Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ

রবের প্রতিই মনোনিবেশ - মোঃ মুজিবুর রহমান


রবের প্রতিই মনোনিবেশ

(সূরাঃ আল-ইনশিরাহ আয়াতঃ৭,৮ আলোকে)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

অবসর যদি আসে জীবনের পথে,
থেমো না কখনো অলসতার ঘোরে;
শূন্য সময় নয় শূন্যতার জন্য,
সেটি তো অর্পিত রবেরই তরে।

দিনভর ঘামে ভেজে যদি কপাল,
কর্মে যদি ক্লান্ত হয় দুটি হাত,
সন্ধ্যার নীরব প্রশান্ত ক্ষণে
জেগে উঠুক ইবাদতের প্রভাত।

কাজের শেষে যে নীরবতা নামে,
সেখানে ডাকে অনন্তের বাণী—
"
এসো, আমার পথে হৃদয় মেলো,
আমি তো আছি তোমারই সাথী।"

পৃথিবীর ব্যস্ত পথের শেষে
আরেকটি পথ খুলে যায় ধীরে;
সেটি সিজদার, সেটি প্রার্থনার,
সেটি অশ্রুভেজা অন্তর নীড়ে।

মানুষ তুমি কর্মের সন্তান,
পরিশ্রমেই জীবনের শোভা;
অলস বসে ক্ষয় কোরো না সময়,
সময় তো রবের অমূল্য দান।

যখন জমিনে বপন করো বীজ,
তখনও ইবাদত, যদি নিয়ত শুদ্ধ;
যখন উপার্জনে থাকো নিবিষ্ট,
হালাল পথেই থাকে কল্যাণবুদ্ধি।

আর যখন ফুরায় সংসারের কাজ,
নামো ইবাদতের স্নিগ্ধ সাগরে;
তাসবিহ গুনো, কুরআন পড়ো,
ডুবে যাও রহমতের অন্তহীনে।

অবসরের নাম নয় অবহেলা,
নয় উদ্দেশ্যহীন অলস বসে থাকা;
অবসর মানে নতুন আহ্বান—
রবের দিকে হৃদয় মেলে রাখা।

যে হাত গড়ে ঘর, গড়ে সভ্যতা,
সে হাতই উঠুক দোয়ার ভঙ্গিতে;
যে চোখ খোঁজে জীবিকার আলো,
সে চোখ ভিজুক বিনম্র অশ্রুতে।

দেহ ক্লান্ত হোক, মন যেন না হয়,
রূহ থাকুক সদা আলোকিত;
ক্লান্ত শরীর বিশ্রাম নিক কিছু,
হৃদয় থাকুক রবমুখী চিরনিবিষ্ট।

রাতের নিস্তব্ধ গভীর প্রহরে
যখন সবাই ঘুমে বিভোর,
একটি প্রাণ যদি জেগে বলে—
"
হে রব! তুমি আমার নূর।"

সে ডাক হারায় না কখনোই,
আরশ ছুঁয়ে ফেরে করুণাধারা;
এক ফোঁটা চোখের সত্য অশ্রু
লিখে দেয় ক্ষমার নতুন ইশারা।

রবের প্রতি মনোযোগ মানে
শুধু ঠোঁটের উচ্চারণ নয়;
প্রতিটি কাজে তাঁর সন্তুষ্টি
খুঁজে নেওয়ার জীবনময় পরিচয়।

সত্য বলায় রবের স্মরণ,
ন্যায়ে অটল থাকাও ইবাদত;
অসহায় জনের পাশে দাঁড়ানো
রহমতেরই জীবন্ত ইবারত।

পিতা-মাতার সেবার ভেতর
লুকিয়ে থাকে জান্নাতের দ্বার;
এতিম মুখে হাসি ফোটানোও
ইবাদতেরই উজ্জ্বল অঙ্গার।

ক্ষুধার্তকে আহার দেওয়া,
পিপাসিতকে জল পৌঁছে দেওয়া,
অন্যের দুঃখ কাঁধে তুলে
নিজের সুখও বিলিয়ে দেওয়া—

এসবও তো রবের পথে
ভালোবাসার দীপ্ত দান;
যে হৃদয়ে করুণা জাগে,
সেই হৃদয়েই ঈমান মহান।

হে মানুষ, ক্ষণিক এই দুনিয়া
চোখের পলকে যাবে ফুরিয়ে;
যা থাকবে তা সৎকর্ম শুধু,
রবের দরবারে জমা হয়ে।

ধন যাবে না, মান যাবে না,
যাবে না কোনো অহংকার;
সঙ্গে যাবে কেবল আমল,
আর রবের রহমতের উপহার।

তাই অবসরে অলস নয়,
হও সৃষ্টির কল্যাণে রত;
কখনো জ্ঞানে, কখনো সেবায়,
কখনো হও ইবাদতে নিমগ্ন।

প্রার্থনা হোক হৃদয়ের ভাষা,
সিজদা হোক আত্মার বিশ্রাম;
তাওয়াক্কুল হোক জীবনের শক্তি,
সবর হোক প্রতিটি পদক্ষেপের নাম।

তোমার আশা তাঁরই কাছে,
তাঁরই কাছে ভয়ের নিবেদন;
তাঁরই হাতে রিযিক, জীবন,
তাঁরই হাতে মুক্তির কারণ।

ঝড় এলে বলো—তিনি আছেন।
দুঃখ এলে বলো—তিনি দেখেন।
শূন্য হাতে দাঁড়িয়ে থেকেও
বলতে শেখো—তিনি যথেষ্ট।

যে হৃদয় রবের দিকে ফেরে,
সে হৃদয় কখনো পথ হারায় না;
যে প্রাণ তাঁর প্রেমে জেগে থাকে,
অন্ধকার তাকে গ্রাস করতে পারে না।

