাঁথা।
তুমি দাও রিজিক সবার, ক্ষুদ্র পিপীলিকা,
অরণ্যেরও নির্জনতায় ক্ষুধা থাকে না ফাঁকা।
আকাশপথের উড়ন্ত পাখি, সাগরের গভীর মাছ,
সবাই পায় তোমার দানে জীবনেরই শ্বাস।
রাজা হোক বা পথের মানুষ, ধনী কিংবা গরিব,
তোমার দয়ার সামনে সবে সমান নির্ভরশীল।
যে হাত তোলে বিনয়ভরে, ডাকে তোমার নাম,
তারই অন্তর ভরে ওঠে অফুরন্ত আরাম।
ক্ষমা তোমার মহাসাগর, দয়া সীমাহীন,
ফিরে এলে তাওবাকারী হয় না কখনো হীন।
পাপের ভারে নত যে প্রাণ কাঁদে রাতের শেষে,
তোমার রহম ঝরে নেমে তাকে নেয় ভালোবেসে।
তুমি ন্যায়ের মহাবিচারক, সত্য তোমার পথ,
অন্যায় কোনো চিরদিনে পায় না জয়ের রথ।
অত্যাচারীর শক্তি যতই পৃথিবীজুড়ে বাড়ে,
তোমার ন্যায়ের সূর্য উঠেই মিথ্যা অন্ধকার হারে।
জীবন তুমি দাও সকলকে, মৃত্যুও তোমারই দান,
তারপর আবার উঠবে সবাই তোমারই আহ্বান।
কর্মের হিসাব হবে সেদিন ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লায়,
কারও প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার না হয়।
তোমার কিতাব আলোর দিশা, সত্যের মহাপথ,
যে চলে তার নির্দেশ মেনে পায় কল্যাণের রথ।
অন্ধকারের গভীর রাতে কুরআনেরই আলো,
মানবজীবন আলোকিত করে সত্যের দীপ জ্বালো।
তুমি ছাড়া উপাস্য নেই—এ আমাদের শপথ,
এই বাণীতে মুক্তি মেলে, এই বাণীতে রত্ন।
এই কালিমা প্রাণে জাগায় ঈমানেরই দীপ,
এই বিশ্বাসেই জয়ী হয় জীবনের প্রতিক্ষণ।
হে মহান রব, অহংকার হতে রেখো দূরে প্রাণ,
সত্যের পথে দৃঢ় রেখো আমাদের অবস্থান।
পবিত্র কর অন্তর-মন, শুদ্ধ করো বাণী,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনেরই টানি।
আমাদের দাও জ্ঞান যে জ্ঞান বিনয় শেখায় সদা,
দাও সে হৃদয়, মানুষের দুঃখে কাঁদে নিরবধা।
দাও সে চোখ, সৃষ্টিজগৎ দেখে কৃতজ্ঞ মনে,
দাও সে জিহ্বা, তোমার জিকির উচ্চারিত ক্ষণে।
লোভ-হিংসা-অহমিকা সব দূরে করে দাও,
ন্যায়-করুণা-সততারই সৌন্দর্যে ভরাও।
মানুষ যেন মানুষকে আর না করে অপমান,
তোমার ভয়ে গড়ে উঠুক সুন্দর মানবপ্রাণ।
পরিবারে দাও শান্তির সুখ, সমাজে দাও নূর,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন হোক আকাশসম সুর।
পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক সত্যের মধুর বাণী,
মানবতার পথেই ফুটুক জীবনের গল্পখানি।
যতদিন এই প্রাণে রবে নিঃশ্বাসেরই সুর,
ততদিন তোমার স্মরণ হোক জীবনের নূর।
শেষ নিশ্বাসে উচ্চারিত হোক ঈমানেরই নাম,
তোমার রহমে আলোকিত হোক চিরন্তন আবাসধাম।
তুমিই প্রথম, তুমিই শেষ, তুমিই অনন্ত আলো,
তুমিই দয়ার অফুরন্ত সাগর, মহিমায় নিরালো।
তুমিই স্রষ্টা, পালনকর্তা, সমগ্র সৃষ্টির রব—
তোমারই প্রশংসায় ভরে থাকুক বিশ্বজগতের সব।
হে আল্লাহ!
