Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩৩ অপরাহ্ণ

পরীক্ষার হলের বাইরে দাঁড়িয়ে: চলমান এইচএসসি পরীক্ষা এবং আমাদের কিছু কথা

বছরের এই সময়টা আসলেই অন্যরকম। চারদিকে এক অদ্ভুত টানটান উত্তেজনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ড্রয়িংরুমের আড্ডা—সবখানেই এখন একটাই আলোচনা, "এইচএসসি পরীক্ষা"। কেউ নিজে পরীক্ষা দিচ্ছে, কেউ সন্তানের জন্য কেন্দ্রের বাইরে চাতক পাখির মতো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, আবার কেউ হয়তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের মান বা পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে নিজের মতামত জানাচ্ছে।

চলমান এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে আমাদের চারপাশের এই চেনা ছবি, কিছু বাস্তবতা এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু জরুরি কথা নিয়েই আজকের এই ব্লগ।

১. কেন্দ্রের বাইরের চিরচেনা সেই দৃশ্য

এইচএসসি পরীক্ষার দিনগুলোতে কেন্দ্রের বাইরের দৃশ্যটা বেশ আবেগঘন হয়। একদিকে পরীক্ষার্থীদের চোখে-মুখে একরাশ উদ্বেগ আর ভালো করার প্রত্যয়, অন্যদিকে অভিভাবকদের চোখে সীমাহীন উৎকণ্ঠা। প্রচণ্ড গরম কিংবা হুট করে আসা বৃষ্টি—কোনো কিছুই অভিভাবকদের দমাতে পারে না। সন্তানেরা যখন হলের ভেতরে কলম চালাচ্ছে, বাইরে বসে মায়েরা তখন পরম মমতায় জায়নামাজে কিংবা মনে মনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছেন। এই দৃশ্যটাই মনে করিয়ে দেয়, এই পরীক্ষাটা শুধু একজন শিক্ষার্থীর নয়, বরং পুরো পরিবারের।

২. কেন এই পরীক্ষাটি জীবনের অন্যতম বড় মোড়?

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এইচএসসি বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাকে বলা হয় জীবনের সবচেয়ে বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’। কারণ:

  • বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির টিকিট: এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয় কে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে।

  • ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারের ভিত্তি: বিজ্ঞান, মানবিক নাকি ব্যবসায় শিক্ষা—কোন লাইনে একজন শিক্ষার্থী তার ক্যারিয়ার গড়বে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এটাই।

৩. চলমান পরীক্ষার কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব চলমান পরীক্ষাতেও স্পষ্ট:

  • প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোরতা: বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও প্রশ্নফাঁস রোধে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং শিক্ষা বোর্ডগুলো অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এটি সৎ ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ স্বস্তির।

  • মানসিক চাপ: সৃজনশীল পদ্ধতি এবং সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের (যদি প্রযোজ্য হয়) মাঝেও শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিযোগিতার চাপ কিন্তু কমেনি। জিপিএ-৫ পাওয়ার এক অদৃশ্য দৌড় এখনো অনেক শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য শেষ মুহূর্তের কিছু পরামর্শ:

  • রিভিশনে জোর দাও: নতুন কিছু পড়ার চেয়ে যা পড়েছো, তা বারবার রিভিশন দাও।

  • সময় ব্যবস্থাপনা: পরীক্ষার হলে সময়ের সঠিক ব্যবহারই আসল খেলা। জানা উত্তরগুলো আগে লিখে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ।

  • শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য: রাত জেগে পড়ার চেয়ে পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানো বেশি জরুরি। শরীর ভালো না থাকলে জানা জিনিসও ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

শেষ কথা

পরীক্ষার ফলাফল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটিই জীবনের শেষ কথা নয়। জিপিএ-৫ পাওয়া মানেই যেমন জীবনের সব সাফল্য নিশ্চিত হয়ে যাওয়া নয়, তেমনি আশানুরূপ ফল না পাওয়া মানেই জীবন থমকে যাওয়া নয়। চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি পরীক্ষার্থীর জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা। তোমরা তোমাদের সেরাটা দিয়ে এসো, বাকিটা সময়ের ওপর ছেড়ে দাও।

সবাইকে শুভকামনা!

মন্তব্য করুন

ব্লগ