অবসরের প্রতিটি মুহূর্ত
হোক অনন্তের দিকে যাত্রা;
কর্মে থাকুক নিষ্ঠার দীপ্তি,
ইবাদতে থাকুক আত্মসমর্পণ।

হে পরম প্রতিপালক,
আমাদের কর্মকে করো কবুল,
অবসরকে করো ইবাদতের বাগান,
হৃদয়কে করো তোমারই দিকে আকুল।

যখন কাজে থাকি—
তোমার সন্তুষ্টিই হোক লক্ষ্য।
যখন অবসরে থাকি—
তোমার স্মরণই হোক আশ্রয়।

আমাদের প্রতিটি শ্বাসে দাও
তোমার স্মরণের সুবাস;
প্রতিটি পদক্ষেপে দাও হিদায়াত,
প্রতিটি দোয়ায় দাও ইখলাস।

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত যেন
তোমার প্রতিই থাকে মনোযোগ;
দুনিয়ার সব পথ পেরিয়ে
তোমার দিকেই হোক চূড়ান্ত অভিযাত্রা।

কারণ জীবনের শ্রেষ্ঠ সফলতা
মানুষের প্রশংসা নয়,
ধন-সম্পদের প্রাচুর্য নয়,
ক্ষমতার অলংকার নয়—

শ্রেষ্ঠ সফলতা একটাই—
রব সন্তুষ্ট, হৃদয় প্রশান্ত;
বান্দা নিবেদিত, আমল কবুল,
আর অনন্তের পথে আলোকোজ্জ্বল যাত্রা।

***

রবের প্রতিই মনোনিবেশ

কর্মশেষে যদি নামে নীরবতার স্নিগ্ধ বিকেল,
থেমো না হে পথিক, থেমো না অলসতার ছায়াতলে।
অবসরের প্রতিটি ক্ষণ
রবের অমৃত আহ্বান—
একটি সিজদা, একটি দোয়া,
একটি নির্মল অশ্রুবিন্দুর অবিরাম সম্ভাষণ।

দিনভর শ্রমে ভিজুক কপাল,
ঘামে রঞ্জিত হোক দুটি হাত;
হালাল জীবনের প্রতিটি প্রয়াস
ইবাদতেরই এক উজ্জ্বল প্রভাত।
তারপর যখন স্তব্ধ হয়
সংসারের কোলাহল,
হৃদয় খুলে দাঁড়াও তাঁরই দরবারে,
যিনি সকল শক্তির সম্বল।

অবসর মানে নয় শূন্য বসে
অকারণে সময় হারানো;
অবসর মানে আত্মাকে নিয়ে
রবের সান্নিধ্যে ফিরে যাওয়া।
যে সময় মানুষ অপচয় করে,
মুমিন সে সময় গড়ে নেয় আলো;
এক হাতে কর্ম, অন্য হাতে আমল—
এই তো জীবনের সত্য ভালো।

সিজদার মাটিতে লুটিয়ে পড়ে
যে হৃদয় অশ্রুতে ভিজে যায়,
তার নিঃশব্দ মিনতি একদিন
আরশের করুণা হয়ে নেমে আসে।
যে ঠোঁট তাসবিহে সজীব থাকে,
যে প্রাণ কুরআনের সুরে জাগে,
সে মানুষ দুনিয়ার অন্ধকারেও
রবের নূরে পথ চিনে নেয়।

তোমার আশা তাঁরই কাছে,
তাঁরই কাছে ভয় আর ভরসা;
তাঁরই দানে জীবন প্রস্ফুটিত,
তাঁরই রহমতে সব আশা।
মানুষের দ্বারে নয়, হে মন,
চেয়ো না চিরস্থায়ী আশ্রয়;
সকল প্রার্থনার শেষ ঠিকানা
এক আল্লাহ—তাঁরই পরিচয়।

যখন ক্লান্ত শরীর বিশ্রাম চায়,
জাগুক অন্তর আরও সজাগ;
যখন পৃথিবী নিদ্রায় মগ্ন,
জেগে উঠুক তাহাজ্জুদের রাগ।
নিঃশব্দ রাতের গভীর প্রহরে
একটি মিনতি, একটি দীর্ঘশ্বাস—
সেই তো হতে পারে জীবনের
সবচেয়ে সৌভাগ্যময় সুবাস।

কর্মে নিষ্ঠা, ইবাদতে একাগ্রতা,
সেবায় মমতা, কথায় সত্য;
এই চার স্তম্ভের উপরই গড়ে
মুমিনের চরিত্র মহত্ত্ব।
দুনিয়া তার কর্মক্ষেত্র,
আখিরাত তার চিরনিবাস;
দুই জগতের মাঝে সে গড়ে
ইখলাসে ভরা আলোকবাস।

অলসতা নয়, উদ্যম হোক
প্রতিটি দিনের অঙ্গীকার;
কর্মে থাকুক বিশ্বস্ততা,
আমলে থাকুক অশ্রুধার।
যতদিন শ্বাস, ততদিন চেষ্টা;
যতদিন প্রাণ, ততদিন সাধনা;
শেষ নিঃশ্বাসেও যেন জাগে—
'
হে রব, তোমারই সন্তুষ্টি আমার কামনা।'

তখনই সফল হবে জীবন,
যখন কর্ম হবে ইবাদত,
ইবাদত হবে ভালোবাসা,
আর ভালোবাসার কেন্দ্র হবে
এক ও অদ্বিতীয় প্রতিপালক।
তিনি-ই লক্ষ্য,
তিনি-ই ভরসা,
তিনি-ই চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তনের ঠিকানা।

মন্তব্য করুন