তোমার একত্বে অটল ঈমান,
তোমার বিধানে অবিচল আনুগত্য,
তোমার অসীম রহমতের আশা,
তোমার সন্তুষ্টির জন্য নির্মল আমল,
এবং ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ দান করো।
আমীন।
মহান রবের মহিমাগাথা
অনাদি তুমি, অনন্ত তুমি, সীমাহীন মহিমার নূর,
তোমার আলোয় আলোকিত বিশ্ব, চন্দ্র, সূর্য, সাগর-পুর।
তোমার আগে কিছুই ছিল না, তোমার পরে শেষও নয়,
সময়েরও স্রষ্টা তুমি—তোমার হুকুমেই সময় বয়।
তুমিই প্রথম, তুমিই শেষ, তুমিই প্রকাশ, তুমিই গুপ্ত,
তোমার জ্ঞানের বাইরে কিছু নেই, সবই তোমার কাছে সুস্পষ্ট।
তোমার কুদরতের এক ইশারায় মহাকাশের নক্ষত্রদল,
নিরবধি পথে ঘুরে চলে, ভোলে না কখনো বিধির বল।
তুমি একক, চির অদ্বিতীয়, নেই সমকক্ষ, নেই শরীক,
সব প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য, তুমিই মহিমায় অতুলনীয় ঠিক।
কেউ জন্ম দেয়নি তোমাকে, তুমি কাউকে জন্ম দাওনি,
সকল সৃষ্টির রব হয়েও কারও ওপর নির্ভর হওনি।
সবাই তোমারই মুখাপেক্ষী, তুমি কারও নও মুখাপেক্ষী,
তোমার দানেই প্রাণের স্পন্দন, তোমার কৃপায় পৃথিবী সুখী।
তোমার ইচ্ছায় জাগে সকাল, সন্ধ্যা নামে নীরব তালে,
তোমার আদেশে ফুল ফোটে, ফল পাকে ডালের ডালে।
তুমি দাও বৃষ্টির কলতান, নদীর বুকে স্রোতের গান,
তুমি দাও বনভূমির ছায়া, শস্যখেতে সোনার ধান।
তুমি দাও পর্বতের দৃঢ়তা, মরুপ্রান্তে ধৈর্যের বাণী,
তুমি দাও সমুদ্রগভীর রহস্য, আকাশজোড়া রঙিন টানি।
একটি বীজে বন লুকিয়ে, বিন্দু জলে সাগরের রূপ,
অণুকণাতেও তোমার কুদরত জ্বালে বিস্ময়ের দীপ।
অসীম আকাশ, গ্রহ-উপগ্রহ, নীহারিকার দীপ্ত সারি—
সবই যেন বলে নীরব ভাষায়—"একই রবের সৃষ্টি ভারী।"
তুমি দেখো রাতের অশ্রু, দিনের হাসি, মনের ক্ষত,
অন্তরেরও গভীরতম কথা তোমার কাছে সদা ব্যক্ত।
ঠোঁট না নাড়লেও শোনো তুমি হৃদয়ের সব আকুতি,
অন্ধকারেও হারায় না কিছু তোমার জ্ঞানের অমর জ্যোতি।
পাতা যখন ডাল ছেড়ে ঝরে, জানো তারও সময়ক্ষণ,
সাগরতলের লুকানো মুক্তা তোমারই জানা আপন।
বাতাস কোথায় কোন পথে বয়, কোন মেঘ কোথায় ভাসে,
কোন প্রাণী কী রিজিক পাবে—সবই লেখা তোমার পাশে।
ক্ষুদ্র পিঁপড়ে, উড়ন্ত পাখি, সাগরভরা অগণন মাছ,
সবাই তোমার রিজিক খেয়ে বেঁচে থাকে প্রতিটি শ্বাস।
ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা, বিদ্বান কিংবা নিরক্ষর,
