ইনফ্লুয়েঞ্জা (Influenza বা Flu) একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা নাক, গলা ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। সাধারণত ৫–৭ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়, তবে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের ক্ষেত্রে জটিলতা হতে পারে।
ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণ
-
হঠাৎ জ্বর (সাধারণত ১০০–১০৪°F)
-
শরীর ও পেশিতে ব্যথা
-
মাথাব্যথা
-
গলা ব্যথা
-
শুকনো কাশি
-
নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ
-
দুর্বলতা ও ক্লান্তি
-
কখনও বমি বা ডায়রিয়া (বিশেষ করে শিশুদের)
প্রতিকার
-
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
-
প্রচুর পানি, স্যালাইন, স্যুপ ও অন্যান্য তরল পান করুন।
-
পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার খান।
-
অন্যদের সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক ব্যবহার করুন এবং কাশি-হাঁচির সময় মুখ ঢাকুন।
-
হাত নিয়মিত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
ওষুধ
১. জ্বর ও শরীর ব্যথার জন্য:
-
Paracetamol
-
প্রাপ্তবয়স্ক: ৫০০–১০০০ মি.গ্রা. প্রতি ৬–৮ ঘণ্টা পর পর (সর্বোচ্চ ৩,০০০ মি.গ্রা./দিন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
২. নাক বন্ধ বা সর্দির জন্য:
-
বাষ্প নিন।
-
প্রয়োজনে স্যালাইন নাকের ড্রপ ব্যবহার করা যায়।
৩. কাশির জন্য:
-
কুসুম গরম পানি পান করুন।
-
মধু (১ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য) উপকারী হতে পারে।
-
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে কাশির ওষুধ।
৪. অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ:
-
Oseltamivir (Tamiflu) চিকিৎসকের পরামর্শে দেওয়া হয়। লক্ষণ শুরু হওয়ার প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুরু করলে সবচেয়ে বেশি উপকার হয়। এটি সবার জন্য প্রয়োজন হয় না।
অ্যান্টিবায়োটিক কি লাগবে?
না। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসজনিত রোগ, তাই অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত কাজ করে না। শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ যুক্ত হলে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
-
শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা
-
জ্বর ৩–৪ দিনের বেশি স্থায়ী হওয়া
-
বিভ্রান্তি, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব
-
ঠোঁট বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া
-
দীর্ঘমেয়াদি রোগ (ডায়াবেটিস, হাঁপানি, হৃদরোগ) থাকলে বা গর্ভাবস্থা
১৪
২৪ মন্তব্য