সহকারী শিক্ষক
৩০ জুন, ২০২৬ ০৮:৩৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বাড়ির টবে রাখা ছোট্ট একটি গাছ। গোলাকার সবুজ পাতা। দেখতে সাধারণ। কিন্তু সেই পাতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে এমন এক গাণিতিক নকশা, যা দিয়ে শহরের রাস্তা, স্কুল কিংবা হাসপাতালের অবস্থান কোথায় হবে ও কীভাবে হবে সেই নকশার পরিকল্পনা করা হয়!
সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় এই বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, চাইনিজ মানি প্ল্যান্টের পাতার প্রধান শিরাগুলো ভোরোনয় ডায়াগ্রামের নকশার মতো। ভোরোনয় ডায়াগ্রাম হলো এক ধরনের গাণিতিক বিন্যাস, যা নগর পরিকল্পনাবিদরা ব্যবহার করেন।
এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ন্যাচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে।
গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার কেবল উদ্ভিদবিজ্ঞান নয়, ভবিষ্যতে প্রকৌশল, নগর পরিকল্পনা এমনকি নতুন প্রযুক্তি তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
ভোরোনয় ডায়াগ্রাম কী
শুনতে জটিল মনে হলেও ধারণাটি খুব সহজ।
ধরুন, একটি শহরে কয়েকটি স্কুল আছে। এখন এমনভাবে পুরো শহরকে ভাগ করা হলো, যেন প্রতিটি এলাকার শিশুরা তাদের সবচেয়ে কাছের স্কুলেই যেতে পারে। অর্থাৎ, কোনো এলাকার মানুষকে যেন অযথা দূরের স্কুলে যেতে না হয়।
এভাবে একটি এলাকা বা জায়গাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করার গাণিতিক পদ্ধতিকেই বলা হয় ভোরোনয় ডায়াগ্রাম।
এই একই নকশা ব্যবহার করা হয় শহর পরিকল্পনা, মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক, আবহাওয়া বিশ্লেষণ, রোবটের চলাচল, এমনকি কম্পিউটার গ্রাফিক্সেও।
সেই নকশা মিলল গাছের পাতায়
কয়েক বছর আগে গবেষণার প্রধান লেখকদের একজন এলাইজা ব্লুম প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তখন তিনি নিজের বোনের চাইনিজ মানি প্ল্যান্টের যত্ন নিচ্ছিলেন।
পাতার শিরাগুলোর দিকে তাকিয়ে তার মনে হয়, এগুলো ভোরোনয় ডায়াগ্রামের মতো দেখাচ্ছে।
তখন তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরির একজন শিক্ষানবিশ। বিষয়টি তিনি জানান তার তত্ত্বাবধায়ক কম্পিউটার বিজ্ঞানী সাকেত নাভলাখাকে।
এরপর শুরু হয় বিস্তারিত গবেষণা।
তারপর গবেষকরা পাতার শিরা ও হাইডাথোড নামে ক্ষুদ্র ছিদ্রগুলোর সম্পর্ক পরীক্ষা করেন।
হাইডাথোড হলো পাতার এমন ক্ষুদ্র ছিদ্র, যেখান দিয়ে গাছ অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়।
কম্পিউটার মডেল দেখায়, পাতা বড় হওয়ার সময় অক্সিন নামে একটি উদ্ভিদ হরমোন প্রতিটি হাইডাথোড থেকে চারদিকে ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
একটি ঢেউ আরেকটির সঙ্গে মিলিত হলে মাঝখানে একটি সীমারেখা তৈরি হয়। পরে সেই সীমারেখাই ধীরে ধীরে পাতার প্রধান শিরায় পরিণত হয়।
অর্থাৎ, পাতার শিরাগুলো যেন নিজে নিজেই এক ধরনের গাণিতিক মানচিত্র এঁকে ফেলে।
বহু বছর ধরেই বিজ্ঞানীরা ভাবছিলেন, অনেক গাছের পাতায় জালের মতো শিরার নকশা কীভাবে তৈরি হয়।
এই গবেষণা সেই দীর্ঘদিনের রহস্যের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছে।
১
২ মন্তব্য