তোমার সামনে সবাই সমান, তুমিই সবার পালনকর্তা পরম করুণাময়।
তোমার দয়া সীমাহীন, ক্ষমার দুয়ার খোলা সদা,
যে ফিরে আসে অনুতাপে, তুমি তারে ফিরাও না কভা।
অপরাধ যত পাহাড়সম, তাওবা যদি হয় অন্তরভরা,
রহমতের সাগর উথলে উঠে ঢেকে দেয় সব পাপধরা।
তুমি ন্যায়ের মহান বিচারক, অন্যায়ের নেই পরিত্রাণ,
ক্ষমতার মুকুট একদিন হবে ধূলায় বিলীন জ্ঞান।
অত্যাচারী যত শক্তিশালী হোক পৃথিবীর রাজাসনে,
হাশরের দিনে সত্যের সামনে দাঁড়াবে নতশিরে।
তুমি জীবন দাও, মৃত্যু দাও, পুনর্জীবনও তোমার দান,
তোমারই ডাকে উঠবে সবাই ছেড়ে কবরের নীরব স্থান।
অণু পরিমাণ ভালো-মন্দও যাবে না কোনোদিন হারিয়ে,
ন্যায়ের পাল্লায় সবই উঠবে তোমার বিচারে ধরা পড়িয়ে।
তোমার কিতাব সত্যের আলো, পথহারা প্রাণের দিশা,
অন্ধকারে প্রদীপ হয়ে জ্বলে কুরআনের অমর ভাষা।
যে হৃদয় তার আলো নেয়, সে হারায় না জীবনের পথ,
সত্য-সুন্দর-কল্যাণময় হয় তার প্রতিটি রথ।
হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
অহংকার হতে বাঁচাও আমাদের, দাও বিনয়ের আলো,
অসত্য হতে ফিরিয়ে এনে সত্যের পথে চালাও ভালো।
লোভের আগুন নিভিয়ে দাও, জাগাও সন্তুষ্টির গান,
মানুষ যেন মানুষকে ভালোবাসে—এ হোক সবার পরিচয় মহান।
আমাদের জিহ্বায় দাও সত্যবাণী, অন্তরে নির্মল ঈমান,
চোখে দাও সৃষ্টির শিক্ষা, হাতে দাও সেবার সম্মান।
কানে দাও উপদেশ শোনার তাওফিক, মনে দাও ধৈর্যের নূর,
প্রতিটি কাজে ফুটে উঠুক তোমার সন্তুষ্টির সুর।
হে রব!
আমাদের ঘরে বরকত দাও, হৃদয়ে দাও প্রশান্তি,
সমাজজুড়ে ছড়িয়ে দাও ন্যায়, দয়া আর মানবিক কান্তি।
জ্ঞানকে করো আলোকবর্তিকা, আমলকে করো কবুল,
তোমার প্রেমেই কাটুক জীবন, তোমার জিকিরেই হোক ফুল।
শেষ মুহূর্তে দিও এমন ঈমান, যেন মুখে থাকে তোমার নাম,
কবরে দিও প্রশান্তির আলো, হাশরে করো মহান সম্মান।
সিরাতপুলে দিও নিরাপদ পথ, জান্নাতে দিও চির নিবাস—
তোমার সন্তুষ্টিই হোক আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ বিশ্বাস।
তুমিই স্রষ্টা, তুমিই পালনকর্তা, তুমিই সকল শক্তির উৎস,
তুমিই রাজাধিরাজ, তুমিই মহিমাময়, তুমিই করুণার অনন্ত স্পর্শ।
আসমান-জমিন, দৃশ্য-অদৃশ্য—সবই তোমার কুদরতের রবাব,
সকল প্রশংসা একমাত্র তোমারই, হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক রব।
রব্বানা!
আমাদের ঈমানকে অটল রাখো,
আমলকে কবুল করো,
হৃদয়কে পবিত্র করো,
জ্ঞানকে উপকারী করো,
রিজিকে বরকত দাও,
ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ দান করো,
আর তোমার সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করো।
আমীন, ইয়া রাব্বুল আলামীন।
বিশ্বজগতের একমাত্র প্রতিপালক
যেদিকে তাকাই, তোমারই সৃষ্টি—
আকাশ, বাতাস, নদী আর বন;
পর্বতচূড়ায় মহিমার ছাপ,
সাগরজলে করুণার স্পন্দন।
অণুর ভেতরে অপার বিস্ময়,
গ্যালাক্সিতে সীমাহীন দীপ;
একই ইশারায় চলে নিরন্তর
সৃষ্টির অনুপম ছন্দ-সঙ্গীত।
তুমি অনাদি, তুমি অনন্ত,
সময়েরও আগে তোমার অবস্থান;
কালের প্রবাহ থেমে গেলেও
থাকবে অটুট তোমারই সম্মান।
তুমি একক, মহান, অদ্বিতীয়,
তোমার সমকক্ষ নেই কোনো প্রাণ;
না তুমি জন্ম নাও কারও থেকে,
না তোমার আছে জন্মের জ্ঞান।
তুমি নও কারও মুখাপেক্ষী,
বরং সবাই তোমারই দয়াপ্রার্থী;
শিশিরবিন্দু থেকে মহাকাশ—
সবই তোমার করুণার স্মারক।
তোমার আদেশে ভোরের সূচনা,
তোমার হুকুমে নামে সন্ধ্যা;
তোমার ইচ্ছায় ফুলে সুবাস,
তোমার ইচ্ছায় ফসলের বন্দনা।
তুমি দাও সূর্যের সোনালি কিরণ,
চাঁদের বুকে রূপালি হাসি;
তুমি দাও বৃষ্টির মধুর ছোঁয়া,
তুমি দাও কৃষকের মুখে ভরসা ভাসি।
শুকনো ডালে নতুন কুঁড়ি,
মরুপ্রান্তে হঠাৎ ফুল;
প্রতিটি দৃশ্যে জ্বলে ওঠে
তোমার কুদরতের অমল মূল।
নক্ষত্রগুচ্ছ, ধূমকেতু,
চন্দ্রপথের নীরব গতি—
সবই যেন বলে অবিরত,
"আল্লাহরই অসীম শক্তি।"
তুমি জানো হৃদয়ের ভাষা,
অশ্রুর নীরব অনুবাদ;
ঠোঁটের আগে মনের কথা
পৌঁছে যায় তোমারই সাধ।
পাতা ঝরে কোন প্রহরে,
কোন বীজ হবে মহীরুহ;
কোন প্রাণ আজ রিজিক পাবে—
সবই তোমার জ্ঞানের মুখ।
তুমি শোনো পাখির ডাক,
তুমি শোনো শিশুর কান্না;
তুমি শোনো মুমিন হৃদয়
রাতের তাহাজ্জুদের প্রার্থনা।
তুমি দাও জীবন, তুমি নাও জীবন,
তোমারই হাতে শেষের ক্ষণ;
আবার তোমারই আহ্বানে হবে
মানবজাতির পুনর্জাগরণ।
তোমার বিচার নিখুঁত ন্যায়,
নেই পক্ষপাত, নেই অবহেলা;
অণু পরিমাণ সৎকর্মও
হারায় না তোমার খাতায় লেখা।
তোমার রহমত সাগরের চেয়ে
অসীম, অগাধ, অপরিমেয়;
যে ফিরে আসে ভাঙা হৃদয়ে,
তাকে ফিরিয়ে দাও না কখনো।
তুমি ভালোবাসো সত্যের পথ,
বিনয়, ধৈর্য, ন্যায়ের গান;
তুমি অপছন্দ করো অহংকার,
অত্যাচার আর মিথ্যার মান।
হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক!
আমাদের অন্তর করো নির্মল;
সত্যকে ভালোবাসার শক্তি দাও,
মিথ্যা থেকে রাখো বিফল।
চোখে দাও কৃতজ্ঞতার আলো,
মুখে দাও মধুর বচন;
হাতে দাও কল্যাণের শক্তি,
হৃদয়ে দাও ঈমানের ধন।
জ্ঞানকে করো আলোর মিনার,
চরিত্রকে করো সুবাসিত ফুল;
আমলকে করো ইখলাসভরা,
জীবনকে করো কুরআনমুখী কূল।
পরিবারে নেমে আসুক শান্তি,
সমাজ ভরে উঠুক মমতায়;
মানুষ মানুষকে আপন ভাবুক
তোমার সন্তুষ্টির আশায়।
শেষ নিশ্বাসে দিও তাওহিদের বাণী,
কবরে দিও প্রশান্তির নূর;
হাশরের দিনে রেখো ছায়াতলে,
করো জান্নাতের পথ সুদূর।
সকল প্রশংসা একমাত্র তোমার—
তুমিই আসমান-জমিনের রব;
তোমারই নামে শুরু হোক জীবন,
তোমারই নামে শেষ হোক সব।
হে আল্লাহ!
আমাদের ঈমানকে অটল রাখুন,
আমাদের আমলকে কবুল করুন,
আমাদের অন্তরকে শিরকমুক্ত ও রিয়ামুক্ত রাখুন,
সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার তাওফিক দিন,
আপনার রহমত, ক্ষমা ও সন্তুষ্টি দান করুন,
এবং ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ ও সফলতা নসিব করুন।
বিশ্বজগতের একমাত্র প্রতিপালক
শূন্যতারও আগে ছিলে,
শূন্যতারও পরে থাকবে;
কালের স্রোত থেমে গেলেও
তোমার মহিমা নাহি ফুরাবে।
আদি-অন্তের সীমার বাইরে
তোমার মহান সত্তার দীপ,
তোমার ইচ্ছায় জাগে সৃষ্টির
অসংখ্য ছন্দ, অসংখ্য নীপ।
তুমি নও কোনো সৃষ্টির মতো,
নও তুলনার সীমার মাঝে;
তুমি মহান, চির অদ্বিতীয়,
মহিমা জ্বলে অনন্ত সাজে।
না তোমাকে কেউ জন্ম দিয়েছে,
না তুমি কারও সন্তান;
সকল সৃষ্টি তোমারই সৃষ্টি,
তুমিই বিশ্বপ্রতিপালন।
সবাই তোমার মুখাপেক্ষী,
তুমি কারও নও প্রার্থী;
তোমার দানে শ্বাসের গতি,
তোমার দানে প্রাণের ভারী।
তুমি বললে সূর্য ওঠে,
তুমি বললে নামে রাত;
তোমার আদেশ অমান্য করে
চলে না কোনো সৃষ্টি-পথ।
চাঁদের বুকে রূপের হাসি,
তারার বুকে নীরব গান,
সবই যেন ঘোষণা করে—
একই রবের মহাসনদ।
অসীম নীল আকাশজুড়ে
যে নক্ষত্রের মিছিল ভাসে,
তোমার কুদরতেরই নিদর্শন
প্রতিটি দীপ্ত আলোর পাশে।
অণুকণার ক্ষুদ্র ভুবন,
নীহারিকার অগণন সারি,
সবাই বলে নীরব ভাষায়—
তুমিই স্রষ্টা, তুমিই ভারী।
সমুদ্রজুড়ে ঢেউয়ের নৃত্য,
পর্বতচূড়ায় দৃঢ় দাঁড়ানো,
বাতাসভরা অরণ্যসুরে
তোমারই শক্তি জানা।
বীজের বুকে মহীরুহের
অদৃশ্য ভবিষ্যৎ লুকায়,
তোমার ইচ্ছার স্পর্শে এসে
জীবনেরই গান শোনায়।
শুকনো ডালে নতুন কুঁড়ি,
মরুপ্রান্তে সবুজ ঘাস,
বৃষ্টিধারায় ধুলোমাখা
পৃথিবী পায় নতুন শ্বাস।
ক্ষুদ্র পিঁপড়ে খাদ্য খুঁজে,
ঈগল উড়ে মেঘের গায়,
গভীর জলে মাছের দলে
রিজিক তুমি পৌঁছে দাও।
ফুলের বুকে রঙের মেলা,
ফলের বুকে মধুর স্বাদ,
ধানের শীষে সোনার হাসি,
সবই তোমার অনুগ্রহের সাধ।
তুমি জানো হৃদয়ভাঙা
অকথিত সব আর্তনাদ,
ঠোঁট না খুলে যে মিনতি করে,
তাও পৌঁছে যায় তোমারই কাছে সদা।
পাতা কখন ঝরে পড়ে,
শিশির কখন নামে ভোরে,
কার অন্তরে কোন ব্যথা জাগে,
সবই তোমার জ্ঞানের ঘরে।
দেখো তুমি নিঃশব্দ অশ্রু,
শোনো তুমি নীরব ডাক,
রাতের শেষে সিজদাহভেজা
প্রার্থনাও নয় অগোচর এক।
তুমি দয়ার অফুরন্ত সাগর,
ক্ষমার দুয়ার খোলা সদা,
অনুতপ্ত যে ফিরে আসে,
ফিরে যায় না নিরাশ হয়ে কভা।
তুমি ন্যায়ের পরম বিচারক,
অন্যায় কোথাও পায় না ঠাঁই;
অণুসম সৎকর্মও তোমার
হিসাবখাতায় হারায় নাই।
জীবন তোমার অমূল্য দান,
মৃত্যুও তোমার বিধান;
পুনরুত্থানের সেই সকালে
উঠবে আবার সব মানবপ্রাণ।
সেদিন কারও বংশগৌরব
হবে না কোনো পরিচয়,
ইমান, আমল, সত্যনিষ্ঠাই
হবে মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয়।
কুরআনের আলো পথ দেখাবে
অন্ধকারের প্রতিক্ষণে,
যে সে আলো আঁকড়ে ধরে,
ভ্রান্তি হারায় তার জীবনে।
হে বিশ্বজগতের মহান রব!
আমাদের অন্তর করো পবিত্র,
অহংকার হতে দূরে রেখো,
বিনয়ে করো জীবন চিত্র।
জ্ঞান দাও, যা সত্য চিনায়;
বুদ্ধি দাও, যা ন্যায় বেছে;
চোখ দাও, যা শিক্ষা নেয়
প্রতিটি সৃষ্টি দেখে দেখে।
জিহ্বায় দাও সত্যের ভাষা,
হাতে দাও কল্যাণের কাজ,
হৃদয় ভরাও তাকওয়ায়,
দূর করো হিংসা, লোভের লাজ।
পরিবারে বরকত দাও,
সমাজজুড়ে দাও শান্তির নূর;
মানুষ যেন মানুষকে ভালোবাসে,
সত্য হোক জীবনের সুর।
শেষ নিশ্বাসে দিও তাওহিদের
অটল, পবিত্র উচ্চারণ;
কবর ভরাও রহমতের আলোয়,
সহজ করো কঠিন পথচারণ।
হাশরের দিনে দিও আশ্রয়,
রাখো রহমতের ছায়াতলে;
সিরাত পারের তাওফিক দিও,
জান্নাত দিও অনুগ্রহে।
সকল প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য,
তুমিই বিশ্বজগতের রব;
তোমার নামেই শুরু হোক জীবন,
তোমার নামেই শেষ হোক সব।
১৪
২৪ মন্তব্য